বহমান বর্তমান

লিখছেন অরবিন্দ রায়
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
 
আজকের বিষয় :
 
ভয়াবহ তুষারধসের কবলে দেবভূমি উত্তরাখণ্ড !

রবিবার সকালে নন্দাদেবী হিমবাহের একটা অংশ আচকাই ভেঙে গিয়ে পাহাড় বেয়ে নেমে আসে। কিছু বোঝার আগেই নিমেষে হিমবাহের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেল সর্বস্ব। জলের তোড়ে ধ্বংসলীলা চতুর্দিক জুড়ে। ফিরল ৮ বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি। আচমকা তুষারধসে বিপর্যয় উত্তরাখণ্ডে। জোশীমঠে নন্দাদেবীর হিমবাহ ফাটা জলের তোড়ে ধস। যার জেরে উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠে আচমকাই হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। ধৌলিগঙ্গা এবং অলকানন্দা নদীর জলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব কিছু জলের তোড়ে ভেসে যায়।


৪,৫,৬ ফেব্রুয়ারি, তিন দিন ধরে ওই এলাকায় চলছিল বৃষ্টিপাত, সঙ্গে তুষারপাত। তারপরই গতকাল রাত ১০ টা ৫৫ মিনিটে ভাঙে জোশীমঠে নন্দাদেবীর হিমবাহ। হড়পা বান যখন নেমে এসেছিল তখন চামোলি জেলার তপোবনের কাছে একটি বিদ্যুৎপ্রকল্পের কাজ করছিলেন ১৬ জন শ্রমিক। তাঁরা সুড়ঙ্গের মধ্যে কাজ করছিলেন। হড়পা বানে সেই সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ওই কর্মীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন আইটিবিপি-র জওয়ানরা। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তাঁরা একে একে সব কর্মীকেই জীবিত উদ্ধার করেন।
 

ফের যেন টাটকা হয়ে উঠল ২০১৩ সালের কেদারনাথ বিপর্যয়ের স্মৃতি। সেই বছর মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভেসেছিল দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার যোশীমঠেও যেন তারই প্রতিচ্ছ্ববি। 

 

এই হিমবাহ তৃতীয় বৃহত্তম নন্দাদেবী পর্বতে অবস্থিত। এটি গাড়োয়াল হিমালয়ের একটি অংশ। পশ্চিমে ঋষিগঙ্গা উপত্যকা ও পূর্বে গোরিগঙ্গা উপত্যকার মাঝে চামোলি জেলায় রয়েছে এই পর্বত। আর হিমবাহের অবস্থান হল নন্দাদেবী অভয়ারণ্য ও ঋষিগঙ্গার মাঝে।ভূতাত্ত্বিকরা এই হিমবাহকে দুভাগে ভাগ করেছেন। নন্দাদেবী উত্তর ও নন্দাদেবী দক্ষিণ। দুটিরই দৈর্ঘ্য ১৯ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৭ হাজার ১০৮ মিটার। এই হিমবাহ গলে অনেক নদীর সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্য়ে একটি ঋষিগঙ্গা। এটি পরে ধৌলিগঙ্গা নাম নিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিষ্ণুপ্রয়াগের কাছে এই নদী অলকানন্দায় মিশেছে। ধৌলিগঙ্গা অববাহিকাতেই রয়েছে যোশীমঠ ও করণপ্রয়াগ। অন্যদিকে অলকানন্দার তীরে গড়ে উঠেছে শ্রীনগর, হরিদ্বার, রানিখেত ও ভীমতাল।
 

বিশ্বজুড়ে উষ্মায়ন শুরু হওয়ার পর দ্রুত গলছে হিমবাহ। বহু বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। কিন্তু রোজকার ইঁদুর দৌড়ে নাম লেখানো মানুষের ক্ষেত্রে সেদিকে মাথা ঘামানোর সময় কোথায়? অতএব প্রকৃতির রোষ বাড়তে বাড়তে মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরণের আকার নিচ্ছে। রবিবারের ঘটনা সেই কথাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

 

২০১৯ সালে একটি সমীক্ষা সামনে এসেছিল। সেই সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছিল এক ভয়ানক তথ্য। গত ৪০ বছর ধরে ভারত, চিন, নেপাল ও ভূটানের উপর স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ চলে। তখনই জানা যায় দ্রুত গতিতে গলছে হিমালয়ের হিমবাহ। গবেষণায় প্রকাশ পায় সারা পৃথিবীতে ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে যেখানে যে তাপমাত্রা ছিল, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সব জায়গায় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি করে বেড়েছে। প্রায় ৬৫০টি হিমবাহের অবস্থা নিরীক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসেন গবেষকরা। এও জানা যায় প্রতি বছর প্রতিটি হিমবাহ কমবেশি ০.২৫ ইঞ্চি বরফ গলাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে গোটা বিশ্বকে সংকটে পড়তে হবে। হাত থেকে তির বেরিয়ে গেলে আফশোস করেও কোনও উপায় থাকবে না।
 

এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের ধূলোর জেরে দ্রুত গলে যাচ্ছে হিমালয়ের বরফ। একটি নতুন গবেষণায় এমনই দাবি করেছে বিশেষজ্ঞরা।
নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর রিপোর্ট অনুসারে, পর্বতমালার উপর দিয়ে উড়ে আসা ধূলিকণা তুষার গলানোর প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এর কারণ, ধূলিকণা সূর্যের আলো শোষণ করে আশেপাশের এলাকা উত্তপ্ত করে তোলে। ফলে ওই এলাকার তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে গলতে শুরু করতে পারে বরফ। 
বৈশ্বিক তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার হিমবাহের জন্য হুমকি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণ দ্রুত কমানো না গেলে হিমালয়-হিন্দুকুশ হিমবাহের দুই-তৃতীয়াংশ বরফ গলে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই এই বরফ গলা আরও বাড়তে পারে। এই অঞ্চলের বায়ু দূষিত হচ্ছে মূলত ইন্দো-গাঙ্গেয় সমতল এলাকা থেকে বাতাসে জমা হওয়া কার্বনে। বিশ্বের সবচেয়ে বায়ুদূষিত অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষে রয়েছে ওই এলাকা।
 

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি মেনে যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বাড়ে, তাহলে হিমবাহের অর্ধেক ২১০০ সালের মধ্যে গলে নিঃশেষ হবে। আর যদি বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিল্পযুগের আগের অভীষ্ট দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে, তবু ৩৬ শতাংশ হিমবাহ উধাও হবে নিশ্চিত ...

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions