হাল্কাচ্ছলে

অম্ল মধুর : হুজুর বিচার চাই
০৮ জুন ২০২১
কল্যাণ দেশমুখ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক
86738759_199264754522747_353792166302895

ন্যায় বিচার পাওয়ার শেষ ভরসা হলো আদালত।

 

কবি লিখেছেন, 'বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাদে'।

 

কবিগুরু লিখেছেন--


' দন্ডিতের সাথে দন্ড দাতা
কাঁদে যবে
সমান আঘাতে
সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার'।
   

ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা, মহামান্য আদালত ও ভারতীয় সংবিধান এর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে রচনাটি শুরু করছি। একবার এক জায়গায় দুইজন লোকের মধ্যে তর্কাতর্কি ও অবশেষে একজন অপরজনের গায়ে দুই ঘা জুতো মেরেছিলেন। পরে গ্রাম্য বিচারে ওই অপরাধীর দুশো টাকা জরিমানা হয়েছিল। এরপর একজন উঠে দাড়িয়ে বিচারককে বললেন, আমি আপনাকে চারশো টাকা দেব। বিনিময়ে চার ঘা জুতো মারতে চাই। এরপর ওইদিনের বিচার সভা পন্ড হয়ে গিয়েছিল।

 

একদিন গ্রামের এক সহজ সরল ছেলে প্রথমবারের মতো শহরে গিয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল শহর ঘুরে দেখা ও দুপুরে হোটেলে ঢুকে ভালো কিছু খাওয়া। এরপর ছেলেটি শহরে এসে ইতস্তত এদিকে ওদিকে ঘোরাঘুরি করতে লাগল। কোথায় হোটেল আছে তাও সে জানে না। হঠাৎ তার নজরে পড়ল, চারটে ছেলে রাস্তার ধারে ক্যারম খেলছে। সে ওদের জিজ্ঞেস করল, হোটেল কোথায় আছে? ওদের একজন বলল, ওই যে লাল রঙের দালান দেখা যাচ্ছে, ওটাই সবচেয়ে দামি হোটেল। একথা শুনে ছেলেটি সরল মনে ওই লাল দালানে গিয়ে ঢুকল। সেসময় একটা কেস নিয়ে দুজন উকিলের মধ্যে বাদানুবাদ চলছিল। আদালত উত্তপ্ত হতেই জজ সাহেব টেবিলের উপর হাতুড়ির ঘা মেরে বললেন, অর্ডার অর্ডার অর্ডার। ছেলেটি সঙ্গে সঙ্গে বলল, এক কাপ চা ও একটা সিঙাড়া।

 

একবার একটা লোক ছাগল চুরির অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিল। পরে পুলিশ লোকটিকে থানা থেকে আদালতে চালান করে দেয়। আদালতে এসে লোকটি একজন উকিল বাবুকে পেয়ে যায়। উকিল বাবু ওকে জিজ্ঞেস করলেন, সত্যি সত্যি কি সে ছাগল চুরি করেছে? লোকটি স্বীকার করে নিয়েছিল যে সে একটা ছাগল চুরি করেছে। উকিল বাবু বললেন, পারিশ্রমিক তুই আমাকে কেস জেতার পর দিবি। তবে আমি যেভাবে তোকে শিখিয়ে দেব, তুই সেভাবেই আদালতে বলবি। লোকটি বলল, ঠিক আছে স্যার। নির্দিষ্ট দিনে কেস আদালতে উঠল। উকিল বাবু আগেই ওকে বলেছিলেন, তুই আদালতে বোবার অভিনয় করে যাবি। যে তোকে যা বলবেন, তুই কেবল ব্যা ব্যা শব্দ করবি। পারবি তো? লোকটি বলল, পারব হুজুর। ওইদিন প্রথমে বিপক্ষের উকিল ওকে জেরা করলেন। লোকটি কোন ও উত্তর না দিয়ে মুখে কেবল ব্যা ব্যা শব্দ করল। একসময় উকিল বাবু রেগে গিয়ে বললেন, লোকটি বোবা নয় স্যার। পুলিশের লাঠির গুতো খেলে সে সত্যি কথা বলবে। এরপর জজ সাহেব ওকে ধমক নামক দিয়ে বললেন, যদি সে সত্যি কথা বলে তবে সে জেল থেকে ছাড়া পাবে। এরপর ও লোকটি মুখে ব্যা ব্যা শব্দ করল। জজ সাহেব ভাবলেন লোকটি বোবা। তাই তিনি কেস ডিসমিস করে দিলেন। এরপর লোকটি আদালত থেকে বেরিয়ে হন হন করে সদর রাস্তায় গিয়ে উঠল। ওর উকিল পেছন থেকে ডেকে বললেন, এই ব্যাটা, আমার পারিশ্রমিক দিয়ে যা। চোরটি মুখ ঘুরিয়ে বলল, ব্যা ব্যা। ব্যা ব্যা।