সাহিত্য পত্র

কবিতার খাতা - ১৭
০৯ মার্চ ২০২১
 

ঈশানের ১৭ নম্বর কবিতার খাতায় এবারে আমরা নিয়ে এসেছি কবি সুতপা সাহা এক গুচ্ছ কবিতা...

কবিতার জগতে নবীন হলেও বয়সে নন।

অর্ধেক জীবন পার করে হটাৎ কীভাবে তার কবিতা লেখা শুরু হল তা নাকি তার নিজেরই জানা নেই।

পরিচিতরা তাকে মজা করে বলে "লকডাউন কবি"। ব

ন্ধুদের কাছে Whatsapp ও Facebook এর মাধ্যমে তার এই সহজ সরল ভাষার কবিতা নিয়ে পৌঁছানো।

এভাবেই তার কবিতার কাছে আসা।

সুতপা সাহা মূলত কোলকাতার বাসিন্দা।

স্কুল, কলেজের গন্ডি পার করে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্র সংগীত বিভাগে মাস্টার্স করেন।

শ্রদ্ধেয়া শ্রীমতী ৺মায়া সেন এর কাছে তিনি সঙ্গীত শিক্ষা নিয়েছেন।

বিবাহ সূত্রে তিনি মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, হলদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ) তে থেকেছেন।

কয়েক বছর হলদিয়া তে ছোটদের একটি স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন।

সুতপা বর্তমানে পাঞ্জাব নিবাসী।

চলুন, পড়ে ফেলি ওনার কয়েকটি কবিতা...

ছেঁড়াপাতা

খুকি ছিল ছোট্ট তখন
খেলতে সদা ব্যাস্ত,
প্রাইমারিতে যেত স্কুলে
হাতে বইয়ের বাক্স।
লেখাপড়ায় ছিল না ভয়,
খুশিতে দিন কাটতো।
আমবাগানের ভিতর দিয়ে,
স্কুলের পথে চলতো।
স্কুলের রেজাল্ট হাতে নিয়ে
ফিরত যখন বাড়ি, 
রাস্তায় কেউ শুধালে সে 
'সপ্তম' বলে গর্ব করি ।
দাদারা সব বেজায় বড় 
শাসন তাদের শক্ত,
ব্যাথা পেটেও চুপ থাকে সে 
তাদের ভয়েই ত্রস্ত । 
রাতে মায়ের আঁচল ধরে 
আঙুল মুখে পুরে,
নিঃশ্চন্তে ঘুমোতো সে 
স্মৃতি আছে মন জুড়ে।
বাবা আনতো বাদাম ভাজা 
আপিস ফেরার পথে,
ছয় ভাগেতে ভাগ করা টা 
ছিল তারই হাতে।
দুটো চারটে বেশি যদি 
হতো ভাগের কড়ি, 
তা নিয়ে ভাইবোনেতে
চলতো কাড়াকাড়ি।

 

সে সব দিন কোথায়? কার
অভিশাপে হারালো__ 
স্নেহের ছায়া জীবন থেকে 
যেন বিদায় নিল।
ছন্নছাড়া হয়ে এলো
আগামীর দিনগুলো, 
শহরটাকে কেমন তখন 
ভয়ের মনে হল। 
আঘাত দেওয়ার মানুষরা যেন
চারপাশ ঘিরে দিল,
বিদ্রুপভরা চোখ গুলো তার
কৈশোর কেড়ে নিল।
স্কুলটা কেমন অচেনা যে-
নেই যে আগের স্বাদ,
পিছিয়ে পড়তে পড়তে থাকে 
নাই যে দেবার সাথ।
আত্মীয়ের মুখোশ পরে
হায়না হানা দেয়,
সে সব দিন দৃঢ় হয়ে 
নিজেকে সামলে নেয়।
লোকে জানে ছোট সে তো 
আদরে বুঝি ভাসে, 
নিজের কথা ভেবে ভেবেই
নিজের মনে হাসে। 

 

ধীরে ধীরে পড়াশোনায়
ছাড় দিয়েছে সে,
আপন করে নিয়েছে 
গাধা-গরু-মাথামোটা বিশেষণ গুলো কে ।
সন্ধ্যাবেলা যদি সে নিয়ে 
বসত বইখানি,
মা-মাসিরা গল্প জুড়তো
চেঁচিয়ে পাড়াখানি।
বলতো তাকে মিষ্টি করে 
আনতো মেখে মুড়ি,
আহ্লাদিত হয়ে ভাবতো
আমার নেই কো জুরি।
কান পেতে শুনতে পেত 
নানান আলোচনা, 
তখন কি ছাই জানত সে তার 
খুঁড়ছে কবর খানা।
ছোট্ট তুতোবোন গুলো যে 
হামা দিয়ে ঘোর, 
তাদের গালে আদর করে 
ঘুরতো কোলে করে।
সাধের সাজের জিনিস তারা
মেঝেতে উপ্ ড়ে ফেলে, 
টিপের পাতা, নখের পলিশ
মেঝেতে দেয় ঢেলে।
মন টা তখন সেই খানেতেই
উঁকি ঝুঁকি মারে, 
কেমন করে বইয়ের পাতায়
মননিবেশ করে।
বুদ্ধি টা তো সেই বয়সে 
তেমন পাকা হয় না,
বোঝে না সে বাঁচতে যে চাই 
নিজের পরিচয় খানা।
রেজাল্ট দেখে বাড়ির লোকে 
এখন লজ্জা পায়,
প্রশ্ন -- রত্নগর্ভার গর্ভে, 
এমন কয়লা কি করে হয়?
খেপিয়ে দাদা বলতো তাকে 
বেবি চা-কর চা-কর-
তখন কি সে বুঝেছিল 
চাকর হাওয়াই ভাগ্য তার।

কষ্টে -সৃষ্টে করেছে সে
ডবল বি.এ পাশ, 
পতি, পুত্র নিয়ে যে তার 
সং-সারেতে বাস।
সকাল-বিকেল-রাত কেটে যায় 
কি আর করে তেমন, 
নিন্দুকেরা বলতে পারে 
কাজ কিবা আছে এমন।
সহকারী আছে যে তার
হাতের পাঁচ একজন,
আপিসবাবুর থাকে যেমন
সাহায্যকারি পিওন।
গুরুদেবের গানের পারে
অবসরের বেলা,
চর্চা চলে ফুলের কানে 
মনের কথা বলা।
ছেঁড়া তারের যে সেতারে 
বেজেছে বেসুর তান,
নতুন তারে সুর বেঁধে গায় 
সহজ সুরের গান।
নাই বা হল এই জীবনে 
ডাক্তার, মোক্তার, 
চাকর নয় সে, গালভরা নাম 
সে যে হোম মেকার।।

সত্যি- মিথ্যে খেলা

ছেলেবেলায় শেখায় সবাই 
সদা সত্য বলবে,
সেই সত্য বড় হলেই
অপ্রিয় তে জুড়বে।
প্রিয়- অপ্রিয় যেমনি হোক
সত্য কিন্তু সত্য, 
কিন্তু জানি সত্যি কথা
হজম করা শক্ত। 
মন ভোলানো মিথ্যা ভাষন 
সবাই শুনতে চায়,
সত্য বচন শুনলে তখন
পিত্ত জ্বলে যায়।
তাই পড়েছি আমি এখন
বিষম দোটানায়, 
মিথ্যে টাকে সত্যি করে
কেমনে বলা যায়?
তোমরা সবাই কইতে পার 
এমন কী বা শক্ত ! 
আসল সত্যি বলতে পারা
লোকের আমি ভক্ত।

 

মনের অসুখ

মনটা যখন ভালো থাকে
পরাণ খুলে গাই,
সেই মনেরই ব্যেমো হলে
দুঃখে মরে যাই।
মনটা তখন আনমনা হয়
এদিক ওদিক ধায়,
বন্ধ ঘরের এক কোনে তে
গুটিয়ে থাকতে চায়।
বিষাদ যেন তাড়িয়ে বেড়ায়
কী যেন এক ত্রাসে!
অবাধ্য মন চলে যেতে চায়
একাকিত্বের গ্রাসে।
বলে সবাই মাথার তো নয় 
মনের কথা শোনো,
সেই মনেরই এমন হলে
হ্যেলা ছেদ্দা কেন?
দেহের যদি অসুখ করে
বদ্যি বুড়ো ডাকো
মনের ব্যেমো হলে কেন
মুখ লুকিয়ে থাকো!
মনের কথা তাহার কাছে
উজার করে লেখো,
মান-অভিমান যাই কিছু থাক
ভুলিতে তারে শেখো। 
দেখবে তখন মন পাখিটা 
গাইবে আবার গান, 
উড়বে তখন পাখনা মেলে 
দূরের আসমান।

 

কৌতুহল

জানতে ইচ্ছে করে
খুউব জানার ইচ্ছে রবে,
মরার পরে কেমন আমার
স্মরণ সভা হবে।
মস্ত একখান ছবির বুকে
ঝুলিয়ে রজণীগন্ধা,
ধুপ-দীপ জ্বালিয়ে পাশে
রাখবে সকাল সন্ধ্যা। 
নানান লোকে নানান স্মৃতি 
ফলাও করে বলবে, 
চক্ষু শূল হলেও তাহার
চোখ ছলছল করবে।
প্রশংসাতে ভরিয়ে দেবে
সকল কার্য যতো,
যেন আমার নেই ছিল দোষ
ছিলাম দেবীর মতো।
মালার ফাঁকে দেখবো চেয়ে
আবাক নাটক খাসা,
জীবন থাকতে পেতাম যদি
এমন ভালোবাসা।।

 

মা

ছেলেবেলা মা-কে ছাড়া 
চলে না এক দিনও,
তখন জানি মা-তো শুধু 
আমারই জন্য। 
চোখটি মেলেই মা-কে চাই, 
খাবার সময় মা,
মা ছাড়া যে কোন কিছুর 
হয় না সমাধা। 
ঘুম আসে না মা-কে ছাড়া,
কতো রকম ভয়,
মা-য়ের আঁচল পেলেই, 
সব ভয়কে করি জয়।
এসব দিনের পরে যখন 
বড়ো মানুষ হই,
মা-য়ের থেকে পরের তরেই
অধিক খুশি রই।
কাজের ফাঁকে এখন যে তার
বরাদ্দ একদিন, 
মা-য়ের কাছে সন্তানই যে 
৩৬৫টি দিন।।

 

রাত কি রানি

ওরে বল, ওরে বল, 
যত হাসনুহানার দল;
রাতের বেলা গন্ধ বিলোস
দিন কে করি ছল!
কতশত ফুলের বাহার 
বাগিচার ওই ঘাসে-
গোলাপ, জুঁই, বেলফুল আর 
গন্ধরাজের পাশে।
কেন রে তোর গন্ধসুধা 
ছড়াস না তার সাথে!
মন ভুলিয়ে যেমন ওরা
সৌরভে তে মাতে।
রূপের বড়াই নেই বুঝি তাই 
মুখ টি ঢাকিস ত্রাসে ;
রূপটা কি ভাই এতই দামি
সৌরভেরই পাশে?

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions