সাহিত্য পত্র

কবিতার খাতা - ২০
২০ জুন ২০২১
 

ঈশানের ২০ নম্বর কবিতার খাতায় এবারে আমরা নিয়ে এসেছি কবি ময়ূরী শর্মা বরুয়া-র চারটি অনুবাদ করা কবিতা...

প্রথম কবিতা

 

অনুবাদের পেছনের কথা ...

 

সমকামিতা - এটা অস্বস্তিকৰ শব্দ। এই সমকামিতাক এতিয়ালৈকে খোলা মনেৰে আ‌ঁকোৱালি ল'বলৈ অপাৰগ আমাৰ সমাজ। সমলিংগৰ মাজৰ ভালপোৱাক লৈ অনুভৱী কবি ময়ূৰী ডেকাই লিখা কবিতাটো কালি ফেচবুকতে পঢ়ি মনটো সেমেকি উঠিছিল।‌ শেষৰ শাৰীটোত সোমাই থকা বেদনাৰ পৰা আমিওতো সাৰি যাব পৰা নাই। কবিতাটো ইংৰাজীলৈ অনুবাদ কৰিম বুলি ঠিক কৰিও কিয় জানো ইয়াক বাংলালৈ নিবলৈ মন গ'ল। বাংলা কবিতাটো মৰমৰ অনুজ সহকৰ্মী শ্যেলী দত্তক পঢ়িবলৈ দিলোঁ। ভুলখিনি শুধৰাই দি তাই কৃতাৰ্থ কৰিলে। আপোনালোকেও এবাৰ পঢ়ি চাবচোন।


মূল (অসমিয়া) - ময়ূরী ডেকা 
 

অনুবাদ - ময়ূরী শর্মা বরুয়া

 

সেদিন ও বেশ দুঃখে ছিল এবং কিছুটা রাগে
নিজের বাড়িখানা ছেড়ে আসা সোজা নয় কারোর জন্য
কিন্তু আমরা দুজনে জানতাম জাতি ধর্ম বর্ণের লড়াইয়ের উপরও

আমাদের আছে আরও একখানা লড়াই

সমলিংগের মধ্যের ভালোবাসাকে ঘরে তুলে নেওয়া
হয়তো কঠিন ছিল ওর মা-বাবার জন্য

কিন্তু এটাই ছিল সত্য
আমরা ছিলাম একই লিংগের
আমাদের মধ্যে প্রেম ছিল

গল্প করতে করতে একে অপরকে ছেড়ে থাকতে না পারার

মতো ছিল না এই বন্ধুত্ব

একসাথে এক ছাদের তলায় একে অপরের সান্নিধ্য চাওয়া

দস্তুরমত প্রেমের মতো ছিল এই প্রেম

"আমিতো কোনোদিনও কাতর হইনি ছেলে সন্তানের জন্য।

তবে তুই কেন ছেলে হতে চাস।  

কেন পরিস মেয়ের প্রেমে ?"

 বাবাগো! তোরই তো সন্তান আমি,

প্রেম ছাড়া হয়তো আর কিচ্ছুই খুঁজতে শিখিনি,

তোর মতোই আমিও নারীরই প্রেমে...

সেদিন ওকে জড়িয়ে ধরেছিলাম
নিজের বাড়িখানা ছেড়ে আসা সোজা নয় কারোর জন্য

বাবারা একদিন বুঝবেন
মায়েরা একদিন বুঝবেন

নিজের বাড়িখানা ছেড়ে আসা সোজা নয় কারোরই জন্য

দ্বিতীয় কবিতা

অনুবাদের পেছনের কথা ...

প্ৰতিষ্ঠিত কবি ৰশ্মিৰেখা বৰাৰ এই কবিতাটোৰ বলিষ্ঠ বক্তব্য তথা প্ৰকাশভঙ্গীত মই মুগ্ধ। ইয়াক বাংলা ভাষালৈ তৰ্জমা কৰাৰ ইচ্ছা জাগিল। তাৰ ফলাফল তলত, আপোনালোকৰ হাতত। যিহেতু মূল কবিতাটো সৰল ভাষাত লিখা হৈছে সেয়ে আক্ষৰিক অনুবাদত গুৰুত্ব দিয়া হৈছে।

মূল (অসমিয়া) - রশ্মিরেখা বরা

চাহেব, তোৰ হাতত

হিন্দুৰ তেজ মুছলমানৰ তেজ

খ্ৰীষ্টান আৰু শিখৰ তেজ

বৌদ্ধৰ তেজ জৈনৰ তেজ নাস্তিকৰ তেজ

তোৰ হাতত দলিতৰ তেজ আদিবাসীৰ তেজ

জনজাতিৰ তেজ কৃষকৰ তেজ

শ্ৰমিকৰ তেজ ছাত্ৰৰ তেজ

কবিৰ তেজ গায়কৰ তেজ

শিল্পীৰ তেজ লেখকৰ তেজ বিপ্লৱীৰ তেজ

নাৰী পুৰুষ কিন্নৰ শিশুৰ তেজ

ইমান তেজ তই ক'ত ধুবি

নদীত পানী নাই

নদীত উটিছে কেৱল শ 

চাহেব, তোৰ গাত মৃতকৰ শাও

জীৱিতৰ শাও মৰণমুখীৰ শাও

গৰীবৰ শাও ৰুগীয়াৰ শাও

ভোকাতুৰৰ শাও ঘৰহীনৰ শাও মাটিহীনৰ শাও

চাহেব তোৰ গাত ইমান শাও
ইমান শাও তই ক'ত ধুবি

নদীত পানী নাই

নদীত উটে শৱৰ নাও

 

 

অনুবাদ - ময়ূরী শর্মা বরুয়া

 

সাহেব, তোর হাতে হিন্দুর রক্ত মুসলমানের রক্ত

খ্রিষ্টান শিখের রক্ত বৌদ্ধ জৈনের রক্ত নাস্তিকের রক্ত

তোর হাতে দলিতের রক্ত আদিবাসীর রক্ত

ট্রাইবেলের রক্ত কৃষকের রক্ত

শ্রমিকের রক্ত ছাত্রের রক্ত

কবির রক্ত গায়কের রক্ত

শিল্পীর রক্ত লেখকের রক্ত বিপ্লবীর রক্ত

নারী পুরুষ কিন্নর আর শিশুর রক্ত

এত রক্ত তুই কোথায় ধুবি

নদীতে নেই জল ভাসছে শুধু লাশ

সাহেব, তোর গায়ে মড়ার অভিশাপ

জীবিতদের শাপ মরণমুখীর শাপ

গরিবের শাপ রুগ্নদের শাপ

ক্ষুধাতুরের শাপ গৃহহীনের শাপ ভূমিহীনের শাপ

সাহেব, তোর গায়ে এত শাপ
এত শাপ তুই কোথায় ধুবি

নদীতে নেই জল

ভাসে লাশের নৌকা নদীর বুক জুড়ে

তৃতীয় কবিতা

অনুবাদের পেছনের কথা ...

সমাজৰ অসংবেদনশীল আচৰণে বাৰেবাৰে আঁকুহি নিয়ে কোমল মনবোৰ। সেই ক্ষত চিৰদিনলৈ ৰৈ যায়। ঋতুপৰ্ণৰ হৃদয়স্পৰ্শী কবিতাটোত তাৰেই যেন প্ৰতিফলন। এই অনুবাদ বাংলাভাষী বন্ধুবৰ্গৰ হাতত।

মূল (অসমিয়া) - ঋতুপর্ণ

অনুবাদ - ময়ূরী শর্মা বরুয়া

 

বড় সাধ করে বাবা-মা 
একটা নাম রেখেছিল।
বসন্ত। 
বিহুর সময় জন্মানো ছানা, তাই
নাম রেখেছিল বসন্ত।
বাবা-মা কি আদৌ জানত তখন
একদিন নামটা বাসন্তী হয়ে দাঁড়াবে।
একটি নাম পেলাম।
বাসন্তী।
নামটা আমার ছিলনা।
কেমন করেই বা বলি নিজের বলে,
বাবা-মার দেওয়া নামটা আদরের ছিল,
আর এটা?

আর একটা নাম পেয়েছিলাম,
প্রাথমিক ছেড়ে হাইস্কুলে ভর্তির দিনই।
লেডিস।
আমি বলি এ আবার কেমন‌ নাম?
কিন্তু একটা নাম পেয়েছিলাম।
সাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার পথেই বাবা বলেছিল,
নাম করতে হবে, এবার থেকে বড় স্কুলে পড়বি।
বোকা বাবা কী করেই বা জানত,
নাম করার আগেই আমি একটা 'নাম' পেয়েছিলাম।
নামটা নিতে পারিনি
কেমন করেই বা নিই নিজের বলে, 
বাবা-মার দেওয়া নামটা আদরের ছিল,
আর এটা?

স্কুল পেরিয়ে কলেজে উঠবার সময়ে,
হোষ্টেলে ব্যাগটা নামানোর সম‌য়ে বাবা আবার বলেছিল, 
ভালো করে পড়াশুনা করিস,
নাম করতে হবে।
বড় কলেজ।
বটে,
নাম করতে হবে।
হোস্টেলে সেদিন পরিচয় পর্ব চলছিল,
কেউ বলে উঠেছিল,
এইযে ববী ডার্লিং এদিকে এসো,
সেটা আমার নাম ছিলনা।
কিভাবে কাছে গিয়ে দাঁড়াই?
দিন পেরিয়ে বছর হয়েছিলো।
নামগুলো মনে পড়লেই
মুখ লাল হয়ে আসে,
কান টা ভোঁ-ভোঁ করে ওঠে।
বাবা-মার দেওয়া নাম নিয়ে নাম করা হয়নি,
আদর করে দেওয়া নামটা।
বরং একটা নতুন নাম দিলাম আমি 
নিজেকে।
আদর করে!
এবারে হয়তো নাম করেই ফেলি!

 

চতুর্থ কবিতা

অনুবাদের পেছনের কথা ...

পুৱাই দেৱব্ৰত শৰ্মা ছাৰৰ টাইমলাইনত পোৱা কবিতাটো পঢ়ি মনটো সেমেকি গ'ল। উজনি অসমৰ বাসিন্দা বাবেই হয়তো চাহ বাগিচাৰ লগত বহুদিনৰ পৰিচিতি, বহুদিনৰ সম্পৰ্ক। বাংলা মূলৰ কবিতাটো আইৰ মুখৰ ভাষালৈ তৰ্জমা কৰি পেলালোঁ। পঢ়ি চাবচোন। আজি আন্তঃৰাষ্ট্ৰীয় চাহ দিৱসৰ দিনটোত মোৰ এই অনুবাদ চাহ বাগিচাৰ শ্ৰমিকবৰ্গৰ নামত সমৰ্পিত।

মূল (বাংলা) :- একটি নতুন ভোর, কবি : এ কে শেরাম, সিলেট (২০ মে, চা শ্রমিক দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি)

চা গাছকে 
একটি পর্যায়ের বেশি আর বাড়তে দেওয়া হয় না,
ছেঁটে ছেঁটে ছোট করে রাখা হয়।
চা-শ্রমিকদের জীবনও তাই,
তাদেরকেও বাঁচিয়ে রাখা হয়, বাড়তে দেওয়া হয় না।
চা শ্রমিকেরা একধরনের বনসাই মানুষ,
তাদের নিজস্ব ইচ্ছে-অনিচ্ছে থাকতে নেই
কোনো স্বপ্ন থাকতে নেই
ভালোলাগা ভালোবাসা থাকতে নেই;
তারা অন্যের ইচ্ছেয় বেঁচে থাকবে
অন্যের প্রয়োজনে জীবন ধরবে।
এটাই স্বাভাবিক, 
এটাই ভবিতব্য,
একথা মেনে নিয়েছে সবাই।
কিন্তু ব্যতিক্রম বলেও তো কিছু থাকে,
তাই, কখনও কখনও হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড় ওঠে,
ভূমিকম্প হয়,
পুরোনো অতীত, প্রাচীন স্থাপনা সব ধূলিস্যাৎ হয়।
এরকম কোনো কোনো লক্ষণ কি আমরা দেখি না
কখনও ঈশাণের পুঞ্জমেঘে,
কখনও রিখটার স্কেলের মানদণ্ডে।
ভয়ঙ্কর কোনো কালবৈশাখি যদি আসে, আসুক
বিশাল কোনো ভূমিকম্প ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, চালাক।
সবকিছুর পর কেবল যেন আসে
একটি নতুন ভোর, আলোকিত সকাল।

 

অনুবাদ - ময়ূরী শর্মা বরুয়া

 

চাহ গছবোৰক
এটা নিৰ্দিষ্ট জোখৰ পাছত আৰু বাঢ়িবলৈ দিয়া নহয়,
কলম কৰি চুটি চাপৰ কৰি ৰখা হয়।
চাহ শ্ৰমিকৰ জীৱনটোও তেনেকুৱাই,
সিহঁতকো বচাই ৰখা হয়, বাঢ়িবলৈ দিয়া নহয়।
চাহ শ্ৰমিকবোৰো একধৰণৰ বনচাই মানুহ,
সিহঁতৰ নিজস্ব ইচ্ছা-অনিচ্ছা থাকিব নোৱাৰে,
কোনো সপোন থাকিব নোৱাৰে
ভাল লগা ভালপোৱা থাকিব নোৱাৰে;
সিহঁত জীয়াই থাকিব আনৰ ইচ্ছাত
জীৱন ধিয়াব আনৰ প্ৰয়োজনত ।
এয়াই স্বাভাৱিক,
এয়াই নিয়তি,
এই কথা মানি লৈছে সকলোৱে।
কিন্তু ব্যতিক্ৰম বুলিওতো কিবা থাকে,
সেয়েহে, কেতিয়াবা হঠাতে বৰদৈচিলা আহে,
ভূমিকম্প হয়,
পুৰণি অতীত, প্ৰাচীন সকলো প্ৰতিষ্ঠান ধূলিস্যাৎ হয়।
এনে একো লক্ষণ দেখা নাইনে বাৰু আমি
কেতিয়াবা ঈশানকোণৰ মেঘপুঞ্জত,
কেতিয়াবা ৰিখটাৰ স্কেলৰ জোখমাখত।
বিধ্বংসী কোনো বৰদৈচিলা আহে যদি আহক,
প্ৰবল কোনো ভূঁইকঁপে ধ্বংসলীলা চলায় যদি চলাওক।
সকলোখিনিৰ পাছত মাথো আহে যেন
এক নতুন পুৱা, ৰ'দঘাই ৰাতিপুৱা।