সাহিত্য পত্র

গল্পের পাতা ৮ - জীবন সংগ্রাম


অটল দাস
২২ আগস্ট ২০২১

 

আমাদের গল্পের পাতার ৮ নম্বর গল্প হিসেবে প্রকাশিত হল উধারবন্দের নবীন গল্পকার অটল দাসের ছোট গল্প "জীবন সংগ্রাম" 

Atal Das_edited.jpg

এলার্মের আগেই আজ ঘুম ভেঙে গেলো অপর্ণার। তারপর তাড়াতাড়ি উঠে সকালের যাবতীয় কাজে মাকে কিছুটা সাহায্য করে নিজে তৈরী হয়ে 'আসি মা' বলে মা-বাবাকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়ে অপর্ণা।


দু'বছর হল অপর্ণা বি.এ পাশ করেছে। এখন এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে চার হাজার টাকা মাইনে পায়, এর থেকে বেশি বেতনের কাজ সে পায়নি বহু চেষ্টার পরও, আর পেলেও সেটা তার উপযোগ্য অনুকূল পরিবেশে নয়, তাই কেন সে একটা ছেলে হলো না বলে দুঃখ করে আজও। ছেলে হলে হয়তো সব পরিবেশ অনুকূল হত, নরপশুদের শিকারের ভয় থাকতো না। আর যাই হোক, সে নিজেই এই কাজটি জোগাড় করেছে। 


রাস্তা দিয়ে হাঁটছে আর কত কী না ভাবছে তবে এ যুগের অন্যান্য যুবতীদের থেকে তার চিন্তাধারা সম্পূর্ণ আলাদা। মা গৃহবধু, বাবা প্যারালাইসেসের রোগী, ছোটো ভাই ক্লাস সেভেনে পড়ে- এ পরিবারের সে ই কেবল অর্থোপার্জনকারী। সে এই বেসরকারি কাজটি আর কিছু টিউশন করিয়ে যা পায় তা দিয়েই ঘরের নুন তেল আসে, বাবার ঔষধ, ঘরের যাবতীয় খরচ, ছোট ভাইয়ের পড়াশুনা চলে। হঠাৎ করে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার জীবন পুরোপুরি পাল্টে যায়, পরিবারের সম্পুর্ন ভার তার উপর পড়ে। যাই হোক কিন্তু অপর্না ভেঙে পড়ার মেয়ে নয়, লড়াই অব্যাহত রাখে সে। 


শহরে দুপুরে হোটেলে গিয়ে সবচেয়ে কম দামের খাবার খোঁজে, কম দামের টিকসই কাপড় পরে, সমাজের অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে সে নিজেকে কোনদিন তুলনা করে না, নিজের চাহিদাকে সম্পুর্ন বিসর্জন দেওয়ার পরও পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনগুলি পরিপূর্ণ করতে না পেরে সময়ে নিজেকে অপরাধী ভাবে অপর্ণা। 


নিজের শারীরিক অসুবিধা, অভাব অনটন ছাড়াও আরও যে কত বাধার সম্মুখীন হতে হয়, আত্মীয় স্বজন পাড়াপ্রতিবেশি তো আছেনই -কত বার বিয়ের প্রস্তাব আসে কত বুদ্ধি করে সে এড়িয়ে চলে তা ছাড়া নিত্য প্রেমের প্রস্তাব তো আছেই। দিনের শেষে ক্লান্ত দেহে যখন সে একা বসে থাকে তখন এসব নিয়ে ভাবতে থাকে, আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে ভাবে নিজের বিসর্জিত কত অপূর্ণ স্বপ্নের কথা। তবে এখন তার স্বপ্ন লক্ষ্য সব পরিবার। 

আমাদের সমাজে এমন অনেক মধ্যবিত্ত দিদি বোন বান্ধবীরা আছেন যারা পরিবারের জন্য সবকিছুকেই নীরবে বিসর্জন দিয়ে দেন যাদের কথা খুব কম জনই ভাবেন। পরিবারের কথা ভাবতে ভাবতে তাদের সব স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়, তাইতো কবি বলেছেন- 'নারীজাতির অন্যের কথা ভাবতে ভাবতেই জীবন চলে যায়।' 


এমন বাস্তব যোদ্ধাদের হৃদয় থেকে সম্মান জানাই সমর্থন করি তারাই আসল পূজার যোগ্য।