সাহিত্য পত্র

কবিতার খাতা - ২১
২৭ জুন ২০২১
 

ঈশানের ২১ নম্বর কবিতার খাতায় এবারে আমরা নিয়ে এসেছি তরুণ কবি নিরুপম পাল-এর দুটি কবিতা...

আমার মা আর পঁচিশ

আমার মা আর পঁচিশের মধ্যে একটা অসাধারণ সিমিলারিটি আছে।

কেনোনা তাঁরাই আমাকে একটু-একটু করে বদলাচ্ছেন নিসর্গের স্থায়ী ও অন্তরাতে।

আমি যদি এখনও কোনো অনুরোধ রেখে যাই

তবে তাঁরাই ভেঙে পরেন প্রাচীন বৃক্ষের গাঢ় সমাবেশে,

যাতে আমার সম্পূর্ণ পূরণের স্বাদ বিশল্যকরণী দিয়ে হয় উপশম।

তাঁরাই জানেন যে আমার চোখের বালিতে খেলা করে হরিণীরা,

নৌকাডুবির ঢেউ এসে লাগে ক্ষুরে।

আমার দিনশেষের সমস্ত ক্লান্তি আমার মা আর পঁচিশের কাছে সুন্দর আছে,

আছে তাঁদের কাছে নিভৃত মিলন সুখে!

আর তাই  আমি আমার চোখে দেখা শব্দহীন ভাঙনের রূঢ়তম ছায়া।

যখন আমি ঝরে পড়া কান্নার কাছে ঋণী থাকি,

তখন তাঁরাই ইন্দ্রজালে অক্ষত রয়ে শিরায় নিয়ে যেতে আসেন!

ছায়াশিকারিণী আমাকে আঁকড়ে ধরে দলছুট শিশু জোনাকিরা!

কে জানে কীসের মোহে, অদৃশ্য কোন পিছুটানে!

হিসেব করিনি আজও কতখানি কুড়িয়েছি ক্ষতি।

ভেবে নেই, যেন ক্ষয় ও বিকার ছাড়া আমার নিসর্গের পরম্পরা নেই।

তাই আদিগন্ত শূন্যতার, রক্তপাতহীন ক্ষতের যন্ত্রণা ধীরে ধীরে ভুলে গিয়ে আমি ডুবে যাই মৌনে!

তাই হয়তো আমার খণ্ড - সময়ের বার্তা রয়ে যায় আমার মা আর পঁচিশের কাছে।

বিন্দু বিসর্গ

গোধূলিতে ক্লান্ত বিকেল, লাল রঙ মাখে!
ভেস্তে যাবে আমার কত কল্পনা
দৃষ্টি ছিল একটি দিকে তবু-
নজরদারি অন্য দিকে
জীবাণু যদি হৃদয়ে বাস করে
বৃথা চেষ্টা যুদ্ধে হারাবার।

আমি উপচারশীল থেকে তখন বেরিয়ে বুঝতে পারিনি,

যে স্বেচ্ছাধীনে ভ্যাকসিন যদি ওড়ে

তবে বাঁধা থাকবে না আর অন্ধকারে;

হিসেব নিয়ে কী হবে লাভ ক্ষতি!

যদি হয় মিথ্যে চেষ্টা হারাবার।

সঙ্গে এনেছিলাম টিনের স্যুটকেস
কবিতার ডায়েরি, আর ফ্রেশ অক্সিজেন-
ভিত্তিপ্রস্তর সেই রবি আর নজরুল এর
সঞ্চয়িতা আর সঞ্চিতার ডিফরেন্সেই অর্থ নিবিড়!

কিন্তু ঝরনার ঊষর সে অন্ধকারের চেয়েও অসাধারণ,

আমি আলোর চেয়েও আগামী!

তাই হয়তো আজও খুঁজে পাইনি বিন্দুকে আর বিসর্গকে।