হাল্কাচ্ছলে / On a Lighter Note

আবার রঙ্গ রসর গফ - ১
৮ আগস্ট ২০২০

 

ঈশান কথার অনুরোধে অনেক বছর পর আবার শুরু হল বহু চর্চিত , বহু প্রশংসিত সিলেটী রঙ্গ রসের সিরিজ "রঙ্গ রসর গফ"

 

মুল রচনা - প্রদীপ নাথ

 

মুল পরিচালনা - শেখর দেব রায়

 

ঈশান কথার প্রথম এপিসোডে থাকছে - ২ টি উপস্থাপনা -

1. Hidol

2. Londoni Poolish

 

Artists

Pradip Nath (Bigyanir bongshodhor / Londoni Poolish)

Prasenjit Nath (Khiranir Bongshodhor /Indiani Poolish)

Video Editing

Krishanu Bhattacharjee

 

অম্ল মধুর - ৮ : লুটোপুটি আর বাটাবাটির স্বাধীনতা
কল্যাণ দেশমুখ্য, ৮ আগস্ট ২০২০

গৃহস্থের যেমন কীর্তনের আয়োজন করার স্বাধীনতা আছে, তেমনি উপস্থিত শ্রোতাদের লুটের প্রসাদ কুড়াবার ও স্বাধীনতা আছে। কীর্তনের পর লুট হবেই। যার যেমন শক্তি সে তাই কুড়িয়ে নেয়। কেউ কুড়িয়ে নেয় কলা, কেউ পায় ঠেলা ধাক্কা। কেউ কুড়ায় নকুল, কেউ নারকেল। কেউ খুশি বাতাসায়, কেউ মরে হতাশায়। কেউ পায় ভোট, কেউ নেয় নোট। ব্রিটিশ শাসনে থাকাকালীন সময়ে আমাদের লুটের স্বাধীনতা ছিলনা। বোধহয় শাসকগোষ্ঠী ধর্মে খ্রিষ্টান ছিল বলে তাদের রাজত্বে লুট যেমন ছিলনা, তেমনি লুটের প্রসাদ ও ছিলনা। কীর্তন হবে, লুট দেব, লুটের প্রসাদ কুড়াব ভেবেই আমরা সবাই মিলে শ্বেতাঙ্গ শাসকদের মেরে কেটে দেশ থেকে তাড়ালাম। তারা চলে গেলেও তাদের ল্যাজ রয়ে গেছে। সাদা সাহেবের পরিবর্তে আছে কালো সাহেব। সাদা সাহেবরা দেখতে যেমন সাদা রঙের ছিল, তেমনি তাদের বহু কাজকর্ম ও ছিল সাদা। আমাদের কালো সাহেবদের কালো কাজের কথা তারা ধারণা করতেই পারবেনা। বফরস, হাওলা, গাওলা, তহলকার মতো কত কালো কাজ যে এখন ও কালো বাক্সে বন্দী হয়ে আছে কে জানে। অধিকাংশ কালো সাহেবদের নীতি হলো, লুটলে ভাইয়া।

 

দাদা, আপনি বিয়ে থা করেননি, ব্যাচেলর মানুষ।

তাই জিজ্ঞেস করছি দাদা, আপনি কি পাক করে খান ? না ফাঁক করে খান ?

শোনো ছোটভাই, বাড়িতে আমি খাই পাক করেআর অফিসে খাই ফাঁক করে।

আরে দাদা, ফাঁক করেই তো খাবেন। যুগটাই যে পড়েছে ফাঁক করে খাওয়ার। যিনি যতবেশি ফাঁক করে খাচ্ছেন, তার-ই তত নামডাক।তার- ই তত হাঁকডাক।

 

কথায় বলে , পয়সা দেখলে পাথরেও হাঁ করে। তাইতো দেখি, স্বাধীন দেশে পাতাল রেলের মতো তৈরি হয়েছে নেতা- পুলিসের পাতাল চুক্তি। তদরধঙ মদরধঙ। তোমার অর্ধেক আমার অর্ধেক। সিবিআই ? কুছ পরোয়া নেহি। দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করার ক্ষমতা রাখে। মন্ত্রী ? নিজের লোক। ভয়ের কিছু নেই। জীবিতকে মৃত আর মৃতকে জীবিত বানাতে সক্ষম।


স্বাধীন ভারতে তীর খেলার মতো সর্বত্র চলছে ডুপ্লিকেট অর্থাৎ নকলের খেলা। বাজারে নকল ওষুধ, নকল টাকা, নকল পুলিশ, নকল স্বাধীনতা সংগ্রামী, নকল পীর, নকল সন্ন্যাসী, নকল মিলিটারি আছে। আর আমরা অনেকেই মুখোশ না পরে নকল মানুষ সেজেছি। বাহ্ চমৎকার। এমন নকল দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। রামকৃষ্ণ ঠাকুরের ভাষায় , 'আসল নকল সব একাকার হয়ে গেছে গো '। স্বাধীন এই দেশে আমরা 'মামার গাড়িতে' চড়ে যত্রতত্র অবাধে যাতায়াত করতে পারি। মাথাগরম দুয়েকজন মামা যদি ভাগ্নে ভাগ্নির আব্দার মেটাতে না চান, তাহলে সামান্য পান বিড়ির দাম দিলেই চলে। রেলগাড়ি যেখানে খুশি থামিয়ে ড্রাইভার ডিজেল, মবিল, পেট্রোল বিক্রি করতে পারেন। ক্ষৌরকার দ্বারা মস্তক মুন্ডন কর্মের মতো আমরা ইচ্ছে করলেই নিমেষে পাহাড়-পর্বত, টিলা-টক্করের মস্তক সাফ করে দিতে পারি। সরকার আমাদের নির্দেশ দেয় , স্থানে স্থানে আপনারা বৃক্ষ রোপন করুন। টিকিট কেটে রেলে যাতায়াত করুন। তেমনি শোনা যায়, রেলকর্মী তথা বনকর্মীদের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে নাকি তাদের অলিখিত চুক্তি আছে, তোলা আদায় করে পাঠাও। এ যেন সর্প হয়ে দংশ গুরু ওঝা হয়ে ঝাড়ো। চাকরির বাজারে আমরা দেখতে পাই, ছোট মহাজন অর্থাৎ খুচরো বিক্রেতা ওরফে দালাল বলে মার্কশিট, সার্টিফিকেটের কথায় গুলি মারুন। টনিকের জোর কেমন আছে তাই বলুন। রবি ঠাকুর বলেছেন, 'দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে'। রাষ্ট্রভাষায় বলা হয়, পয়সা ফেকো তামাশা দেখো। বড় মহাজন অর্থাৎ পাইকারি বিক্রেতা বলেন, গরিবের জন্য ভগবান আছেন। ধনীর জয় আমি আছি। আজ নগদ কাল বাকি। কে আছো জোওয়ান হোও আগুয়ান। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে কবিগুরু লিখেছেন, 'পড়ে যায় কাড়াকাড়ি, কে করিবে আগে প্রাণদান'। তেমনি চাকরির বাজারে ও স্বচ্ছল বেকারদের মধ্যে পড়ে যায় কাড়াকাড়ি, কে করবে আগে বড় বান্ডিল দান। বিভিন্ন অফিসে গেলে আমরা দেখি, অনেক কর্মচারীর নীতি হলো , 'আসি যাই মাইনে পাই। কাজ করলে উপরি চাই '। সেখানে ও চলছে ওই দিবে আর নিবের খেলা। ফাইলপত্র উপর নীচ হবে , না টেবিল থেকে উধাও হয়ে যাবে, তাও নির্ভর করছে ওই টনিকের উপর।


দাদা, গান্ধীবাদ, মার্কসবাদ, সমাজবাদের মধ্যে আপনি কোন্ বাদ- এ বিশ্বাসী ? আরে ভাই, এগুলোর কোনোটাতেই আমার বিশ্বাস নেই। অধিকাংশ নাগরিকের মতো আমি ও সুবিধাবাদে বিশ্বাসী। আমি গান্ধীবাদ বলতে গান্ধীর নির্দেশিত পথকে বাদ দিয়ে চলা বুঝি। আমার কাছে মার্কসকে বাদ দিয়ে চলার নাম মার্কসবাদ। আর সমাজকে বাদ দিয়ে চলার নাম সমাজবাদ। তবে সবার উপরে অতি লোভনীয় তথা বিশেষ আকর্ষণীয় যে বাদ খোলা বাজারে বর্তমানে চালু আছে তাকে বলে সুবিধাবাদ। দেশের কিছু নেতা থেকে শুরু করে ছোট ছোট শিশু পর্যন্ত আজকাল অনেকেই সুবিধাবাদে বিশ্বাসী। সুবিধাবাদ জয় হো।


৭৩ বছর পর দেশের বর্তমান স্বাধীনতার অবস্থা কী দাঁড়িয়েছে ভাই ? আসল স্বাধীনতা পক্ষাঘাত গ্রস্ত রোগীর মতো সর্বাঙ্গ অবশ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। নকল স্বাধীনতার দৌলতে কেউ কেউ বস্তা সামান্য ফাঁক করে খাচ্ছেন। কেউ কেউ পুকুর চুরি করছেন। অন্য কেউ কেউ দিঘি চুরি করে পেট মোটা করছেন। গনতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা কী দাদা ? সে বস্তুটা শ্বাস প্রশ্বাস রহিত অবস্থায় বর্তমানে কফিনে শায়িত আছে। তবে দেশের নিম্নবিত্ত তথা দারিদ্রসীমার নীচে যারা বসবাস করছেন, তারা কি আজ পর্যন্ত কোন ও ধরনের স্বাধীনতা পাননি ? পেয়েছেন ভাই পেয়েছেন। দেশের ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে যে 'কমন' স্বাধীনতা ভোগ করে চলেছেন তা হলো, বঙ্গোপসাগরের নিম্ন চাপের মতো নিজ নিজ নাভি দেশের আশেপাশে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে যেখানে খুশি অল্পক্ষণ দাঁড়িয়ে ডান- বাম না তাকিয়ে নিশ্চিন্তে কয়লার ইঞ্জিনের মতো গরম জল ফেলে যাওয়ার স্বাধীনতা।

অম্ল মধুর - ৭ : ঝোপ বুঝে কোপ মারো
কল্যাণ দেশমুখ্য, ১ আগস্ট ২০২০

সরকার আমাদের বেকার ভাতা , বৃদ্ধ ভাতা তথা জমির পাট্টা ইত্যাদি প্রদান করলেও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার ব্যাপারে কেমন যেন উদাসীন। জনগণ নিরাপত্তার প্রশ্ন তুললেই সরকার বলে , 'আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতে' । অর্থাৎ , সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করতে সরকার আগ্রহী নয়।  যদিও ইতিমধ্যে রাফাল নামক যুদ্ধ বিমান কেনা হয়েছে দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে। 
   

সৃষ্টির শুরুতে ঈশ্বর প্রথমে আদম ও ইভ নামে দু' জনকে পাঠিয়েছিলেন পৃথিবীতে। আদম হলেন পুরুষ , ইভ হলেন নারী।  বিয়ের সময় কন্যার বাবা যেমন কন্যাকে বিভিন্ন জিনিসপত্রে সাজিয়ে গুজিয়ে স্বামী গৃহে পাঠান , তেমনি ঈশ্বর ও ওদের প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যাদি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। ওরা ঈশ্বরকে প্রণাম জানিয়ে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতেই ঈশ্বর বললেন , তোমরা একটু দাঁড়াও। ওরা দাঁড়াতেই ঈশ্বর ওদের দ্রব্যসামগ্রী মধ্যে থেকে একটি প্যাকেট সরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বললেন , এবার তোমরা পৃথিবীতে যাও। সেখানে গিয়ে তোমরা ঘর সংসার শুরু করো । ওরা বলল , প্রভু , আপনি এই প্যাকেট রেখে দিলেন কেন ? ওটার ভেতর কি জিনিষ ছিল? ঈশ্বর বললেন , এই প্যাকেটটা হলো শান্তির প্যাকেট। মানে , এই প্যাকেটে শান্তি রাখা আছে। ভুলবশতঃ আমি এই প্যাকেটটা তোমাদের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। পরে আমার খেয়াল হলো, এই প্যাকেটটা তোমাদের সঙ্গে থাকলে তোমরা পৃথিবীতে গিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে এবং আমাকে একেবারে ভুলে যাবে।তাই প্যাকেটটা আমি নিজের কাছেই রেখে দিলাম। এবার পৃথিবীতে গিয়ে যখন- ই তোমরা অশান্তির সম্মুখীন হবে , তখনই বাধ্য হয়ে আমাকেই স্মরণ করবে। এখন তোমরা যাত্রা শুরু করো। ঠিক এভাবেই আমাদের সরকার ও বোধহয় চিন্তা করে , জনগণের সার্বিক সুরক্ষা প্রদান করা হলে জনগণ সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাবে এবং পরে শাসকদলের নামটাই ভুলে যাবে। তাই সবার জন্য শিক্ষা , সবার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হলেও সবার জন্য নিরাপত্তা নামে সরকারের কোন ও কর্মসূচি নেই। আমরা হলাম ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। আমাদের ব্ল্যাক কেট নেই , হোয়াইট কেট ও নেই। আমরা হলাম ওনলি কেট। বিড়ালের মতো মিউমিউ করে কাটে আমাদের জীবন। এদিকে গ্রামাঞ্চলে যেমন চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে , তেমনি শহরাঞ্চলে ও বাড়ছে চুরি চামারির ঘটনা। মহিলারা আজকাল দিনের বেলায় ও রাস্তাঘাটে নিরাপদ নন। স্বামী বাবাজিদের টেনশন কমানোর জন্য বেশিরভাগ বধুরা ব্যবহার করছেন ইমিটেশন। রবি ঠাকুর লিখেছেন -

 

খোলো খোলো দ্বার ,
রাখিও না আর ,
বাহিরে দাঁড়ায়ে ।

 

এই সুরেই আমরা নিধিরাম সর্দারের দল গেয়ে থাকি - 
 

খোলো খোলো হার ,
পরিওনা আর ,
গলায়‌ ঝুলায়ে ।


লোকে বলে , ছাগল যত বড়ই হোক না কেন , কখনও হাতির সমান হয়না। কিন্তু রাজনীতির জগতে দেখা যায় , ছাগল ও মাঝে মাঝে হাতির সমান হয়। নিজ নিজ ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ব্যালেন্স বাড়ানোর জন্য বাবুদের আছে বিভিন্ন ধরনের কেরামতি। তাই রাজনীতিতে ও এখন ঝোপ বুঝে কোপ মারামারি কার্য খুব বেড়ে গেছে। কোপ মেরে কাউকে কুপোকাত করা নেতাদের জন্য বায়া হাত কি খেল।


গ্রামাঞ্চলের জনগণ বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় জর্জরিত। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আঠেরো ঘন্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। এতে অনেক বাড়িতে অনেক রকমের ঘটনা ঘটে। পিসির বাসায় থেকে একটি ছেলে কলেজে পড়াশোনা করত। সেসময় শহরের ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলনা। পড়াশোনা করতে হতো কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে। রাত তিনটের সময় বাইরের প্রস্রাবাগারে গিয়ে দেখেন তার ভাইপোর কোঠায় হ্যারিকেন জ্বলছে। পরদিন সকালে তিনি তার ভাইপোকে প্রশ্ন করলেন , গতকাল রাত তিনটার সময় উঠে দেখি তোর ঘরে হ্যারিকেন জ্বলছে। এত রাতে তুই কি করছিলি ? ভাইপোটি বলল , রাত জেগে কবিতা লেখায় ব্যস্ত ছিলাম পিসি। একথা শুনে পিসি রেগে গিয়ে বললেন , রাজ্যে কেরোসিন সঙ্কট চলছে। আর তুই কিনা কবিতা লেখার জন্য সারারাত ঘরে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে রেখেছিস ? ভাইপো বলল , কবিতার একটা লাইন গতকাল সন্ধ্যে বেলা লিখেছি। কিন্তু দ্বিতীয় লাইনটা কিছুতেই ছন্দ সহ মেলাতে পারিনি। চিন্তা করতে করতে সারারাত কেটে গেল। পিসি এবার ধমক দিয়ে বললেন , তুই কবিতা লিখলে আমার তাতে কি ? আমার কি এলো গেল ? ভাইপোটি এবার আনন্দে লাফিয়ে উঠে বলল , কবিতার দ্বিতীয় লাইন আমি পেয়ে গেছি পিসি। তুমি শুনবে পিসি ? তাহলে শোনো , প্রথম লাইন আমি লিখেছিলাম - শীতের আকাশ হতে পড়িছে শিশির। দ্বিতীয় লাইন এইমাত্র তুমি বলে দিয়েছ। দ্বিতীয় লাইনটা লেখলাম - তাতে কিবা এলো-গেলো আমার পিসির। ঠিক এভাবেই বিদ্যুৎ এলো না গেল , তা নিয়ে নেতাদের কোন ও মাথাব্যথা নেই। কারণ , রাজধানীতে কখনও বিদ্যুতের বারোটা বাজেনা।
   

গ্রামাঞ্চলে এখন ও অনেক বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে বসলে পরিবেশনকারী মুক্ত মনে বলেন , দাদা , খেতে যখন বসেছেন , তখন লজ্জা ছেড়ে খাবেন। নিমন্ত্রণ খাচ্ছেন এমন কেউ কেউ জবাবে বলেন , আমাকে এত করে বলতে হবেনা ভাই। আমি নির্লজ্জের মতো খাই। একথাগুলো আমাদের কিছু নেতার বেলায় ও প্রযোজ্য। তারা সবসময় নিজেদের খাবার দাবার নিয়ে ব্যস্ত। ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। আমজনতা পেটভরে খেতে পাচ্ছে কিনা সেদিকে তাদের খেয়াল নেই।


ভোট আসে ভোট যায়। জনগণের টাকায় নেতারা ফুর্তি আমোদ করেন। দেশে খাদ্য নেই , বস্ত্র নেই , বাসস্থান নেই। তবু ও চেঁচিয়ে বলো, দেশ প্রগতির পথে। মেরা দেশ মহান।মেরা পরিবার মহান। শাইনিঙ ইন্ডিয়া , ফিলগুড। 


বিদ্রোহী কবিতায় নজরুল লিখেছেন - 'বলো বীর , বলো উন্নত মম শির'। এই সুরেই চামচা বলছে - 


শোনো বীর
উন্নত কর শির ।
রাজাবাবুদের শ্রীচরণে ,
তৈল মর্দন করো ,
গড়ো শান্তির নীড় ,
হও সাহসেতে ধীর ।
শোনো বীর
আর দেরি নয় ,
করো আজ- ই  মনস্থির।

অম্ল মধুর - ৬ : পরামর্শ দান কেন্দ্র 
কল্যাণ দেশমুখ্য, ২৫ জুলাই ২০২০  

এ জগতে পরামর্শ দেবার লোকের অভাব নেই। পরামর্শ আর উপদেশ যেন যমজ ভাই। এই দুটো বিষয় বিনামূল্যে পাওয়া যায়। অনেক লোক যেচে পরামর্শ আর উপদেশ দিয়ে থাকে। যদি আপনি কারও কাছে পরামর্শ চান আর লোকে জেনে যায় যে আপনি পরামর্শ নিতে পছন্দ করেন , তাহলে অন্তত সাতজন লোক আপনাকে সাতাশ রকম পরামর্শ দেবে। একদিন এক ছেলে বলল , বাবা , তুমি আমাকে উপদেশ দিয়েছিলে , কোনও দিন কারও দলে গিয়ে ভিড়বে না। বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে বড় দল বানালেই পড়াশোনার বারোটা বাজে। এতেই হয় ছাত্রছাত্রীদের সর্বনাশ।‌  বাবাটি বললেন , সেকথা তোকে বহুবার বলেছি এবং এখনও বলছি। পুত্র বলল , সেজন্যই তো আমাদের ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা বার্ষিক পরীক্ষার পর দল বেঁধে প্রমোশন নিয়ে ওপরের ক্লাসে চলে গেল। কিন্তু ,তোমার উপদেশ মেনে আমি তাদের দলে গিয়ে ভিড়িনি।
   

কেউ কেউ পরামর্শ দেন , পাতিল ভরা দুধ খেতে হলে দুধপাতিলে গিয়ে বসবাস করুন। ধারকর্জ করে সংসার চালাতে হলে উধারবন্দে গিয়ে বাড়ি বানান। শান্তিতে জীবন কাটাতে চাইলে শান্তিপুরে গিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করুন। প্রেম পিরিতি করতে চাইলে শিলচরের প্রেমতলায় গিয়ে ঘোরাঘুরি করুন। ধর্ম - কর্ম করে জীবন কাটাতে চাইলে ধর্মনগরে বাড়ি তৈরি করুন। তিন ধরণের সুখ পেতে চাইলে তিনসুকিয়া যান। 
   

একবার এক আদর্শবান যুবক লোক শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে মদ্যপানের কুফল সম্পর্কে যুবা বৃদ্ধ সকলকে বোঝাচ্ছিলেন। বক্তব্য রাখার সময় তিনি পকেট থেকে দুটো গ্লাস বের করলেন। একটা গ্লাসে রাখলেন পরিষ্কার জল আর অন্য গ্লাসে রাখলেন মদ। এরপর তিনি পকেট থেকে একটা কৌটো বের করলেন। ওর ভেতর থেকে একটা কেঁচো বের করে জলের গ্লাসে ছেড়ে দিলেন।দেখা গেল কেঁচোটি মনের আনন্দে জলের গ্লাসে সাঁতার কাটছে।  তিনি সেই কেঁচোটিকে তুলে এনে মদের গ্লাসে ছেড়ে দিলেন। মদের গ্লাসে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেঁচোটি একদম কুঁকড়ে মরে গেল।তখন খুব গর্ব সহকারে যুবকটি উপস্থিত এক তরুণকে প্রশ্ন করলেন , এই উদাহরণ দুটো থেকে তুমি কি শিখলে ? তরুণ ছেলেটি বলল , পেটের কৃমি কন্ট্রোল করতে হলে নিয়মিত মদ খেতে হবে।
     

পরামর্শ নিলেও সবাই সব পরামর্শ সব সময় মেনে চলে না। একদিন এক চোর খুব পরিশ্রম করে গভীর রাতে এক ভদ্রলোকের বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ঘরে ঢুকে সে দেখল , অনেক দামি দামি জিনিসপত্রের সঙ্গে একটা স্টিলের আলমারিও আছে। আলমারির ভেতর সোনা গয়না , টাকা পয়সা পাওয়া যাবে ভেবে চোরটি আলমারি ভাঙতে চাইল। হঠাৎ তার নজরে পড়ল , আলমারির গায়ে পরিষ্কার ছাপার অক্ষরে লেখা আছে , ' দয়া করে এই আলমারি ভাঙবেন না।জোর করে এটি খোলারও চেষ্টা করবেন না।আলমারিটার পেছনে একটা লাল রঙের সুইচ আছে।সুইচ টিপলেই আলমারিটা আপনা আপনি খুলে যাবে ' । এই পরামর্শ পড়ে চোরটি লাল সুইচে চাপ দিল। সঙ্গে সঙ্গে হাজার পাওয়ারের আলোয় ঘর আলোকিত হয়ে গেল। তীব্র আওয়াজে এলার্ম বেল বেজে উঠল। তৎক্ষণাৎ সিকিউরিটি গার্ডের দল চোরটিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল। পরামর্শ মেনে চলার ফল চোরটি সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে গেল।
   ‌  

পরামর্শ বা উপদেশ দেবার অধিকারও থাকা চাই। একদিন এক ভদ্রমহিলা তার গুরুদেবের কাছে পরামর্শ চাইলেন। ভদ্রমহিলার ছেলেটা জিলিপি খেতে খুব ভালবাসে। বেশি জিলিপি খাওয়া শরীরের পক্ষে খারাপ , একথাটি যেন গুরুদেব তার ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন। গুরুদেব বললেন , তোমার ছেলেকে জিলিপি খেতে আমি বারন করব। তবে তুমি আজ থেকে ঠিক একমাস পরে তোমার ছেলেকে নিয়ে আমার এখানে আসবে। গুরুদেবের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ভদ্রমহিলা বাড়িতে ফিরে গেলেন। ঠিক একমাস পর তিনি তার ছেলেকে নিয়ে পুনরায় গুরুদেবের সামনে হাজির হন। গুরুদেব ওই ভদ্রমহিলার ছেলেটাকে বুঝিয়ে বললেন , বেশি জিলিপি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। জিলিপি খাওয়া তুমি কমিয়ে দাও। নাহলে তুমি সুগারের রোগে আক্রান্ত হবে। ছেলেটি গুরুদেবের উপদেশ মেনে চলবে বলে সম্মত হলো। তারপর ওই ভদ্রমহিলা তার গুরুদেবকে বললেন , এই পরামর্শটি আরও একমাস আগেই আপনি আমার ছেলেকে দিতে পারতেন। একমাস আগে বললে আমার ছেলের শরীরের ক্ষতি অনেক কম হতো। গুরুদেব হেসে বললেন , একমাস আগে বলা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ , আমি নিজেও খুব জিলিপি খেতাম। এই একমাসের চেষ্টায় প্রথমে আমি নিজে জিলিপি খাওয়া ছেড়েছি। তারপর তোমার ছেলেকে জিলিপি ছাড়ার উপদেশ দিয়েছি। উপদেশ দিতে হলে প্রথমে নিজেকে সংযত করতে হয়।
       

এ যুগে সুপরামর্শ দেবার মতো লোকের বড় অভাব। মানুষকে কুপরামর্শ দিয়ে ডুবাতে পারলেই বেশিরভাগ লোক আনন্দ পায়। পরামর্শ দেয়া নেয়া যুগযুগ ধরে চলে আসছে। এক ভদ্রলোক ' পরামর্শ দান কেন্দ্র ' সাইনবোর্ড লাগিয়ে বাজারের এক কোণে একটা ঘরে চেম্বার খুলেছেন। পরামর্শ দানের জন্য তিনি ফি নিতেন। একদিন এক ভদ্রমহিলা পরামর্শ নেবার জন্য এসেছিলেন ওই কেন্দ্রে। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন , তার স্বামী তার কোনও পরামর্শ- ই কানে তোলেন না। এখন আমার কি করা কর্তব্য , সে ব্যাপারে একটু পরামর্শ দিন। ভদ্রলোক বললেন , আমার গিন্নিরও ওই একই অভিযোগ। আমি রিটায়ার্ড পার্সন। ঘরে বেশিক্ষণ থাকলে গিন্নির সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি হয়।তাই বসার জন্য এই ঘরটা ভাড়া নিয়েছি। আপনার প্রতি আমার পরামর্শ হল , স্বামীকে বলুন , আমার মতো একটি চেম্বার খুলে নিতে। এবং দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে।

কিজাতর মেঘ
উত্তম কুমার রায়, ২৫ জুলাই ২০২০ 

কয়মাস থাকি মেঘ দের, শ্রাবন মাসো বেশl
পথঘাটর অবস্তা নাই, পাকপানিয়ে শেষ ।।
রাস্তাবায়দি আটা যার না, পাকে ভরা পাও।
হকল থাকি ভালা আছিল, অউ রাস্তাত নাও ।।
গাড়িও কিলা চড়তায়,খলইর মাছর ঝারা।
থুরা পথউ যাইতায় কিলা, নাড়িভরিয়ে খায় লারা ।।
গাউর সড়ক, জাতীয় সড়ক, চিনতায় ইতা কিলা।
ইতা পথো যাওয়াত গিয়া, টাইট বেটাও ঢিলা ।। 
পথ ইতা কিগুয়ে ঠিক করাইতো, মন্ত্রীয়ে আমলায় মাইর।
মাইনসের গুসা উঠিলে কুন্তা বুঝতানায়, ফালাই দিবানু দাঁতর পাইর ।। 
উপরআলা বেটায় কুন্তা না বুঝিয়া, খালি পানি ছাড়িতরা।
সাদাসিদা মানুষঅকলরে, পাকে পানিয়ে মারিতরা ।।
আমরা পড়ছি মহা বিপদো, অউজাত পথঘাট লইয়া।
কিতাবা করতায় দিশঅউ মিলের না, নিজর দেশ থইয়া ।।

এই বিভাগের লেখা ও ভিডিও নিয়ে আপনার মতামত 

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 by Ishan Kotha. Site Developed by CHIPSS