সাহিত্য পত্র

কবিতায় বর্ষবরণ 
১৬ এপ্রিল ২০২১

ঈশান কথার পাঠক দের জন্য কবিতার মাধ্যমে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন 

সুতপা সাহা,

কৌবি,

উত্তম কুমার রায়, এবং

উজ্জ্বল দত্ত চৌধুরী

সুতপা সাহা-র কবিতা
পয়লা বৈশাখ

বোশেখ মাসের ১লা দিনে
নববর্ষ জেনো, 
বাঙালি তো-- এই কথাটা 
ভুললে চলবে কেনো? 
ভোরের বেলা প্রভাত ফেরী
লাইন দিয়ে সার,
ধুতির কোঁচা, শাড়ির বোঝা 
সামলে চলাই ভার।
নতুন জামা পরে মোরা
চড়ক মেলায় যাই,
নাগরদোলা, আঙুলে গজা
হরেক খেলনা চাই। 
দড়ির ওপর খেলা দেখায়
ছোট্ট মেয়ে কোনি, 
ছানা বড়া চোখে তাকাই 
সাহস আছে মানি।
হালখাতা টা সারতে হবে
বাবার হাতটি ধরে,
নানান স্বাদের মিষ্টি  পাব 
নানান দোকান ঘুরে। 
দুর্গা, কালী, রামকৃষ্ণের 
ক্যলেন্ডারের সাথে
পাঁজি একটা কিনে দেবো
মা-ঠাকুমার হাতে।
এসব এখন রূপকথা আজ
স্মৃতির চমৎকারি
পরের কৃষ্টি আপন করি 
দিয়েছি জলাঞ্জলি। 
বাঙালি শহুরে বাবুরা এখন
আধুনিক হয়েছে, 
বাংলা নববর্ষকে ভুলে 
নিউইয়ারে মেতেছে।।

 
উত্তম কুমার রায়-র কবিতা
 
নতুন বছরের কামনা

পুরোনো বছর হলো যে শেষ 
নতুন বছর সবার কাটুক বেশ 
নতুন বছর হোক সবার ভালো।                           ঘুচে যাক সব যত আছে কালো 
নতুন বছরে হোক একই ডাক 
দূঃখ বেদনা সব দুরে যাক 
আবার ফিরে আসুক সুখ আনন্দ 
সাথে নিয়ে যত নতুন ছন্দ 
হিংসা নিন্দা সবাই যাই যেন ভুলে।                     নতুন বছর হোক পুর্ন ফলে ফুলে 
সবার নতুন দিনের আশা হোক পুর্ন 
পুরানো দুর্দশা  নিরাশা হোক চুর্ন 
নতুনকে নিয়ে সবার হোক আশা 
নতুনে পরিপূর্ণ হোক সবার ভালোবাসা 
রোগ,  ব্যাধি সব দুরে চলে যাবে 
সবাই মিলে এক নতুন বছর পাবে 
ঈশ্বরের কাছে হোক সবার একই প্রার্থনা 
সবাই সুখে,  আনন্দে সুখে থাকবো তাই কামনা।। 

 
নতুন বছর নতুন আশা....
নতুন বছর নতুন আশা 
নতুন দিনের ভালোবাসা 
নতুন মন নতুন প্রাণ 
নতুন সুর নতুন গান
নতুন রূপ নতুন চাওয়া 
আরও নতুন ফিরে পাওয়া 
পুরনো সব দূঃখ ব্যাথা
পরে থাক যেথাসেথা
আগামীকে করি সবাই বরণ
নতুনকে সবাই করি স্মরণ 
ভুলত্রুটি সব চলে যাক দূরে 
নতুন বাঁশি নতুন সুরে
আশার মোহ থাকবে সবার
নতুন বছর আসবে আবার
মঙ্গলময় সব বার্তা নিয়ে
পুরনো যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়ে
সবার সুখ শান্তি নিয়ে আসুক
নতুন বছর সবার ভালো কাটুক।।।।।
 
উজ্জ্বল দত্ত চৌধুরী-র কবিতা
 
নববর্ষ ১৪২৮
চৈত্রের অবসানে বৈশাখ আসবে বলে,
বসন্ত ঝরে গেছে মহুয়ার জঙ্গলে।
তবু তাকে মনে রেখো, ভালোবেসো,
"এসো হে বৈশাখ, এসো এসো......."
রেখো তাকে মনে হৃদয়ের সুরে,
সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে বারেবারে,
আলো জ্বেলো, জ্বালো আলো হৃদয় আগুনে,
বসন্ত আসবে আবার পলাশে ফাগুনে।
যে আজ গেছে চলে, তাকে ভালোবেসো,
" এসো হে বৈশাখ, এসো এসো..........."।
কৌবি-র কবিতা
 
নব্য বাঙালিয়ানা

ছুটির আমেজ নতুন পোষাক
ঘটের উপর ডাব।
(তবে) ইংরেজি আর হিন্দি মিশিয়ে
বাংলা বলা স্বভাব ।।

ধুতি আর শাড়ি ক'জনে পরি
পলাজো জিন্স এ চলি।
স্নানঘরে গান গাইলেও -
সেটা হিন্দি গানের কলি ।।

চাপরঘন্ট রান্না কোথায় ?
কচুশাক ? পাতুড়ি ? বড়ি ?
হিন্দি অথবা ইংরেজি লেখা 
(রোজ) হোয়াটসঅ্যাপ এ পোস্ট করি।।

রজনীকান্ত,দ্বিজেন্দ্রগীতি
নিধুবাবুর গান ।
নজরুলকেও ভুলতে বসেছি
Pop সংগীতে টান ।।

রায়বেঁশে বা ছৌনৃত্য
ক'জন দেখতে চায় ? 
বলিউড,Tap,Salsa শিল্পী
ফাংশনে ডাক পায় ।।

ছানার ডালনা ? মৌরলা টক‌ ?
শিঙ্গিমাগুরের ঝোল ?
পিৎজা,মোমো, চাউমিন খুঁজি
অথবা চিকেন রোল।।

দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা
(হায়) বাংলাতে যন্ত্রণা ।
(শেষে) পিতা-মাতার স্বস্তিবচন
(যাক্) বাংলা আর লাগবে না ।।

বোকাবাক্সর বাংলা চ্যানেলে
'সারেগামাপা'র গান ।
আজব কান্ড ‌!! আশি শতাংশ
হিন্দি গানের স্থান ।।

স্বাগতম করি দরজা খুলে
অচেনা বিদেশি এলে ।
(তবে) সার দিয়ে শুধু গাছ বাঁচে ?
শেকড় এ জল না দিলে ??

অনুকরণ আর ' কাঠি করা' ভুলে
চলো খুঁজি উৎকর্ষ ।
হুজুগে বাঙ্গালী মরে বেঁচে আছি
জয় শুভ নববর্ষ  ।।