নাটক

যদিও সন্ধ্যা
 
রচনা : তীর্থঙ্কর চন্দ

প্রথম পরিবেশনায় : শিল্পীগোষ্ঠী, উধারবন্দ (আসাম)

 

চরিত্রলিপি :
অমল : দীপংকর চন্দ
অশোক : স্বপন রায়
পলাশ : অতনু চন্দ
বিশু : প্রদীপ সাহা
রঞ্জন : কেশব দাস
মিতু : অদিতি চন্দ
দিপালি : সুমিতা রায়
রীতা : স্মৃতি রায়
কাকু : শুভঙ্কর
কানু : বিশ্বনাথ মালাকার
হুসেন সাব : রূপঙ্কর ধর

 

পরিচালনা : দীপঙ্কর চন্দ
 

[একটি নাট্যদলের মহলাকক্ষ ৷ প্রগতিশীল গ্রুপ—নামেই মালুম৷ পেছনের পর্দায় নামের ব্যানার ঝুলছে ৷ কোন একজন কাপড়ের ব্যবসায়ীর একটি অতিরিক্ত ঘর রিহার্সালের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে বোঝা যায়৷ পরিচালক–অমল৷ বারবার ঘড়ি দেখছেন আর দরজার দিকে তাকাচ্ছেন৷ কারো কারো আসার অপেক্ষা৷ গান চলছে৷ একটি প্রগতিশীল গান৷ 'আমরা এই বিশ্বের মাঝে'–ইত্যাদি জাতীয়৷ উপস্থিত  অশোক, মিতু, দিপালি ও পলাশ৷ পলাশ গানের সঙ্গে তবলাও বাজায়৷ অশোক দু’একবার অন্যের খাতা দেখে গাইবার চেষ্টা করে–মাঝে মাঝেই ভুলে যাচ্ছে৷


অমল    :    আজকে চাইর-পাঁচদিন ধইরা একটা ছুটো গানের রিহার্সাল অর ৷ গানটা এখনও পুরা মুখস্থ অইছে না৷ কিতা, অশোক?
অশোক    :    লেইখ্যা নিছলাম৷ কাগজটা আরাই লাইছি৷
অমল    :    আরেকটা লেখলায় না? কবে আরাইছ?
অশোক    :    কালকে থিক্যা পাইতাছি না৷
অমল    :    আর এই দুই একদিনের মইধ্যে একটা এক পাতার গান লেখা যায় না? পলাশ তো গানও গায় তবলাও বাজায়৷ তার কেমনে মুখস্থ অই গেল? কিতা দিপালি? তোমার? (দিপালি মাথা নীচু করে) একটা কথা আমরার সদস্যরা বুধঅয় বুলি যারাম
 আর পাচটা শখের দল ইটা না—আমরার একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে৷ একদিনে, দরকার পড়লে একদিনে গান শিখ্যা গাইতে লাগবো৷ আর চাইর পাচদিন পরে প্রোগ্রাম।এই গান ,কেউ সুর ভুলতাছে  কেউ পদ আরাইয়া বিপদো—৷ শুনো সিরিয়াসলি গান করতে না পারলে বাজারো আরো বহুত নাটকের দল আছে৷ সইন্ধ্যার সময় ঘাড়ো পাউডার লাগাইয়া চা খাইতে খাইতে আড্ডা আর রিহার্সেল—হিখানো যাও৷ ইখানো থাকলে দায়িত্ব লইয়া থাকা লাগবো৷ —অখনও তো তিন/চাইর জনের সময় অইছে না৷ —বালা৷
মিতু    :    (ক্ষীণস্বরে) অমলদা৷
অমল    :    কিতা?
মিতু    :    ইয় রীতায় কইছিল তাইর আইতে একটু দেরী অইবো৷ তারা বাসাত থাকিয়া বিয়ার শাড়ি কিনাত যাইবা৷
অমল :    প্রথম কথা অইলো রিহার্সেলো আইয়াই তুমার ইটা কওয়া উচিত আছিল৷ আর তাই কালকে জানাইত পারছে না যে আজকে দেরী অইবো৷ (কেউ গানটা বাজানোর চেষ্টা করে হারমোনিয়ামে)
স্বাভাবিক ভদ্রতা অইলো কেউ যখন কিচ্ছু কয় তখন চুপ কইরা শুনা ৷ তখন প্র্যাকটিশটা একটু বন্ধ থাকুক৷ —বিশুয়ে কাউরে কিচ্ছু কইছে? [কেউ কোন উত্তর দেয় না— বুঝা যায় বলে নি] বাঃ! আর রঞ্জনের কথাতো কইয়াই লাভ নাই ,কাউর কোনো বিপদ ঘটছে কিনা—
অশোক    :    অমলদা, একটা কথা আছিল৷ গানটা সম্পর্কে যদি একটু বালা কইরা বুঝাই দিতা—
অমল    :    এর লেইগ্যাঐ প্রত্যেকের প্রত্যেকদিন রিহার্সোলো আওয়া উচিত৷ প্রথমদিন যখন গানটা লেখানি অয় হিদিনঐ ডিটেইলস আলোচনা অইচে৷ এখন তুমি যদি সময় কাটাইবার লিগ্যা—
    অশোক :     না না অমলদা, ঠিকঐ—
অমল    :    (থামিয়ে দেয়) বুঝছি আমি৷
        [দরজায় একটি আট/দশ বছরের বাচ্চা]
ছেলে    :    অমলদা কাকুয়ে আপনেরে ডাকতাছইন৷
অমল    :    অখনঐ ?
ছেলে    :    অয়ও, কাকু কই যাইবাগিয়া৷ আপনার লগে বুলে এট্টু মাত আছে৷
অমল    :    আইচ্ছা, তুই যা, আমি যাইতাছি৷ (ছেলেটা চলে যায়)৷ 
অশোক , ঠিকই যদি গানটা বুঝবার লিগ্যা জিগাই থাকো, তে পলাশের কাছ থিক্যা শুনো৷ কেমন? আমি আই৷ (যেতে গিয়ে ফিরে) তুমরা আগে আইয়া বেশি চিৎকার টিৎকার করছো না তো? (সবাই সমস্বরে অসম্মতি জানায়) বহুত কষ্টে ঘরটা পাওয়া গেছে৷ সামাইন্য ভুলের লেইগ্যা ই ঘরটাও যেমন না হারাই৷ —অশোক, গত মাসের লাইটের চার্জটা দিছলায় নি?
অশোক    :    না, তাইন তো নেইন না৷
অমল    :    ই মাসো গেছলায় নি?
অশোক    :    না, ই মাসো গেছি না৷
অমল    :    শুনো, তাইন নেইন না নেইন তুমার তো যাওয়া উচিত৷ —একটা জিনিষ যে নিজের থিক্যা বুদ্ধি কইরা—৷ ঠিক আছে, তুমরা প্র্যাকটিশ করো, আমি আইতাছি৷ (বেরোয়)
মিতু    :    কেনে ক চাইন নিজের থেক্যা বুদ্ধি খরচ করছ না? 
অশোক    :    আমি কিতা করতাম? গতমাসো দুইবার গেছি৷ কইন, কয়টাকা আর মিটার উঠে রে বা ! তুমরা একটা বালা কাজ কররায়৷ আবার গেলে ভাববা ইয়ার্কি মারিয়ার৷
দিপালি    :    বাদ দে, অমলদার এমনেউ মাথা গরম অই রইছে৷ 
অশোক    :    অয়, মাথা গরম৷ —যেমন আমি লাইটর চার্জ দিছি না করিযা কাকু   চেতি গেছে৷
মিতু    :    আরেকটা কারণও অইতো পারে?
অশোক    :    কিতা?
মিতু    :    কাইলকে শুনছিলাম ইলেকশ্যান অফিসের লেইগ্যা একটা ঘর খুঁজের পবিত্রদা তারা৷ বুধঅয় ই ঘরটা নিবো৷
অশোক    :    তে তো অইছেঔ৷ ছয়মাসের লাগি রিহার্সেল হাগো৷
        [দরজায় একটি মেয়ের মুখ৷ সন্তর্পণে ঢোকে৷]
অশোক    :    আইন, আইন, আপনার লাগিয়াঔত্য গাইল খাইয়া মরিয়ার৷
রীতা    :    অমলদা কই?
দিপালি    :    অতো ফিসফিসাইতে লাগতো না, অমলদা কাকুর কাছে গেছে৷
রীতা    :    বাপরে, যে ডর লাগের৷
দীপালি    :    তুমি গেছ কুন্ কামে? (বিশু ঢোকে) ও, আপনারা একলগেই—
রীতা    :    না বে, হুনছ না৷ রামকৃষ্ণনগর থাকি আমার মাসি আইছইন৷ কাইল যাইবা গিয়া৷ দিদির বিয়া৷ কিছু কাপড় চুপড় তো কিনাউ লাগে—
অশোক    :    আর বিশুরে কই পাইছো?
রীতা    :    বিশুদা আওয়াত আছিল৷ আমি কইলাম, তুমি একটু দাড়াও৷ একলগে গেলে গাইলটা বাটে কম অইবো৷
অশোক    :    খাইবায় দুইজনেঔ৷
বিশু    :    আমি কি করুম? আমার দেরী অইছে অইন্য কামে৷ লোকের বাড়িতে কি কাম কাজ থাকে না, নাকি?
অশোক    :    কাম কাইজ আগে সারো না কেন? (কলকাতার ভাষায় ভ্যাঙায়)
বিশু    :    হ’ আমি বাড়িত থন বাইর অমু, খবর আইলো আমাগো গরু খোয়াড়ে লইয়া গেছে৷ ছুইট্টা গেলাম৷ তয় আমি কি আগে থিক্কাই খোয়াড়ের গেটের কাছে গিয়া দাড়াইয়া থাকুম নিকি? ইসের মতো কথা কইছ না৷
মিতু    :    আমরা কিছুই কই নাই৷ অমলদায় আসুক৷ রঙাইয়া কইবো অনে৷
বিশু    :    হগ্গল সময় ঢং কইরোনা বুঝলে, মেজাজ গরম অইয়া আছে৷
দীপালি    :    শাড়ি কিতা কিনছছ?
রীতা    :    মামাতো দিদির লাগি একটা পিওর সিল্ক আর একটা গার্ডেনর ছাপা শাড়ি৷ শাড়িটা নীলের মইধ্যে সাদা বুটি৷
দীপালি    :    কত পড়ছে?
রীতা    :    পিওর সিল্কটা সতরোশ টেকা আর গার্ডেনর ইটা সাড়ে চাইরশ৷ অখন বেনারসী থাকি পিওর সিল্কঔ বালা৷
দীপালি    :    দুইটা শাড়ি কিনতে অতো সময়?
রীতা    :    বিয়ার শাড়ি—কতবার বাছিছি৷ আর ব্লাউজর পিস্ ম্যাচ করাইয়া—
মিতু    :    গানের রিহার্সাল অইবো না গল্প গুজবঔ অইবো৷ ব্যক্তিগত আলোচনা রিহার্সলর সময় না করাউ বালা৷
রীতা    :    ব্যক্তিগত নায়— জিগাইছে দেখিয়াঔ কইয়ার৷ আমার তো আর ইলা অবস্থা নায় যে দুইটা শাড়ি কিনিয়াঔ বাজারো কওয়াত বাইরই যাইমু৷
মিতু    :    বাজারো গেলেঔত্য বালা আছিল৷ রিহার্সেলটা ডিস্টার্ব অইলো না নে ৷
রীতা    :    দিপালি, অমলদার জেগাত নতুন কেউ ডিরেক্টার আইছইন নি?
মিতু    :    ডিরেক্টার অওয়া লাগে না,যায় ‌ সিরিয়াসনেস থাকলেঔ অয়৷
দীপালি    :    ইস্, তোরা দুইটা একটু চুপ কর চাইন৷ অশোকদা নেও৷ (গানটা কপি করে দেয়)তোরা পারছও৷
বিশু    :    আমারে একখান কপি কইরা দেছ না৷ আমারটা কই আরাইয়া ফালাইছি৷
দীপালী    :    অত পারতাম না৷ যারজির লেখো৷
বিশু    :    ও বাবা৷ অশোকে একবার কইতেই ওরে লেইখ্যা দিলি আর আমি চাইতেই একদম হুমদা বিড়ালের মতো ফোঁস কইরা উঠলি ?
দিপালী    :    তুই একটু আমরার ভাষায় কথা কইতে পারছ না?
বিশু    :    ক্যান কমু? তুমি কি আমার বাষায় কথা কও?
        [মিতালী বেরিয়ে যায়]
রীতা    :    কিতা অইল, কই যাও?
মিতু    :    রিহার্সেল তো অর না, অমলদা আইলে আবার আইমু৷
পলাশ    :    অমলদা তখনই আইবো৷
দিপালি    :    (লাফিয়ে উঠে) কথা কইছে, কথা কইছে, পলাশে আজকে কথা কইছে৷
বিশু    :    আউজকা আমাদের কি সৌভাগ্য! যে পলাশে কতা কয় মনে মনে, ফিসফিস কইরা হাসে, গান গায় কানে কানে, হে আউজকা কতা কইছে—কতা কইছে ৷ আকাশবাণী শিলচর— খবর কইতাছি সুব্রত দে—
        আজকের বিশেষ বিশেষ খবর—
রীতা    :    অমলদা৷
        [সবাই চুপ]
অমলদা    :    কিতা অইলো, একদম চুপচাপ৷ রিহার্সেল অইছে না এক দুইবার?
    অশোক :    না, আমরা গানটা লেখছি আর ইটা লইয়া একটু আলোচনা করতাছি৷
অমল    :    শুনো, কাকুয়ে ডাকছিলো— কারণ কয়েকদিনের লিগ্যা ই ঘরটা ছাড়া লাগবো৷ আজকে রাত্রে কয়েকটা কাপড়ের গাঁইট আইবো— ইখানো থাকবো৷
মিতু    :    আজকে তে পুরা রিহার্সেল—
অমল    :    না, আজকে ঐ আটটা সাড়ে আটটার মইধ্যে ছাড়া লাগবো৷
মিতু    :    আর ইলেকশন অফিসের ব্যাপারে—
অমল    :    না, কাকু রাজী না৷ এক পার্টরে দিলে আরেক পার্টিয়ে গুসা—
বিশু    :    কাকু কি ভোট দেয় না?
অমল    :    কেনে?
বিশু    :    যাগোরে ভোট দেয় তাগোরে ঘর দিলেঐ অইতো ৷
অমল    :    ইটা তান ব্যাপার৷ আমরার অখন শিরে সংক্রান্তি। ই তিনচাইর দিন রিহার্সল কই অইবো ঠিক করা৷ আরবেশি সময়ও নাই৷
অশোক    :    আমরার প্রোগ্রাম কবে?
অমল    :    বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলন ১৭, ১৮, ১৯৷ আজকে ১৪৷ আর চাইর পাচদিন৷ অখনও আরও একটা গান তুলার বাকী৷
অশোক    :    একটা লুকোগীতি গাইলে কেমন অয়?
অমল    :    সবই ভাল অয় যদি রিহার্সেলর টাইমটা একটু মেন্টেইন্ করি। ছয়টায় রিহার্সাল জাইন্যা কেউ যদি সাতটাত আয় তে লুকোগীতই কিতা আর ভাইট্যলগীতই কিতা— সবই সমান৷
বিশু    :    রিহার্সেলে বাইর অওনের সময় হুনি আমাগো গরু খোঁয়াড়ে লইয়া গেছে—
অমল    :    কারণ তো একটা না একটা থাকবই৷ কাউর গরু আরাইব, কাউর আত্তি— না, হাসির কথা না৷ কিন্তু ইসব সামলাইয়াঐ তো  নাটকের গ্রুপ করা— এই সমস্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন করার কথা ভাবছি৷ না করলেই অইতো৷ টিভি ভিডিও শাড়ী কিনা সিনেমা দেখা— এনগেজ থাকার তো অভাব নাই৷ —আর ইসব কইয়াঐ কিতা অইবো? খালি এরপরের দিন রিহার্সেলের সময়টা মাথাত রাইখ্যা অইন্য এনগেজমেন্ট রাখা বালা— না অইলে চলবো— দুই তিনজনরে লইয়া দল চলবো৷ কিতা করবায়? 
        [সবাই চুপ৷ কিছুক্ষণের নীরবতা]
মিতু    :    অমলদা, রিহার্সেল শুরু করি৷
অমল    :    দেখো ভাইব্যা৷ আমি কে কওয়ার৷ বালা বুঝলে দিবায়৷ অনুষ্ঠানটাতো আর আমার নায়— গ্রুপের৷ 
রীতা    :    আর দেরী অইতো না অমলদা, একটা কাজে—
অমল    :    আমারে কও কেনে, এরারে কও৷ যারা সময়মতো আইছে তারা প্রত্যেকে সাফার করছে৷ আমরাও বাজার দুকান করি অফিস ইস্কুল করি— এরপরেও যদি সময়মত আইতাম পারি তে তুমি পারতায় না কেনে? আজকে যদি আমরার প্রোগ্রাম থাকত? কিতা করলায় নে? তুমার লিগ্গা অপেক্ষা করলো নে অন্য দলের লুকেরা? শুনো, সিরিয়াসনেসটা একটা অইভ্যাস, ইটারেও একটু একটু কইরা নিজের লগে মিশানি লাগে৷ 
        [সবাই চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ]
মিতু    :    পলাশ, নে শুরু কর৷ [অমলদা অসম্মতি জানায় না দেখে, গান শুরু ও শেষ হয়]
অমল    :    ঐ দ্যেখো, রিহার্সেলটা ঠিকমতো না দিলে গানের ভিতরের স্পিরিটটা বুঝানি যায় না৷ আমরা গানটা করলাম— এরপরে যদি কেউ জিগায়—
রঞ্জন    :    (বাইরে থেকে মুখ বাড়ায়) অমলদা আই৷
অশোক    :    আজকের রিহার্সেল একটু পরেই শেষ অই যাইবো৷
রঞ্জন    :    (বাইরের দিকে তাকিয়ে) আইন, আইন, আপনে ভিতরে আইন৷ —অমলদা, আমরার হাসপাতালো, নতুন জয়েন করছইন৷ খুব বালা লুকোগীতি গাইন৷ —(ভদ্রলোক ভেতরে আসেন) এইন অইলা অমলদা— আমরার ডিরেক্টার৷ ইখানের ইস্কুলের মাস্টার,৷ (উভয়ে নমস্কার বিনিময় করেন) আমি রিআর্সেলো আইতাছি, শুনি হাসপাতালের কোয়ার্টারো বইয়া তাইন গান গাইতাছইন৷ আমি নিজে গিয়া পরিচয় কইরা ইখানো লইয়া আইছি৷ খুব বালা গান গাইন৷
        [অধিকাংশ সদস্যদের ভাবে অবজ্ঞা স্পষ্ট]
হুসেন    :    না, নিজেউ একটু গান গাই৷ মাঝে মাঝে লিখিও৷ 
অমল ; কি নাম আপনার ?
হুসেন    :    মোহম্মদ হুসেন৷
অমল    :    এর আগে কই আছলা?
হুসেন    :    ধুয়ারবন্দ৷ চাকরি করিয়ার আইজ সাত বছর৷ পয়লা শিয়ালটেক, তারপরে ধুয়ারবন্দ, তেউ অনো৷ 
অমল    :    ইখানো কবে আইছইন?
হুসেন    :    অয় আইছি গত বিরসইতবারে৷ আইজ আটনয়দিন অর৷ জয়েন্ট করিয়াউ একবার বাড়ীত গেছলাম৷ 
অমল    :    বাড়ি কুনখানো আপনার—
হুসেন    :    গুমড়া— নাম হুনছইননি? হউ গুমড়াত ৷ ঠিক গুমড়াত নায়— গুমড়া থাকি আটিয়া আরো তিরিশ পায়তিরিশ মিনিট লাগে৷ জেগাটার নাম ভিতর দূর্গাপুর৷
রঞ্জন    :    তান নিজের লেখাও অনেক গান আছে৷ নিজে সুর দিয়া গাইন৷
হুসেন    :    খুব বেশি নায়৷ বিশ পচিশটা অইবো৷ আমরার তো বেশি শিক্ষা নাই৷ এইট পাশ করিয়াঔ হামাই গেছি চাকরিত ৷
রঞ্জন    :    একটা গান শুনাইন না৷
হুসেন    :    হুনাইমু৷
মিতু    :    আমরা কিতা হারমনিয়াম তুইল্যা দিতাম নি?
হুসেন    :    না, না, আপনারা গাইন না, আমি হুনিয়ার৷
অমল    :    ঠিকঐ, আমরাও আজকে তাড়াতাড়ি রিহার্সেলটা শেষ করমু, আজকে তাইন শুনইন— পরে একদিন—
হুসেন    :    ইটাঔ বালা—
রঞ্জন    :    ধুর, একটা গান গাইতে কত সময় আর লাগবো? তিন চার মিনিটের ব্যাপার৷ পরে, আমরা দিমুনে৷ আমরা তো নয়টা সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আছি৷
অশোক    :    না, আজকে আটটাত শেষ৷
রঞ্জন    :    কেনে?
বিশু    :    কাকুর কি কাজ আছে ।
রঞ্জন    :    ও ঠিক আছে৷ আপনে গাইন৷ অমলদা, পাচ মিনিট৷
    (অমল বিব্রত বোধ করে, সম্মতি দেয়৷ )হুসেন তার দুতারা ঠিক করে বেঁধে নেয়৷ সুর ধরে৷
"আমার পরাণ বন্ধু গেল চলে -
বাঁশের বাঁশি আমায় দিয়ে ।
কোন বাউলের ব্যাথার সুর যে
কোন তারেতে বাঁধা পরে ।।
বাঁশের বাঁশি ............

হায়গো দারুন স্রোতে নাও চলেনা
গাঙে গাঙে দেখা হয়না -
পিঞ্জিড়াতে পংখী থাকেনা।
উদাস হুসেন কান্দে এই পারেতে
(ঐ) বাঁশি কেন ডাকেনারে - ।।
বাঁশের বাঁশি.............

 অসামান্য খোলা গলা৷ সবাই বিস্মিত হয়৷ নিজেদের মধ্যে কথা বলা বলি করে৷ হুসেন চোখ বন্ধ করে একমনে গান গায়৷ একসময় গান থামে৷ সুরের রেশ ছড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ৷ রঞ্জনের মুখ উজ্জ্বল। গান থামলে হুসেনের চোখে জল— বিব্রত বোধ করে৷
রীতা    :    বাঃ৷ কি গলা রে বাই৷
দিপালি    :    কি উচাত উঠে৷
রঞ্জন    :    গানটাও তার নিজের লেখা৷
অমল    :    আপনে গান শিখছইন নি?
হুসেন    :    না, ইতা আর শিখিবার সময় পাইলাম নি ?  মাঝে চাকরী পাইবার আগে এক মলম কোম্পানীর লগে গান করছি কয়দিন৷ বাজারো বাজারো৷ অউত্য—
রঞ্জন    :    অমলদা, আমরার তো দুইটা গান গাওয়ার কথা৷ একটা আমরা গাই আর একটা তাইন আমরার গ্রুপের পক্ষ থিক্যা গাইলাইবা৷
অমল    :    ব্যাপারটা অত চট্ কইরা কওয়া য়ায় না৷ কম্পিটিশ্যনের ব্যাপার৷ সবে মিল্যা বইয়া ঠিক করা লাগবো৷
মিতালি    :    আর আমরা তো দুইটা গানউ ঠিক কইরা লাইছি৷ 
হুসেন    :    অয়, অত জলদির কিতা আছে!
অমল    :    আপনে মাঝেমাঝে আইবা৷ আমরা দু’ একটা গান তুইল্যা নিমু, আপনেও পারলে আমরার সঙ্গে গাইবা৷
হুসেন    :    হি চেষ্টা করা যাইব৷
অমল    :    আপনে তো লেখইনও বালা৷
হুসেন    :    ইতা আকতা মনো অইলে—
অমল    :    না, ই গানটা খুব সুন্দর৷ এমনে আপনে একলাই গাইননি?
হুসেন    :    না, আমার তিন পুয়া৷ মাইজলা অগুয়ে আমার লগে গায় মাঝেমাঝে৷ বারে কুনোখানো পোগ্রাম থাইকলে—
বিশু    :    আপনেরা বাইরেই প্রোগ্রাম করেন নিকি? বা ব্বা!
হুসেন    :    অয়, মাজে কিতা সম্মেলন অইচছিল ডিস্টিক লাইব্রেীত, আমরা বাপ বেটায় গাইয়া সেকেণ্ড প্রাইজ পাইছি৷
পলাশ    :    জেলাভিত্তিক লুকোগীতি সম্মেলনো ?
হুসেন    :    অয়৷ আমরার গৌহাটিত যাওয়ার কথা আছিল৷ ইনো বদলি অই যাওয়ায় আর পারছি না৷
অমল    :    আপনারা সেকেণ্ড প্রাইজ পাইছইন? —আইচ্ছা, ধরইন যদি আমরার গ্রুপ থিক্যা কোনও কম্পিটিশ্যনও যাই, আপনে যাইবা নি আমরার সঙ্গে?
হুসেন    :    এমনে তো কুনো অসুবিধা নাই৷ খালি ছুটি পাওয়া মুস্কিল৷
অমল    :    ছুটির লইগ্যা চিন্তা নাই৷ আমি রায়রে কইয়া ছুটি লইয়াই লইমু৷ আপনারার ডাক্তারবাবু আমার বন্ধু
হুসেন    :    তে অইবো৷
অমল    :    ঠিক আছে৷ আমরাও প্র্যাকটিশ করি, তানটাও থাকুক৷ পরে কুনটা পাঠানি অইবো দেখি৷
        [পুরস্কারের সংবাদেই হুসেনকে অমল দলে নিল, রঞ্জন বুঝতে পারে৷ হুসেনের সামনে বিব্রত হয়৷]
রঞ্জন    :    হুসেন সাব, একটু বইন৷ একলগে বাইর অইমু৷ খুব জরুরী কুনো কাজ নাই তো?
হুসেন    :    না, থুরা পান, আর উঠলে থুরা মাছ নিমু৷ অইবো৷
রঞ্জন    :    অমলদা, একটা কথা আছিল৷
অমল    :    একমিনিট৷ পলাশ হুসেনবাবু আজকে প্রথম আইছইন — একটু চা আনো! আর কাকুরে কইবায় অধঘণ্টার মইেধ্যে আমরা রিহার্সাল শেষ কইরা লাইমু৷
(পলাশ বেরিয়ে যায়)
বিশু    :    এই দু’তারাটার কত দাম?
হুসেন    :    ইগু নিজেঔ বানাইছি৷
বিশু    :    কন কি? আপনেতো হগ্গলতানতো উস্তাদ৷
রঞ্জন    :    বিশু, ইদিকে মন দে৷ কইতাম নি, অমলদা ?
অমল    :    পলাশ আউক৷ 
মিতালী    :    আপনারা ইখানো কে কে আছইন?
হুসেন    :    জি: কিতা কইলা?
অশোক    :    ইখানে কে কে আছইন?
হুসেন    :    আমি তিন পুয়া আর তারার মাই৷ পুরী এগু আছিল৷ গত বছর সাদি দিলাইছি৷
মিতালী    :    কত বয়স আছিল মেয়ের?
হুসেন    :    অইবো তেরো-চৌদ্দ৷
মিতালী    :    অতো ছুটো সময় বিয়া দিলাইলা?
হুসেন    :    আমরার হিন্দুস্তানি মুসলমানর নিয়ম।বালা দামাদ পাইছি৷ [পলাশ আসে]
পলাশ    :    চা আনের৷
রঞ্জন    :    অমলদা, ইবার কই—
অমল    :    কয়েকটা কথা জিগাইলাই— তুমার তো কথা শুরু অইলে থামে না৷ (দু’একজন হাসে)
প্রেসো গেছলায় ?
রঞ্জন    :    অয় গেছলাম৷ তারা কইছে per page অখন বাইশ টাকা, fixed৷ কভার আলাদা৷ পুরা ম্যাটার দিলাইলে চারদিনের মইধ্যে প্রিন্টিং কমপ্লিট কইয়া দিবো— এর মইধ্যে প্রুফ রিডিং৷ মোটমাট ফাইন্যাল প্রিন্ট বাইর কইরা বাইন্ডিং কইরা ডেলিভারি দিতে পারবো বারো দিনে, লোডশেডিং ইত্যাদির লিগ্গা সময় চাইছে দুইদিন বেশি৷ সবশুদ্ধো চৌদ্দ দিন৷ আমরা হিসাব কইরা দেখছি দুই রিম কাগজ লাগবো— খরচা পড়বো বাধাই সহ আটশ টাকার মতো৷ প্লাস মাইনাস কইরা নয়শো টাকার বেশি অইতো না৷ এই৷
অশোক    :    বাব্বাঃ৷
অমল    :    বেশ, আর Advertisement?
রঞ্জন    :    যে তিনজাগাত যাইবার কতা কইছো, গেছি৷ দুই জাগাত কইছে, তারা full page দিতো পারতো না, half page দিবো আর একজেগাত কইছে তারা full page দিবো কিন্তু final কইবো পর্শু দিন৷ বঙ্গ সাহিত্য অফিসো গেছলাম৷ তারা ১৮ তারিখ সাড়ে ছয়টার সময় আমরার প্রোগ্রাম দিছে৷ পাচটায় হিখানো গিয়া রিপোর্ট করা লাগবো৷ যাতায়াত ভাড়া ইত্যাদি বাবদ ৭৫ টাকা দিবো৷ লাইট টিফিন দিবো৷ আর প্রোগ্রাম যদি দেরীতে শুরু অয় তে রাত্রে থাকার ব্যবস্থাও দিবো৷
অশোক    :    হিটাও জিগাইছছ৷
রঞ্জন    :    অয়, কিন্তু যাইমু কিতাত ইটা আমরার উপরে৷ আর ১৫ তারিখের মইধ্যে কতজনে গাইবো, কয়জনে বাজাইবো, কি কি গান, ইটাইন গ্রুপের প্যাডে লেইখ্যা জমা দিতে লাগবো৷
রীতা    :    আর কুনো গান যদি তারা কয় যে অইত না, তখন—
রঞ্জন    :    তখন তারা ষোলো তারিখে অফিসের বাইরে একটা নুটিশ টাঙাই দিবো৷ পারলে তখনই গান চেইন্জ করবায় নাইলে একটা গাইবায়৷
অমল    :    আর কারোর কিচ্ছু জিগানির আছে? [সবাই না করে]
হুসেন    :    ব্যাপারটা কিতা?
অমল    :    (প্রশ্নে একটু অবজ্ঞার হাসি) বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলনো একটা প্রতিযোগিতা অর৷ হিখানো যাইমু আমরা৷
হুসেন    :    ও, বুঝছি৷
অমল    :    ইবার কও৷
রঞ্জন    :    সবে যেমন একটু মন দিয়া শুনে৷ একটা ভাইটাল ব্যাপার৷
বিশু    :    (ব্যঙ্গ করে) কি ব্যাপার?
রঞ্জন    :    (উত্তর দেয় না) আমরা বুধঅয় সবেঐ দেখছি, বাসস্টপেজের কাছে হরিনথল চা বাগানের যে সাইনবোর্ড আছে তার মাথার উপরে একটা খুব বাজে বিজ্ঞাপন লাগানি অইছে৷ আমার মতে, যেখান দিয়া তিনটা ইস্কুলের ছেলেমেয়েরা যায়, শিলচরের সবটি বাস থামে, হিখানো ঐ রকম পোস্টার মারা বা আকা ঠিক না৷ আমরা সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে—
বিশু    :    advertisement তো হিখানোঐ মারবো, নাকি শ্মশানের কালিমন্দিরের মাথার চাঙাইয়া রাখবো ?
অমল    :    আঃ৷ বিশু, তারে শেষ করতে দেও৷
রঞ্জন    :    ঐখানে ঐরকম একটা পোস্টারের বিরুদ্ধে আমরা সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে কোনো স্টেপ নিতাম পারি কিনা হিটা আজকে ঠিক করা লাগবো৷
অমল    :    আর কিছু কওয়ার আছে?
রঞ্জন    :    না, তবে সবে যেন একটু চিন্তাভাবনা করিয়া নিজেরার মতামত দেয়৷
অশোক    :    কিন্তু আমি সবের পক্ষ থাইক্যা একটা কথা জিগাই৷ আমরার সংগঠন তো ইরকম সমইস্যা সুজাসুজি face করে না৷ আমরা নিজেরা ই ব্যাপারে জড়িতও না, আমরার কাজকর্মেও কোনো বাধা পড়ের না৷ তে কেনে ই প্রশ্নটা উঠের !
রঞ্জন    :    আমার শেষ কথাটা বুধঅয় শুনছস না৷ আমরা সাংস্কৃতিক সংগঠন— শুধু সাংস্কৃতিক না, সমাজমুখী সাংস্কৃতিক সংগঠন— এখন পোস্টারটায় কুনো সামাজিক ক্ষতি করের কিনা—
বিশু    :    একটা পোস্টারে কেমনে ক্ষতি করবো ? ওর কি মুখ আছে, না হাত আছে? (খুব রসিকতা করেছে ভেবে একাই হাসে)৷
রীতা    :    হাত মুখ না থাকলেও অনেক কিছু অনেক রকম ভাবে ক্ষতি করতো পারে— ইটা বুঝা একটু কষ্ট৷ 
অমল    :    ঠিক আছে, ঠিক আছে৷ একজন একজন করিয়া কও৷ মিতু, তুমার—
মিতালী    :    আমার কিচ্ছু কওয়ার নাই৷
রঞ্জন    :    কওয়ার নাই মানে? হয় পোস্টারটা থাকুক, নাইলে সরানির চেষ্টা করা লাগবো— কিচ্ছু কওয়ার নাই ?
মিতালী    :    দ্যাখো, ইটা সাংস্কৃতিক সংগঠন— Social work করার সংগঠন আলাদা— তারার কাজ করার ধরন আলাদা আমরা কেনে এর মইধ্যে মাথা গলাইতাম—
রঞ্জন    :    আরে— আমরা—
অমল    :    রঞ্জন, মিতুয়ে, তাইর মতামত কইছে৷ আর ক্রশ করা ঠিক না৷ —অশোক্?
অশোক    :    প্রথমবার দেইখ্যা আমারও একটু খারাপ লাগছিল৷
রঞ্জন    :    একটু?
অশোক    :    অয়৷ পরে ভাইব্যা দেখছি, আমরা তো প্রত্যেকদিনঐ কত রকম বাজে পোস্টার দেখি—হিগুলিরে তো কিচ্ছু করতাম পারি না৷ ইটাও তো একটা কোম্পানির বিজ্ঞাপন— ব্যবসার লিগ্যা ইটা করতেই লাগাবো ৷ বিজনেস — ইটাত সব অয়৷
রঞ্জন    :    ও ব্যবসায় লিগ্যা  যা খুশী করত পারে?
অশোক    :    পারে৷
রঞ্জন    :    তে তো ব্যবসায় লিগ্যা মানুষও জাহাজের খোলের ভিতরে কইরা চালান দেওয়া যায়?
বিশু    :    আমাগো ইখানে তেমন কেউ দেয় নাকি? (অন্যদের) তোরা হুনছছ— জাহাজের বাঁশি?
অমল    :    আঃ, বিশু৷ রঞ্জন,সবে সবের মতামত দেউক তারপরে আলোচনা করা যাইবো৷ ইরকম কথার পিঠে প্রশ্ন জুড়লে—
মিতালী    :    আরেকটা কথা অমলদা৷ —ধরো, আমরা টিভি সিনেমাত এমন অনেক বিজ্ঞাপন দেখি যেটা দেখানি উচিত না৷ কিন্তু আমরা কিতা করতাম পারি? হয় টিভি স্টেশন ভাঙা লাগবো নাইলে প্রত্যেকের বাড়ির টিভি বন্ধ কইরা বই থাকতে লাগব৷ তাই তো ? 
অশোক    :    না, না, আরেকটা কথা আছে৷ আমরার দুকানে মাঝে মাঝে বাজির বা বিস্কুটের প্যাকেটের উপরে এমন ছবি লাগাইল থাকে, যেটা মানে, বিস্কুট বা বাজির লগে কোনো সম্পর্কউ নাই৷ আমরা কিতা করতাম পারি?
রঞ্জন    :    তোরা কিতা করতে পারছ তোরা জানছ৷
মিতু    :    ইটা তো কুনো উত্তর অইল না৷ তে তো তুমিও পোস্টার দেইখ্যা একলা যা করার করতায় পারলায় নে৷ আমরারে জড়াইবার কাজ কিতা?
রঞ্জন    :    জড়াই এর লাইগ্যা যে আমরা সবে একটা সংগঠন—
অমল    :    সবের কথা আগে শুনি লাই— তারপরে—৷ দিপালি—
দিপালি    :    আমার কিচ্ছু কওয়ার নাই৷ তুমরা যা ডিশিসন নিবায় আমি হিদিকে আছি৷
রঞ্জন    :    ইটা একটা কথা অইলো?
দিপালী    :    অয় অইলো ।
অমল    :    পলাশ?
পলাশ    :    আমিও দীপালির সঙ্গে একমত৷
অমল    :    রীতা?
রীতা    :    গতকাইলকে কলেজো যাওয়ার সময় আমি পোস্টারটা দেখছি৷ আমার বেজান খারাপ লাগছে৷ মনো অইছে কলেজো নাগিয়া যে লাগাইছে তার বাড়ীর সবটি মাইনষেরে ডাকিয়া পোস্টারটার সামনে দাড় করাইয়া দেখি, তারা কিতা কয়? দেখি, তারা একজন আরেকজনের দিকে চউখ তুলিয়া দাড়াইতো পারে কিনা?
রঞ্জন    :    বিশু, তুই কিচ্ছু কইতে না?
বিশু    :    নারে বাই, অতো উচ্চচিন্তা করনের আমার সময় নাই৷ আমগো চউখ মাটির দিকে৷
রঞ্জন    :    ধর, এক আধবার মাটির থিক্যা চউখ তুইল্যা আকাশের দিকে দেখলে, তখন?
বিশু    :    আরে, পোস্টার মারছে কোম্পানীয়ে তার ব্যবসায় লেইগ্যা৷ আমগো সমাজের পক্ষে যদি অতো খারাপ অইবো, তাইলে সমাজের অইন্য বড় বড় লোকেরা কিচ্ছু কইতাছে না কেন?
রঞ্জন    :    ধর, বড় বড় লোকেরা চুপ— তখন?
বিশু    :    তুই-ই ধরনা পোস্টারটা ঐখানে নাই?
রঞ্জন    :    ইটা একটা কথা অইল?
অমল    :    বিশু, তুমার মতামতটা একটু স্পষ্ট কইরা কও৷
বিশু    :    দ্যাখো অমলদা, হাজার চিন্তা আছে৷ একটা পোস্টার লইয়া পাগলের মতো চিৎকার করনের কুনো মানে হয়না৷ আমার এই বিষয়ে কিচ্ছু কওনের নাই৷
অমল    :    ঠিক আছে৷
রঞ্জন    :    অমলদা, ইবার আপনে৷
অমল    :    দ্যাখো, বিজ্ঞাপনটা আমি নিজে দেখছি না৷ তুমরার কথা থিক্যা যেটা বারইয়া আইতাছে হিটা অইল বিজ্ঞাপনটা নিশ্চই খুব সুন্দর না।আমরাও একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে যে কুনো কুরুচি - অশ্লীলতার বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা কথা তো ঠিক, প্রত্যেকটা সংগঠনেরই একটা সীমাবদ্ধতা আছে।
রীতা : কিতা সীমাবদ্ধতা ?
অমল : শুনো ,এই সামাজিক পরিবেশে আমরা অখনঐ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাড়াইতাম পারতাছি না।আমরা চেষ্টা করি - উদ্দেশ্য ও এক কিন্তু একটা সত্যিকারের স্যোসাল অরগেনাইজেশনের সঙ্গে আমরার তফাৎ এই যে আমরা আমরার গান নাটক এইসবের মইধ্যে দিয়া সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করমু। কিন্তু মানুষের ভাবনা চিন্তার উপরে উইঠ্যা হটাৎ ই হঠকারি কিচ্ছু করতাম পারিনা। 
রঞ্জন : ঠিক আছে ,ঐ গান নাটকই করি -
অমল : হ্যাঁ,ইটা কও। কিন্তু কথা অইলো বিজ্ঞাপনটা কারা লাগাইছে ?
রঞ্জন : বড় বিজ্ঞাপন ,কোম্পানি থিক্যা যেরকম দেয়।
অমল : না ঠিক আছে। কিন্তু ইটা লাগাইছে কুন দুকান থিক্যা ?(সবাই চুপ। মুখ চাওয়া চাওয়ি করে)
কিতা অইলো- কে লাগাইছে ?
রঞ্জন : শ্রী দূর্গা বস্ত্রালয়।
অমল : শ্রী দূর্গা বস্ত্রালয় ? মানে আমরার কাকু তারা ?
রঞ্জন    :    অয়৷
অমল    :    কবে লাগাইছইন?
রঞ্জন    :    তিন চাইরদিন অই গেছে (অমল অস্বস্তিতে) যেই মারুক আর যেদিনঐ মারুক আমরা তার পক্ষে না বিপক্ষে ইটা অইল কতা৷
অমল    :    দ্যাখো রঞ্জন, ইটা অতো সুজা না৷ পুরা ব্যাপারটা লইয়া ভাবা লাগবো৷
        [বাইরে থেকে “অমল আছো ?’’ দরজায় কাকু৷ ধুতি, গেঞ্জি পরা]
অমল    :    কাকু? আইন, আইন—
কাকু    :    না, আই না, এউগ্লা কতা আছিল৷
অমল    :    কইন?
কাকু    :    ইয়ো হুনো, কাপড়ের ট্রাক আউুজগ্গা
 আইতাছে না৷ দেরি দেইখ্যা আমি ফোন লাগাইছলান, তারা কইছে কিতা ব্রেক ডাউন অইছে না কিতা৷ তে দেও, তুমরা রিহার্সাল কও৷ কাউলকা থিক্যা দুই চাইরদিন বাদ দেলাইও৷
অমল    :    ঠিক আছে৷  বইন না—
কাকু    :    না রে বা, দুকান খালি বুঝ্ঝনি৷ প্রবীর গেছে বাজারো, বাজইরা গাড়িও আইবো অখনঐ৷ গাড়ির বা বারো ভেজাল৷ —ইলা কেডা?
অমল    :    কে? —ও, তাই রীতা৷ ইখানো আইছে বাক্কা ছয় আটমাস অই যার৷
কাকু    :    অয়, কলেজো যায় দেখছি৷ —বাবার নাম কিতা?
রীতা    :    শ্রীযুক্ত গোপাল রায়৷
কাকু    :    ও, গুপালবাবু যে-মাস্টার৷ বালা৷ —এনরে তো চিনলাম না ?
অমল    :    আমরার হাসপাতালো নতুন আইছইন৷
কাকু    :    ও হুনছি৷ হাসপাতালের নতুন চৌকিদার আইছে৷ বালা৷ আগেরটায় তো আমার পাচ পয়ষট্টি টেকা মাইরাই দিল৷
হুসেন    :    নমস্কার৷
কাকু    :    নমস্কার৷ দেও, রিহার্সাল দেও৷
অমল    :    আইন না, বইন না কাকু৷
কাকু    :    না রে, বা, আমার কি আর বওনের সময় আছে? (বলতে বলতে বসেন) তুমরা গান বাজনা লইয়া থাকো কত বালা— অখনকার পুলাটিনতে তো সইন্ধ্যা অইতেঐ আড্ডা মাইরা— ভিডিও দেইখ্যা সময় কাটানিত ব্যস্ত অই যায়গা৷ তুমরা তো একটা বালা কাজ কর ৷
অমল    :    কাকু, আমরা ভাবতাছি, পুরানা যারা ইখনো গানটান করতা— আমি তো অতটা জানি না— আপনারা কইতা পারবা— তারারে একটা সম্বর্ধনা দিলে কেমন অয়?
কাকু    :    কিতা দিতায়?
অমল    :    মানে, একটা অনুষ্ঠান কইরা সবরে ডাইক্যা একটা মানপত্র ইত্যাদি দিমু আর কি? তারাও কইবা তখন তারা কে কি রকম গান করতা— আমরা তো প্রায় কিছুই জানি না৷
কাকু    :    তুমি তো হিদিন আইলায়— জানবায়ঐবা কেমনে ? এরাওনি হগ্গলতা জানে ? আগে তো আমার বড় মেয়েটায় ইখানো একলা এস্রাজ বাজাইতো৷ তাই মারা যাওয়ার পরে— যাউক— যে যেখানো থাকে বালা থাকুউক৷ —তে মানপত্র দিতায়৷ —কেটারে ডাকবায়— কেডাঐবা আছে ? —আছিল এক ধীরু ঠাকুর- কীর্তন গাইতো —কী গলা !—তুমরা দেখছনি ধীরু ঠাকুররে?
অশোক    :    খুব ছুটো বেলায় দেখচি৷ মনো নাই৷
কাকু    :    তুমি তো দেখবায়ঐ৷ তুমরা বাসাত তো কিছুদিন রান্ধাবাড়ার কাজও করছে ৷ কি বিচিত্র মানুষ দ্যাখো— গলাত কেমন মিস্টি সুর অথচ হাতটানের অইভ্যাস৷ তুমরার বাসত থিক্যা তো ছাড়াই দিল । ইতা আউজকা পনর ষুল্ল বছর আগের কথা৷ তখন ই গ্রামো গান?— সইন্ধ্যা অইতেঐ হিয়ালের রেওয়াজ ঘরের দরজার সামনে৷ হিসব দিন বদলাইবার লগে লগে মানুষটিও যেমুন কই মিলাই গেল গা৷
অমল    :    না, ধরইন, যাঁরা এখন নাই, তাঁরার আত্মীয় স্বজন কাউরে ডাকলাম ৷
কাকু    :    আত্মীয় স্বজন? (হঠাৎ জোরে) কানু, কানুরে
কানু    :    (ভেতর থোক) আইজ্ঞা।
কাকু    :    ইখানদা হুনো৷( অমলদের) একটা মজা দ্যাখো৷
কানু    :    (আট দশবছরের বাচ্চা টি ঢোকে৷) আইজ্ঞা ?
কাকু    :    তোর গানটা শুনাচাইন এরারে৷ —এ আবার খুব বালা গায়৷ —কও৷ (কানু ইতস্ততঃ করে) গাও বা, গাও৷ এরা গান বুঝে বালা৷ —এর গলাটাও বালা৷ নেও, আরম্ভ কর৷ —গাও৷ (আদেশের সুরে৷ কানু গান ধরে৷ অসম্ভব বিকৃত স্বর— সুর তাল কিছুই নেই৷ অনেকক্ষণ সবাই হাসি চাপে৷ কিন্তু মাঝে মাঝে বেরিয়ে পড়ছে৷ ছেলেটি সবার হাসিতে অপ্রস্তুত হয়৷ তবু কাকুর মুখের দিকে তাকিয়ে গান চালিয়ে যায়৷ কাকুও একসময় সমঝদারের ভঙ্গীতে মাথা নাড়ছিল৷ তারপর হঠাৎ বিকৃত হাসিতে ফেটে পড়ে৷ অপ্রস্তুত ছেলেটি চলে যেতে চায়৷)
কাকু    :    দাড়াও, দাড়াও৷ কিতা গান করলায়?
কানু    :    আইজ্ঞা ?
কাকু    :    গানটা যে করলায় হিটা কি গান?
কানু    :    কীর্তন৷
কাকু    :    বাঃ৷ শিখছো কেডার কাছে?
কানু    :    বাবায় গাইতো —হুনি হুনি শিখিছি৷
কাকু    :    বাঃ বাঃ৷ বাবার নাম কিতা?
কানু    :    স্বর্গীয় ধীরেন্দ্র চক্রবর্তী৷
কাকু    :    (হেসে ওঠে) ধীরু ঠাকুর৷ বিশ্বকর্মার পুত্র ছুঁচাকুমার৷ যাও, ভিত্রে যাও৷ (কানু পালায়৷) ধীরু ঠাকুর ই গ্রামের একনম্বর কীর্তনীয়া তার পুলার গলা ইরকম৷ তুমিযে কইলায় পুরানা গায়করার আত্মীয়স্বজনরে সম্বর্ধনা না কিতা দিতায়, এই অইল এক আত্মীয়৷ —চুর ৷ ফাক পাইলেই চুরি করে৷ এক টেকা দুই টেকা যা পায়৷ তার মায়ে হাতে পায়ে ধইরা রাইখ্যা যায়৷ বাবার নাম ডুবাইছে ।অইত্য অশোক তারা বাড়িত থিক্যা চুরি করাত গিয়া ধরা পড়ল ধীরু ঠাকুর৷ ব্যস্, তারপরের দিন থিক্যা হাওয়া৷ —চুরের আবার লইজ্জা কিয়ের ? সম্বর্ধনা! —যাই হোক, পরে মাতুম নে ৷ দেও, তুমরা রিহার্সেল দেও ৷ অনেক বাজে মাত মাতলাম৷ 
অমল    :    না, না৷
কাকু    :    (উঠে দাড়ান) হুনো, গানবাজনা আমারও শুনতে বালাঐ লাগে—তুমরা পাচজন একজেগাত বইয়া গান বাজনা কর —দুইটা বালা কথা অয় —বালা লাগে৷ নাইলে ভাবো চাইন, আমি কিতা এমদেঐ ই ঘরটা তুমরার লিগ্যা ছাইড়া দিছি নি৷ ইমুন একটা ঘর বাজারো বিশ হাজার টেকা সেলামি দিয়াও মিলে না৷ কই, না থাউক৷ টেকাটাই বড় না৷ বুঝছনি বা রঞ্জন৷ —নেও তুমরা তুমরার কাম কর। যাই৷ আর ইও, অমল —কাইলকা কিন্তু বাল্বটা খুইল্যা গেছলায় না৷
অমল    :    এ রাম৷ ছিছি ছিছি৷ ঠিক আছে৷ আজকে -
কাকু    :    না, না, অত কিন্তু করার কিচ্ছু নাই৷ খুইল্যা গেলে বালা৷ নাইলে দরজা বন্ধ করলে ভিতরে বাত্তি জ্বলে কিনা তো বুঝা যায় না৷ —যাইগা [বেরোয়৷]
অমল    :    ছি ছি অশোক, ইরকম ভুলা মন অইলে তো মুস্কিল৷
অশোক    :    আমি তো কালকে আগে বাইরইছি৷ বিশু -
বিশু    :    আমি তোরে কইলাম না—
অমল    :    ঠিক আছে, ঠিক আছে একটু খেয়াল রাখলেঐ অইবো৷
রঞ্জন    :    অমলদা৷
অমল    :    উঁ৷
রঞ্জন    :    কিতা ঠিক করলায়?
অমল    :    কি ব্যাপারে?
রঞ্জন    :    ঐ বিজ্ঞাপন?
অমল    :    দ্যাখো, আমি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে কাকুরে রিকোয়েস্ট করতাম পারি— কিন্তু
রঞ্জন    :    তুমার রিকোয়েস্ট করার পরেও যদি পোস্টার টা না সরায়—
অমল    :    না, ই ব্যাপারে আমরার সংগঠনগতভাবে কুনো কিচ্ছু করার নাই৷
রঞ্জন    :    আইচ্ছা তে আমরা কুন ব্যাপারে কিতা করমু? কুনোখানে কম্পিটিশ্যন অইলে গাইমু, বালা একটা নাটক করমু — যার বক্তইব্য প্রগতিশীল ইরকম—
রীতা    :    একটা কতা কই, অমলদা ৷ আমরা ইবারও যে গানটা করিয়ার তার অর্থ তো দাঁড়ায় যে আমরা কিছু বালা কাজ করার লিগ্যা—
বিশু    :    ডিটেইলস্–এ কাম নাই, সংক্ষিপ্ত কইরা কও৷
অমল    :    আঃ বিশু! কও রীতা -
রীতা    :    না, আমরা তো সাংস্কৃতিক কর্মী হিসাবে এইসব মানে ইতার বিরুদ্ধে —নানি?
দীপালি    :    কিন্তু টিভি, সিনেমাত যে সব ছবি থাকে—
অশোক    :    আরে না, না, অত সবকিছুতে পারা যায় না৷ কত তাত করবায়? ফোটোর দুকানো, টিভি কোম্পানীর কতরকম কতকিচ্ছু থাকে—
বিশু    :    আরে দূর, এইসব চিন্তা পাগলে করে৷ আমাগো সাত জনের দল— বেশি অইলে দশ পনর জন —আর একটা কাপড়ের কোম্পানী —লাখ লাখ লোকে তার তলে খাটে —হেইয়ার কি অইবো? পারবা হোগো লগে—
রীতা    :    পারতাম নায় করিয়া হাত গুটাইয়া রাখি দিলে আর অইছে৷ হি কোম্পানী বড় কিন্তু আমরার ইখানো তো একটা ছুটো পুস্টার—
মিতু    :    ও, তে যে বড় তারে পারতাম নায় জাইন্যা ছাইড়া দিনু —আর দুর্বল মানুষ —সামাইন্য তেড়াবেরা করলেই আমরা বীরত্ব দেখাইলাইমু৷
রঞ্জন    :    একটা কথা কই, অমলদা৷ আমরা যেদিন প্রথম গ্রুপটা করি তুমি হিদিন কইছলায় আমরা আর পাচটা দল থিক্যা আলাদা, কেনে না, আমরা সামাজিক সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরার গান নাটক কবিতারে ব্যবহার করমু৷ আজকে হি পোস্টারটা একটা সামাজিক অন্যায় করের— 
অশোক    :    আর পাচটা বিজ্ঞাপনের মতো—
রঞ্জন    :    আর পাচটার কথাত পরে আইতাছি৷ যে বিষয়টা আমরার চউখর সামনে -
বিশু     :পলাশ আমগো চায়ের কি অইলো?
রঞ্জন    :    বাইরে গিয়া চা খাইয়া আয়৷ ঘরো চিৎকার করিছ না —একটা important কথা অর৷
বিশু    :    ঐ সমস্ত কথা আমরাও বুঝিরে৷
রঞ্জন    :    বুঝছ তে চুপ কইরা থাক৷
বিশু    :    ক্যান, কতা কি তুমি একলাই কইতে পারো?
রীতা    :    বিশুদা, একটু চুপ করো না৷
বিশু    :    হে আমরে কতা শিখায়? আরে, তুই ইখানে আইছ পাচ বছর আর আমি আইজ ছাব্বিশ ধইরা এইখানে আছি৷ কে সুজা চায় আর কে বেকা চায় ইসব তোর থন আমি ভাল বুঝি৷
রঞ্জন    :    তাইলে তো আমার আগে তোরঐ ইসব কতা কওয়া উচিত আছিল ৷
অমল    :    আঃ, তুমরা একটু চুপ করবায়? রঞ্জন, আর কিচ্ছু কওয়ার আছে?
রঞ্জন    :    আর কিচ্ছু কওরার মানে? আমি তো শুরুই করছি না৷ যে অন্যায়টা আমরার সামনে ঘটের তার বিরুদ্ধে কিতা আমরা কিচ্ছু কইতামও পারতাম না?
অমল    :    পারি৷ কিন্তু লাভ কিতা? এর পিছে কত বড় বড় মাথা, Pressure, Power
রঞ্জন    :    জানি৷ কিন্তু ছুটো ছুটো অন্যায়ের প্রতিবাদ দিয়াউ তো একসময় শুরু করা লাগবো৷ তারপরে একদিন একটা বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বহুত মানষরে পাইমু —তখন সবে মিলিয়া—
        [কানু চা নিয়ে ঢোকে]
অশোক    :    আন বা, ইদিকে চা দে৷ কথা শুনতে শুনতে গলা শুকাই যার ৷
        [কানু সবাইকে চা দেয়৷ সবাই সশব্দে চা নেয়৷ অমল, রীতা, রঞ্জন, আর হুসেন নিঃশব্দে চা নেয়]
কানু    :    (সবাইকে চা দেওয়ার পর— বলতে হয় তাই বলছে— এক গভীর  অপমান ওর চোখে মুখে) কাকুয়ে কইছইন, এই চা-এর দাম দেওয়া লাগত নায়৷ তাইন দিবা৷ (বেরিয়ে যায়)
রঞ্জন    :    অমলদা?
অমল    :    কও৷
রঞ্জন    :    কিতা ডিসিশ্যন নিলায়?
অমল    :    দ্যাখো যদি দলের কথা কও, তাইলে সবের যা মতামত শুনলাম হিখানো আমার কিচ্ছু করার নাই৷ 
রঞ্জন    :    কিন্তু তুমার ব্যক্তিগত মতামত?
অমল    :    গ্রুপের বাইরে আমার তো কুনো মতামত থাকে না৷
রঞ্জন    :    সবসময় কিতা সমষ্টির মতেই পৃথিবী চলে?
অশোক    :    এইরে, ইবার পৃথিবী আইগেছে৷ এরপরে কই থামবো?
রীতা    :    তুমার বালা না লাগলে হয় চুপ করিয়া থাকে , নাইলে বাইরে যাও৷ তারার কথার মইধ্যে কথা কইও না৷
অমল    :    আমার নিজস্ব মতামত আমি ব্যক্তিগতভাবে কইতাম পারি৷ কিন্তু ইখানো কিচ্ছু কওয়ার অর্থ আমার মতামত দিয়া এরারে influence করা

রঞ্জন    :    ইটাইত্য দরকার৷ আমি, রীতা আমরার  ব্যক্তিগত মতামত কইছি, বাকীরাও কইছে৷ তুমিও কও৷ তারপরে দেখা যাউক বেশির ভাগে কিতা কয়৷ তুমি তুমার কথা বুঝাইয়া কও৷
অমল    :    না, পারি না৷
রঞ্জন    :    তাইলে ই ব্যানার, যে গান আমরা গাই হিতা ধরিয়া রাখার কুনো অধিকার আমরার নাই৷
অশোক    :    আমরার অধিকার আছে কিনা হিটা আমরা বুঝনু —তুমি কে সিদ্ধান্ত দেনেওয়ালা?
রঞ্জন    :    আমি সাদারে সাদা, কালারে কালা কইতে ডরাইনা৷ এর লাগিয়া আমি সিদ্ধান্ত দেনেওয়ালা ।
অমল    :    ইটা একটু বেশি কই লাইলায় নানি?
রঞ্জন    :    না৷ আসলে কিতা জানোনি অমলদা, ব্যক্তিগত জীবনে আমরাও প্রত্যেকে কুনো না কুনো ভাবে প্রত্যেকদিন এইসব অন্যায়ের লগে শুধু  চলি না- নিজেরাও অন্যায় গুলি করি —আর এর লেইগ্যা এই সমস্ত কিছুর বিপক্ষে দাঁড়ানির শক্তি আমরার নাই৷ আমরা নিজেরাই কত বড় বড় গান গাই, কথা কই  কুসংস্কাররে গানো নাটকো মাটিতে না মিশাইয়া দম ফালাই না — অথচ দ্যাখো আমরারউ কেউ কেউ জ্যুতিষির পাথর বেচে —হাত দেখাইয়া পয়সা রুজগার করের৷
অশোক    :    রঞ্জন, ইবার তুমি কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কররায়৷
রঞ্জন    :    না, হঠাৎ উদাহরণটা মাথাত আইছে৷ নাইলে খালি পাত্থর বেচা কেনে —কণ্টেকটারি ঠিকাদারি করিয়া মানুষ ঠগানিও তো আছে৷
দিপালী    :    অমলদা, তর্কটা কিন্তু খুব বাজে জেগাত যার ৷ এরপরে সামলানি মুস্কিল অইবো৷
রঞ্জন    :    আমরাও আর বেশি তর্ক করার ইচ্ছা নাই৷ একটা কথা খালি কইয়ার —যেটা বিশ্বাস করিনা, হিটা কইতাম না৷ কে মাথার কিরা কাটছে৷ কিন্তু যেটা বিশ্বাস করি হিটার লাগিয়া কুনো কিচ্ছু করাত রাজি না থাকলে বড় বড় কথা কওয়ার কুনো মানে নাই৷
অমল    :    হুনো রঞ্জন
রঞ্জন    :    অমলদা, তুমার কাছ থাইক্যা খালি একটা কথা শুনতাম চাই—তুমি ই ব্যাপারটা কি চোখে দ্যাখো৷—
অমল    :    যে চোখেই দেখি না কেনে, আমার অন্ততঃ গ্রুপের পক্ষ থিক্যা কিচ্ছু করার উপায় নাই৷
অশোক    :    আরে বাই, দলটা তো একলা অমলদার কথায় চলে না, তার একটা ডেমোক্রেসী আছে৷
রঞ্জন    :    আছে জানি, তবু ইটাও সইত্য ই দলো অমলর কথাঔ final কথা৷ —কও অমলদা৷
অমল    :    শুনো, আমি তো আর দায়িত্বজ্ঞানহীন হঠকারি একটা মানুষ না —দলের প্রতি আমার কিছু দায়িত্ব আছে৷ যা খুশী তাই আমি করতাম পারি না৷
রঞ্জন    :    দায়িত্ব কারার লাইগ্যা? এরার? আর সমাজের লাইগ্যা কুনো দায়িত্ব নাই? অথচ দায়িত্বের ফেরীওয়ালা সাজছি দেইখ্যাইত্য পত্রিকাত আমরা নিজেরায় পিছে progressive ছাপ লাগাইতাম পারছি৷
রীতা    :    দলের কার লাগি দায়িত্ব? ওতো বছর ধরিয়া দল চলের অথচ এখনও মানুষরে অপমানিত অসম্মানিত অইতে দেখলে নিজেরাও যুগ দেই
দিপালি    :    কিতা?
রীতা    :    করছছ না? কিছুক্ষণ আগে একটা বাইচ্চা ছেলেরে যখন আমরার সামনে ইরকম লইজ্জা দেওয়া অইল, তখন আমরা তো কেউ বাধা দিছিনা —বরঞ্চ হে হে কইরা হাসছি৷
অশোক    :    দ্যাখো, সবজিনিষ একভাবে বিচার করা যায় না৷
রঞ্জন    :    বিচার করাতো যায়ঔ না৷ নাইলে তুমরা যখন হাসছিলায় তখন ছেলেটার মুখর দিকে একবার চাইয়া দেখছিলায় নি কিরকম কালা অই গেছিল?
অশোক    :    ও বাবা, তে তো রাস্তাত কিচ্ছু দেইখ্যা হাসাই মুস্কিল৷
রীতা    :    মানুষের অপমান উপভুগ করাটা যদি তুমার কাছে রাস্তাত কিচ্ছু দেখিয়া হাসির সমান হয় তে তো তুমরারে লইয়া চলাঔ মুস্কিল৷
অশোক    :    কে কারে লইয়া চলে রে বাই৷ যে যার নিজেরে
 লইয়া ব্যস্ত৷
রঞ্জন    :    দাঁড়াও  রীতা৷ কও, অমলদা৷ দলের কথা বাদ দিয়া ইবার তুমার নিজের standটা পরিষ্কার কর৷
দীপালি    :    এরে, তুমরা দেখি অমলদারে জুর করা লাগাই দিছো৷
রঞ্জন    :    দিছি৷ আর ই দেওয়ার অধিকার আমারার আছে৷ অতদিন প্রগতিশীল যুক্তিবাদী  কইয়া যে সম্মান অমলদারে করছি আজকে তান সামনে দাড়াইয়া হিটা পরীক্ষা করমু ৷তুমরা  মুখ বন্ধ করিয়া থাকো৷
মিতু    :    আমরা মুখ বন্ধ করিয়া থাকনু কি থাকতাম না হিটা আমরা বুঝমু —তুমি কে কনেওয়ালা?
অমল    :    আস্তে— আস্তে—
দিপালি    :    মানুষের মতামত জানার লাগি তারে অনুরোধ করা যায়, জুর করা যায় না৷ কেনে তুমরা জুর কররায়?
রীতা    :    তুমি কইতায় পারবায় অমলদার কিতা মতামত?
দীপালি    :    আমি কইতাম কেনে?
রঞ্জন    :    তে আর পাচ মিনিট চুপ কইয়া থাকো৷ আমরার কথার মইধ্যে নাক গলাইঅ না৷
অশোক    :    নাক গলানি যার অইভ্যাস—
রঞ্জন    :    আর একটা কথা না৷ আমি অমলদারে জিগাইমু —অমলদায় উত্তর দিবো৷ কও অমলদা— 
মিতালী :ইরকম তুমি জিগাইতায় পারো না৷
রঞ্জন    :    পারি৷
অশোক    :    ইটা গার জুরের ব্যাপার নায়৷
রঞ্জন    :    গার জুর তো তুমরা দেখাইতরায়৷ আমার কথারে মইধ্যে কথা কইবায় না৷
অশোক:    তুমি যেতা খুশি করবায়—
রঞ্জন    :    আমি যেতা খুশি করিয়ার নায়৷
অশোক    :    বহুতদিন তুমার ছড়ি ঘুরানি সইয্য করছি৷ তুমি কিতা ভাবো নিজেরে—
বিশু    :    ভাবো, নিজে একটু দায়িত্ব লইয়া কাজ কর বইল্যা তুমি যা করবা তাই দেখন লাগবো ?
রঞ্জন    :    আমার কাম আমারে করবার দেও৷ গাত আত দিবায় না৷
অমল    :    আস্তে৷ চুপ করো সব৷ ইটা একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন বাজারের মাছ বিক্রির জায়গা নায়৷
রঞ্জন    :    কিন্তু তুমার মতামত?
অমল    :    শুনো রুঞ্জন, কিতা জানতায় চাও? আজকে ই পোস্টারটা লইয়া ঝগড়া কইরা আমরার  দলটা ভাঙি যাউক— এই চাও, তুমি?
রঞ্জন    :    পোস্টার নায় অমলদা —কর্মে ও কতায় সঠিক আত্মীয়তা৷ 
    
        আত্মীয়তা —দুইদিন বাদে পোস্টারের রঙ উঠি যাইবো –তখন অইন্য বিতর্ক আইবো৷ সইত্যর স্বপক্ষে আর বিপক্ষে৷
অমল    :    অখন খুব সইত্য শিখছো তুমি?
রঞ্জন    :    তুমিঔ শিখাইছো৷ কুনটা ন্যায় আর কুনটা অন্যায় -তুমি কইছলায় না, অইন্যায় যে করে আর অইন্যায় যে সহে..
বিশু    :    আবার কাইব্য করতাছে -
রঞ্জন    :    তুমার যে কাইব্যর উপরে সবসময় রাগ ইটা জানি৷ আর যাই হোক  ভাগ চাষ করাইয়া, লেবার ঠগাইয়া বিদ্রোহী গান আবৃত্তি করা যায় নাটক করা যায়— মানুষ অওয়া যায় না৷
বিশু    :    কে কি করে জানা আছে৷ আমি তো ভাগ চাষ করাই — নিজের জমিতে —সতেরো বাড়িতে মাইগ্যা তো খাই না৷ ভিক্ষুকের আবার মানুষ অমানুষ !
রঞ্জন    :    ভিক্ষা করার পিছেও যে পরিশ্রম আছে ভাগচাষ করিয়া চুরি করার মইধ্যে হিটাও নাই৷
বিশু    :    আরে থোও, চোর না কেডা? মানুষ তো ভিক্ষা করতে গিয়াও শুনি ঘটি বাটি চাউলের ব্যাগের মইধ্যে ঢুকাইয়া দৌড় মারে৷ অবশ্য ধরাও পইড়া যায়৷
রঞ্জন    :    অভাবী মানুষ পেটের দায়ে অনেক সময় চুরি করে৷ কিন্তু নিজে ঠ্যাং এর উপরে ঠ্যাং তুলিয়া জমির চাষীরে ঠগায় না, ফলস্ কেইস দিয়া থানাত টেকা খাওয়াইয়া মাইনষরে ঠগায় না৷
অমল    :    তুমি কিতা ইসমস্ত কতা কওয়ার লাইগ্যা আজক দলো আইছ নি?
রঞ্জন    :    না, কথার পিঠে কথা আইছে৷ নাইলে আমার দাদুয়ে যে আমারে ভিক্ষা কইযা বড়ো করছইন  ইটা সবে জানে কিন্তু বাড়ির কিচ্ছু চুরি করার বদনামটা আজকে প্রথম দেওয়া অইলো৷ তুমি নিজেও জানো ইটা ঠিক না- কিন্তু  তুমি তো কুনো প্রতিবাদ করলায় না।ইটা তুমার বিবেকের প্রশ্ন৷ অখন কও, পোস্টারটা সম্পর্কে তুমার শেষ বক্তইব্য কিতা?
অমল    :    শুনো, আজকের পরিস্থিতিতে আমি নিজে কুনো মতামত দিতাম পারতাম না৷ কারণ—
রঞ্জন    :    অমলদা, সইত্যের কুনো পরিস্থিতি নাই৷ থাকলে পরিস্থিতির দুহাই দিয়া  বহউত বড় মাইনষে তারার বউত অপমান এড়াইতা পারলা নে ৷
অমল    :    আরে আমারে কথা কইতে দেও৷ শুনো, আমরা বহুতদিন পরে একটা ঘর পাইছি —নিশ্চিন্তে রিহার্সাল দিতাম পারতাছি ,আমরা -
রঞ্জন    :    আমরা কারো বাসাত রিহার্সাল দিমু -
অমল    :    কথাটা তুমি কইতায় পারো —আমি পারি না৷ আমার একটা দল চালাইতে লাগে। ভবিষ্যতে তার অনেক বড় কাজ আছে৷
রঞ্জন    :    ই কথাটা তুমি আগে কইতে পারতায়৷ তুমার নিরাপত্তা লাগে৷ ঘর পাইছ,  রিহার্সাল দিবায়৷ যার ঘর হে যতো অন্যায়ই করুক, তার বিরুদ্ধে আমরা আমরা চুপ৷ অথচ মঞ্চের উপরে আমরা যে কুনো অন্যায়ের মুকাবেলা করুম —বাঃ, বাঃ রে প্রগতিশীলতার ফেরীওয়ালা ৷
অমল    :    রঞ্জন, যে মাটিত তুমি আছো, তার অবস্থাটা বুঝবার চেষ্টা করা৷ আমারে যতখুশি অপমান করো কিন্তু এই অবস্থায় একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন রও একটা সীমাবদ্ধতা আছে৷
রঞ্জন    :    ধুর, ধুর, ইসব কথা আমার কাছে অখন বেলুনোর লাখান ,উজন নাই৷ অমলদা, সীমাবদ্ধতা, পরিস্থিতি দেখাইয়ারায়৷ তুমিই না একসময় আমারারে শিশির ভাদুড়ি, বিজন ভট্টাচার্য, দেবব্রত বিশ্বাসের গল্প শুনাইছলায়- কেনে? নিজের ইমেইজ বাড়ানির লাইগ্যা —নিজে কতজানো ইটা দেখাইতায়?
        তুমারে এখন আমি ঐ অশোক বিশু পলাশ থাকিয়াও বেশি ঘিন্না করি - অশোক : রঞ্জন, বহুততা কই লাইছছ - অমলদা না থাকলে অত কথা কইতে পারলে না নে ৷
রঞ্জন    :    জানিবে, শুন অমলদা তোর থিক্যা বেশি চালাক।এর লাইগ্যা চুপ করিয়া হওয়ায় ।আর তুই ইসব বুঝতে নায়।তোর সারাদিন ভিডিও ক্যাসেটোর ভাড়া দেওয়ার হিসাব - আর রাত্রে জীবনমুখী নাটক - তুই বুঝবে ?
অশোক : না সব তুমি বুঝবায়।আইজ পর্যন্ত তো বহুত কিচ্ছু করলে ,কুনো কিচ্ছুত তো টিকতে পারলে না।
রঞ্জন : (অশোকের দিকে তাকিয়ে, চোখে জল)ঠিক কইছচ। 
 কইতে পারলে না নে৷ এর লেইগ্যা চুর করি বস্তুখরত৷ আর তুই ইসব বুঝতে নায়৷ তোর সারাদিন ভিডিওর ক্যাসেট ভাড়া কওয়ার হিসাব— আর রাত্রে জীবনমুখি নাটক৷ তুই বুঝবে?
অশোক    :    না, সব তুমি বুঝবায়৷ আইজ পর্যন্ত তো বহুত কিচ্ছু করলে , কিচ্ছু তো করতে পারলে না ।
রঞ্জন : ঠিক  কইছচ।
যারারে বিশ্বাস করি— হঠাৎ দেখি, মানুষ থিক্যা তারার কাছে দল বড় অই যায়— সইত্যর থিক্যা কৌশলের বেশি জুর৷ আর ইটা কারে কইতাম৷ যাই গিয়া অমলদা—৷ আপনে যাইতানি? 
হুসেন    :    দাড়াইন৷ একটা কতা কইতাম আছিল৷
রঞ্জন    :    কইন৷
হুসেন    :    অতবিল ধরি কুনো মাত মাতিছি না, খালি হুনিয়ার । পয়লা দিন যখন ইনো আইছি, বসো থনে নামিয়া ছবিখানি দেখছি।আমরা বাপে মায় মুখর বায় চউখ তুলি চাইতাম পারছি না৷ হদিন রাইত একটা গান লেখছিলাম— “জননী, কে তুমারে লইজ্জা দিল উলঙ্গ করিয়া৷’
রঞ্জন    :    লেখছইন?
হুসেন    :    অয়৷ সুরঅ দিচ্চি৷
রঞ্জন    :    অমলদা, এই দ্যাখো, গুমড়ার একজন সামান্য অপরিচিত কবিয়ে ঘটনাটারে তার মতে করিয়া দেখছে ৷
আশোক    :    খুব বালা লেখছে -'উলঙ্গ করিয়া!'
রঞ্জন    :    বালা খারাপের হিসাব তো অনেক পরে রে৷অখন তো খালি মানুষ হিসাবে নিজেরা যে বাচিয়া আছি হিটা জানান দেওয়াটাউ কাম।
হুসেন    :    হুনতানি গানটা?
রঞ্জন    :    হুনমু৷ইখানো নায়৷ তবে ইখানো গাইলে গানটার অপমান করা অইবো৷ অমলদা, দলোর নামটা একদিন আমিঐ দিছলাম৷ আজকে হাসি উঠের৷ তোমার প্রগতিশীল সমাজমুখী সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রচুর প্রোগ্রাম আর আমার ঐ একটাই গান - "জননী কে তুমারে লইজ্যা দিল উলঙ্গ করিয়া৷" গানটার বাক্কা নানা রকম অর্থ আছে৷ নানি, অমলদা ? চলইন হুসেন সাব ৷ (সব কাগজপত্র  টেবিলের উপর রাখে৷)
হুসেন    :    চলইন৷
রীতা    :    দাড়াও, রঞ্জনদা৷ অমলদা, বঙ্গসংস্কৃতি সম্মেলনো তুমরার গান বালা করি রিহার্সেল দিলে ফাস্ট অইবো— অত সুন্দর রিহার্সেলোর জায়গা ,মাগনা চা !—ফাস্ট অইবায় নিশ্চয়৷ খালি গানটা একটু তলাইয়া ভাববার সময় দিলে ঐ নামর ব্যানারটাও ঠাঠা করিয়া তুমরার মুখর উপরে হাসি দিবো৷ পুরস্কারের লগে ইটাও সইহ্য করিও৷ চলো রঞ্জনদা, আইন হুসেন সাব৷ [বেরিয়ে যায়]
        

[বাকিরা চুপ৷ পেছনে ভেসে আসে ঐ প্রগতিশীল গানের বিচ্ছিন্ন রির্য়াসেলের সুর —অশোকের ভূল, বাকিদের চাপা হাসি ইত্যাদি৷ গভীর বিষাদে অমল]

        

[পর্দা নামে]

Marble Surface

ঈশানের যোগাযোগ

Marble Surface

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

Marble Surface

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions