বহমান বর্তমান / Current Affairs

লিখছেন অরবিন্দ রায় ... 
৮ আগস্ট ২০২০ 

এই পক্ষের বিশেষ কলাম :

লকডাউন ও পরিবেশ দূষণ

লকডাউন জারি হয়েছে দেশজুড়ে। বন্ধ হয়েছে রাস্তায় গাড়ির ঢল।  তাই দূষণের মাত্রা মাত্র কয়েকদিনেই কমে রেকর্ড গড়েছে দেশে।লকডাউন পরিস্থিতর ফলে জরুরি পরিষেবা ছাড়া রাস্তায় মিলছে না অতিরিক্ত কিছু। আর তাতেই কমেছে দূষণের মাত্রা। দেশের ৯০টি শহরে দূষণের মাত্রা কমে রেকর্ড গড়েছে। এই সচেতনতাকেই পরিবেশবিদরা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন। সফর-এর(SAFAR) মতে, দিল্লিতে দূষণের মাত্রা কমে ২.৫ হয়েছে, আহমেদাবাদ ও পুণেতে ১৫ শতাংশ দূষণের মাত্রা কমে গিয়েছে। লকডাউন জারি হওয়ায় রাজ্যে বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত কারাখানাগুলি।


কাছাড় জেলায় সেই অর্থে কোনও কলকারখানা না থাকলেও পাথর শিল্পাঞ্চল এবং যানবাহন চলাচলের কারণে ব্যাপকভাবে দূষণ হতো। কিন্তু লকডাউনে সেই সব বন্ধ। মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোয়নি। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় যান চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কম ছিল। স্বাভাবিকভাবেই কমেছে বায়ু দূষণ।
 

পরিবেশবিদদের ব্যখ্যা ভোর থেকে পুরোপুরি বন্ধ গাড়ি চলাচল। ফলে ডিজেল থেকে দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বললেই চলে। রাস্তায় লোক একদমই কম বেরোচ্ছে। সমস্ত অফিস বন্ধ। রাস্তার খাবার দোকানের উনুন জ্বলছে না। ফলে দূষণ যা যা থেকে ছড়ায় তার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি তার জেরে সকাল থেকে ঝকঝকে আকাশ। 
 

উত্তর ভারতের বায়ু দূষণ গত ২০ বছরে এত কম এর আগে দেখা যায়নি। উত্তর ভারতে বর্তমানে বাতাসে ধুলিকণার মাত্রা গত ২০ বছরে সর্বনিম্নস্তরে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বস্তুত, বায়ু দূষণের নিরিখে বিশ্বের সব চেয়ে দূষিত শহরগুলির অন্যতম দিল্লি। সেখানেই এখন নীল আকাশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।  রাতে চোখে পড়ছে রাশি রাশি তারা, যা আগে ভাবা যেত না। শুধু রাজধানী নয়, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের হিসেব বলছে, দেশের ৯২টি শহরের দূষণমাত্রা চোখে পড়ার মতো কমে গিয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি শহরের বায়ুর মান 'ভাল' আর ৫১টি শহরের বায়ুর মান 'সন্তোষজনক'।


নদীগুলি থেকে বেপরোয়াভাবে বালি তোলার ফলে নদীকেন্দ্রিক বাস্তুতন্ত্রও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। লকডাউনের কারণে এই নদী থেকে বালি তোলা প্রায় বন্ধ ছিল বলা চলে। ফলে নদীগুলি আগের অবস্থায় না ফিরলেও জীব বৈচিত্র কিছুটা হলেও আগের জায়গায় আসবে বলে আশা নদী বিশেষজ্ঞদের। তাছাড়া মানুষের নিয়মিত হাত ধোয়া থেকে শুরু করে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে মানুষ আরও অনেক বেশি সচেতন হয়েছে।

বায়ু দূষণের ফলে গড়ে ভারতের মানুষের আয়ু কমেছে ৫.২ বছর। গত কুড়ি বছরের বায়ুতে ভাসমান পার্টিকিউলেট ম্যাটারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট পেশ করেছে  Energy Policy Institute at the University of Chicago। সারা বিশ্বের মধ্যে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। তিন, চার ও পাঁচ স্থানে যথাক্রমে নেপাল, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তান। গবেষকরা একটি বিশেষ সূচক তৈরী করেছেন air quality life index (AQLI), যেটা এই হিসেব করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বলা মাপকাঠির মধ্যে যদি এই দেশগুলি থাকত, তাহলে সেখানকার মানুষ কতদিন বেশি জীবিত থাকতেন। এই সংখ্যাটি যত বেশি হবে, সেখানকার হাওয়া ততই দূষিত।

 

প্রসঙ্গত কুড়ি বছর আগে প্রায় ভারতের মতো দূষিত ছিল চিন। ধীরে ধীরে সেটি কমেছে ও বিশেষত ২০১৩ সালের পর PM 2.5 এর পরিমাণ কমেছে ৪০ শতাংশ। একই সময় ভারতের বাতাসে ধুলিকণা PM 2.5 এর পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ২০১৮-র তথ্য অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে দূষিত জেলা উত্তরপ্রদেশের লখনউ। এখানে PM 2.5 প্রায় ১১৪.৬ এমজি প্রতি কিউবিক মিটারে। হু-এর ১০ এমজির সীমা মানলে লখনউবাসী গড়ে ১০.৩ বছর বেশি জীবিত থাকবেন। দেশের মধ্যে প্রথম ১৪টি দূষিত জেলা উত্তরপ্রদেশে। ১৫তম জেলা হল দিল্লি, দূষণের মাপকাঠি অনুযায়ী। দিল্লিতে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৯.৪ বছর। 

 

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা জানায়, বিশেষ করে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাডের নির্গমণ কমে গেছে বলে তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। সাধারণত বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গাড়ি ও কারখানাগুলো থেকে এই ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন ঘটে। ইতালির উত্তরাঞ্চলের পো উপত্যকায় এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাসে দেশজুড়ে অচলাবস্থা চালু হওয়ার পর ইতালির উত্তরাঞ্চলে বায়ু দূষণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপগ্রহের ছবিতে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

করোনা আসলে প্রকৃতির একটি বিদ্রোহ। এর থেকে পাঠ নিয়ে আমরা যদি দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনই কড়া পদক্ষেপ না নিতে পারি, তাহলে মানব সভ্যতা আরও দুর্গতির মধ্যে পড়বে। এই ঘটনা সেটা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল ।

লিখছেন অরবিন্দ রায় ... 
১ আগস্ট ২০২০ 

এই পক্ষের বিশেষ কলাম :

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা 

প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া, সংক্ষেপে পিটিআই। সঠিক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তাঁদের সুনাম রয়েছে। পিটিআই-এর একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। একসময় কে সি রায় তৈরি করেছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ ইন্ডিয়া বা এপিআই। ১৯১৯ সালে তা রয়টার্স অধিগ্রহণ করে। তবে এপিআই নাম রেখে দেয়। ১৯৪৭ সালের ২৭ অগাস্ট পিটিআই তৈরি হয়। দুই বছর পরে তারা এপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে রয়টার্সের সঙ্গে তখনও যোগ ছিল। সেটা ছিন্ন হয় ১৯৫৩ সালে। জরুরি অবস্থার সময় ১৯৭৬ সালে পিটিআই, ইউএনআই, হিন্দুস্তান সমাচার, সমাচার ভারতী মিলে তৈরি হয় সমাচার। জরুরি অবস্থার পরে ১৯৭৮ সালে আবার সংবাদসংস্থা আলাদা হয়ে যায়। সারা দেশ জুড়ে পিটিআই-এর এক হাজারের বেশি কর্মী আছেন। আর পিটিআই চালায় একটি ট্রাস্ট, যেখানে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরা আছেন। বোর্ডে তাঁদের প্রতিনিধিরা থাকেন।

কিন্তু ভারত-চীন সাম্প্রতিক বিরোধের মধ্যে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা জাতীয়তাবিরোধী খবর পরিবেশন করেছে। তারা জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক সংহতির বিরুদ্ধে কাজ করেছে। অভিযোগকারী সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রসার ভারতী। যার অধীনে রয়েছে দূরদর্শন এবং আকাশবাণী, মানে সরকারি টিভি ও রেডিও।


সূত্র জানাচ্ছে, পিটিআই এর একটা খবর ও একটা টুইট নিয়ে প্রসার ভারতী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে। খবরটি হলো, দিল্লিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদন। যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতই লাদাখে চীনের এলাকায় ঢুকেছিল। সংঘর্ষে চীনের কোনও দায় নেই। যাবতীয় দায় তিনি ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিলেন।


দ্বিতীয় হলো একটি টুইট। চীনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে একটি টুইট। সেখানে বলা হয়েছিল, চীনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বার বার ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়া এবং কাঠামো তৈরি করার অভ্যাস চীনকে ছাড়তে হবে। এই টুইট নিয়ে অভিযোগ হলো, প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে কেউ নেই, কোনও পোস্টও অন্য দেশের অধিকারে নেই, সেখানে কেন এই ধরনের টুইট করা হলো?

এটা শুধু পিটিআই-এর প্রশ্ন নয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন হলো, এইভাবে দেশের সব চেয়ে পুরনো সংবাদসংস্থাকে কি জাতীয়তাবিরোধী আখ্যা দেওয়া যায় ? তাদের ওপর চাপ দিয়ে সরকার কি নিজেদের পছন্দমতো খবর করতে বাধ্য করতে পারে ?


বিশেষজ্ঞদের মতে, পিটিআই-এর কাছে যে হুমকি চিঠি পাঠিয়েছে প্রসার ভারতী, তার পিছনে সরকারের মদত রয়েছে। তারা খাতায় কলমে স্বশাসিত সংস্থা হলেও মূলত সরকার নির্দেশিত পথেই চলে।


ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিসর ক্রমশই সংকীর্ণ হচ্ছে ! বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'রিপোর্টাস উইথআউট বর্ডাস' প্রকাশিত তালিকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিরিখে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪০তম স্থানে রয়েছে ভারত। 
 

'ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স' শীর্ষক এই রিপোর্টে গত বছর ভারত ১৩৮ নম্বরে থাকলেও এবার তা দু'ধাপ নেমে গিয়েছে। দ্য ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০২০-র রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'সরকারের লাইনে থাকতে সংবাদমাধ্যমগুলির উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে ।' 
 

ইতোমধ্যে এমন সব বিপদ দেখা যাচ্ছে, যা সহজে বোঝা যায় না ৷সংবাদমাধ্যমের অধিকার শুধু উপর থেকে রক্ষা করা হয় না ৷ অভিযোগ উঠছে ‘সেল্ফ সেন্সরের' ৷ কিন্তু কেন ? আমরা তো স্বাধীন ৷


তথ্য বলছে, সাংবাদিক খুন না-হলেও, সাংবাদিকদের উপর পুলিশের অত্যাচার, রাজনৈতিক নেতাদের চাপ সৃষ্টি, দুর্নীতিবাজ অফিসার ও অপরাধমূলক গোষ্ঠীর প্রতিশোধের হুমকি-- সব মিলিয়ে ভারতের খর্ব হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা । শত শত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার কোনো বিচার আমরা দেখিনি ৷ফলে কেউ বলে না দিলেও সাংবাদিকরা এতদিনে নিজের অজান্তে, বলতে গেলে ‘অবচেতন মনে' জেনে নিয়েছেন, কোন পরিস্থিতিতে, কাকে কোন প্রশ্ন ‘নির্ভয়ে' করা যাবে, অথবা কখন কোন প্রশ্ন কাকে করলে ‘সমূহ বিপদের' আশংকা রয়েছে ৷


প্রশ্ন হল তিনটি-
১) এই মুহূর্তে দেশের সাংবাদিকরা 'নির্ভয়ে' কাজ করছেন ?
২) কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ‘চাপ' কি সাংবাদিকদের ওপর নেই ?
৩) সাংবাদিকরা সত্যিকার অর্থে 'নিরপেক্ষভাবে' সংবাদ পরিবেশন করতে পারছেন কি ?

আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ, এরপরই রাষ্ট্রের অলিখিত চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়ে থাকে গণমাধ্যমকে ৷ ঘুণে পুরোপুরি খেয়ে ফেলার আগে স্তম্ভগুলোকে শক্তিশালী না করে তুললে, লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্রটাই হয়ত একসময় মুখ থুবড়ে পড়বে ৷

"নো এনটিটির" আত্মকথন
দত্তাত্রেয় বাক্যবাগীশ , ১ আগস্ট ২০২০ 

তাঁর নাম ধ্রুব দাস। নিবাস - ইটখলাঘাট, রবীন্দ্র নগর,শিলচর। জুলাই মাসের গত আঠারো তারিখ তার নামে নোটিশ এসেছে শিলচরের তিন নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে। তাতে বলা হয়েছে তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ বা তারপর অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং পুলিশ যখন তাঁকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল তখন তিনি তার নাগরিকত্বের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেন নি। অতএব অমুক দিনের অমুক সময়ে তাঁকে নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে হবে ইত্যাদি।


যাইহোক এ ব্যাপারটিতে নতুনত্ব কিছু নেই। এরকম ভুরি ভুরি কেস সাল ২০১২ থেকে আসামে ঘটে চলেছে, চলবেও। যা তথ্য এখন অব্দি লব্ধ তাতে চোখ বুজে বলে দেওয়া যেতে পারে যে ধ্রুব দাসের প্রকৃত বিদেশি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। হয় তিনি নথিপত্র ঠিকঠাক দেখাতে পারেননি অথবা হয়তো তাঁর সবটা তার কাছে নেই। তা'বলে কাগজনির্ভর নাগরিকত্ব নির্ধারণের এই অদ্ভুত প্রক্রিয়া তা মানবে কেন ? অতএব এবার 'ম্যাও সামলাও'। উকিল ধর, কাগজ যোগাড় কর। সম্বল না থাকলে ঘটিবাটি বেঁচে ফতুর হও। আর তাতেও ঈশ্বর(নাগরিকত্ব) প্রাপ্তি না হলে আত্মহত্যার বিকল্প তো রইলই। 


কথা হলো ধ্রুব দাস বা তার মতো অনেকেই ইদানীং নোটিশ পাচ্ছেন যাদের এনার্সিতে নাম নথিভুক্ত হয়েছে। তবে ব্যাপারটি আইনতঃ সিদ্ধ। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল কে মাননীয় সুপ্রীম কোর্ট এই ক্ষমতা দিয়েছেন যাতে তেনারা এনার্সি প্রক্রিয়াকে পাত্তা না দিয়ে আবার যে কোন কাউকে নোটিশ ধরিয়ে দিতে পারেন , যদি সন্দেহ করেন। ১৬০০ কোটি টাকার এই মহাযজ্ঞ করার যুক্তি তাহলে কি ছিল এসব প্রশ্ন কিন্তু ভুলেও তুলতে যাবেন না। কারন এটা 'নো এনটিটি' আপনার জনগোষ্ঠী র এক্তিয়ারের বাইরে। তাই দেখেন না - মুষ্টিমেয় দু একজন বাদ দিলে আপনার গোষ্ঠীভুক্ত জনপ্রতিনিধিরা এসব ব্যাপারে 'স্পিকটি নট' , সে ধ্রুব দাস কিংবা নরেন্দ্র মন্ডল যার কেসই হোক না কেনো । 'সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে'।

 

আবার তাদের ই বা দোষ দিয়ে লাভ কি ? আমরাই তো তাদের নির্বাচিত করে পাঠাই। আবার মজার ব্যাপার দেখুন সব রাজনৈতিক দলই এই ব্যাপারে এক ভুমিকা পালন করে। কংগ্রেস আমলে যেমন ডি ভোটার নোটিশ ইস্যু হয়েছে গত চার বছরের বিজেপি শাসনে তা মোটেই কমেনি, উল্টে বেড়েছে বোধ করি।


তবে যা কৌতুহল সৃষ্টি করছে এই ক্ষেত্রে, তা হলো মহামারী জনিত বর্তমান সঙ্কট ও বর্ডার পুলিশ বা ট্রাইব্যুনালকে দমিয়ে রাখত পারেনি তারা এই কাজের ব্যাপারে এতটাই দৃঢ়সংকল্প। শোনা যায় সরকার থেকে এই ব্যাপারে তাদের মাসিক লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়া হয় এবং কতজনকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করলেন তার উপর এফ.টি মেম্বারদের পদোন্নতি ও নির্ভরশীল। তাই এইসব হয়রানি অদুর ভবিষ্যতে ইতি হবার সম্ভাবনা খুবই কম, এমনকি যদি সি.এ.এ বাস্তবায়িত হয় তাহলেও। যেহেতু সেটিরও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে সেই রাজ্য সরকারের ই হাতে। বাঙালি মুসলমানদের সামনে অবশ্য সেই গাজরটিও ঝোলানো নেই।


'নো এনটিটি' আসামের বাঙালির কাছে কি তাহলে কোন  বিকল্প নেই ? শুধু নাগরিকত্ব নয়, চাকরি বাকরি র প্রশ্ন হোক কিংবা মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যাপারে ই হোক (ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকা) নো এনটিটি এই গোষ্ঠীটি কি সবসময় হয়রানির জন্য বলি প্রদত্ত হয়েই থেকে যাবে ? নাকি একবার ঘুরে দাঁড়াবে, রুখে দাঁড়াবে ?

আসাম তথা উত্তর পূর্বের বাঙালিদের এখনো কি নিজেদের জন্য পৃথক ভূখন্ড বা পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব তৈরী করার সময় আসে নি ?চলুন ভাবি। ভাবা প্রাকটিস করি। বেলা যে বয়ে যায়........

লিখছেন অরবিন্দ রায় ... 
২৫ জুলাই ২০২০ 

এই পক্ষের বিশেষ কলাম :

লকডাউন , সতর্কতা বনাম রোজগার , পক্ষ - বিপক্ষ দ্বন্দ্ব 

আপাতত কাছাড  জেলায় লকডাউন হচ্ছে না। স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
 

লকডাউন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। লকডাউন আংশিক প্রত্যাহার করার পর বাড়ির বাইরে থাকা লোক ঘরে ফিরে আসছে। প্রতিদিন নতুন করে  কোভিড  আক্রান্তদের সংখ্যা  বাড়ছে । এটা  অপ্রত্যাশিত  ছিল না ।  কারণ , আনলক শুরু  হওয়ার   আগে কোভিড  টেস্ট পর্যাপ্ত  ছিল না । এখানে  ব্যাপক হারে  টেস্ট  হচ্ছে  , ফলে  আক্রান্তদের  চিহ্নিত করা  সহজ  হচ্ছে ।  তাছাড়া বেশিরভাগ আক্রান্তদের দেহে বাহ্যত রোগের উপসর্গ  দেখা  যাচ্ছে না  অর্থাৎ এসিম্পটোমেটিক । এরকমটা  যে  হবে  সেটা  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  আগে থেকেই সতর্কবাণী  দিয়েছিল ।

 

আমাদের  বরাক উপত্যকায় একই কারণে  আক্রান্তের সংখ্যা  বাড়ছে । এবং সেটা  বাড়ছে  বহিরাগতদের  সংখ্যা  বাড়ার ফলে । স্বভাবতই  কিছু  সংখ্যক মানুষ  দারুণ ভাবে  উদ্বিগ্ন  । শহরের  শিক্ষিত  মধ্যবিত্ত  শ্রেণীর মধ্যেই  এই আতঙ্ক বেশি  পরিলক্ষিত  হচ্ছে । তারা এই উপত্যকার একাংশ সম্পূর্ণ লকডাউনের  জন্য  সোচ্চার । তাদের  হারানোর  কিছু নেই । কারণ , চাকরিজীবি  ও পেনশনারদের মাসিক বেতন  ব্যাঙ্ক  একাউন্টে যথারীতি  জমা হয়ে  যাচ্ছে । তাই  এদের  জীবন  ও জীবিকা  দুটোই  সুরক্ষিত  থাকবে  সম্পুর্ণ লকডাউনে ।  

 

কিন্ত , একাংশ ট্রেডার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দৈনিক  আয়ের উপর নির্ভরশীল  লোকেদের  অবস্থা  কিন্তু  এরকম নয় । তাদের ক্ষেত্রে জীবিকা জীবনের  জন্য  অপরিহার্য । সম্পূর্ণ  লকডাউন  মানে  তাদের  জীবিকার  উপর  সরাসরি  আঘাত । গরিব মানুষ  যৎসামান্য সরকারি  সহায়তা  পাচ্ছেন  যদিও  তা যথেষ্ট নয় । শুধু  অন্নসংস্থান  হলেই হয় না । তার বাইরেও  জীবন যাপনের  জন্য আরও কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের  দরকার হয় । এসব  কেনাকাটার জন্য  অর্থের  প্রয়োজন ।  যেমন  ঔষধ , তেল , সাবান  ইত্যাদি ।  সম্পূর্ণ লকডাউনের ফলে  তাদের  জীবিকা  ভয়ঙ্কর ভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

 

অন্যান্য  নিম্ন বিত্তদের অবস্থা  আরো  শোচনীয় । দারিদ্র্য সীমার  নিচে  না  থাকায় তারা  সরকারি সাহায্য  থেকে  বঞ্চিত । তাছাড়া আছে  সামাজিক  লোক লজ্জা। লাইনে  দাঁড়িয়ে  সরকারি  অনুদান নিতে  তারা  অপারগ । ফলে পেটে ক্ষুধা  মুখে  লাজ নিয়ে  তাদের থাকতে । অবস্থা  সত্যিই ভীষণ  করুণ । অন্যদিকে  সম্পূর্ণ লকডাউনের  সময় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে  যায় । ফলে  দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচও দু তিন গুণ বেড়ে  যায় । এটার জোগান দিতে গিয়ে  তাদের   নাভিশ্বাস  ওঠে । সঞ্চিত যৎসামান্য  অর্থ ফুরিয়ে  নিঃশেষ হয়ে যায় । তাই  এই  শ্রেণির  জনগণের কাছে  জীবিকার  পথ খোলা থাকাটা  জীবনের  জন্য অপরিহার্য । তাই  তারা  কখনোই  চান না  সম্পূর্ণ  লকডাউন  হোক । দুর্ভাগ্য যে  আমাদের দেশের  ৭০% শতাংশ লোক  এই শ্রেণির । অতএব  দেশের গরিষ্ঠ সংখ্যক  জনসাধারণের  স্বার্থে  সম্পূর্ণ লকডাউন  বাঞ্ছিত নয় ।  

 

আরেকটি   প্রশ্নও  উঠেছে যে  লকডাউন কি  করোনা  প্রতিরোধের  বর্তমান  অবস্থায় একমাত্র  পথ ।  বৈজ্ঞানিক ভাবে  কিন্তু  এটা প্রমাণিত  হয় নি যে  লকডাউন  করোনা  সংক্রমণ করতে   সক্ষম  হয়েছে । তাই  পাশ্চাত্য দেশ গুলোতে  লকডাউন ধাপে ধাপে প্রত্যাহার  করে  নেওয়া হয়েছে  বা হচ্ছে । আসলে  শারীরিক দূরত্ব  বজায় রাখার  জন্য  লকডাউনের  অবতারণা । লকডাউনে সামাজিক  গণ সমাবেশকে নিয়ন্ত্রণ  করা  হচ্ছে  এর মূখ্য  উদ্দেশ্য  ।

 

আমাদের  দেশে  শারীরিক দূরত্ব  বজায় রাখার জন্য  যে  সতর্কতা  ও সাবধানতা অত্যাবশ্যক  তা মোটেই  পালন করা  হচ্ছে না । যেমন  অটো রিকশা,  ই- রিকশা ইত্যাদিতে যাতায়াতের  সময়  শারীরিক সংস্পর্শ  অবধারিত ভাবে  হচ্ছে । একইভাবে  বাড়িতে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশেও শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না । অফিস  আদালত বাজার  হাটেও একই অবস্থা । একটাই কারণ  যে লোকেরা সচেতন নন ।  একটা  ড্যাম কেয়ার ভাব  এখনও  কাজ করে ।  তাছাড়া  এসিম্পটোমেটিক ব্যাপারটা  কাজ করে । যতক্ষণ না  গণ সচেতনতা  আসছে  ততক্ষণ  সংক্রমণ  রোধ করা  সম্ভব হবে না । লকডাউন মানুষকে  ঘরে  বন্দি করে  রাখতে  পারে  কিন্তু  শারীরিক দূরত্ব  বজায় রাখতে  সক্ষম হবে না । এতদিনের লকডাউন ফলাফল  বিশ্লেষণ করলে  এটাই  লক্ষ্য করা  যায় । তাছাড়া  দোকান পাট কলকারখানাতে শারীরিক দূরত্ব  সর্বক্ষেত্রে বজায় রাখা  সম্ভব নয় । সমগ্র  অর্থনৈতিক পরিকাঠামোই আমাদের  দেশে  এরকম আন্তর্জালে বাঁধা  যে  শারীরিক দূরত্ব  বজায় রাখা  খুবই কষ্ট সাধ্য ।

 

অতএব  দেশের সংকটাপন্ন  অর্থনৈতিক  অবস্থার কথা  মাথায় রেখেই  করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে । এখানে  লকডাউন থেকে  বেশি  জরুরি  জনসচেতনতা ও উপযুক্ত  চিকিৎসা  ব্যবস্থা । বর্তমানে  এই দুটোর  কোনোটাই  আমাদের দেশে নেই ।   বর্তমানে সাধারণ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা  বিপর্যস্ত । ডাক্তার নেই  হাসপাতাল নার্সিংহোমের দরজা বন্ধ । এমনকি কোভিড টেস্টের  ব্যবস্থা ব্যপক  নেই  । এমনকি  টেস্টের  গুণমানও প্রশ্নের  ঊর্ধেব  নয় । সর্বত্রই  সন্দেহের  আচ্ছাদন ।  

 

এ অবস্থায় জনগণকেই স্বতস্ফূর্তভাবে  সতর্ক  থাকতে হবে । দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো  বা  যা আছে তা বজায় রাখতে হবে । জীবন ও জীবিকা  দুটোই সুরক্ষিত রাখতে হবে । একটিকে  বাদ দিয়ে অন্যটা কোনোভাবেই নয় ।

মন্ত্রী ভবেশ কলিতার জাতি বিদ্বেষ, ও আমরা
দিলীপ কুমার দে , ২৫ জুলাই ২০২০  

   

 

সম্প্রতি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন কালে বাঙালির উদ্দেশ্যে করা মন্ত্রী ভবেশ কলিতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে

কলম ধরলেন অবসরপ্রাপ্ত  অধ্যক্ষ  দিলীপ কুমার দে।

দিলীপ কুমার দে, সক্রিয়পন্থি প্রবীণ নাগরিক মঞ্চের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।

এই মর্মে মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে  বিষয়টির  সুবিচার চেয়ে  ওদের সংগঠনের তরফে একটি দাবি পত্রও পাঠানো হয়। 
 

আমরা প্রবীণ নাগরিক। রাজনীতির সাতে পাঁচে নেই। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলাম যে ভারতীয় সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে আসাম রাজ্যের মাননীয় জনৈক মন্ত্রী শ্রী ভবেশ কলিতা বন্যাকবলিত মানুষদের দেখতে গিয়ে এক ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক প্রকাশ্য গালিগালাজ করলেন। এক বন্যাক্রান্ত মহিলা সাহায্য চাওয়ায় তাঁর প্রতি নাকি চিৎকার করে বললেন, 'বঙালি খচ্চর জাতি'। যদি এটা বলে থাকেন তবে দেশের আইন অনুযায়ী তিনি মন্ত্রী থাকতে পারেন না, তিনি যে কোন দলেরই হোন না কেন। 
             

দু:খের বিষয়,  বাঙালিদের প্রতি একশ্রেণীর সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবাদী ছোট-বড় নেতার প্রকাশ্য ঘৃণা দেশের মানুষের ঐক্য বিরোধী। এই সময়ে যখন সারা পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস আক্রমণ নিয়ে মানবজাতি জর্জরিত, ভারতের সীমান্তে যখন বৈদেশিক হুমকি, দেশের অর্থনীতি যখন তলানিতে, আসামে যখন বন্যার জলে মানুষ ডুবছে তখন সব মানুষের ঐক্য, সংহতি ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত না করে একজন মন্ত্রী এমন হীনমন্যতা দেখান কেমন করে! যে বাঙালিকে( হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টান নির্বিশেষে) তিনি 'খচ্চর' আখ্যা দিয়েছেন তাদের পূর্বপুরুষ অনেকে, এবং ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, দেশের স্বাধীনতায় আত্মবলিদান দিয়েছেন। এক বাঙালি উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় সর্বপ্রথম উদ্যোগী হয়ে অসমীয়া ভাষায় উচ্চতম স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বাঙালিরা আসামের পথঘাট, রেলপথ, স্টিমারঘাট নির্মাণ, স্কুল কলেজ স্থাপন, জঙ্গল সাফাই করে কৃষি সম্প্রসারণ, সামগ্রিক ভাবে অর্থনীতি, শিক্ষা , ভাষা সংস্কৃতিতে বিপুল অবদান রেখেছেন, এসব কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। মন্ত্রী মহোদয় কার অঙ্গুলি হেলনে এসব দেশবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা ও গালিগালাজ করছেন জানি না। কোন সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন অসমীয়াভাষীও তার পাশে দাঁড়াবেন না। 
               

আমরা সবধরনের উগ্রতা,নীচতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। মন্ত্রী ভবেশ কলিতা যদি সংবাদমাধ্যম কথিত ঘৃণ্য জাতিবিদ্বেষী বক্তব্য রেখে থাকেন, তবে তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে  মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে দেশের স্বার্থে দাবি জানাই।
       

এই সংকটকালে সংকীর্ণ মনোভাব ত্যাগ করে ও নোংরা  রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষা করা একান্তই জরুরি বলে আমার মনে হয়।   

এই বিভাগের লেখা ও ভিডিও নিয়ে আপনার মতামত

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 by Ishan Kotha. Site Developed by CHIPSS