কৃষ্টি ও সংস্কৃতি

সলিল-হেমন্ত

সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়

 

সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় ক্রিকেট ইতিহাস আর পরিসংখ্যানবিদ। কিন্তু তার সাথে বাংলা স্বর্ণ যুগের আধুনিক গান নিয়েও গবেষণা করছেন। সলিল চৌধুরী এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এর জীবনের একসাথে করা নানা কাজ নিয়েই এই লেখা...

Sumit Ganguly 1_edited.jpg

তখন ক্লাস ফাইভ। সালটা ১৯৯৫। শিক্ষক দিবস। আমাদের স্কুলে ওইদিন উঁচু ক্লাসের  ছাত্ররা ক্লাস নিতেন। কিন্তু সেবার আমি স্কুলে যাইনি।

 
পরের দিন সকালে খবর , সলিল চৌধুরী মারা গিয়েছেন। আমি তখন খুবই ছোট । জিজ্ঞাসা করলাম 'কে ইনি?' ঠাকুমা জানালো 'সেই গান শুনিস নি- আয়রে ছুটে আয় পুজোর গন্ধ এসেছে - সেটা ওঁর লেখা, ওঁরই সুর। গেয়েছেন অন্তরা চৌধুরী। ওঁরই মেয়ে'।
 

যাই হোক স্কুলে যাচ্ছিলাম দেখতে দেখতে বহু cpi(m) পার্টি অফিসে লাল পতাকা অর্ধেক নামানো। অবাক হয়ে ভাবছিলাম ব্যাপারটা কি ?

 

স্কুলে হাফ ছুটি হয়ে গেলো----  

 

এরপরে যতদিন গেছে তত বুঝেছি (মানে বোঝবার চেষ্টা করছি) সলিল চৌধুরী কি। 

 

যিনি "আদিমে" শুরু হয়ে অন্তে যেতে যেতে "স্বর্গ" রচনা করে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। যিনি পৃথিবীর ডাকে সাড়া দিয়ে গুঞ্জন প্রেম, চাঁদ-ফুল-জোছনার গানকে থামানোর কথা বলেছিলেন। 

 

১৯৪০ এর উত্তাল জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সময়ে ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে আসেন। যদিও, রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা অনেক অল্পবয়সেই তৈরি হয়। বি.পি.এস.এফ-এ থাকাকালীনই লিখেছিলেন 'বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা','ঢেউ উঠছে কারা টুটছে','ও আলোর পথ যাত্রী','হয়ত তাকে দেখেনি কেউ', ইত্যাদি বিখ্যাত গান গুলি।


এর পর তেভাগার দিন গুলোয় তাঁর লেখনী থেকে বেরিয়ে আসে 'হেই সামালো ধান হো','ভাইরে ও ভাইরে,' 'ও মাঝি বাইয়ো'-র মতো গান।

 

এই সময়ে 'শপথ' এর মত কবিতা,'গুনরাম গুঁই এর জীবনচরিত' এর মতো কাহিনীর স্রষ্টা সলিল রচনা করেছেন 'গাঁয়ের বধূ'-র মতো কম্পোজিশন। সুর দিয়েছেন বন্ধু সুকান্তের লেখা 'রানার'- এ।

 

১৯৪৮ সালে বটুকদা অর্থাৎ জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রর হাতে ধরে ফিল্মে আগমন হয় সলিলের  সহকারী সংগীত পরিচালক হিসেবে 'পুতুলনাচের ইতিকথা' ফিল্মে। 

 

৪৬ এর উত্তাল দিনে যখন লিখেছিলেন 'আজ হরতাল / আজ চাকা বন্ধ' তখনই বোঝা গিয়েছিল এক সুরকারের জন্ম হয়েছে, 'রানার', 'গাঁয়ের বধূ' পেরিয়ে বরযাত্রী ছায়াছবির 'শিমূল শিমূল শিমূলটি' গান থেকে অন্য স্বাদ পাওয়া গিয়েছিল। 'পাশের Iবাড়ি'-র 'রূপ সায়রেরও বুকে' বা 'ঝির ঝির ঝির ঝির ঝিরি বরষায়' গান আক্ষরিক অর্থেই  বাংলা গানের চলন পাল্টে দেয় বৈপ্লবিক রূপে। হারমোনি আর অবলিগেটোর ব্যবহার দ্বারা তিনি আসলে সুরের ক্ষেত্রে মার্কসীয় দ্বন্দ্বের প্রয়োগ ঘটান।

 

এরপরেও তাঁকে পার্টি বহিষ্কার করে, প্রশ্ন তোলে তাঁর গানে 'উত্তরনের' চিহ্ন নেই কেন - যেহেতু তিনি গাঁয়ের বধূর শেষে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলা দেখিয়েছিলেন , অভিযোগ ওঠে তিনি 'বিধি'/'কপালগুন'-শব্দের প্রয়োগ করে কৃষকদের লড়াই বিমুখ করছেন।
সুধিবৃন্দের এই হাস্যকর অভিযোগের উত্তর তিনি এঙ্গেলসের 'প্রকৃতির দ্বান্দিকতা' থেকে তুলে দিয়েছিলেন এবং অবাক হয়ে ভেবেছিলেন 'এরপর কি গানের সাথে মানে বই লিখতে হবে?'

 

দল থেকে সরে গেলেও তিনি প্রকাশ্যে অযথা বিরোধিতা কোনোদিন করেননি। 

 

বিভিন্ন হিন্দি ফিল্মের গানে, বাংলা গানের কথায় তাঁর বিপ্লবী মানসিকতার প্রভাব দেখা গেছে।

 

অজস্র কবিতা তার উদাহরণ রূপে বিদ্যমান। অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে আছে প্রকাশিত ও হারিয়ে যাওয়া নাটক ও অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে।


আশুতোষ কলেজের কমনরুমে একবার বিকেলে সময়িতা দি'-র আবৃতি শুনেছিলাম সেই ২০০৪-০৫ সালে - 'কাল সারারাত কাকদ্বীপে হরতাল হয়েছিল'। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র ফেডারেশনের মিছিলে অজস্রবার স্লোগান দিয়েছি 'যে ঘরে জ্বলেনি দীপ / চির আঁধার নিষ্প্রদীপ'। 

তারপরে অজস্র অনুষ্ঠান, কখনো উত্তম মঞ্চ, কখনো অন্য কোথাও। কখনো মিছিলে 'চলছে আজ চলবে কাল ' থেকে বিকেল বেলা একলা রাস্তায় 'এ মন মোর জানি না'। 

 

কখনো 'জানেমন জানেমন ' তো কখনো 'বাজে গো বীনা'। সলিল চৌধুরী রয়েই গেছেন।

 

আজ যখন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা দূরে (সম্পূর্ণ নয়)  তখন তাঁর ভাষায় বলতে ইচ্ছা করে পুরোনো সব স্মৃতির উদ্দেশ্যে  ---- 

'ওগো ঝরাপাতা, 
      যদি আবার কখনো ডাকো
সেই শ্যামল হারানো স্বপন মনেতে রাখো
       যদি ডাকো, যদি ডাকো।

আমি আবার কাঁদব হাসবো
    এই জীবন জোয়ারে ভাসবো
আমি বজ্রের কাছে মৃত্যুর মাঝে 
    রেখে যাব নিশানা।।'

সলিলের কথার রেশ ধরেই বলতে ইচ্ছে করে ভগবান যদি গাইতেন তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় গাইতেন। আর সেই কারণেই খুব খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়। 


"কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি " কিংবা "অলির কথা শুনে বকুল  হাসে"।


আজও মনে পড়ে --- "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই "  বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে / তোর মনে কথা / তবুও কেউ জানলো  না" ।


আকাশে মেঘ করলেই মনে পড়ে "মেঘের স্বপন দেখি"  ----
শুধু একজনের জন্য  --  হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

আজকের ভবানীপুরের  যেখানে কাশাঁরীপাড়া, ঐখানে একটা লাইব্রেরি আছে। কোনো একদিন বিকেলে সেখান থেকে ফেরার সময় এক অল্প বয়সী লম্বা কিশোর কে তার বন্ধু বলেছিলো "তোর দ্বারা সাহিত্য হবে না, তুই গানটাই ভালো করে গা"। এর প্রায় ৫০ বছর পরে সেই বন্ধু, তখন পক্ককেশ বৃদ্ধ 'পদাতিক কবি'  সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন 'ভাগ্যিস  সেদিন লেখাটা ছেড়ে দিয়েছিলো। না হলে আমাদের লেখা কেউ পড়ত না।'

মাঝে মাঝে ওখান দিয়ে হাঁটি। মনে হয় যেন বিষণ্ণ বিকেলে কোথা থেকে ভেসে আসছে "ঝরা পাতাদের মর্মর ধ্বনি মাঝে/কান পেতে শোনো /অশ্রুত সুরে/মোর এই গান বাজে...."

কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনেসে /তো বেহতর হ্যায় /কে মর যায়ে " 


– আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " -- তাহলে তো আর  কথাই নেই।  
 
বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল "শূর্পনখার নাক কাটা যায় /উই কাটে বই চমৎকার /খদ্দেরকে জ্যান্ত ধরে /গলা কাটে দোকানদার "।

 

মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে" । জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে" শুনে।

 

সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি/এ ব্যাথা আমার কতটুকু/তবে বন্দি করা /কোনো পাখির কাছেই জেনে নিও"। 

তারপর "গাঁয়ের বধূ", "রানার", "ঠিকানা", "পালকির গান", "দূরন্ত ঘূর্ণি" বা "ধিতাং ধিতাং বোলে " তো আছেই।  

২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটিতে মুক্তমঞ্চে  গেয়েছিলাম "সজনী লো দেখে যা /উথালি পাথালি হলো মন"।

সারাদিন টুইশন ইত্যাদি সেরে প্রায় আধা নির্জন রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। চায়ের দোকানে ঝাঁপ পড়ার আগে শুনলাম রেডিওর বিবিধ ভারতী তে গান হচ্ছে "কুছ দিল নে কহাঁ/কুছ ভি নহিঁ/এইসি ভি বাতেঁ হোতি হ্যায়/এইসি ভি বাতেঁ হোতি হ্যায় ........"

যখন ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে একা একা  বসে থাকি , চারপাশের সবুজ মনে করিয়ে দেয়  "শূন্যে ডানা মেলে /পাখিরা উড়ে গেলে/ নিঝুম চরাচরে/তোমায় খুঁজে মরি"। 

খুঁজলেও পাওয়া যাবে না যাঁকে তিনি হেমন্ত । ঋতুটা আর ভালো করে চেনা যায় না -- কিন্তু গলাটা আজও  রয়ে গেছে। বসন্ত আসুক ছাই না আসুক। আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম। 

                        ---------///////---------
                             

'একূল ভেঙে ওকূল তুমি গড়ো...'

সত্যি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটি কূল ভেঙে ছিল। সেই তিরিশের দশকে 'দেশ' পত্রিকায় 'একটি দিন' গল্পটি প্রকাশিত হলেও তিনি সাহিত্যিক হননি। সন্তোষকুমার ঘোষ বা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো বন্ধুরা সাহিত্যিক হলেও তিনি গায়ক হন। দুই বছর পরেই প্রকাশিত হয় প্রথম রেকর্ড 'জানিতে যদি গো তুমি / পাষাণে কি ব্যথা আছে' আর 'বলো গো বলো মোরে'। 

সাহিত্যিক হিসেবে যে জীবনকথা তিনি তুলে ধরতেন গানেও একই রকম জীবন্ত হয়ে উঠতো সেই আবেগ। প্রতিটি শব্দের প্রকৃত অর্থ ব্যঞ্জনাময় হয়ে উঠতো তাঁর কন্ঠে। সে 'বর্গী রা সব হাঁকে'ই হোক কিংবা 'স্বপ্ন জাগানো রাত'-ই হোক। 

যেমনভাবে উচ্চারিত হয়েছে 'প্রাণহীন শহরের ইতিকথা' তেমনই মূর্ত হয়েছে সামান্য কেরানীর জীবনের বিবর্ণ যাপন। 'ঘরেতে অভাব পৃথিবীটা তাই/ মনে হয় কালো ধোঁয়া' গাইবার সময়ে অভাবের সংসারে যেভাবে দুনিয়ার কালো হয়ে যাওয়া ফুটে ওঠে; তেমনই ফুটে উঠেছিল গল্পে-- অসুস্থ মেয়ের ওষুধ - পথ্য জোগাড় না করার সমস্যা। 

কিন্তু মানুষ তবু স্বপ্ন দেখে। 'অসীম আকাশ'-এর নীচে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। কেরানীর স্ত্রী আর তাঁকে জাগিয়ে তুলতে চায় না। মধুপুরে ঘুরতে যাওয়ার হিসেব নয়তো পরেই হবে। 'ছোট ছোট মানুষের ছোট ছোট আশা/ কে রাখে খবর তার'।

 

এই জীবন দর্শনের টানই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কে টেনে নিয়ে গিয়েছিল IPTA করতে। বাংলা কমিটির সঙ্গীত সম্পাদক ছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সলিল চৌধুরীর। সলিল তখন ছাত্র ফেডারেশন ছেড়ে IPTA করছেন। প্রথম যৌথ কাজ 'গাঁয়ের বধূ'। তখন সলিল আন্ডারগ্রাউন্ড। ফলে ১৯৪৮ এর রেকর্ডের সুর সলিলের হলেও সঙ্গীতায়োজন কিন্তু হেমন্তের। এরপর ১৯৬১ অবধি ১৪ টা বেসিক গান। পরে ১৯৬৯-১৯৭০ নাগাদ আরও কিছু। এরপর প্রায় এক দশক বাদে ১৯৮২ অবধি আরও কয়েকটা। প্রসঙ্গক্রমে বলি, সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা 'অনুভব' 'ঠিকানা' বা 'রানার' ছাড়াও 'রবীন্দ্রনাথের প্রতি' সুর করেছিলেন সলিল। গেয়েছিলেন হেমন্ত। সলিল চৌধুরী-হেমন্ত মুখোপাধ্যায় জুটি বাংলা বেসিকে মোট ২৬টি, বাংলা ফিল্মে ৭টি (৪টে ফিল্মে), হিন্দি ফিল্মে ১৪টি (একটি অপ্রকাশিত সহ, ৯টি ফিল্মে)গান আছে। এছাড়াও হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের সুরে সলিলের কথায় একটি বেসিক এবং অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে ও সলিলের কথায় একটি আকাশবাণীর গান (রম্যগীতি না এমাসের গান জানি না) আছে হেমন্তের। 

কিছু গানের কথা চূড়ান্ত পলিটিক্যাল। যেমন অল্পশ্রুত গান 'এ জীবন বেশ চলছে'। গানটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় রেকর্ড করেন ১৯৮০-৮১-৮২ নাগাদ। কিন্তু কম্পোজিশন সেই ষাটের দশকের। যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময় দক্ষিণ-২৪ পরগনায় একটি জনসভায় এই গান প্রথম গেয়েছিলেন সলিল নিজে। লুম্পেন শক্তির বিরুদ্ধে এই গানটির একটি অন্তরা বাদ দিয়ে প্রকাশ হয়। 

অনেকে হয়তো অবাক হবেন রাহুল দেব বর্মণের সুরে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মাত্র তিনটি গান ছিল। যার দুটি পাওয়া যায়। প্রথম টি পঞ্চমের অপ্রকাশিত ফিল্ম 'রাজ' এ হেমন্ত-গীতা ডুয়েট। 'তুম মেরে জিন্দেগী মে' যেটা পরে কিশোর কুমার-লতা মঙ্গেশকর রেকর্ড করেন। বাংলায় অমিত কুমার গেয়েছিলেন। 

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় পঞ্চমের সুরে আর দুটো গান গেয়েছেন। একটা হলো 'আজা মেরা প্যার আজা'। অন্যটা ঐতিহাসিক। চোর হো তো এইসা ফিল্মের গান। সঙ্গে আবার কিশোর কুমার আশা ভোঁসলে। 'মস্তি মে বৈঠ কে লাগাও'। কিশোর কুমারের সঙ্গে আর একটাই ডুয়েট ছিল । 'দুস্তর পারাবার পেরিয়ে'। 

তাঁর সুরে কিশোর কুমার গেয়েছেন 'আমার পূজার ফুল', 'সে যেন আমার পাশে' , 'সরস্বতীর সেবা করি অন্ন যে তাই জুটলো না' কিংবা 'ওহ শাম কুছ আজিব থি'। তিনিও কিশোর কুমারের সুরে গেয়েছেন 'রাহি তু রুক মত জানা' কিংবা 'চলতি চলি যা'। 

সুধীন দাশগুপ্তই হোন বা শঙ্কর-জয়কিষণ। শচীন দেব বর্মন ই হোন বা  তিনি নিজে। ডুয়েটে সন্ধ্যা মুখার্জীর 'তুমিই বলো'  হোক কিংবা লতা মঙ্গেশকরের 'নয়ন তো নয়ন নাহি মিলাও'.... তিনি খুব স্পষ্ট ভাবেই নিজের অস্তিত্ব রেখেছেন। 

বাংলায় যেমন একদিকে উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তেমনই তাপস পাল-প্রসেনজিৎ অবধি চলেছে। হিন্দিতেও দেব আনন্দ,বিশ্বজিৎ, অভি ভট্টাচার্য, প্রাণ এমনকি শাম্মি কাপুরও ছিলেন। 

প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গেছে। তিনি নেই ৩২ বছর হলো। একদিনও মনে হয়? জন্মদিনটা ১০১ বার এলো। সেই ভবানীপুর, মিত্র স্কুল, পেরিয়ে টালিগঞ্জ, HMV, কলম্বিয়া, IPTA, বোম্বে। শাপমোচন থেকে নাগিন। বিশ সাল বাদ থেকে পাকা দেখা। 'আমি পথ ভোলা এক পথিক' থেকে 'হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা'। 'পথেই এবার নামো সাথী' থেকে 'পথের ক্লান্তি ভুলে'। 

'একদিনেতে হইনি আমি তোমাদের এই হেমন্ত'।

                ---------------////////------------

এ ধরণী আবার করোনা মুক্ত হবে। দুপুরের রোদের পরে ছায়া নেমে আসবে .... সাদার্ন এভিনিউর রাস্তা ধরে সন্ধ্যা নামবে। লেকের জল নীল থেকে কালো হবে... আমরা আবার গাইবো... 'মৌমাছি ফিরে গেলে জানি তার গুঞ্জন থামবে'....