হাল্কাচ্ছলে

অম্ল মধুর : আধুনিকতার ঠেলায়ও অম্লান নববর্ষ
১৬ এপ্রিল ২০২১
কল্যাণ দেশমুখ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক
86738759_199264754522747_353792166302895

"বর্ষশেষ" কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন --

 

' বর্ষ হয়ে আসে শেষ,
দিন হয়ে এল সমাপন,
চৈত্র অবসান--
গাহিতেছে হিয়া
পুরাতন ক্লান্ত বরষের
সর্বশেষ গান '।
   

নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে মহাজনেরা দোকানে করেন হালখাতা মহরতের অনুষ্ঠান। সিদ্ধিদাতা গনেশ ঠাকুরের পুজো দিয়েই নতুন বছরের সূচনা হয়। গনেশ পূজার পর শুরু হয় আমাদের পেট পূজা। নববর্ষকে আমরা প্রতি বছর ধূপধূনা জ্বালিয়ে, নেচে গেয়ে আবাহন করি। কিন্তু নববর্ষ প্রতিদানে প্রতিবারই আমাদের চোখে বর্ষা ঝরায়। পুরনো বছরটা যাবার সময় আমাদের ল্যাঙ মেরে চলে যায়। অথচ তাকে আমরা কত না আদরে, সম্মানে আবাহন করি। কিন্তু প্রতি বছর নববর্ষে সব জিনিসের দাম হয় ঊর্ধমুখী। মাথায় যেন চলে ইষ্ট বর্ষণ। ইষ্ট দেবতার নাম পর্যন্ত ভুলিয়ে দেয়। প্রতিদিন দেখছি, সব জিনিসের দাম বাড়ছে। শুধু মানুষের দর, আদর, কদর কমছে। তবুও বলি, হে নববর্ষ তুমি আমাদের জীবনে উৎকর্ষ বাড়ানোর জন্য নব নব রূপে প্রতি বছর এসো। 


"বর্ষ শুরু" কবিতায় অঞ্জলি মুখোপাধ্যায় লিখেছেন --


' শুভলগনে নববর্ষ এলো আঙিনায়
চৈত্র বিদায় বলে দূরে চলে যায়।
পাতা ঝরানোর কাজ সারা হলো তার
নতুন সাজেতে সাজে প্রকৃতি আবার
বৈশাখ তার মাঝে বর্ষ শুরু মাস
আনন্দে ভরা হোক, মনে নানা আশ।
বাঙালি কলঙ্ক মোছো , হে বর্ষ বরণি
রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি '। 

   

নববর্ষের দিনে যে যার সাধ্য মতো মাছ, মাংস কিনে আনেন। যে যার সাধ্য মতো পিঠে পুলির আয়োজন করেন। একবার নববর্ষের দিনে এক ভদ্রলোক তার বৌয়ের সঙ্গে অলিখিত চুক্তি করেছিলেন। ঘরে মৌখিক গোলাগুলি একদমই নয়। সারাবছর গোলাগুলি চললেও নববর্ষের দিনে তা থেকে আমরা বিরত থাকব।
   

নতুন বছরে নতুন পঞ্জিকা পাওয়া যায়। এতে রাশিফল লেখা থাকে। এক ভদ্রলোক তার বৌয়ের রাশিফল পড়ে শোনাচ্ছিলেন। তিনি পড়লেন, এই বছর বর আর বধুর মধ্যে মৌখিক গোলাগুলি আগের চেয়ে আর ও বাড়বে। তবে প্রতি বছরের মতো বর হারবেন। বৌ জিতবেন। তবে মৌখিক গোলাগুলি চললেও ছাড়াছাড়ি হবার সম্ভাবনা নেই। পত্নীর শরীরের দিকে খেয়াল রাখবেন। খেয়াল না রাখলে অন্য হাতে চলে যাবার সম্ভাবনা আছে। 
   

নববর্ষের দিনে অনেক পান রসিক রঙিন ও সাদা পানীয় খেয়ে মৌজ মস্তি করে থাকেন। একবার নববর্ষের রাতে দুই মাতাল একটা বারে গিয়ে ঢুকেছিল। এরা দুজনেই রঙিন পানীয় খাচ্ছিল। এরপর রাত অনেক হলো। একে একে অন্য খদ্দের চলে গেল। কিন্তু এই দুজনের উঠার নাম নেই। একসময় ম্যানেজার বললেন, আপনারা এবার উঠুন। বার বন্ধ করার সময় হয়ে গেছে। এদের মধ্যে একজন নবীন, অন্যজন প্রবীন। বুড়ো মাতাল বলল, নববর্ষে মাল খেলে সারাবছর ভালো কাটে। এরপর এরা টলতে টলতে বারের বাইরে গেল। এই সময় নবীন মাতাল জিজ্ঞেস করল, আপনি কোন দিকে যাবেন? বুড়ো মাতাল বলল, দক্ষিণ দিকে। নবীন মাতাল বলল, আরে আমি ও তো দক্ষিণ দিকে যাব। বুড়ো মাতাল বলল, আমার ঠিকানা মন্ডল নিবাস। ছোট মাতাল বলল, আমি ও তো ওখানে থাকি। আপনি হয়তো আমার বাবাকে চেনেন। আমার বাবার নাম হরেন্দ্র মন্ডল। বুড়ো মাতাল বলল, আরে আমিই তো হরেন্দ্র মন্ডল।