হাল্কাচ্ছলে

অম্ল মধুর : আসছে পৌষ পার্বণ, করব পিঠে পুলি ভক্ষণ
১৩ জানুয়ারি ২০২১
কল্যাণ দেশমুখ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক
বাংলা বারো মাসের মধ্যে পৌষ একটি উল্লেখযোগ্য মাস। কবিগুরু লিখেছেন --

' পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে
আয় রে চলে আয়।
ডালা যে আজ ভরেছে তার
পাকা ফসলে
মরি হায় হায় হায় '!

এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। বাঙালির এই বিশেষ উৎসবের নাম পৌষ পার্বণ। পৌষ সংক্রান্তিকে মকরক্রান্তি ও বলা হয়। এই পার্বণ উপলক্ষে বরাক উপত্যকা তথা পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতে ও পিঠে পুলির আয়োজন করা হয়। যে যার সাধ্য মতো মাছ, মাঙস বাজার থেকে কিনে আনেন। কচিকাঁচাদের পিঠে পুলি টপাটপ গিলে খাবার উদ্দীপনা তুঙ্গে। পৌষ পার্বণের বিশেষ আকর্ষণ হলো চুঙগা পিঠা। খেতে খুব সুস্বাদু লাগে। কেউ কেউ খান ক্ষীর বা অন্যান্য মিষ্টি জিনিস দিয়ে। অন্য কেউ কেউ খান ভাজা বড়া দিয়ে। প্রতিটি পরিবারে মাঝে মাঝে দাম্পত্য কলহ হয়। কোন ও কোন ও বাড়িতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অলিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নববর্ষ তথা পৌষ সংক্রান্তির দিনে কোন ও ঝগড়াঝাটি নয়। 
   
একটা বাড়িতে পৌষ সংক্রান্তির দিন বিকেলে স্বামী স্ত্রী মিলে পিঠে পুলি বানানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় তাদের ছোট ছেলেটা স্যারের বাসা থেকে টিউশন সেরে ঘরে ফিরে এসেছিল। সে সময় ওর বাবা বললেন, আয়রে বেটা এক পিস চুঙগা পিঠা খাইয়া দেখ।
 
ছেলে-- অখন না পরে। 
বাবা-- হাসর মাঙস বানাইছি বেটা। দুই টুমা খা রেবা। 
ছেলে-- অখন না। পরে। 
বাবা-- তেলাপিয়া মাছ ভাজা করছি। একটা খাইয়া যা রেবা। 
ছেলে--অখন না পরে। 
বাবা-- তুই দেখিয়ার তোর মার লাকান।রক্ত ছাড়া অন্য কিছু খাইতে চাছনা।
একথা শুনে ছেলের মা প্রচন্ড রেগে গেলেন। তিনি তার ছেলেকে বললেন -- 
মা-- বাবারে পাটিসাপটা একটা খা।
ছেলে--অখন না পরে। 
মা-- সোনা বাবানু , তিলর লাড্ডু একটা খাইয়া দেখ। 
ছেলে-- অখন না পরে। 
মা-- লক্ষী সোনা আমার। ক্ষীরর মাঝে ডুবাইয়া সিদ্ধ পিঠা বানাইছি। এক পিস খা রেবা। 
ছেলে-- অখন না পরে। 
মা-- তুই দেখিয়ার তোর বাপর লাকান। গাইল আর কুদাম ছাড়া কিছু খাইতে চাছনা। 
       
পৌষ সংক্রান্তির প্রাক্কালে বাজারে জিনিস পত্রের দাম হয় আগুন বরাবর। সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠে। সরকার জনগণকে সচেতন করতে গিয়ে বলেন, জাগো গ্রাহক জাগো। কিন্তু অভাবী জনগণ বাজারের উল্টো পথে হেটে বলেন, ভাগো গ্রাহক ভাগো। 
   
পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় মেড়ামেড়ির ঘর। আগে শিলচর শহরে ও কোন ও কোন ও জায়গায় মেড়ামেড়ির ঘর তৈরি করা হতো। এখন শিলচরে তিল ধারণের জায়গা নেই। এখন পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতে মেড়ামেড়ির ঘরে পিকনিক হয়। সারারাত গান বাজে। কেউ কেউ ওই রাতে মদ, গাজা সেবন করে থাকেন। একবার একটা ছেলে তার বাবার কাছে বায়না ধরেছিল মেয়ে ঘরে পিকনিকে সে সামিল হবে। ওর বাবা বললেন, পিকনিক করো আপত্তি নেই। তবে মদ, গাজা খাবে না। জুয়া ও খেলবে না। ছেলেটি বলেছিল, সে এসব কিছুই করবে না। পরদিন সকালে ছেলেটা ঘরে ফিরে আসার পর ওর বাবা জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল রাতে তোমরা কেউ কি মদ, গাজা খেয়েছ ? ছেলেটা বলল, সবাই মদ, গাজা খেয়েছ। তবে আমি খাইনি। আমি শুধু ডেনরাইট শুকেছি।
   
পৌষ সংক্রান্তির দিনে দুপুর বেলা কীর্তনের দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্তন করেন! এর মধ্যে একটি হলো লুটের গান। কলি হলো, ' লাগলো হরির লুটরে ভাই আনন্দ বাজারে '। সামনেই আসছে রাজ্য বিধান সভার ভোট। আমরা তখন শুনব ওই সুরেই গান, লাগলো হরির লুটরে ভাই ভোটের বাজারে। ইতিমধ্যে দল বদলের খেলা চলছে। চলছে জোট বন্ধনের খেলা। ভূপেন হাজারিকা গেয়েছেন  , ' হাসি নিয়ে আয়। আর বাশি নিয়ে আয়। যুগের নতুন দিগন্তে সব ছুটে ছুটে আয় '। ভোটের প্রাক্কালে এই সুরেই গাওয়া হয়, পাঠা নিয়ে আয় আর খাসি নিয়ে আয়। জোটের নতুন দিগন্তে সব ছুটে ছুটে আয়। আর ভোটের পরে জনপ্রতিনিধির কাজ দেখে অনেকেই ভূপেন হাজারিকার সুরে গেয়ে থাকেন -- 
     
তুমি এক অজগর
দুর্নীতি তোমারে আপন করেছে
নীতি হয়েছে পর
তাই তুমি অজগর
তাই তুমি বিষধর
     
ইতিমধ্যে আমরা হ্যাপি নিউ ইয়ার পালন করেছি। আমরা যারা অভাবী জনগণ তারা ও এই আনন্দে সামিল হয়েছি। কিন্তু আসলে আমরা কেউই খুব একটা হ্যাপি নয়। তবুও আমাদের আশা, নতুন বছরে নতুন সরকার আমাদের হ্যাপি করার চেষ্টা করবে। সেই আশাতেই আমরা আপাততঃ পৌষ সংক্রান্তি নিয়ে মেতে থাকি।
Marble Surface

ঈশানের যোগাযোগ

Marble Surface

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

Marble Surface

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions