হাল্কাচ্ছলে

অম্ল মধুর : ঢাকাই রসিকতার রকমারি
২৯ জুন ২০২১
কল্যাণ দেশমুখ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক
86738759_199264754522747_353792166302895

ঢাকা শিল্প সঙসকৃতি সম্পন্ন এক উল্লেখযোগ্য নগরী। বড় বড় অনেক কবি সাহিত্যিকের জন্ম হয়েছিল ঢাকায়। অনেকদিন আগের কথা। ঢাকার এক ছেলের সঙ্গে সিলেটের একটি মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। মেয়েটি শিক্ষিত ও শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে জানে। ছেলের বাবা নেই। মা আছেন। বিয়ের পর একদিন শাশুড়ি তার বৌকে কলস নিয়ে নদী থেকে জল আনতে বললেন। ওদের বাড়ির সামনেই আছে নদী। নববধূ কলসি নিয়ে নদী থেকে জল আনতে গেল। কিন্তু একঘন্টা হয়ে গেল তবুও বৌ ঘরে ফিরে আসেনি। এদিকে শাশুড়ি চিন্তিত অবস্থায় ঘরে পায়চারি করছিলেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর নববধূ জল নিয়ে ঘরে ফিরে এলো। শাশুড়ি জিজ্ঞেস করলেন, নদী থেইক্যা পানি আনতে তোমার এত দেরি অইলো ক্যান?

 

বৌ বলল--

 
' যার লাগি যত
তারে পাইলাম পথো।
হে ও ছাড়ে না
আমি ও আইতাম পারিনা। '


একথা শুনে শাশুড়ি ভাবলেন তার বৌটি অসৎ চরিত্রের। পথে পরপুরুষের সঙ্গে আড্ডা মেরে সময় কাটিয়েছে। তাই ঘরে ফিরতে দেরি হয়েছে। তিনি বৌকে বললেন, আগের কথাডা আরেকবার কোও দেহি? 
 

বৌ  আবার বলল,

 

' যার লাগি যত

তারে পাইলাম পথো।

হে ও ছাড়ে না

আমি ও আইতাম পারিনা। '


এবার শাশুড়ি আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। ঠাস, করে বৌয়ের গালে চড় বসিয়ে দিলেন। বৌ বলল, আপনি আমাকে ভুল বুঝেছেন। আমার কথার অর্থ হল, নদী থেকে আসার সময় বৃষ্টিপাত শুরু হলো। বৃষ্টি ও থামেনা আর আমি ও ঘরে আসতে পারিনা। এখন বৃষ্টি কমেছে। তাই আমি জল নিয়ে ঘরে ফিরে এসেছি। একথা শুনে শাশুড়ি বললেন, ও হেই কডা। আমারে বুঝাইয়া কৈবা তো। তোমারে মারছি কৈয়া রাগ করবা না।

 

নতুন বৌ বলল-- 


' ৮০ তুলায় সের
৪০ সেরে মন।
মনর লগে মন না মিললে
রৈব কি বন্ধন। '

অর্থাৎ, আমার মনের সঙ্গে যদি আপনার মন না মিলে তবে কি করে আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় হবে? কেমন করে আমি পাকাপাকি ভাবে আপনার এখানে থাকব? শাশুড়ি বললেন, তোমার লগে কথা কৈয়া পারুম না। তুমি আইলায় লেখা পড়া জানা মাইয়া। বুঝছি আমার বোবা অইয়া থাকন লাগব। আইচচা, দেহি আমার পোলাডায় কি কয়।

একবার ঢাকার আরেক মেয়ের সাথে শিলচরের এক ছেলের বিয়ে হয়েছিল। একদিন বর অফিস থেকে ফিরে এসেছেন সন্ধার সময়। তিনি ঘরে এসেই তার বৌকে বললেন, নমিতা তিনতলার ছাদে চলো। কথা আছে। এরপর উভয়েই তিনতলার ছাদে গেলেন। বৌ একটু দূরে দাড়িয়েছিলেন। বর বলল, আকাশে অজস্র তারার মেলা। পূর্ণিমার রাতে আকাশ ঝলমল করছে। নীচের এই ছাদে শুধু তুমি আর আমি। এসো কাছে এসো। বৌ বলল, হ বুঝ্যা ফালাইছি। তুমি কুকাজের ধান্ধায় আমারে কাছে ডাকতাছো। এত কাব্য না কৈরা আমারে খোলাখুলি সেক্সের কথা কৈলেই অইতো।


রস সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলি সিলেটের লোক ছিলেন। তিনি তার একটি রচনায় ঢাকাই রসিকতার উল্লেখ করেছেন। সদ্য ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান হয়েছে। দলে দলে হিন্দুরা পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে আসছেন। পূর্ব পাকিস্তানের অনেক মুসলমানের চোখে হিন্দুদের চলে যাওয়া ভালো লাগেনি। ওই সময় এক হিন্দু পরিবারের আটজন সদস্য ভারতে চলে যাওয়ার জন্য সটীমারঘাটে এসে হাজির হয়েছেন। ওরা ট্রাকের উপর থেকে ওদের মালপত্র নামাচছেন। এমনসময় এক পরিচিত মুসলমান সদস্য এগিয়ে এসে বললেন, আপনারা পাকিস্তান ছেড়ে যাবেন কেন? পাকিস্তান শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। হিন্দুদের ও থাকার ষোল আনা হক আছে। পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা দেখুন। তিন ভাগ সবুজ ও একভাগ সাদা। সবুজ রঙ মুসলমানের। সাদা রঙ হিন্দুর। তাহলে আপনি কেন আপনার জন্মভূমি ছাড়বেন? আপনার থাকার জায়গা ও তো আছে এই দেশে। তাই আমার অনুরোধ, আপনারা আপনাদের জনমভিটে ছেড়ে ভারতে যাবেন না। সেই সময় ঘোড়ার গাড়ির গাড়োয়ান অর্থাৎ কুটটি বলল, ভালো কৈরা চাইয়া দেখেন, পতাকার ওই সাদা অংশে বাশ ঢোকাইল আছে। তাই দেরি না কৈরা ভারতে আপনারা পলাইয়া যান।