সাহিত্য পত্র

কবিতার খাতা - ২২
০৪ জুলাই ২০২১
 

ঈশানের ২২ নম্বর কবিতার খাতায় এবারে আমরা নিয়ে এসেছি কবি গোপাল চক্রবর্তী-র দুটি কবিতা...

কমার্স গ্র্যাজুয়েট গোপাল চক্রবর্তী পেশায় একজন শিক্ষক।

কমার্স নিয়ে পড়াশোনা হলেও গোপাল চক্রবর্তীর প্যাশন কিন্তু ছবি আঁকা ও লেখালেখি।

করিমগঞ্জ তথা এই উপত্যকার প্রতিশ্রুতিবান কবি গোপাল চক্রবর্তীর কবিতা সংকলন বা সংগ্রহ আমরা শীঘ্রই পাওয়ার অপেক্ষায় ...

আনমনা দিনে

(২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১)

এমন সব অন্যমনস্ক দিনে
ব্যথার কবিতা লিখি।

কবিতা লিখে ব্যথা পাই।
কাজ ভুলে যাই, ভুলে কাজ করি।
ব্যাকুল কিপেড তোমায় লিখতে চায়
লেখা যায় না- সেইসব বাতুল ইতিকথা।

আর্কাইন যুগের গল্প।

এমন সব অন্যমনস্ক দিনে অবসন্ন  বিষণ্ণ সব চালচুলো
তবুও গৃহস্থের ন্যায় অবগাহনে যাই জলে এই ভেবে-
যদি বিপরীত মুখী তুমিও ডুব দাও
যদি তুমি হও অতলস্পর্শী সন্নাসকাল!
সন্ধ্যাকালে নিষ্করুণ নদী স্মরণে আনে

অতিক্রান্ত আমাদের সব বিসর্জন।

সেইসব দিনে পথ ভুল হয় খুব
কক্ষপথ ভুলে ছেড়ে যাই টুলগেট হাইওয়ে
ধুলায় লুটায় যত ফাল্গুনীর অতিরঞ্জিত ব্যঞ্জনা
সমধি দীর্ণ করি জাগ্রত কেন কবিতার আত্মা।
আর কত অতলে বলো শান্তি পাবো আমি!

তুমি কি আসো আমাদের পর্ণমোচি অরণ্যের পথে
নাকি মন্ত্রস্নানে শুদ্ধ কর ধর্মপথ।
বসন্তের আনমনা নিষাদরমণী
দেখ, নিমগন পথ।

দেখ পাতায় পাতায় যন্ত্রণা 
লেগে আছে বিরহের আলিঙ্গন।

স্মৃতি খেলা করে উদ্ধত আঁখিমূলে
খুঁজে যাই শুকিয়ে যাওয়া লোনা জল-ছাপ
তার সংকীর্ণ কিনারে দুঃখ রাতের  কালিমা 
কোন না ফুরানো অরণ্যে উপকথার মতো।
হিরণ্ময় নিস্তব্ধতার নিবিড় আনন-
সে আমারই অচেনা মুখ।

এমন সব অন্যমনস্ক দিনে
ব্যথার কবিতা লিখি।

কবিতা লিখে ব্যথা পাই।
দিন অনন্ত হয় নিবিড় বেদনায়।

মুখচোরা সন্ধ্যা ঘুমে অর্ধঘুমে মগ্ন স্মৃতিপথ ডিঙায়।

দিকচক্রবালে
আমাকে একলা রেখে সব ফুরায়!

জীবন

(২৮ মে ২০২১)

চারদিন জীবন
দুই দিনে শেওলা ধরেছে তার
দুই দিনে সুনামি শ্রাবণ
বেঁচে থাকব বলে বেমালুম তুমি আর আমি
পুড়িয়ে এলাম যৌবন।

এখন ও থৈ থৈ বর্ষা
এখন পোয়াতি শ্রাবণ
ঝড় কে জানে একেবারেই গেছে কি-না
বাদলের মাসে কবিতা লিখে রাখি
দমকা হাওয়ায় বাইরে বেরোনোর মানা।

জীবনের কোন পুঁথি এযাবৎ হাতে নাই
সুযোগ পেলেই সংখ্যা লিখে রাখি
চার বিয়োগ দুই অবশিষ্ট আমি-
হেরে যাওয়া দুই এর ব্যথায় একাকী।
জীবন তো চারদিন। উড়ান কে শাখায় তারে
খাছায় বন্দি যে পাখি?