সাহিত্য পত্র

গল্প - মা


শম্পা নাথ চৌধুরী
২১  মার্চ ২০২২

এই সংখ্যার অষ্টম ছোটগল্প

Shampa Nath Choudhury.jpg

" মা, তুমি ভাত খেয়েছো ? " তুতন শুধোয়।

"না, মা, আমি জানি তুমি ভাত খাও নি। তুমি মিছে কথা বলেছো। তুমি আমাদের বলো মিছে কথা বলতে নেই, কিন্তু তুমি সব সময় মিছে কথা বলো। ভাত না খেয়ে বলো , ভাত খেয়েছি। পেটে খিদে থাকলেও বলো খিদে নেই ", ছোট্ট ছেলে তুতন মাকে বলে।

 

" বললাম না, দিদিমণি আমাকে ভাত দিয়েছে। আমি খেয়েছি। তারপর বলেছি দিদিমণিকে তোদের জন্য একটু দিতে। সেটাই নিয়ে এসেছি আমি। কেন তোরা আমাকে মিছি মিছি সন্দেহ করছিস? মায়ের গলা থেকে কৃত্রিম রাগ আর আদর সব ঝরে পড়ে।


তুতন বলে, " মা, তুমি কি আমায় রথের মেলা থেকে রথের বুড়ো কিনে দেবে? ওই যে স্প্রিং দেওয়া রথের বুড়ো, যাকে ছুলেই হেলতে দুলতে থাকে তার মাথা? বলো মা বলো, রথের বুড়ো কি কিনে দেবে? তুতন কাঁদো কাঁদো হয়ে মাকে  শুধোয়। "

 

"হ্যাঁ রে তুতন, দেবো বললাম তো, দেবো। একটু সেরে উঠি আমি। ", মা তাকে আশ্বাস দেন।

"গেলো বছর বলেছিলে রথের বুড়ো কিনে দেবে তুমি। ঘুড়ি লাটাই কিনে দেবে তুমি। কিছুই দাও নি মা। ", তুতনের গলায় মাকে অনুরোধের সুর।

" কী করে দেই বল তুতন, গেল বছর তো বন্যায় ঘর ডুবিয়ে দিলো। চাল-ডাল ঘরে যা কিছু ছিল সবকিছু জলে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।এমনকি কাঁথা-বালিশ যা কিছু ছিল ঘরে, সবকিছু। এবার দেবো বাবা, ধৈর্য ধর। তোরা তো সোনার টুকরো ছেলে মেয়ে। আমি সব দেবো একেক করে বাবা। "

" মা, বলোতো সবার বাবা আছে না ? আমাদের নেই কেন? ", তুতন শুধোয়।

" তোদের বাবা মদ খেয়ে খেয়ে আমাকে মারধর করতো। কোনো কাজ করত না। তারপর, তারপর একদিন মরেই গেল। "  মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মায়ের গলায় জমানো অশ্রদ্ধা, দুঃখ ও হতাশার সুর।


" তাহলে চাইনা আমাদের এমন বাবা। তুমি আমাদের বাবা-মা সবকিছু, মা। ", তুতন কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে।

" ঠিক আছে তুলি আর তুই এখন ঘুমিয়ে পড়। ভাত খেয়েছিস তো, এখনই ঘুমিয়ে পড়। কখন আবার বৃষ্টি আসবে। আমরা রাতে ঘুমোতে পারবো না ঝড় এসে পড়লে। তাই এখনই ঘুমিয়ে পড়। ", মায়ের গলায় ভয় এর সুর।


তুতন আর তুলি দুটি ছোট্ট শিশু ঘুমিয়ে পড়ে বাঁশের মাচায়। মাঝ রাতে ঝড় আসে মায়ের আন্দাজমত ঈশান কোণ আরো অন্ধকার করে। সজোরে ঢুকতে থাকে ঝড়-বৃষ্টি চালের ফুটো দিয়ে, জানালার ফাঁক দিয়ে, দরজার ফাঁক দিয়ে। হু হু করে ঢুকতে থাকে ঠান্ডা বাতাস। ছোট্ট দুটি শিশু মায়ের বুকে মাথা রেখে আশ্রয় খোঁজে। অসহায় মা শুনতে পান দুটি ছোট্ট শিশুর বুকের আর্তনাদ। মা বুকে চেপে ধরেন দুটি ভয়ার্ত শিশুকে। ওদিকে ঘরের মধ্যে থালা-বাটি বাসনপত্র যা কিছু ছিলো হতদরিদ্র ঘরে তার সব ছড়িয়ে পড়ে ঘরের সর্বত্র। ঘূর্ণি হাওয়ার প্রবল চাপে ভাঙতে থাকে একেক করে দরজা জানালা। ভয়ে কাঁপতে থাকে দুটি শিশু। মায়ের বুকে আশ্রয় খোঁজে।

 

তার পরে একসময় ঝড় শান্ত হয়। মাঝরাতে দুটি শিশু মায়ের সাথে ঘর গোছাতে থাকে। এদিক ওদিক ছড়িয়ে-পড়া জামা-কাপড় বাসনপত্র সব ঠিক করতে থাকে। মা কাঁদেন, " দরজা-জানলা এইতো সেদিন লাগালাম, আবার কোথায় টাকা পাবো, কী করবো তুতন, তুলি? " মা কাঁদতে থাকেন।

 

পাঁচ বছরের ছোট্ট তুলি একটা টিনের ছোট্ট ডাব্বা নিয়ে এসে মাকে বলে, " এখানে এক টাকা দুই টাকা করে অনেক টাকা জমিয়েছি মা। দেখো এখানে কত টাকা আছে, মা। দরজা জানালা কি লাগানো যাবে এই দিয়ে? "

 

মা হাসেন আর বলেন, " না রে তুলি এই টাকা দিয়ে কিচ্ছু হবেনা। দিদিমনির কাছ থেকে চেয়ে নেবো? লজ্জা লাগে বারবার টাকা চাইতে। এমনি তো দেন এটা ওটা। বারবার কি করে চাইবো? "

তুতন কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, " মাগো মা,  আর কখনো তোমার কাছে রথের বুড়ো চাইবো না,  মা। ঘুড়ি লাটাই চাইবো না মা। আর কিচ্ছু চাইনা আমার। তুমি কেঁদোনা মা, তুমি ভালো থেকো। তুমি যে না খেয়ে মিছে কথা বলো, সে আমি বুঝতে পারি মা। তোমার চোখগুলো বসে গেছে। সারাদিন ঘরে ঘরে খাটুনি খেটে ক্লান্ত শ্রান্ত তুমি আমাদের জন্য ভাত নিয়ে আসো মা। ঘরের চাল ঠিক হলে দরজা ভেঙে যায়, দরজা ঠিক হলে হলে জানালা ভেঙে যায়। জানালা ঠিক হলে ঘরের চাল ডাল শেষ হয়ে যায়। অভাব আর অভাব, সে তো তুমি বলো মা। " দুটো বাচ্চা বিলাপ করে কাঁদতে থাকে মাঝরাতে। 

 

শেষরাতে তুতন, তুলির মায়ের প্রচন্ড জ্বর আসে। ঘনঘন ডাকার পরেও সাড়া না দিলে দুটি শিশু আর্তনাদ করে মাকে ডাকতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে দুটো শিশু চিৎকার করে বলে, " মা, মা, উঠোনা মা, আমরা কখনো ঘুড়ি লাটাই এর কথা বলবো না। আমরা কখনো ভাত খেতে বলবো না। আমরা কখনো রথের বুড়ো আনতে বলবো না। আমাদের কিছুই চাই না, শুধু তোমাকে চাই। "

জীবনের রুঢ় বাস্তবের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শিশু দুটি পরিপক্ক হয়ে যায়। জন্মাবধি শুধু দেখে জীবনের অন্ধকার দিক। অভাব, দারিদ্র, দুঃখ, হতাশা কষ্ট। শৈশব হারিয়ে যায় বাস্তবের কঠিন আঘাতে। ওদিকে দীর্ঘসময় মায়ের সাড়া না পাওয়ায় দশ বছরের তূতন দৌড়ে যায় সেই দিদিমনির ঘরে, যেখানে তার মা রোজ কাজ করতে যান। এক কিলোমিটার দৌড়াতে থাকে একটা ছোট্ট শিশু তার মাকে বাঁচানোর জন্য। শেষ ভরসা স্কুল দিদিমনির সাহায্যের। বাচ্চাদের সাথে যার সব সময় উঠাবসা।

 

স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হয়েছেন দিদিমণি, এমন সময় তুতন আছড়ে পড়ে দিদিমনির পায়। দিদিমণি তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন,

" কি হয়েছে তুতন? তোমার মা আজকে এলো না। ঝড়ে কি তোমাদের ক্ষয়ক্ষতি কিছু করেছে? "

 

শিশুটি বলে, " আমাদের সবকিছুই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দিদিমণি। আমার মা এখন কথা বলছে না। জ্বরে গা পুড়ছে মার। "।


তুতন বলতেই থাকে, " দিদিমণি মাকে আমি ঘুড়ি লাটাই এর কথা বলেছিলাম। রথের বুড়ো কিনে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আর কখনো বলবো না। মা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তারপর মার জ্বর এলো। আর কখনো ঘুড়ি লাটাই এর কথা বলবো না দিদিমণি। "

 

দিদিমণিরই বা কী অভিজ্ঞতা জীবনের ? দিদিমনির বয়স নেহাতই অল্প। তবু ছোট্ট শিশুটির পরিপক্ক কথা আর আর্তনাদ শুনে ওর ভিতরটা হাহাকার করে উঠলো। ছেলেটাকে কাছে টেনে নিয়ে দিদিমণি বললেন, " ঠিক আছে তুতন, তুমি কেঁদো না সোনা ছেলে। আমি এক্ষুনি তোমার মায়ের কাছে যাচ্ছি। তোমার মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আমি তো একা সব পারবো না তাই আমি যতটুকু পারি টাকা দেবো আর আমার স্কুলে সবাইকে বলবো টাকা দেওয়ার জন্য। সাহায্য করার জন্য বলবো সবাইকে। আশা করি সবাই করবে। "

 

দিদিমণি তুতনকে নিয়ে তুতনের বাড়ি যাবার পথে ঘুড়ি লাটাই কেনেন। দিদিমনির নরম মনটা কেঁদে বলল, " একটা ছোট্ট শিশু ভাতের জন্য ও কাঁদে? ধনবান ব্যক্তি রোজ ঘরে কত খাদ্য নষ্ট করে। আরেকদিকে একটা শিশু ভাতের জন্য কাঁদে? " মানুষের মধ্যে এই বৈষম্য, শ্রেণীভেদ তাকে খুব কষ্ট দেয়।


তুতন যখন দিদিমণিকে নিয়ে তার ঘরে ঢোকে তখন তার মা শব্দ শুনে জেগে ওঠে আর বলে, দিদিমণি ঘরে পা দিওনা তুমি। তোমার পা নোংরা হয়ে যাবে। " বাচ্চা দুটির মা অনুরোধের সুরে বলেন, " দিদিমণি তুমি বাইরে দাড়িয়ে থাকো। "


দিদিমণি বললো, " না না ওরকম কথা বলতে নেই। আমি ঠিকই আছি। আমিতো তোমাদের এই দুরবস্থা দেখে প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছি। ঘৃণা করবো কেন? নোংরা ভেবে পা দেবো না, সেটা হবে কেন? "

 

কথাগুলো শুনে তিনটি প্রাণী খুশি হয়ে যায়। বিস্কুট কেক এনেছিলেন দিদিমণি। তার সঙ্গে কিছু টাকা দেন। বলেন ডাক্তার দেখানোর জন্য।

 

দিদিমণি বলেন, " আমিতো তোমাদের প্রয়োজনীয় সব টাকা দিতে পারবো না। আমার সামর্থ্যই বা কী ? আমি চেষ্টা করবো তোমাদের ঘরটা ঠিক করে দেওয়ার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করার। "

 

কথাগুলো শুনে দুটো ছোট্ট শিশু আর তার মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠে। এ যেন স্বর্গীয় হাসি। সে দিকে তাকিয়ে দিদিমণি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

 

এতসব কথাবার্তার মাঝখানে ঘুড়ি লাটাই এর ব্যবস্থা করে ফেলেছিলেন দিদিমণি। কিছুক্ষণ কথা বলে ঘুড়ি লাটাই বের করে দিদিমণি বলেন, " চলো চলো, আমরা এখন ঘুড়ি লাটাই নিয়ে খেলবো। তার আগে তোমরা বিস্কুট আর কেক খেয়ে নাও। "


ঘুড়িটা বাধা হয়ে গেলে দিদিমনি দুটো বাচ্চা কে দুহাতে ধরে বলেন, " তুতন আর তুলি, আমি যখন ঘুড়ি ওড়াবো তখন তোমরা দুজন দুদিকে থাকবে আর আমরা তিনজন মিলে দৌড়াবো। যখন ঘুড়িটা উপরের দিকে উঠবে তোমরা দুজন দুদিকে দাঁড়িয়ে থাকবে। আমার হাত ধরে দাঁড়াবে দুদিকে। তোমরা দুজন দুদিক থেকে আমার সাথে দৌড়োবে। আমিও দৌড়াবো। তোতন ও ও ও ও ও করবে। আর তুমি কি করবে বলো তুলি? তুমি আ আ আ আ আ আ করবে। আর বলো, আমি যে এই বুড়িটা আছি , আমি কী করবো বলো?  আমি ই ই ই ই করবো। ঠিক আছে ? "

 

দিদিমণি হাসেন। উড়তে থাকে ঘুড়ি উপর থেকে অনেক উপরে। মনে হয় যেন মেঘের দেশে চলে যাবে। দুটো ছোট্ট শিশু দেখতে থাকে ঘুড়ি উড়ছে। তারা সব সময় দেখতো বড়লোকের ছেলে মেয়েরা ঘুড়ি ওড়াচ্ছে তখন, যখন তারা মায়ের কাজে হাত বাটতো। আজ নিজের চোখের সামনে থেকে দেখছে ঘুড়ি কেমন করে উড়ে। দুটো শিশুর মনের আনন্দ কে দেখে? 

 

দিদিমণি ওদেরকে আদর করে বলেন, " তুলি, তুলি, দেখো দেখো, আকাশের বুকে পাখি গুলো কেমন উড়ছে ! আর ঘুড়িটা কেমন বাতাসে হেলে দুলে পাখিদের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। দেখো দেখো তুলি, তুতন হেলে দুলে পাখিগুলোকে টা-টা বলছে। দেখেছো দেখেছো কি? "

 

দুটো শিশু হা হা হা করে হাসতে থাকে আর বলে, " হ্যাঁ দিদিমণি দেখেছি। 

 

দিদিমণি বলেন, " দেখোতো পাখি গুলোর সাথে ঘুড়ির কেমন বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। "

ছোট্ট শিশু তুলি দিদিমণিকে শুধোয়, " দিদিমণি, পাখিগুলো কোথায় যাচ্ছে গো, কোথা থেকে আসছে আর যাচ্ছে কোথায়? "

 

দিদিমণি বলেন, " পাখিগুলো অনেক দূরে যাচ্ছে, অনেক অনেক দূরে, সেই মেঘ পরীদের দেশের কাছাকাছি কোথাও। সমস্ত আকাশ ঘুরে ঘুরে পোকামাকড় যা পেয়েছে সেটি খুঁজে খুঁজে তার বাচ্চাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছে দূরে কোথাও, যেখানে সে তার ছানা দের জন্য বাসা বানিয়েছে সেখানে। সেখানে বসে  কিচিরমিচির করে অপেক্ষা করছে তার ছানাপোনা গুলো।  ক্ষুধার্ত ছানাপোনা গুলো অপেক্ষা করছে মা কখন খাবার নিয়ে আসবে ঠিক যেমন তোমাদের মা সারাদিন কাজ করে খাবার নিয়ে আসে তেমনি। আর তোমরা অপেক্ষা করো না মা কখন খাওয়া নিয়ে আসবে সেজন্য? সব মাই এরকম কষ্ট করে, তুলি, তুতন। দেখোনা, পাখিগুলো সারা আকাশ চক্কর মেরে বাচ্চাদের জন্য খাবার নিয়ে আসছে। মুখটা খুলতে পারছেনা, মুখ থেকে খাদ্যবস্তু পড়ে যাবে বলে। এভাবে মুখে ব্যথা নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয় সে, তারা। তোমাদের মা ও এরকম কষ্ট করে তোমাদের বড় করছেন। মা না খেয়ে বলেন খেয়েছি, মা খিদে পেটে রেখে বলেন, খিদে পায়নি। মা কাপড়-জামা না পরেই বাচ্চাদের কাপড় কিনতে দেন। মা কাঁদেন কিন্তু বাচ্চাদের কাঁদতে দেন না। পৃথিবীতে একমাত্র মাই সন্তানদের জন্য কষ্ট করেন কিন্তু বিনিময়ে কিছু চান না। ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলেন মানুষ আর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলেন মা। যার সাথে কারো কোনো তুলনাই চলে না। দেখোনা, পাখিগুলো তার বাচ্চাদের জন্য কত ক্লান্ত হয়ে ডানা মেলে আকাশের এপার ওপার করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, শুধু বাচ্চাদের মুখে খাবার দেবে বলে। ওদের বাঁচিয়ে রাখবে বলে। মা যেমন কষ্ট করেন সন্তানের জন্য এমন কষ্ট কেউ কারো জন্য করতে পারেনা তুলি তুতন। বড় হয় মাকে ভালোবাসবে। "

 

" হ্যাঁ, দিদিমণি, মাকে খুব ভালবাসবো। মা কত কষ্ট করেন।", ছোট্ট শিশুর গলায় পরিপক্ক ব্যক্তির মত আশ্বাসের সুর।

 

ঘুড়িটা আস্তে আস্তে আরো উপরে উঠতে থাকে যখন তখন দিদিমণি ঘুড়িটাকে একটু নিচে নামিয়ে আনেন আর বলেন, " আরে আরে আরে, আমি তো ভুলেই গেছিলাম কাকে ও ও ও ও করতে হবে, কাকে যে আ আ আ আ করতে হবে। চলো চলো চলো, আমরা দৌড়োই। ও -আ -ই  করি। "


দিদিমনি ছোট্ট শিশু হয়ে গিয়ে দুটো বাচ্চার সাথে সুর মিলিয়ে বলতে থাকেন " ই ই ই ই ই ই ই। "

 

বাচ্চা দুটো কোরাস গায় " ও ও ও ও ও, আ আ আ আ আ " 


সেই বাচ্চা দুটো যারা দূর থেকে বড়লোকের বাচ্চাদের শুধু ঘুড়ি ওড়াতে দেখেছে।