প্রবন্ধ - ৭

অসমের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আমার ভাবনা

দেবীতমা চক্রবর্তী

ছাত্রী (নবম শ্রেণী), শিলচর

কোভিড-১৯ রোগটি শুরু হয়েছিল চীন থেকে৷ যেহেতু এই রোগটি শুরু হয়েছিল ২০১৯ সাল থেকে৷ তাই তার নাম কোভিড-১৯৷

 

প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এই ভাইরাসটি শীতের দেশে বেশী ছড়ায়৷ কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা গেল এই ভাইরাসটি সমস্ত গরম-ঠাণ্ডার দেশে ছড়িয়ে পড়েছে৷ আস্তে আস্তে এটি আমাদের ভারতবর্ষেও চলে আসে৷ প্রথম প্রথম অল্প হলেও পরে এমন ছড়াল যে সারা দেশে লকডাউন দিতে হল আর বলা হল যে অত্যন্ত জরুরী কাজ না থাকলে কেউ যাতে বাড়ির থেকে না বের হয়৷ কিন্তু অনেক মানুষ সেটা মানলো না, তারা বের হতে লাগল যার ফল মহামারিটি আরো বেড়ে গেল আর মৃতু্যর সংখ্যাও বাড়তে লাগল৷ শেষ পর্যন্ত সরকার পুরোনো লোকপ্রিয় সিরিয়াল দিতে লাগল (যেমন— রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি)৷ যার ফলে সারা দেশের মানুষ এই সবই দেখত আমিও রামায়ণ দেখতাম৷ কিন্তু আমরাও যে দেখতাম আমাদের ইচ্ছায় কারণ তখন পড়াশোনার এতো চাপ ছিল না৷ কিন্তু এক-দুই মাস পর থেকেই শুরু আমাদের Online Class৷ পড়তে পড়তে খুব ক্লান্ত হয়ে যেতাম৷ পড়তে পড়তে এই অবস্থা হল যে আমাদের বাড়িতে টিভি বন্ধ হয়ে গেল৷ তাও আমরা শান্তিতে ছিলাম কারণ তখনও অসমে রোগটি আসেনি, অসম সরকার বলেছিল যে স্কুল-কলেজ আস্তে আস্তে খুলবে৷ কিন্তু সেটা হল না৷Live Online Classes শুরু হয়ে গেল৷ কিন্তু এই রোগের কারণে আমাদের অনেক বন্ধুরা সেটা নিতে পারছিল না৷ কারণ তাদের সেই অর্থনৈতিক অবস্থাই ছিল ন৷ এই দিকে স্কুল-কলেজ খোলার সম্ভবাবনা আরো কমে গেল, যখন অসমে এই রোগটি প্রথম এল আমাদের বারাক উপত্যকার বদরপুর থেকে৷ তার পর থেকে লকডাউন আরো কঠিন হয়ে গেল৷ আর এত কঠিন লকডাউন থাকা সত্বেও এই রোগটি আরো ছড়িয়ে এল৷ এমন অবস্থা হল হাসপাতালে জায়গার অভাব পড়ছিল৷ কিন্তু ভালো কথা এই যে মানুষ এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে যাচ্ছিল৷ কিন্তু অনেক মানুষ যারা এই রোগে আক্রান্ত হননি তারা ভাবলেন যে তারা যদি সেই সেই হাসপাতালগুলোতে যান সুস্থ হওয়ার চেয়ে অসুস্থ হয়ে যাবেন বেশী সেখানের শৌচালয় ব্যবস্থার জন্যে৷ এখন লকডাউন শিথিল হয়েছে, কিন্তু যেহেতু পুজো সামনে তাই সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে পুজোগুলো খুব ছোটো এবং অনাড়ম্বর ভাবে করতে৷ এই রোগটি কি কোনোদিন শেষ হবে? আমরা কী আমাদের জীবন আগের মতো জাপন করতে পারব? আসন্ন দুর্গা পুজো উপলক্ষে মায়ের কাছে আমাদের এটাই কামনা৷