প্রবন্ধ - ৫

দর্শকহীন স্টেডিয়ামে খেলাধুলা
ইকবাল বাহার লস্কর
প্রাক্তন সহ-সম্পাদক, দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ পত্রিকা, জেলা ক্রীড়া সংস্থা অনুমোদিত রেফারি, ক্রীড়া শিক্ষক, ওএনজিসি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ক্রীড়াশ্রী, বিন্নাকান্দি হাইস্কুল এবং বর্তমানে জেলা সংযোজক, রাষ্টীয় স্বাস্থ্য অভিযান, কাছাড় পদে কর্মরত
Ikbal%20Bahar%20Laskar_edited.jpg

করোনাকালে দর্শকদের সীমিত সংখ্যায় প্রবেশাধিকার দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এ বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম টেনিস টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেন। এখানে একটা কথা বলে রাখি, অন্য বছর টেনিসের গ্র্যান্ডস্লাম শেষ হয় ইউএস ওপেন দিয়ে। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটে গেল। ২৪ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত প্যারিসে এই আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়তেই আয়োজকরা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেন যে এবার রোঁলা গারোয় আসরটি বসবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। এটা চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের ফরাসি খেতাবের সংখ্যা ১৩-তে নিয়ে গেলেন রাফায়েল নাদাল। একই সঙ্গে তিনি সর্বমোট গ্র্যান্ড স্লাম জেতার ক্ষেত্রে রজার ফেডেরারের ২০-কে স্পর্শ করে ফেললেন।

ফরাসি ওপেন দর্শক নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল। রোলাঁ গারোয় রয়েছে তিনটি স্টেডিয়াম বা কোর্ট। এরমধ্যে ফিলিপ কার্টার কোর্টে সর্বাধিক ১৫ হাজার, সুজান ল্যাংলেন কোর্টে ১০০৬৮ এবং লুই ফিলিপ কোর্টে আরও পাঁচ হাজার দর্শক একসঙ্গে বসে খেলা দেখতে পারেন। সেখানে প্রথমে তিনটি কোর্ট মিলিয়ে দৈনিক পাঁচ হাজার দর্শককে খেলা দেখার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু করোনার ভয়ে পরবর্তীতে ৩০ হাজার দর্শকের ক্ষমতা সম্পন্ন রোলাঁ গারোয় মাত্র এক হাজার দর্শককে প্রতিদিন ঢুকতে দেওয়া হলো। এতে আয়োজকরা রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে মার খেয়েছেন। ফিজিক্যাল ডিস্টেন্স বা দৈহিক দূরত্ব বজায় রেখে দর্শকেদের গ্যালারিতে বসতে হয়েছে।

তবুও মন্দের ভাল ছিল ফ্রেঞ্চ ওপেন। আগামীতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবলে এভাবে সীমিত সংখ্যায় দর্শক ঢুকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সব টুর্নামেন্টই হয়েছে দর্শকশূন্য মাঠে। এবং এর শুরুটা হয় প্রায় একই সঙ্গে কয়েকটি আসরে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আই এস এল) ফুটবলের ফাইনাল এবং আই-লিগ ফুটবলে শেষদিকের কিছু ম্যাচে দর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান সুপার লিগ (পি এস এল) টোয়েন্টি ২০ আসরের লিগ পর্ব শেষ করতে গিয়ে এ কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই আসরের সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল হয়নি। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড তাদের মধ্যে একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দর্শকহীন স্টেডিয়ামে খেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দিল্লিতে ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই খেলাটি বাতিল করে দেওয়া হয়। উপরে উল্লেখিত আসর গুলি তাদের মোমেন্টাম ধরে রাখার জন্য দর্শকহীন স্টেডিয়ামে খেলা করে ফেলেছে। এবং প্রতিটি ম্যাচই একেবারে উত্তাপহীন নিরামিষ মনে হয়েছে। 

যখন দেখা গেল করোনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ স্তব্ধ হয়ে রয়েছে, সেই মুহূর্তে প্রান ফিরে এল জার্মান বুন্দেশলিগার হাত ধরে। ১৬ মে শুরু হয়ে গেল করোনা কালের বুন্দেশলিগা। এরপর ধীরে ধীরে ইতালিয়ান সিরি এ, ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ এবং স্পানিশ লা লিগা নতুন করে মাঠে গড়ায়। এসব লিগ তাদের অবশিষ্ট ম্যাচগুলি সম্পন্ন করে চ্যাম্পিয়নের হাতে ট্রফি তুলে দেয়। শুধুমাত্র ফরাসি লিগ কর্তৃপক্ষ প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে লিগের বাকি ম্যাচগুলো বাতিল করে দেন। একইভাবে ভারতে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আই-লিগের দাঁড়ি টানা হয়।        

shutterstock_77848873.jpg