বহমান বর্তমান

লিখছেন অরবিন্দ রায় ... 
২৯ নভেম্বর ২০২০ 

এই পক্ষের বিশেষ কলাম :

মিডিয়া ট্রায়ালে ‘চরিত্রহনন’!

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর গালে চুম্বন এক মহিলার। এমনই ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পণ্ডিত নেহরুকে চুম্বনরত মহিলা আসলে ব্রিটিশ। পোস্টে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।ভাইরাল ছবিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে চুম্বনরত মহিলা ব্রিটিশ নন। তিনি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর ভাগ্নি নয়নতারা সেহগল।


১৯৫৫ সালে লন্ডনে সফরে নেহরুকে তাঁর ভাগ্নি নয়নতারা চুম্বনের খবরের খোঁজ মিলবে। ১৯৫৫-তে ইন্দিরা গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন পণ্ডিত নেহরু। সেখানে বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বোন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত। একই ভিডিয়োর ০.২৭-তে নয়নতারা সেহগলের নিজের মামাকে চুম্বনের ছবি মিলবে। প্রসঙ্গত, বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের মেয়েই নয়নতারা সেহগল।

 

‘অপরাধ প্রমাণ না-হওয়া অবধি সকলেই নির্দোষ’ এই নীতিকে আমরা লজ্জাকরভাবে বিসর্জন দিয়েছি। একজন সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত ব্যক্তি পেলেই আমরা তাকে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করে ঝাঁপিয়ে পড়ছি তার চরিত্র হননে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কাজটি হচ্ছে ভয়ঙ্করভাবে। এখানে যেহেতু কোনও সেন্সর নেই, কোনও নিষেধ করার ক্ষমতাওয়ালা কর্তা নেই। তাই যা খুশি বলা যায়, এবং যে কোনও ভাষায় বলা যায়। এই লাইসেন্স পেয়ে সবার আগল খুলে গিয়েছে। অবাধ ইতরামির জন্য কেউ কেউ বেছে নিয়েছে এই সোশ্যাল মিডিয়াকে। অশালীন ভাষা প্রয়োগের উৎসব চলছে। যে যত জঘন্য গালাগাল প্রয়োগ করতে পারে তার লেখায়, সে তত স্মার্ট। সেই লেখার লাইক-কমেন্ট শেয়ার বেশি!          

 

সোশ্যাল মিডিয়া না হয়, ‘আহাম্মকের পাঠশালা’, যেখানে ব্যক্তিগত শিক্ষা, রুচি ও বিবেকই একমাত্র ‘নিয়ন্ত্রক’ বা ছাঁকনি, এখানে কাণ্ডজ্ঞান আশা করা দুরাশা মাত্র। কিন্তু আমাদের মূলধারার মিডিয়াগুলো কী দায়িত্বশীল খবর পরিবেশন করছে ? রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিচারসভা চলছে চ্যানেলে চ্যানেলে (Media Trial)। এমনকী বেশ কিছু মিডিয়া নিজেদের খেয়ালখুশিতেই রিয়ার বিচার করে তাঁকে দোষী বলে ঘোষণা করছে। বেশ কিছু টিভি চ্যানেল তাদের নিজেদের মতো করে অতিরঞ্জিত ভাবে সুশান্তের মৃত্যুর খবর পরিবেশন করছে এই মর্মে ২০ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। বম্বে হাইকোর্টে দুটি পৃথক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।সরকার আদালতকে জানায়, পিসিআই হ'ল প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া আইন ১৯৭৮ এর অধীনে গঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এনবিএ হল স্বশাসিত সংস্থা। কিন্তু হাইকোর্ট অবাক হয়ে যায়, যখন শোনে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রনের জন্য কোনও পদ্ধতি নেই।কোনও ফৌজদারি মামলায় যখন পুলিশি তদন্ত চলছে সেই সময়ে সংবাদ মাধ্যম সমান্তরাল তদন্ত চালাতে পারে না। রিপাবলিক টিভির অর্ণব গোস্বামীকে স্পষ্টভাষায় এই কথা জানালো দিল্লি হাইকোর্ট। তাঁকে নিয়ন্ত্রণে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশটি সুনন্দা পুষ্কর হত্যা মামলার প্রসঙ্গে হলেও ঘটনার সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যাচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুত হত্যার ঘটনায় অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে তার সঙ্গেও। এই ক্ষেত্রেও অর্ণব গোস্বামীর ভূমিকা একইরকম, যা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের নিন্দার মুখে তাঁকে পড়তে হয়েছে।  ওই চ্যানেলে সাংবাদিকতা মৃত।
 

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনের কথাই ধরা যাক।  আমাদের মূলধারার মিডিয়াগুলো কী ডা. সাবরিনা ইস্যুতে দায়িত্বশীল খবর পরিবেশন করতে পেরেছে? প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন নারী হিসেবে তিনি কী পোশাক পরেছেন, কীভাবে চলাফেরা করেছেন তা নিয়ে নোংরামির প্রতিযোগিতা চলেছে যেন। একইসঙ্গে চলছে চরিত্রহনন।

 

অপরাধীর শাস্তি চাওয়া এক জিনিস। আর শাস্তি চাওয়ার নামে নিজেদের বিকৃতির প্রকাশ আরেক জিনিস। অপরাধীর সাজা হোক কিন্তু বিচারের আগে কাউকে দয়া করে অপরাধী বানাবেন না। 
 

গণতন্ত্রে গণমাধ্যমকে ফোর্থ স্টেট বা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হত। কারণ, রাষ্ট্রের প্রভাবগত অবস্থানে তার স্থান ছিল চার নম্বরে। কিন্তু হাল আমলে গণমাধ্যমের কাজকর্ম দেখে মনে হয় গণমাধ্যম বুঝি এখন এক নম্বর আর রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলো তার পরে। আজকাল গণমাধ্যম বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে, আইন বিভাগকে হুমকিতে রাখে আর প্রশাসনের কাজে নাক গলায়। অথচ একটি রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের ভুমিকা হওয়া উচিত 'ওয়াচডগ'- এর, 'ইনফ্লুয়েন্সার' এর নয়।
 

প্রতিহিংসায় পরিবর্তিত হলে সুবিচারের চরিত্রহনন হয়। তেলাঙ্গানায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলায় ৪ অভিযুক্তের মৃত্যুর পরের দিন এমনই মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবডে।

Marble Surface

ঈশানের যোগাযোগ

Marble Surface

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

Marble Surface

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions