প্রবন্ধ - ৪

কৃষি বিল নিয়ে ঝামেলা ... কেন ?
রাহুল রায়
ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক, শিলচর
Rahul%20Roy_edited.jpg

করোনা আবহে লকডাউন চলাকালীন দেশবাসীর মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে ‘সংকটকে সূযোগে পরিণত করতে হবে ’। কর্পোরেট বান্ধব বলে সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার যেন তা অক্ষরে অক্ষরে পরিণত করতে উঠেপড়ে লেগেছে । একের পর এক আইন প্রণয়ণ করা হচ্ছে এবং প্রায় সবগুলোতেই কর্পোরেট শ্রেণীর স্বার্থসিদ্ধিকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া হছে । গত ১৫ সেপ্টেম্বর সরকার কৃষি সংক্রান্ত তিনটি বিলকে আইনে পরিণত করে । বিল তিনটি হল কৃষি পণ্য লেনদেন ও বানিজ্য উন্নয়তন বিল , কৃষক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন বিল এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য (সংশোধনী) বিল ।  লোকসভায় সংখ্যাধিক্য থাকায় তিনটি বিল পাস করতে সমস্যা না হলেও রাজ্যসভায় সমস্যা ছিল , সেখানে কোনো রকম ভোটাভুটি ছাড়াই সরকার বিল তিনটিকে পাস করিয়ে আইনে পরিণত করে । সরকারের পক্ষ থেকে এই আইনের ফলে কৃষকের শৃঙ্খলমুক্তির কথা বলে বলা হচ্ছে এখন থেকে কৃষকদের আর নিজেদের উৎপাদন বিক্রী করতে কৃষিজ সামগ্রীর বাজার বা মাণ্ডি নির্ভর হতে হবে না । তাঁরা দেশের যে কোনো জায়গায় বা যে কোনো কোম্পানীর কাছে নিজেদের উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রী করতে পারবেন । সরকারি ‘বিশেষজ্ঞ’রা নব্বইয়ের দশকের আর্থিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, এত দিনে ভারতীয় কৃষিও উদার অর্থনীতির মুক্তাঙ্গনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেল, কৃষকরা অবশেষে স্বাধীনতার স্বাদ পাবেন। কৃষকরা সরাসরি বাজারে নিজেদের উৎপাদন বিক্রী করতে পারলে বা বড় বড় কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তিতে যেতে পারলে তাঁদের উৎপাদনের উন্নতর মূল্য পাবে, তাঁদের লাভ বাড়বে ।

খাতায়পত্রে সরকার প্রণীত আইনের মুল লক্ষ্য মাণ্ডি বা Agricultural Produce Market Committee (APMC) এর একচ্ছত্রাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা । APMC এর এই আয়োজনের সুত্রপাত শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ যুগে । সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের দর কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মূলতঃ তুলা চাষীদের হাত ধরেই এই ব্যবস্থা শুরু হয় । পরবর্তীতে অন্যান্য চাষীরাও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হোন । বর্তমানে দেশজুড়ে ২৪৭৭ টি APMC ও ৪৮৪৩ Sub-APMC আছে । তবে এই আয়োজন বা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ বা সমালোচনা কোনোটাই কিন্তু কম হয়নি । মান্ডির পরিসরে দালালদের দাপট বাস্তবিকার্থেই প্রবল। অন্য দিকে, অধিকাংশ কৃষক সেই পরিসরের বাইরেই থেকে গেছেন— বহু এলাকাতেই ছোট এবং মাঝারি চাষিরা আজও প্রধানত স্থানীয় মহাজন, আড়তদার ইত্যাদি ক্ষমতাগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল, অধিকাংশই তাদের কুক্ষিগত। কৃষি নির্ভর ভারতে এই ব্যবস্থার সংস্কার করে চাষীদের হাল ফেরাতে চিন্তাভাবনা আজকে নতুন নয়, সুপারিশের স্তূপ জমেছে । কিন্তু এদেশের প্রচলিত রীতি মেনেই রাজনীতি এবং আমলাতন্ত্রের স্বার্থ সেগুলির রূপায়ণ হতে দেয়নি। বর্তমানের শাসনাধিষ্ঠিত সরকারের প্রণীত এই নতুন আইন যদি কৃষকদের ক্ষমতায়নের স্বার্থে পরিচালিত হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই হৃদয় উন্মুক্ত তাকে স্বাগত জানানো উচিত । কিন্তু তাহলে এই বিরোধ কেন ? কেনই বা দলমত নির্বিশেষে কৃষকরা এই আইনের বিরোধীতা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন ? দীর্ঘদিনের শরিক দল পর্যন্ত এর প্রতিবাদে শাসক দলের সঙ্গ ত্যাগ করছে ।

 

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখতে হবে অন্য একটি দিক । দেশে কৃষকদের অবস্থা করুণ । ২০১৮ সনের মহারাষ্ট্রে কৃষকদের পদযাত্রা তথা আন্দোলনের স্মৃতি এখনো টাটকা । সেসময় কৃষক আন্দোলনের জেরে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়ে ক্ষমতাসীন সরকার মারাত্মক ধাক্কা খায় । সরকার ২০২২ এর মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার কথা বললেও বাস্তবভূমিতে তার ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে । কৃষকরা ফসলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না । যার ফলে তাঁরা মহাজনদের থেকে নেওয়া ঋণ ফেরত দিতে পারছিল না । ঋণ ও তারপর আসা সুদ ফেরতের চাপে কৃষকদের অবস্থা করূণ হয়ে উঠেছিল । দুর্বিসহ হয়ে পড়া জীবন থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা আত্মহত্যার পথ নিচ্ছেন । National Crime Records Bureau এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এই দেশ ২৯৬.৪৩৮ জন কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অথচ গত ত্রিশ বছরের সরকারী পরিসংখ্যণ যদি ঘাটানো হয়, দেখা যাবে কৃষিজ সামগ্রীর উৎপাদন কিন্তু প্রতিবছর বেড়ে গিয়েছে , কৃষিজ উৎপাদনের দাম বেড়েছে, রপ্তানী বেড়েছে, এমনকি গুদামের অভাবে অপচয়ও বেড়েছে । অন্যভাবে বললে কৃষকদের আয় ছাড়া সবই বেড়েছে । মাণ্ডিতে কৃষকদের থেকে কম টাকায় খাদ্য শদ্য ক্রয় করা হচ্ছে আর জোতদাররা বাজারে সেই সামগ্রী অত্যন্ত বেশি দামে বিক্রী করা হচ্ছে । এর ফলে একদিকে কৃষকরা যেমন মার খাচ্ছেন অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধি লাগামছাড়া হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চোখে সর্ষফুল দেখছেন ।

 

সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের থেকে নুন্যতম সহায়ক মূল্যে উৎপদিত কৃষিজ সামগ্রী কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে । কিন্তু সমস্যা হল এর দর অত্যন্ত কম । কৃষিবিশেষজ্ঞ তথা কৃষকসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন থেকেই সরকারের কাছে নুন্যতম সমর্থন মূল্যবৃদ্ধির দাবী উঠছিল । ২০০৪  সনে গঠিত এম.এস স্বামীনাথনের নেতৃত্বে গঠিত National Commission on farmers এর প্রতিবেদনেও নুন্যতম সমর্থন মূল্যবাড়ানোর সুপারিশ ছিল । প্রতিবেদন মতে নুন্যতম সমর্থন মূল্যশস্যের উৎপাদন খরচের ৫০ শতাংশ বেশি হবে । ২০১৪ সনের লোকসভা নির্বাচনের আগে এটা বর্তমান শাসকদলের ইস্তেহারে থাকলেও আজ এত বছর পরও কিন্তু সেই সুপারিশ কার্যকর হয়নি । এবার যে নতুন আইন এসেছে সেখানে নুন্যতম সহায়ক মূল্যের ব্যাপারটিকে একরকম পাশ কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে । সরকার এখানে আর আইনত ভাবে দায়িত্ব নিতে চাইছে না । এখন পর্যন্ত নুন্যতম সহায়ক মূল্য থাকলেও আগামীতেও যে থাকবে তার আইনী নিশ্চয়তা কিন্তু সরকার দিচ্ছে না । কৃষি বিপণন আইন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বৃহৎ পুঁজির অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ফড়েদের জন্য কৃষক ফসলের দাম পান না। তাই যদি হয়, তা হলে ফসল বোনার সময় সরকার সহায়ক মূল্য ঘোষণা করুক। তার থেকে কম দামে যারা ফসল কিনবে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তা না করে জামাই আদর করে কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে ডেকে আনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এর ফলে বাজারে কৃষকরা মধ্যস্থতাকারী বা ফড়েদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাবেন কিন্তু যা বলা হচ্ছে না তা হচ্ছে চলতি বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকেও যে সব দেশি-বিদেশি কর্পোরেট সংস্থা খুচরো ব্যবসায় আসছে, তারা বৃহৎ ফড়ে। সরকার আইন করে তাদের হাতে কৃষি বিপণন ব্যবস্থাটিকেই ছেড়ে দিল । খাল কেটে কুমীর ডেকে আনার এর থেকে ভালো উদাহরণ আর কি হতে পারে ?

 

এবার দেখা যাক অন্য একটা দিক । করোনার আক্রমণে থেকে দেশবাসী যখন আত্মরক্ষায় ব্যস্ত সরকার সেই অবকাশে ‘সংকটকে সূযোগে পরিণত করে’ নিজের লক্ষ্য বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে । এখন বড় প্রতিবাদ গড়ে তোলা কঠিন, গড়ে তুলতে চাইলেও দূরত্ববিধির সুযোগে রাষ্ট্র তাকে সহজেই দমন করতে পারবে, অতএব— আর দেরি নয়। দেখতে দেখতে কয়লাখনিতে বেসরকারি পুঁজির প্রবেশ অবারিত হয়েছে, বাহু খুলে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে রেলপথেও, আরও বহু পুঁজিমালিকের হাতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অবাধ অধিকার তুলে দেওয়া হয়েছে । এবার এসেছে কৃষিজ উৎপাদনের পালা । নতুন আইনে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোম্পানীরা এখন সরাসরি কৃষকদের থেকে তাঁদের উৎপাদিত সামগ্রী কিনতে পারবেন । সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে এর ফলে একদিকে যেমন কৃষি ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মূলধন আসবে তেমনি নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমনও হবে । ২০২০ এর বুকে দাঁড়িয়ে বলতে নেই ভারতে যেখানে ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত সেখানে এখনো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত কম । অধিকাংশ জায়গায় এখনো কৃষি বহুলাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল । কৃষি এদেশে পেশা হিসাবে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে কারণ এখানে আয় কম । আয়ের জন্য উন্নত উৎপাদন চাই, উন্নত বাজার চাই । তার জন্য উন্নত বীজ, সার চাই, পরিকাঠামো চাই । এবং সর্বোপরি এসবের জন্য টাকা চাই, মূলধন চাই । কৃষি ক্ষেত্রের করুণ পরিচিত্র বদলে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগের এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না ।  কিন্তু সমস্যাটা হল সরকার সম্পুর্ণ ব্যবস্থাটিকে ব্যক্তিগত খণ্ডের হাতে তুলে দিতে চাইছে । সরকারপক্ষ অবশ্য একথা মানতে চাইবে না । বড় গলায় বলবে, নুন্যতম সমর্থন মূল্য তুলে দেওয়া হচ্ছে না, মান্ডিও থাকবে, চাষিরা ইচ্ছে করলে সেখানেও ফসল বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু আমরা জানি, সরকারি দোকান বন্ধ না করেও কী ভাবে তার সর্বনাশ করা হয় । এই ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত পারদর্শী । ওষুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে টেলিফোন পরিষেবা অবধি নানা ক্ষেত্রে তার বিস্তর নমুনা আমরা দেখেছি, দেখছি। এমনকি ভারতীয় রেলও এখন সে-পথেই চলেছে। তাই সরকারের এই আশ্বাসের মূল্য কতটুকু, সেটা  নিয়ে ঘোর সংশয় আছে । বাস্তবে সরকার যা চাইছে তার নাম সংস্কার নয়, বিসর্জন।  তাঁদের বিধান হল— সাংবাদিক তথা সমাজকর্মী পি সাইনাথের ভাষায়— ‘অসুখ করেছে? মেরে ফেলো।’

সরকার নিজের দায়িত্ব বিসর্জন দিয়ে কর্পোরেটদের হাত শক্ত করতে চাইছে । এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে যেহেতু কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ এবং সেই স্বার্থপুরণ যদি কর্পোরেটদের হাত ধরে হয় তাহলে আপত্তি কেন হবে । কর্পোরেটরা ব্যবসা করবেন , মুনাফা অর্জন করবেন, মুনাফা ছাড়া তো আর কেউ সময়, প্রযুক্তি, মূলধন নিয়োগ করে ব্যবসা করবেন না । এই ব্যবসার মধ্যে দিয়েই কৃষকদের অবস্থার উন্নতি হবে , এককথায় এই আইন দেশের কৃষিক্ষেত্র ও কর্পোরেট জগত উভয়ের জন্যই Win-Win  পরিস্থিতি নিয়ে আসবে । কিন্তু ব্যাপারটা কি এতই সহজ ? কৃষকদের জন্য সরকারের আনা প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমার অভিজ্ঞতা আমাদের কি শেখায় ?এখানেও দক্ষতার নাম করে সরকারী বীমা কোম্পানীগুলোকে সরকার পাশ কাটিয়ে সরকার ফসল বীমার দায়িত্ব দেয় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোকে । কৃষকদের থেকে প্রমিয়ামের নামের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নেওয়া হলেও কৃষকদের ক্ষতিপুরণের টাকা বলতে দেওয়া হয়েছে নামমাত্র । মহারাষ্ট্রের ফারবানী জেলার কথাই ধরা যাক । ২০১৭-২০১৮ সনে কৃষকদের থেকে ১৭৩ কোটি রিলায়েন্স বীমাকে দেওয়া হলেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ৩০ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়নি । বিহারে ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবর্ষে প্রিমিয়াম দেওয়া হয় যথাক্রমে ১৪৬১.১ ও ১০২৭.৩ কোটি টাকা , ক্ষতিপূরণ হিসাবে আসে ৩৪৭.৬ ও ৪০১.৫ কোটি টাকা । একই অবস্থা দেশজুড়ে । ব্যক্তিগত খণ্ডে চালিত সংস্থাগুলো একটি মাত্র মন্ত্রে কাজ করে এবং তা হল মুনাফা বৃদ্ধি । এবং এই মুনাফা বৃদ্ধির মূল্য যদি দরিদ্র কৃষকদের সাড়ে সর্বনাশ হয় তাহলেও নিশ্চিতভাবেই তাঁরা এক ইঞ্চিও পেছনে আসবে না । খাতায় পত্রে Win-Win বলা হলেও অদুর ভবিষ্যতেই যে এটা Huge Win -  Severe loss  হবে না এটা কেউ জোড় গলায় বলতে পারবেন না । বলা হচ্ছে এখন কৃষকরা স্বাধীনতা পাবেন কারণ তাঁদের হাতে অনেক বিকল্প থাকবে । ক্রেতা বেশি হলে উৎপাদনের মন মতো মূল্য , অন্ততঃ আগের থেকে ভালো মূল্য কৃষকরা পাবেন বলেই সরকার প্রচার করছে । কিন্তু মুক্ত বাজারের অর্থনীতিতে দুর্বলের স্বাধীনতা মরুচিকাসম হয়, মরুভূমিতে যেমন মরুচিকা পথভ্রষ্ট মানুষের মনে ভ্রম সৃষ্টি করে, মুক্ত বাজারেও একই রকম অবস্থা হয় । মরুচিকার পেছনে ছুটে যেমন মরুভূমিতে চারিপাশে ছেয়ে আসে অন্তহীন তপ্ত বালিকারাশি তেমনি মুক্ত অর্থনীতিতে স্বাধীনতার পেছনে ছুটে বাস্তবে যা পাওয়া যায় তা হল স্বাধীনতাহরণকারী অত্যাচারী সিণ্ডিকেট বা একচ্ছত্রবাদের রাজত্ব । সিণ্ডিকেট বা একচ্ছত্রবাদ যাই হোক না কেন উভয় ক্ষেত্রেই নিরুপায় চাষীদের স্বাধীনতা লোপ পাবে । চুক্তিকারী কোম্পানীদের কথায় তাঁদের চলতে হবে । ভূমি তাঁদের হবে কিন্তু সেই ভূমিতে কি ফসল করতে হবে সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের হবে না । উৎপাদন তাঁদের হবে কিন্তু উৎপাদনের মূল্য নির্ধারণ করার অধিকার চুক্তিকারী কোম্পানীর কাছে চলে যাবে । লেনদেনে স্বাধীনতা তো দূরে থাক, কোম্পানীগুলোর ন্যস্ত কিন্তু একমাত্র উদ্দেশ্য অর্থাৎ Profit-maximisation এর মূল্য তখন ছোট-মাঝারী-বড় কৃষক নির্বিশেষে সবাইকেই দিতে হবে ।