ঈশানের কথা / Ishan Speaks

25 July 2021 / ০৯ শ্রাবণ ১৪২৮

 

জনপ্রিয় বাংলা সঙ্গীত শিল্পী ও চিত্র পরিচালক অঞ্জন দত্ত-র একটা গানের এলবাম আছে 'অসময়'। এলবাম টি পুরনো। কিন্তু এখন সত্যি বড় অসময়। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আজ করোনা এফেক্টেড। এ যেন এক চক্রব্যুহ। মনে হয়, এই বুঝি সবকিছু স্বাভাবিক হবে। কিন্তু না, পরক্ষণেই আবার ঘরে ঢুকে যেতে হচ্ছে। বেরোনোর পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর্থিক অবস্থার উন্নতি কবে হবে তাবড় অর্থ শাস্ত্রীরাও হলফ করে বলতে পারছেন না। আমাদের দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মনমোহন সিং এর ধারণা অনুযায়ী দেশের আর্থিক অবস্থা ১৯৯১ ইং-এর চেয়েও খারাপ। যা কি না যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। আরেকটা ব্যাপার যা নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা দরকার, তা হল ছাত্র-ছাত্রীদের শৈক্ষিক ভবিষ্যৎ ও তৎপরবর্তী চাকুরি জীবন। বিশেষ করে 'কোভিড ব্যাচ'-এর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ ছাত্র ছাত্রীদের। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র কয়েকটি রাজ্য অফ লাইন পরীক্ষার আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি রাজ্যে পরীক্ষা হয়েছে বাতিল। কিন্তু অফ বা অন লাইন যেভাবেই হোক, সার্বিক ভাবে বয়ঃসন্ধিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই সব পাশ করা ছেলে-মেয়েদের পাশে আমাদের সবার আরও বেশি করে এখন থাকার প্রয়োজন। কোন ভাবেই যাতে ওদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি না হয়। আর, এই অভূতপূর্ব শিক্ষা বর্ষের জন্য  ভবিষ্যতে চাকুরি জীবনে যাতে ওদের কোন দুর্ভোগ পোহাতে না হয় বা আত্ম সম্মানে আঘাত না লাগে সরকারের পক্ষেও এটা সুনিশ্চিত করা দরকার।

অপরদিকে এই অসময় যেন আর কাটতে চাইছে না উত্তর পূর্ব ভারতের বাঙালির  জীবনে। সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি প্রচুর চা শ্রমিক ও বাঙালি অধ্যুষিত সদিয়া বিধানসভা ক্ষেত্র কে উপজাতি সংরক্ষণের আওতায় আনার সরকারি সিদ্ধান্ত আবারও বহু বছর ধরে ঐ অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে আশংকায় ফেলেছে। এ ছাড়া, বহু  চর্চিত বহু কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্জি কৃত এন.আর.সি গ্রহণে অনিচ্ছুক ও অনাগ্রহী সরকার এবার ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার-এ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বহু সভ্য ও উন্নত দেশেই নাগরিক পঞ্জি রয়েছে। আমাদের দেশে ও থাকা আবশ্যক। কিন্তু এর পঞ্জিয়নের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। অর্থের অপচয় ও জনগণের অযথা হয়রানি কোন ভাবেই কাম্য নয়। এরই মধ্যে, বাঙালি ও গোর্খা জনগোষ্ঠীকে বর্তমান নাগরিক পঞ্জি নবায়ন-এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকারের তরফে এর যুক্তিপূর্ণ স্পষ্টীকরণ অবশ্যই সময়ের দাবি।

যাই হোক। সঙ্গে থাকুন আমাদের। আপডেট থাকতে ফলো করুন 'ঈশান কথা'র প্রোমোশনাল পোস্ট। 
 

ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

 

 

18 July 2021 / ০২ শ্রাবণ ১৪২৮

 

বর্ষার মরসুম চলছে।


বৃষ্টির আনন্দ অনেকেই উপভোগ করছেন। আবার অনেকের কাছেই বৃষ্টি মানে একঘেয়েমি। মন খারাপ করা দিন। হ্যাঁ, তা মন খারাপ একটু হয় বৈ কি! তবে এই মন খারাপ টা কে ও 'relish ' করেন অনেকে। আর তা ছাড়া, বাঙালির প্রিয় খিচুড়ি, ডিম ভাজা, মাছ ভাজা - এগুলো বৃষ্টি না হলে কি জমে! সঙ্গে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে তাবড় বড় বড় গীতিকার-সঙ্গীতকার আর শিল্পী দের অজস্র কালজয়ী বর্ষার উপর বাংলা গানের সম্ভার। তা করোনা কালীন এই লক্ ডাউন-এর সময়ে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের পকেটে টান আছে ঠিকই, তা বলে বাঙালির 'ভ্রান্তি বিলাস' কি থেমে থাকে! এটা সব সময় সুপার হিট। ইলিশ মাছ নাই বা হল, ধরে নেওয়া যায় বাজারে ভালো মানের ইলিশের যোগান নেই। তা ছাড়া খুব মিথ্যে তো নয়।


এরই মধ্যে সন্ধ্যের চা-মুড়ি চপ সহযোগে নির্ভেজাল নিতান্ত ঘরোয়া আড্ডায়ও কথা হচ্ছে বাজেট নিয়ে। আমাদের বরাক কি পেল? নতুন সরকারের প্রথম বাজেট কতটা সক্ষম হল রাজ্যবাসীর আস্থা অর্জন করতে। সমগ্র রাজ্যের উন্নয়নের দিশা নিয়ে চলছে বিশেষজ্ঞ দের ও বিশ্লেষন। এই অসময়ে সমগ্র বিশ্বই আর্থিক মন্দার কবলে। সমগ্র দেশের সাথে আমাদের রাজ্য ও এর বাইরে নয়। কিন্তু বাজেটে কর বৃদ্ধির কথা বলা হয় নি। চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা। তবু আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় অর্থের যোগান এর জন্য সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে উন্নয়নের চাকা থেমে যেতে পারে বৈকি! আশা-নিরাশা মিলিয়েই এবারের বাজেট। তবে, বরাক উপত্যকার প্রাণ কেন্দ্র শিলচর শহর কে যানজট মুক্ত করার জন্য অতি প্রয়োজনীয় উড়ালপুল সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রীর নীরবতা আমাদের কে সত্যি আশাহত করেছে।

 

যাই হোক। যে খাতে এবং যে অঞ্চলের জন্য যতটুকু বরাদ্দ করা হয়েছে, তার সঠিক ও সময়মতো কার্যকর করা এখন সরকারের দায়িত্ব। 

 

বর্ষা উপভোগ করুন। আর সঙ্গে থাকুন আমাদের।
 

আজকের এই সংস্করণ থেকে  'ঈশান কথা' আবার সাপ্তাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে। ভিডিও আপলোডিং হতে থাকবে সপ্তাহ জুড়ে। হবে সরাসরি ইউ টিউব এ।আপডেট থাকতে ফলো করুন 'ঈশান কথা'র প্রোমোশনাল পোস্ট। 
 

ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

 

১৬ আষাঢ় ১৪২৮ / 01 July 2021

একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে....

করোনা নামের অতিমারীর অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিল। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সভ্যতার অহঙ্কার কত ভঙ্গুর। প্রকৃতি কে কষ্ট দিয়ে নয়, প্রকৃতি কে ভালোবেসে বাঁচতে হবে আমাদের। রক্ষা করতে হবে পরিবেশ। এই অতিমারীর কবলে পড়ে বিশ্বের তাবড় বড় বড় উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাজেহাল। ভেঙ্গে পড়েছে উন্নতমানের পরিকাঠামো। কিন্তু এই কঠিন সময় যদি মানুষের সৃষ্টি হয়ে থাকে, এর থেকে উত্তরণের পথ ও দেখাচ্ছেন আমাদেরই সহোদরেরা।


কোভিড এর রেশ এখনো পুরোপুরি আয়ত্তে আসেনি। হয়তো বা আরো অনেকদিন ধরে আমাদের সাথে থাকবে এই মারণ অসুখ। সম্পূর্ণ টীকা করণের পর বোঝা যাবে এর অবস্থান। এই কঠিন সময়ে যারা প্রথম সারির প্রথমে থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন সভ্যতা রক্ষার, এরা হলেন চিকিৎসক সমাজ। আজ "জাতীয় চিকিৎসক দিবস"এ আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করছি এই "First Line Warrior" দের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে Doctor's Day পালিত হয়। আমাদের দেশে মহান চিকিৎসক তথা রাজনীতিবিদ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় কে শ্রদ্ধা জানিয়ে ১লা জুলাই দিনটি জাতীয় ডাক্তার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনটি তে তিনি মৃত্যু বরণ ও করেন। বিধান চন্দ্র রায়-এর হাত যশের অনেক কিংবদন্তী রয়েছে। রয়েছে রাজনীতিবিদ হিসেবে বিচক্ষণতার অনেক উদাহরণ। বিধান চন্দ্র রায়-এর মত ব্যক্তিত্বরা সত্যি বিরল।

কিছুদিন আগে চিকিৎসকদের উপর অনভিপ্রেত আক্রমণের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে "Save the Saviour" নামে মিশন চালু হয়েছে। এই কয়েক বছরে চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনে ও অনেক সংশোধনী আনা হয়েছে। এরপরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর পরিবার পরিজনের অনিয়ন্ত্রিত আবেগ ক্রোধের জন্ম দিচ্ছে। এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। সেই সঙ্গে রোগী ও রোগীর পরিবার পরিজনেরা চিকিৎসকদের তরফ থেকেও সম্মান জনক ও স্বচ্ছ ব্যবহার প্রত্যাশা করেন। মুমূর্ষু রোগীর কাছে চিকিৎসক ঈশ্বরতুল্য। এটা একজন চিকিৎসকেরও মনে রাখা উচিত। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকুক চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক।

 

আপনাদের ভালোবাসা ও উৎসাহে  এগিয়ে চলছি আমরা। দেখতে থাকুন ও পড়তে থাকুন "ঈশান কথা" ...

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ / 05 June 2021

পৌরাণিক কথা কাহিনীতে বর্ণিত রূপক গুলো ছেড়ে দিলেও আধুনিক ভারতের পরিবেশ রক্ষার জন্য লড়াইও কিন্তু বেশ পুরনো। এর থেকে বুঝা যায় যে অন্য অনেক বিষয়ের মতোই পরিবেশ সম্বন্ধেও অতীতের ভারতে যথেষ্ট সচেতনতা ছিল। বিষ্ণোই (Bishnoi) সম্প্রদায়ের লোকেরা সাধারণত উত্তর ভারতের রাজ্য গুলি আর থর মরুভূমির পশ্চিম ভাগে (আশ পাশের) অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। ওরা প্রধানত প্রকৃতির উপাসক ছিলেন। গুরু শম্ভা জির নেতৃত্বে আনুমানিক ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে গাছ কাটার প্রতিবাদে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা এক আন্দোলন করেন। যা বিষ্ণোই আন্দোলন নামে পরিচিত। পরবর্তীতে অমৃতা দেবী এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যান। অন্যুন ৩৬৩ জনের প্রাণ ত্যাগের বিনিময়ে এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। এই দুঃখ জনক ঘটনার পর থেকে রাজ আদেশে ঐ অঞ্চল কে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যা এখনও বহাল। এরপরেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সরকারি বেসরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন  সংগঠন ও ব্যক্তির নেতৃত্বে  ভারতে পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন হয়েছে। এর মধ্যে হয়তো বিতর্ক ও আছে। তবে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই আন্দোলন গুলোর দান কোন ভাবেই কম হয় না। আমাদের দেশের কিছু বিখ্যাত পরিবেশ আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি  লাভ করা সুন্দর লাল বহু গুণা, চণ্ডী প্রসাদ ভাট-এর নেতৃত্বে ১৯৭৩-এর চিপকো আন্দোলন  (উত্তরাখন্ড)। এছাড়া, আপিকো আন্দোলন (১৯৮৩- পান্ডু রাং হেগড়ে ,কর্ণাটক), সাইলেন্ট ভ্যালি মুভমেন্ট (কেরালা), জঙ্গল বাঁচাও আন্দোলন (ঝাড়খন্ড), তেহরি ড্যাম আন্দোলন বা মেধা পাটকর-এর নেতৃত্বে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন। 

 

২০২১সন এর পরিবেশ দিবস এর থিম রাখা হয়েছে 'Ecosystem Restoration'। প্রথা মত প্রতি বছর কোন একটি দেশকে এই পরিবেশ দিবস পালনের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বছর এই দায়িত্ব পায় আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। এই বছরের পরিবেশ দিবস থেকে রাষ্ট্র সংঘের উদ্যোগে  শুরু হল 'Ecosystem Restoration ' দশক ২০২১-২০৩০। ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়া বর্তমান বি জে পি জোট সরকারের প্রথম অধ্যায় থেকে এখন পর্যন্ত পরিবেশ সম্বন্ধীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং  অনেক সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক প্রজেক্ট ও শুরু হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হল গঙ্গা নদী পরিচ্ছন্ন করার জন্য (নমামি গঙ্গা প্রজেক্ট) Namami Gange Project। এছাড়া রয়েছে Green Skill Development Program (GSDP), Swachh Bharat Abhiyan (স্বচ্ছ ভারত অভিযানে), Nagar Van Scheme(নগর বন স্কিম), Atal Bhujal Yojona(অটল ভূ জল যোজনা), Jal Jeevan Mission (জল জীবন মিশন), National Clean Air Program(NCAP) ইত্যাদি। পরিবেশ-এর উন্নতি সাধন ও রক্ষার জন্য এই প্রতীকী পরিবেশ দিবস পালন ছাড়াও সদস্য রাষ্ট্র দের নিয়ে রাষ্ট্র সংঘের উদ্যোগে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশেই হোক  বা আন্তর্জাতিক স্তরেই হোক, যে কোন ঘোষিত প্রজেক্ট-এর অগ্রগতির খেয়াল রাখা অত্যন্ত  জরুরী। যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোন গ্রেটা থানবার্গ কে এগিয়ে আসতে না হয়!
 

তার চেয়ে বরং বর্তমান অভিভাবকরা নিজেদের কাছেই প্রতিবদ্ধ থাকুন। সেই ভালো, সর্বাবস্থায়।

০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ / 19 May 2021

 

কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল এসেছে। এসেছে রক্তে রাঙা উনিশ।

 

বাঙালির অনেক নাম আছে। একটা দুটোতে তো যাকে বলে পেটেন্ট নেওয়া আছে। এই যেমন "ভোজনরসিক বাঙালি"। তারপর বাঙালির নাকি আবার বারো মাসে তেরো পার্বণ। কত কি! তার কিছু কিছু ক্ষমা ঘেন্না করে বলে অন্য লোক। তা বলে বলুক। বাঙালি কিন্তু নিজেকেও অনেক নাম দিয়েছে। তাই বাঙালি আত্ম সমালোচনায় আগ্রহী নয় কথাটা পুরোপুরি সঠিক বলা যাবে না। তা এই নামের মধ্যে একটা হল গিয়ে  ঐ ''আত্মঘাতী বাঙালি"। কিম্ আশ্চর্যম! নীরদ সি চৌধুরী যখন এই নামকরণ করেছিলেন তখন নিশ্চয়ই এটা প্রাসঙ্গিক ছিল। আর, আজ ২০২১ সনের করোনাপীড়িত ১৯শে মে তে দাঁড়িয়ে একই নাম সমান প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে, মানব  ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগ্রাম, ৬১ এর ভাষা সংগ্রামের আজও সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। কিন্তু তার দায় ঠিক কার! বাঙালি চিরকাল এক দ্বন্দ্বে দোদুল্যমান। ভাষা আগে না ধর্ম আগে। এই গ্যাড়াকলে আটকা পড়ে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতির আজ সব থেকেও কিছু নেই। আজও খুঁজে ফেরে তাঁর আত্ম পরিচয়। এত মেধা থাকা সত্বে ও বারবার ঘৃণ্য রাজনীতির শিকার। মানসিক দূরত্বের সুযোগ নিয়ে বারবার ভৌগলিক ভাবে খন্ডিত। বাঙালির বিভাজন এখন আর শুধু পূর্ববঙ্গ-পশ্চিমবঙ্গ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আছে উত্তর পূর্বের বাঙালি। আছে বরাকের বাঙালি। আর আছে হিন্দু বাঙালি - মুসলমান বাঙালি। অবিশ্বাসের বিশ্বাস খুবই গভীরে প্রোথিত। চোরা স্রোত থেমে থেমেই প্রকাশ পায়। কিন্তু তবু, আজ ১৯শে মে'র পূণ্য লগ্নে আমরা ভীষণ ভাবে আশাবাদী, একদিন এই বিভাজন মুছে  যাবে। এই প্রজন্মে না হোক। হোক না পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরেই। আমরা শুধু ১৯শে-র লিগ্যাসি টা যেন বয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমরা আশাবাদী কারণ, উনিশ এখন আর শুধু শহীদ দিবস উদযাপনের মধ্যে সীমিত নয়। উনিশ ব্যাপ্তি লাভ করছে। উনিশ- একুশ আজ একসাথে পা ফেলছে। এর কৃতিত্ব কারও একার নয়। সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীর। আমাদের সকলের।


আজকের সামাজিক, রাজনৈতিক, ভাষিক আগ্রাসনের এই সময়ে "১৯"ই আমাদের পথ দেখাক। চলা তো সবে হল শুরু। বাঙালি "আত্মঘাতী" হিসেবে নয়, পরিচিতি লাভ করুক পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে। সকল মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের প্রত্যেক দর্শক-শ্রোতা-পাঠক কে ঈশান কথা'র পক্ষ থেকে অমর ১৯শে'র উষ্ণ অভিনন্দন। 
 

পায়ে পায়ে "ঈশান কথা"ও তার প্রথম বর্ষ পূর্তির দোড়গোড়ায় পৌঁছে গেছে। এই উপলক্ষে আজ থেকে ২৬শে মে পর্যন্ত ঈশান কথা'য় নিয়মিত আপডেট ছাড়াও প্রতিদিন থাকছে লাইভ অনুষ্ঠান। বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করবেন আমাদের আমন্ত্রিত বক্তারা। থাকবে অনেক গবেষণা মূলক লেখা, আর অবশ্যই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ভাল থাকবেন সবাই।

 

আর অবশ্যই চোখ রাখুন আপনার "ঈশান কথা"য়।

 

২৫ বৈশাখ ১৪২৮ / 9 May 2021

 

প্রতিবারের মতো আবারও ফিরে এসেছে কবিপক্ষ। আজ ২৫ শে বৈশাখ। যে মানুষটি বাঙালি মননকে আদ্যন্ত আধুনিকতায় সঞ্জীবিত করেছিলেন, যিনি অজান্তে জড়িয়ে আছেন আমাদের প্রায় সমস্ত অনুভূতির সাথে, সেই রবীন্দ্রনাথ যে চিরকালই প্রাসঙ্গিক থাকবেন তা বলা বাহুল্য। আজ তাই যখন অতিমারীর প্রাবল্যে আমরা দিশেহারা তখনও তার কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হয় সংশয়দীর্ণ, ভয়ার্ত মন নিয়ে -  যিনি সব দুঃখ শোককে আত্মস্থ করেও বলতে পারেন ' তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে '।

ব্যাক্তিগত জীবনে একের পর এক মৃত্যুকে সইতে হয়েছে কবিকে। স্ত্রী মৃণালিনী দেবী থেকে শুরু করে 'নতুন বৌঠান' কাদম্বিনী, মাধুরীলতা, মেয়ে রেনুকা, ছোটছেলে শমীন্দ্রনাথ সবার মৃত্যু তাকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে জীবদ্দশায়ই। কখনো বিচলিত হয়েছেন, শোকের তীব্রতায় সাময়িক মুহ্যমান হয়েছেন, কিন্তু এইসব আত্মোপলব্ধি তাকে বারবার আরো নিবিড় করে ফিরিয়ে এনেছে মানুষের কাছে, ভালোবাসার কাছে। তাই তো শমীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর কবি লিখেছেন "যে রাত্রে শমী গিয়েছিল সে রাত্রে সমস্ত মন দিয়ে বলেছিলুম বিরাট বিশ্বসত্ত্বার মধ্যে তার অবাধ গতি হোক, আমার শোক তাকে একটুও পিছনে না টানে।’’ "মৃত্যুর পর সবাই যেখানে যায়, সেখানে মানুষের সেবা পৌছয় না কিন্তু ভালবাসা হয়ত বা পৌঁছয়— ‘‘নইলে ভালবাসা এখনো টিঁকে থাকে কেন?’’ সেই ভালোবাসারই অভিসারে কেটেছে কবির সারাজীবন, তার সেই 'তুমি ' র মাঝে কখন বিলীন হয়ে গেছে প্রেম আর পূজা।

 

অতিমারীর এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে যখন আপনজনের মৃত্যু আমাদের সত্ত্বা কে বারবার বিদীর্ণ করছে তখন যদি আমরা 'সংকটের কল্পনাতে মৃয়মান না হই', এই দুঃসময়কে কাটিয়ে ওঠার মানসিক শক্তিটুকু হারিয়ে না ফেলি তবে এই মুহূর্তে হয়তো তাই হবে তার প্রতি আমাদের সঠিক আস্থাপ্রদর্শন, আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

সারা দেশে কোভিড পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। যদিও এই রাজ্যে এখনও ততটা প্রভাব পড়েনি তবে খুব শীঘ্রই যে অবস্থার অবনতি হতে পারে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সরকার তাই রাতের কার্ফু সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার তথা নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা এই পরিস্থিতির জন্য যেমন দায়ী, তেমনি আজ যেভাবে চিকিৎসা পরিকাঠামো না থাকায় সরকারকে হিমসিম খেতে হচ্ছে, তার জন্য স্বাধীনতার পর থেকেই যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছেন তাদের কেউ দায় এড়াতে পারেন না। যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা একটি জাতির ভিত তৈরি করার জন্য সর্বাধিক জরুরী তাতে কেউই যথাযথ গুরুত্ব দেননি। স্বাস্থ্য খাতে তাই এই দেশে বরাদ্দ কখনই জিডিপির ১/২ শতাংশের বেশি হয়নি, যেখানে ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশেও এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জিডিপির ৯ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই খাতে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়। আজ যখন বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় ঢেউ এর পর তৃতীয় বা চতুর্থ ঢেউও আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তখন সরকারকে, অনতিবিলম্বে গনস্বাস্থ্য ব্যাবস্থার উন্নীতকরণ কে প্রাধান্য দিতে হবে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ মনে রাখতে হবে আগামী আরো কয়েক বছর হয়তো বা এই ভাইরাসকে সাথে নিয়েই চলতে হবে আমাদের। তাই নান্য পন্থা।

একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ১৩০ কোটির দেশের ৭০ শতাংশ লোককে ভ্যাক্সিন দিয়ে 'হার্ড ইম্যুনিটি' র লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়তো এক বা একাধিক বছর লেগে যেতে পারে, অবশ্যই যদি আমাদের সে সঙ্গতি থাকে। তাই টীকাকরণের পাশাপাশি আপামর জনসাধারণের 'কোভিড স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা খুব জরুরী। এই দায়িত্ব শুধু সরকারের উপর ঠেলে দিলে হবেনা। এই দায়িত্ব নিতে হবে প্রতিজন সচেতন নাগরিককে। নিজে মেনে চলার এবং অন্যকে সচেতন করার। যদি তা সুচারুরূপে করা যায় তাহলে হয়তো আমরা আটকে দিতে পারব পরবর্তী ঢেউকে, এমনকি ভাইরাসের ভবিষ্যত মিউটেশনকেও। তাই মুখবন্ধনীর ব্যাবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া ইত্যাদিকে  দৈনন্দিন জীবনযাপনের অঙ্গ করে নিতে হবে সবাইকে অন্ততঃ আগামী কয়েক মাস, প্রয়োজনে কয়েক বছরের জন্য।

কবিগুরুর জন্মদিন উপলক্ষে "ঈশান কথা"য় প্রকাশিত হল কিছু ভিডিও ও লেখা। সবাইকে দেখবার, পড়বার এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর অনুরোধ রইল।

 

সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

 

আর দেখতে থাকুন, পড়তে থাকুন "ঈশান কথা" ...

(Past Editorials)

 

প্রথম প্রকাশে ঈশানের কথা

২৫ মে ২০২০   Read 

দ্বিতীয় প্রকাশে ঈশানের কথা

১৬ জুন ২০২০   Read 

তৃতীয় প্রকাশে ঈশানের কথা

৪ জুলাই ২০২০   Read 

চতুর্থ প্রকাশে ঈশানের কথা

১১ জুলাই ২০২০  Read 

পঞ্চম প্রকাশে ঈশানের কথা

১৮ জুলাই ২০২০   Read 

ষষ্ঠ প্রকাশে ঈশানের কথা  

২৫ জুলাই ২০২০  Read 

সপ্তম প্রকাশে ঈশানের কথা  

১ আগস্ট ২০২০  Read 

অষ্টম প্রকাশে ঈশানের কথা  

৮ আগস্ট ২০২০  Read 

নবম প্রকাশে ঈশানের কথা  

১৫ আগস্ট ২০২০  Read 

দশম প্রকাশে ঈশানের কথা  

২২ আগস্ট ২০২০  Read 

একাদশ প্রকাশে ঈশানের কথা  

২৯ আগস্ট ২০২০  Read 

দ্বাদশ প্রকাশে ঈশানের কথা  

৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  Read 

ত্রয়োদশ প্রকাশে ঈশানের কথা  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  Read 

চতুর্দশ প্রকাশে ঈশানের কথা  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  Read 

পঞ্চদশ প্রকাশে ঈশানের কথা 

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  Read 

১৭তম প্রকাশে ঈশানের কথা 

১৫ নভেম্বর ২০২০  Read 

১৮তম প্রকাশে ঈশানের কথা 

২২ নভেম্বর ২০২০  Read 

১৯তম প্রকাশে ঈশানের কথা 

২৯ নভেম্বর ২০২০  Read 

২০তম প্রকাশে ঈশানের কথা 

০৬ ডিসেম্বর ২০২০  Read 

২১তম প্রকাশে ঈশানের কথা 

১৬ ডিসেম্বর ২০২০  Read 

ঈশানের কথা 

জানুয়ারি ২০২১ Read 

ঈশানের কথা 

পৌষ সংক্রান্তি

৩০ পৌষ ১৪২৭ / ১৪ জানুয়ারি ২০২১ Read 

ঈশানের কথা 

ফেব্রুয়ারি ২০২১ Read 

ঈশানের কথা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ Read 

ঈশানের কথা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

০৮ মার্চ ২০২১ Read 

ঈশানের কথা

দোল ও ভোট উৎসব

৩১ মার্চ ২০২১ Read 

ঈশানের কথা

শুভ নববর্ষ

পয়লা বৈশাখ ১৪২৮ / ১৫ এপ্রিল ২০২১ Read 

ঈশানের কথা

দোল ও ভোট উৎসব

১১ বৈশাখ ১৪২৮ / ২৫ এপ্রিল ২০২১ Read