সাহিত্য পত্র

গল্পের পাতা ৬ - আবেশ


শৈলেন দাস
০১ আগস্ট ২০২১

 

আমাদের গল্পের পাতার ৬ নম্বর গল্প হিসেবে প্রকাশিত হল  শৈলেন দাসের ছোট গল্প আবেশ... 

Sailen Das_edited.jpg

বিজয়ের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয় চাকরি সূত্রে। মাস্টার্স করার পর আমি শিলচরে একটি প্রাইভেট কলেজে অধ্যাপনা করার চান্স পেয়ে যাই। সেখানে কোয়ার্টারে থাকার সময়ই তার সাথে আমার বন্ধুত্বটা মাই ডিয়ার হয়ে ওঠে। সেই সুবাদে একবার মনসা পূজা উপলক্ষে আমি তাদের বাড়ি যাই, ওই লিঙ্ক রোডের দিকে। ওরা এখানকার মোটামুটি বনেদী পরিবার।

   

সেদিন বিকেলে বিজয়ের বাড়িতে পুরনো পরিচিত একজনের দেখা পেলাম। আমি যখন তাকে দেখলাম তখন সে পুজো প্যান্ডেলে পদ্মপুরান পাঠের এক জমাট আসরে বাড়ির সবার সাথে মেতে রয়েছে। সন্ধ্যার পর বিজয় ওর সাথে আমার আলাপ করিয়ে দিল - 'ও নন্দিতা, আমার মাসতুতো বোন। ওদের বাড়ি করিমগঞ্জে, বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরে থাকে'। চোখে চশমা, ছিপছিপে চেহারার মেয়েটি গোলাপি সলোয়ার কামিজ পড়ে যেন একরাশ মুগদ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি হাসি মুখে বললাম - 'আমাদের পূর্ব পরিচিতি আছে, আমিও কিনা করিমগঞ্জেরই ছেলে'। 'তাহলে তো হয়েই গেল, তোরা নিজেরা গল্পগুজব কর আমি ঐদিকটা দেখছি' বলেই বিজয় চলে গেল। অনেকদিন পর কথা হল আমাদের। কলেজ শেষ করে হায়ার স্টাডিজের জন্য বাইরে চলে যায় নন্দিতা আর আমি বিএড, মাস্টার্স করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি ফলে আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নন্দিতা ক্যাজুয়ালি কয়েকটি কথা বলেই ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। আমি ওকে ফলো করে করে ছাদে উঠে এলাম।

   

আমরা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম ছাদের ধারে, জ্যোৎস্না এসে ধুইয়ে দিচ্ছিল আমাদের সারা শরীর। একটা হিমেল হাওয়া এসে শিহরিত করছিল আমাদের। কলেজের দিনগুলির মত ওর চশমা পড়া চোখ, আঙুলের ইশারা, মুখের হাসি ক্রমশঃ আমাকে ওর প্রতি দুর্বল করে তুলছিল। কোনমতে নিজেকে সংযত রাখছিলাম আমি। হঠাৎ নন্দিতা এগিয়ে এসে তার চিরাচরিত অভ্যাসবশতঃ খামচে ধরল আমার শার্ট। চাঁদের আলোতে ওর চোখের কোণ দুটি আমি চিকচিক করতে দেখলাম। কষ্টেরা দলা পাকিয়ে উঠছিল আমারও বুকের ভেতর। কতদিন পর ঠোঁটে ঠোঁট রাখছিলাম দুজনে। ঠিক তখনই শুনতে পেলাম বিজয়ের কন্ঠ স্বর 'কি রে, তোরা এখানে? নিমেষে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল আমাদের আবেশ।