হাল্কাচ্ছলে

অম্ল মধুর : স্বামী বিক্রয় কেন্দ্র
২৫ জুলাই ২০২১
কল্যাণ দেশমুখ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক
86738759_199264754522747_353792166302895

কথায় বলে, মানুষের চাহিদার শেষ নেই। আমরা যত পাই তত চাই। আরও চাই, আর ও চাই, এটাই হলো মানুষের স্বভাব। 
   

আমেরিকায় সম্প্রতি একটা শো- রুম চালু হয়েছে। যার নাম "স্বামী বিক্রয় কেন্দ্র"। এখানে বিভিন্ন ধরনের পুরুষ মানুষ কিনতে পাওয়া যায়। মেয়েরা এখান থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী স্বামী কিনে নিতে পারেন। 
   

কেনার নিয়ম হলো---- 

১. যে কোন ও মহিলা সেখানে একবার- ই মাত্র প্রবেশ করতে পারবেন। 

২. এখানে ছয়টি ফ্লোর আছে। মহিলারা যে কোন ও ফ্লোর থেকে নিজের জন্য স্বামী নির্বাচন করতে পারবেন। তবে দ্বিতীয় ফ্লোর অতিক্রম করে আবার প্রথম ফ্লোরে নেমে এসে স্বামী নির্বাচন করতে পারবেন না। দ্বিতীয় ফ্লোরে স্বামী পছন্দসই না হলে তিনি উপরের দিকে যেতে পারবেন। কিন্তু কিছুতেই উপরের ফ্লোরের স্বামী পছন্দ না হলে নীচের ফ্লোরে নেমে এসে স্বামী পছন্দ করতে পারবেন না।

এক যুবতী নিজের জন্য স্বামী নির্বাচন করতে গিয়ে দেখলেন,

 

প্রথম ফ্লোরে লেখা আছে, এখানের পুরুষরা চাকরিজীবী ও তারা ঈশ্বর বিশ্বাসী।

 

মহিলাটি এরপর দ্বিতীয় ফ্লোরে গেলেন। সেখান লেখা আছে, এখানকার পুরুষরা চাকরিজীবী, ঈশ্বর বিশ্বাসী ও শিশু প্রেমিক।

 

মহিলাটি এরপর তৃতীয় ফ্লোরে গেলেন। সেখানে লেখা আছে, এখানকার পুরুষ মানুষরা চাকরিজীবী, ঈশ্বর বিশ্বাসী, শিশু প্রেমিক ও রূপ কুমার।

 

এরপর ওই মহিলা চতুর্থ ফ্লোরে গেলেন। সেখানে লেখা আছে, এখানকার পুরুষরা চাকরিজীবী, ঈশ্বর বিশ্বাসী, শিশু প্রেমিক, রূপ কুমার ও এরা নিজের স্ত্রীকে গৃহ কাজে সাহায্য করবেন।

যত-ই  ভদ্রমহিলা উপরের দিকে যাচ্ছেন তত- ই তিনি গুণধর স্বামীর সন্ধান পাচ্ছেন। তা দেখে আনন্দিত হয়ে তিনি পঞ্চম ফ্লোরের দিকে পা বাড়ালেন। সেখানে লেখা রয়েছে, এখানকার পুরুষরা ঈশ্বর বিশ্বাসী, চাকরিজীবী, শিশু প্রেমিক, রূপ কুমার, স্ত্রীকে গৃহের কাজে সাহায্য করবেন ও এরা খুব রোমান্টিক স্বভাবের।

এখানেই মহিলাটির থেমে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি আরও গুণধর স্বামীর আশায় ষষ্ঠ ফ্লোরে গেলেন। সেখানে লেখা রয়েছে, আমরা দু:খিত। এখানে কোনও স্বামী পাওয়া যায় না। এখানে নির্বাচন করার মতো কোন ও পুরুষ মানুষ নেই। এই ফ্লোরটা আমাদের শো- রুমের অঙ্গ নয়। এই ফ্লোরটা রাখা হয়েছে শুধু এটা প্রমাণ করার জন্য যে, মানুষকে তুষ্ট করা কত অসাধ্য ব্যাপার। আমাদের মনে রাখা উচিত-- আমাদের জীবনের চাহিদাকে যত সীমিত করে রাখব, তত আমাদের জীবন শান্তিময় হয়ে উঠবে।