হাল্কাচ্ছলে

অম্ন মধুর : স্বাধীনতার হীনতায়

কল্যাণ দেশমুখ্য

১৫ আগস্ট ২০২১

86738759_199264754522747_353792166302895

এবছর আমরা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পালন করছি। একে বলে হীরক জয়ন্তী। এতদিনে আমরা কি পেয়েছি আর কি পাইনি তার একটু আলোচনা করব। গণতান্ত্রিক এই রাষ্ট্র হিসেবে সবার কিছু কিছু অধিকার থাকে পাওয়ার। অধিকারের সঙ্গে কর্তব্য ও জড়িত আছে। কিন্তু কর্তব্যের কথা কজন মনে রাখে? 
     

আগেকার দিনে মা-মাসীরা দুপুর বেলা চেনা অচেনা যে কেউ বাড়িতে এলে বলতেন, দুপুর বেলা আমাদের বাড়িতে এসেছেন, না খেয়ে যেতে পারবেন না। আমরা যা খাব, আপনি ও তাই খাবেন। যেতে হলে স্নান টান সেরে খেয়ে দেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের দিকেই যাবেন। তবে সেই দিন আর এখন নেই। সেই রাম ও নেই আর সেই অযোধ্যা ও নেই। কিন্তু আজকাল কেউ বাড়িতে এলে অনেকেই বলে, মুখপোড়াটা আর যন্ত্রনা দেবার সময় পেল না। চেনাজানা হলে ভালো মতো বসার সুযোগ না দিয়েই বলে, এই করোনা কালে কি দরকার ছিল আমাদের ঘরে আসার। এরপর মুখ কালো করে বলে, তোমাদের ওদিকে রাস্তাঘাটের যা অবস্থা, সকাল সকাল ঘর থেকে না বেরোলে সুমোর টিকিট পাওয়াই মুশকিল। দুপুর প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। তোমাদের লাইনের গাড়ি মোটর ছেড়ে দেওয়ার সময় বোধহয় হয়ে এসেছে। তাছাড়া, তোমার বোধহয় চায়ের তেমন নেশাটেশা নেই। কী বলো? অন্য আরেকদিন এসো, কেমন?  এরপর খালি মুখেই বিদেয়। মনে মনে ভীষ্মের মতো প্রতিজ্ঞা গ্রহণ। এ জীবনে আর কোন ও দিন আত্মীয় বাড়ির সীমানায় প্রবেশ নৈব নৈব চ। সু ব্যবহার করা যেমন কার ও কার ও কাছে গণতান্ত্রিক অধিকার, তেমনি দুর্ব্যবহার করাটাও অনেকেরই কাছে আদর্শ গণতান্ত্রিক অধিকার।

 

কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ' স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়? দাসত্ব শৃঙ্খল বলো, কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়? দিনেকের স্বাধীনতা স্বর্গ সুখ তায় হে, স্বর্গ সুখ তায় '। কবির আকাঙ্খিত সেই স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু স্বাধীনতা মানে যে স্বেচ্ছাচারিতা নয় তা সবার বোধগম্য নয়। এইতো সেদিন স্বাধীন দেশের কতিপয় নন্দী, ভৃঙ্গী তরল পানীয় খেয়ে দিন দুপুরে নৃত্য শুরু করেছিল। অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন নিরীহ নাগরিক থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দারোগা বাবু এসে এদের থানায় ধরে নিয়ে গেলেন। কিন্তু মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে থানায় ফোন এলো। হ্যালো ইন্সপেক্টর, আমি জননেতা, জনছাতা বলছি। এই মাত্র কিছু হিরোকে জিরো বানানোর উদ্দেশ্যে আপনি থানায় ধরে এনেছেন। কাজটা কিন্তু ভালো করেন নি। আপনি বুঝতে পারছেন না, এরা প্রত্যেকে সচ্চরিত্র কমিটির ওজনদার সদস্য। এরা সবাই বড়লোকের ছেলে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এরা একটু আধটু কারণ সুধা পান করতেই পারে। তাই বলে এখন ও এদের থানায় আটকে রাখবেন? টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে দারোগা বাবু বললেন, হেঁ হেঁ স্যার, এরা যে আপনার পার্টি ম্যান তা আমি বুঝতে পারিনি স্যার। কিছু মনে করবেন না স্যার। আমি এখনি এদের মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে উড়ে যাবার জন্য খাঁচা খুলে দিলাম স্যার। রাখছি স্যার, নমস্কার। এরপর এক অভিযোগকারী দারোগা বাবুকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমতা আমতা করে বললেন, কি করব বলুন?  আমার তো হাত পায়ে বেড়ী বাধা। নেতার কথা না শুনলে আমাকে কোকড়া করার জন্য কোকড়াঝাড়ে বদলি করে দেবে।

 

স্বাধীন দেশে অনেকেই ঘুষ লেনদেনে ব্যস্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ' স্বার্থক জনম মাগো জন্মেছি এই দেশে '। আর ঘুষখোর কর্মীরা বলেন, স্বার্থক জনম মাগো জায়গা মতো বসতে পেরে। আশীর্বাদ করো মাগো, যেন সিবিআই ধরতে না পারে। স্বাধীনতার শুধু কুফল নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। এর সুফল নিয়ে ও আলোচনা করতে হবে। আমরা বরাক উপত্যকায় ব্রডগেজ রেললাইন পেয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিনা ঘুষে বেকার ছেলে মেয়েরা চাকরি পাচ্ছে। গরিব ন্যায় বিচার পাচ্ছে। এগুলো হলো স্বাধীনতার সুফল। তবে বেশিরভাগ পদ রিজার্ভ করে রাখায় উচ্চ বর্ণের ছেলে মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারকে আর ও নমনীয় হতে অনুরোধ করছি। 
 

সবশেষে বলছি, খালিস্তান, গোর্খা স্থান, বড়ো স্থান ও বাঙালি স্থান এর পর আমরা শান্তি প্রিয় ভারতীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে খাটি মনুষ্য স্থান এর জন্য সরকারের কাছে আবেদন রাখছি। আমাদের ভরসা এই, অন্যান্য স্থান গুলোর দাবি মঞ্জুর করা হলে আমাদের দাবি ও মঞ্জুর করা হবে। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র হোক খাটি মনুষ্য স্থান। খাটি মনুষ্য স্থান জিন্দাবাদ।