হাল্কাচ্ছলে

অম্ল মধুর : হ্যাপি বার্থডে
২৭ এপ্রিল ২০২১
কল্যাণ দেশমুখ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক
86738759_199264754522747_353792166302895

রিপাবলিক ডে, ম্যারেজ ডে, ভ্যালেনটাইন ডে ইত্যাদি অজস্র রকমের ডে বা দিবসের ছড়াছড়ি আছে এই জগতে। কতগুলো হলো বিশুদ্ধ রাষ্ট্রিয় দিবস। আর কতগুলো হলো প্রসিদ্ধ পারিবারিক দিবস। বার্থ ডে বা জন্মদিন পালন নামক অনুষ্ঠান মূলতঃ শ্বেত সাহেবদের দেশ থেকে কালো সাহেবদের দেশে আমদানি হয়েছে। আর আমরা ধনী-দরিদ্র অনেকেই তাদের পোশাকের মতো বার্থডে কে সাদরে আমাদের জীবন বৃক্ষে ধারণ করে রেখেছি। জন্মের আনন্দঘন মুহূর্তে শাখ বাজে, উলুধ্বনি হয়। চলে মিস্টি বিতরণ। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে চলে নেচে নেচে গান, ' হ্যাপি বার্থডে  টু ইউ '। বার্থডে পালন না করলে নব্য বাঙালির মান যায়। বিশ্বজুড়ে রবি ঠাকুরের জন্মদিন যখন পালিত হয় তখন পাড়ায় পাড়ায় প্যাঁচা-প্যাঁচির জন্মদিন পালনে আপত্তি কেন?

সেদিন সৌমিত্র তার প্রিয়তমার বার্থ ডে পালন করবে বলে কথা ছিল। চিঠি ও ছাপানো হয়ে গিয়েছিল। উপহার সামগ্রী ও সৌমিত্র কিনে ফেলেছিল। কিন্তু প্রিয়তমা সাকির কাছ থেকে হঠাৎ ফোনে এলো তাগাদা। তুমি আর দেরি করো না। আমার পেছনে কেরোসিনের লাইনের মতো দীর্ঘ লাইন। কাকে রাখব আর কাকে ছাড়ব বুঝতে পারছি না। কিন্তু তুমি আমাকে ভুল বুঝবে না। তোমার নামটা এখন ও প্রথম লিস্টে আছে। অবশ্য তুমি দেরি করলে ওয়েটিং লিস্টে চলে যাবে। আর অত্যধিক দেরি করলে টা-টা-বাই-বাই। এরপর সৌমিত্র তার বন্ধু বান্ধবদের লিখল, আগামী বৈশাখ মাসের ২২ তারিখে আমি খাল কেটে কুমির আনব। তোমরা সবাই আমার খাল কর্তনের এই শুভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কুমিরকে আশীর্বাদ দানে কৃতার্থ করবে। আর সেসঙ্গে খাল কর্তনকারীকেও আশীর্বাদ দান থেকে বঞ্চিত করোনা। তোমরা তো জানোই, বিয়ের দেবতা হলেন প্রজাপতি। তাই তোমরা বুঝতেই পারছো, পতিকে পারমানেন্ট প্রজা হয়েই থাকতে হবে।

এদিকে সৌমিত্রর প্রিয়তমা সাকি তার বন্ধু বান্ধবদের লিখেছে, আগামী বৈশাখ মাসের ২২ তারিখে আমি শাখা সিদুর পরে পিত্রালয় থেকে গাড়িতে চড়ে যমালয়ে যাব। তোমরা সবাই আমার বিয়েতে উপস্থিত থেকে যমরাজ ও তার অনুচরদের ভালো করে চিনে রাখবে। পরে শ্বশুর বাড়িতে যম দ্বারা বা শাশুড়ি ও ননদ দ্বারা অস্বাভাবিক উপায়ে নির্যাতিতা হয়ে ইহলোক ত্যাগ করলে তোমরা নারী পরিষদের সদস্যরা যম ও তার পরিবারের দোষী অনুচরদের বাশ দিও।


এরপর ওই শুভদিনে সৌমিত্র ও সাকি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হলো। প্রতি বছর ঘটা করে সাকির বার্থডে পালন চলছিল। একবার সে তার জন্মদিনের প্রাক্কালে সৌমিত্রকে জিজ্ঞেস করেছিল, এবারে আমার জন্মদিনে তুমি আমাকে কী উপহার দেবে? সৌমিত্র বলেছিল, তোমার জন্মদিনে এবার আমি নতুন এক উপহার দেব, যা তুমি কল্পনা ও করতে পারবে না। সাকি জিজ্ঞেস করল, উপহারটার নাম কী? সৌমিত্র বলেছিল এবারের জন্মদিনে তোমাকে তোমার হাতের মাপে সাড়ে তিন হাত জমি কিনে দেব। কারণ, আমরা শহরে বাস করি। এখানকার শ্মশানে একের উপর আরেক জনের শবদাহ করা হয়। তাই তোমার অন্তিম শয্যার জন্য আমি পৃথক সহায়ী ব্যবস্থা রেখে যেতে চাই। অবশেষে বৌয়ের জন্মদিনে অভিজাত অঞ্চলে সৌমিত্র তার বৌয়ের হাতে সাড়ে তিন হাত জমি কিনে বৌকে উপহার দিয়েছিল। পরের বছর যখন সাকি তার স্বামীকে আবার বলল, এবারের জন্মদিনে তুমি আমাকে কী উপহার দেবে? গতবছর তো আমার হাতে সাড়ে তিন হাত জমি দান করে দায় সেরেছিলে। সৌমিত্র বলেছিল, তোমাকে উপহার দিয়ে কী লাভ?

গতবারের উপহারের জমিটুকু তুমি এখন ও কাজে লাগাতে পারো নি।