হাল্কাচ্ছলে

কোভিড
সোমা চক্রবর্তী
১৮ জুলাই ২০২১

বিজনবাবুর মনটা আজ বেশ ফুরফুরে। অনেক মাস পর আজ বেরিয়েছেন তিনি। কোভিডের প্রকোপ শুরু হতেই তাকে কয়েদ করেছিল তার বৌমা মন্দিরা আর ছেলে অঞ্জন। স্ত্রী অঞ্জলি মারা যাবার পরও বিজনবাবু একাই থাকতেন  নাগেরবাজারে। চারপাশে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব নিয়ে দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু হৃদযন্ত্র বিকল হলে অঞ্জন ও মন্দিরা তাকে আর একা রাখতে ভরসা পাননি। নিয়ে এসেছেন পুনায়। মন্দিরা, অঞ্জন আর দিয়ার ব্যস্ত সংসারে সুন্দর জায়গা হয়েছে বিজনবাবুর। সকাল সন্ধ্যায় হাঁটার মাঝে  বন্ধুও  জুটে গেছে। জীবনপাত্র এখন কানায় কানায় ভর্তি। অভাব শুধু অঞ্জলির। এতো সুখ আর দেখা হলো না বেচারির। তিনি অকালে কর্কটদংশনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন আজ সাত বছর হলো। 

ব্যাঙ্কের একটা জরুরি কাজের জন্য তাকে বেরোতে হয়েছিল। খুব ভালো লাগছে আজ তার। নগদ প্রাপ্তিও মন্দ হয়নি। ব্যাঙ্কের কাজ সেরে কেনাকাটা করলেন কিছু। একটু ফল মিষ্টি কিনে ঢুকলেন একটা খেলনার দোকানে। দিয়া তার মাম্মার চোখ কান এড়িয়ে একটা বার্বি ডলের আবদার করেছিল। প্যাকাটির মতো পুতুলের কি দাম !! বাপরে বাপ!  যাকগে, যার যা পছন্দ!!

ফিরতি পথে মেঘলা আকাশ তার বিয়ার পিপাসা বাড়িয়ে দিল। একটা বারে ঢুকে অর্ডার দিয়ে আরাম করে বসলেন। দুপুরবেলা ফাঁকা বার। খদ্দের নেই একজনও। এদিক‌ ওদিক চোখ চালালেন। একদিকে কয়েকজন কলগার্ল নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। তিনি হাত খালি করে আরাম করে চুমুক দিলেন বিয়ারের মগে। একজন কলগার্ল এগিয়ে এলো। তিনি সভয়ে জানালেন তার কোন সার্ভিসের প্রয়োজন নেই। মন্দিরার বয়সী মেয়েটির শরীরের বাঁধুনি চমৎকার। তাকাবেন না পণ করলেও অজান্তে চোখ চলে যায়। মেয়েটি সার্ভিস দিতে চায়। জানালো প্রায় মাস ছয়েক কাজ নেই।‌ ঘরে হাঁড়ি চড়া মুশকিল। এবার বিজন বাবুর মনে হল উগ্র সাজপোশাকের আড়ালে মুখ গুলো যেন শুকনো। তিনি  চারটে মেয়ের জন্যই তড়কা রুটি অর্ডার করলেন। ইতস্তত করে মেয়েগুলো খেতে শুরু করলো। তাদের সত্যি খিদে পেয়েছিল।  গোগ্রাসে খেতে দেখলেন  তাদের। খেয়ে দেয়ে জুলি এগিয়ে এলো। তাদের চারজনের হয়ে অনেক ধন্যবাদ জানালো বিজনবাবুকে।


তার হাত ধরে মেয়ে গুলো একটু আড়ালে নিয়ে গিয়ে ঘিরে বসলো। বিজনবাবুর ঘাম ছুটছে। গত দশ বছর স্ত্রীসঙ্গ বর্জিত জীবন তাঁর। খুব সুখী দম্পতি ছিলেন তাঁরা। জলি জানালো তার মেয়ের কথা, যে না কি দিয়ার বয়সী।  বলল একটু সার্ভিস দিতে চায়। তারা কর্মী, ভিক্ষুক নন। বলেই ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত করে জড়িয়ে ধরে বিজনবাবুকে। 


ক্ষণকাল পরেই সম্বিত ফিরে পেয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে নারীটির বাহুপাশ থেকে মুক্ত করেন তিনি। পাঁচশো টাকা আর দিয়ার বার্বিটা জলির হাতে দিয়ে বলেন মেয়েকে বলো দাদু দিয়েছে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসেন বার থেকে।

অনেক দিন পর ঘুমের মাঝে অঞ্জলি আসে তার কাছে। খুব হাসিখুশি সুন্দরী ছিলেন তার স্ত্রী। অনেক দিন পর ঠোঁট টিপে হাসেন অঞ্জলি। এ সেই হাসি যাতে ফিদা হতেন বিজনবাবু।