মত-অভিমত / Opinion Arena

এই বিভাগের ভাবনা মূলত যে কোন প্রাসঙ্গিক ব্যাপারে একটি সুস্থ বিতর্কের মঞ্চ তৈরি করার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত। বিতর্ক যেহেতু এক পক্ষীয় হতে পারে না তাই এতে বিষয়ের পক্ষে এবং বিপক্ষে ন্যুনতম দুজন অংশগ্রহন করার বিধান। দুইয়ের অধিক হলেও কোন অসুবিধা নেই। তাতে এটি আরো জমাটি হতে পারে। আগামীতে বিতর্কের বিষয় অগ্রিম জানানো হবে। আমরা মুখোমুখি বিতর্ক সভা আয়োজন করার এবং তার ভিডিও প্রকাশ করারও চেষ্টা করব। ঈশান কথা বন্ধু দের সক্রিয় অংশগ্রহনে এই বিভাগটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে , আশাকরি। যারা এখানে অংশগ্রহন করেছেন বা করবেন তাদের মতামত একান্তই ব্যক্তিগত। এর সাথে টিম ঈশানকথার কোনভাবে কোন সম্পর্ক নেই।

The idea of section is conceived  to provide a platform for healthy debate on a specific topic. As any debate can't be one-sided so there will be minimum two participants, though, we expect more people to perticipate so that the debate become an interesting one.We will try to convey the topic of the debate in advance for our future edition. We will also try to arrange live debate session & publish it in video format. Hope, friends of "Ishan Kotha " will come up to make this section lively. It is to be noted that whatever be the opinion expressed by the participants here are their own views.
Team "Ishan Kotha" is not in anyway related with the views expressed by the participants.

" মত অভিমত " বিভাগে ১ , ৮ ও ১৫ আগস্ট ২০২০ সংখ্যার বিতর্কের বিষয় -

 

মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় বলেছেন ... বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান দুই জনগোষ্ঠীভুক্ত।

এদের রাজনৈতিক স্বার্থে ' 'একই বৃন্তে দুটি কুসুম' বলা হয়।

তিনি বলছেন, ভাষা এক মানেই দুই জনগোষ্ঠী অভিন্ন -- এটা সম্পূর্ণ ভুল চিন্তা। 

তথাগত বলছেন, এই বাস্তবকে মেনে নিয়ে দুই জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা,

অলীক কল্পনায় এই পার্থক্যকে অস্বীকার না করা ... ইত্যাদি ।

৮ আগস্ট সংখ্যায় বিষয়ের পক্ষে / বিপক্ষে কলম ধরেছেন ঈশানকথার দুজন পাঠক তথা শুভাকাঙ্ক্ষী ।

জয় মুখার্জী
চাকুরীজীবী , প্রাবন্ধিক (দুর্গাপুর)
৮ আগস্ট ২০২০  
 

সম্মানীয় রাজ্যপাল শ্রী তথাগত রায় কি পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন আমার জানা নেই। কিন্তু আমি ধারনা করে নিতে পারি যে ওই পরিস্থিতিতে হয়তো ওনার পক্ষে এর থেকে বেশি কঠিন বাক্য উচ্চারণ করা সম্ভব ছিল না। তবুও ওনার মন্তব্য পড়ে আমি বিস্মিত হয়ে যাই। এতো যুক্তিযুক্ত কথা তো এনারা সহজে বলেন না ! সবার হয়তো মনে থাকবে, বিভিন্ন সময় তিনি নানা মন্তব্যের জন্য নিজেকে বিখ্যাত করেছেন।

উনিশ শো চল্লিশ সালে লিখিত নিজের প্রবন্ধ - Pakistan or Partition of India- তে আম্বেদকর লিখেছেন যে - দ্বিজাতি তত্ত্বে জিন্না ও সভারকারের একমত হওয়া বিস্ময়কর। তাঁরা শুধুমাত্র একমত ই নন তাঁরা দাবি করেছেন যে একটি ভারতের মধ্যে একটি পাকিস্তান ও একটি হিন্দুস্তান আছে। প্রভেদ হচ্ছে এই যে - জিন্না যেখানে আলাদা ভূখণ্ড চাইছেন, সভারকার চাইছেন একই ভূখণ্ডে দুই জাতি সহাবস্থানে থাকবে যেখানে হিন্দু তাঁর স্বাভাবিক ক্ষমতার উচ্চাসনে থাকবে এবং মুসলমান হিন্দুর সঙ্গে সহযোগিতা করে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকবে। 

এবার কথা দুটো একই রকম মনে হচ্ছে কি? 

আমরা জানি জিন্নার অনেক আগে থেকেই হিন্দু মহাসভা দ্বিজাতি তত্ত্বের বিশ্বাসী ছিল। ১৯৩৭ সালে আহমেদাবাদে মহাসভার ১৯তম অধিবেশনে সভারকার প্রথমবার দ্বিজাতি তত্ত্বের কথা বলেন, যা তার থেকে তিন বছর পর জিন্নার মুখে শোনা যায়।

এই তো গেল প্রেক্ষিত। বাকি খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক ইত্যাদি বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তার কোনো অর্থ দাঁড়ায় না। বাঙালি হিন্দু আর মুসলিমের খাওয়া দাওয়ায় পার্থক্য কোথায় আমি জানি না। পোশাকের কথা নিয়ে আর কিছু বলছি না, তাঁরা পোশাক দেখেই চরিত্র /অভিসন্ধি বুঝে যান। 

আসলে আমাদের চারদিকে দেয়াল তুলতে শুরু করলে তো আর শেষ নেই। বাড়তেই থাকবে দেয়াল, উঁচু থেকে উঁচু। উনি বলছেন অসমীয়া, বিহারী দের সঙ্গে যেমন প্রভেদ তেমনি মুসলমানদের সঙ্গেও প্রভেদ আছে। আছে তো, থাকতেই পারে। সবার কাঠামো এক হতে হবে এমন তো কথা নয়? কিন্তু সমস্যা হয় যে যদি সেভাবে বিভেদ খাড়া করতে থাকি তবে এর শেষ কোথায়? একটি দেশের মধ্যে ভাষা ভিত্তিক, খাদ্যাভ্যাস ভিত্তিক, আচরণ ভিত্তিক হাজার দেশ? তবে তাঁদের -হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্থানের কি হবে?

 

তাই যদি হতে হয়, সবার ভাষা এক, খাদ্য এক, সংস্কৃতি এক হতে হবে। তাতেই যদি শেষ হতো, তবে দেশের কোনে কোনে দলিতদের ওপর বা আদিবাসি দের ওপর অত্যাচার বন্ধ হতো, কারণ ওরা তো মুসলমান নয়। কিন্তু তা হয় না।

আমাদের নিশ্চয়ই এটা ধারণা করা কঠিন নয় যে, আমরা যদি এভাবে দেয়াল তৈরি হতে দিই, তারপর কোপ আসবে আদিবাসী, দলিতের ওপর। তখন খাদ্যাভ্যাস বা পোশাক ছাড়া কি অজুহাত নেয়া হবে জানি না। তারপর মহিলাদের ওপর। শেষে প্রতিষ্ঠিত হবে সবর্ণ হিন্দু পুরুষশাসিত রাষ্ট্র, যাতে সবই সাদা কালো। সবই একমাত্রিক, মনুবাদ।

এটা আমাদের বুঝে নিতে হবে যে আমাদের দেশে এই ধরণের একমাত্রিক কর্তৃত্বের কাঠামো  (hegemonic structure) সম্ভব নয়। জোর করে তা করতে গেলে ভুল হবে। আর অত্যাচারের কথা যদি ধরেন, তবে বর্গীরা ও তো কম অত্যাচার করেনি আমাদের ওপর। তবে কি আমরা তার প্রতিশোধ চাইছি নাকি? না। কারণ তখন রাজরাজড়া দের আমলে অমন যুদ্ধ -আক্রমণ হামেশাই হয়েছে।

 

তবে এটুকু ঠিক যে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা এখনো অনেকাংশেই নিজেদের ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। ওঁদের ধর্মীয় পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। এই অচলায়তন থেকে ওঁদের বেরিয়ে আসতে হবে। এই অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে, এবং মানসিকতায় অনেক বদল ঘটেছে।

 

দেশভাগ ও তার প্রেক্ষিতের দাঙ্গা, হিংসা থেকে জন্ম হওয়া অবিশ্বাস ও সন্দেহের বীজ সহজে যাবার নয়। তারই মধ্যে থেকে উত্তরণের রাস্তা খুঁজে নিতে হবে দুই সম্প্রদায়ের লোকেদেরই। তথাগত বাবুরা বিভেদটা ধর্মের ভিত্তিতে করতে চাইছেন তাতে অসমীয়া বা মারওয়ারী আধিপত্য  মেনে নিতে অসুবিধা তাঁদের নেই। আমি চাই সবাই নিজের ভাষিক-সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় নিয়ে, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাক।
 

বাঙালি ও বাঙালি মুসলমানে ঐক্য অমূলক ...
সমরবিজয় চক্রবর্তী
কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক
৮ আগস্ট ২০২০
 

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক তথা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ের প্রাক্তন উপাচার্য আবুল ফজল বাঙালি মুসলমান জনগোষ্ঠীকে ভাষিক পরিচয়ে দেখেননি অর্থাৎ শুধুমাত্র ‘বাঙালি’ নয় ‘বাঙালি মুসলমান’ হিসেবে গণ্য করেছেন, ঠিক তেমনটাই খ্যাত রাষ্ট্রবাদী নেতা ও লেখক, বর্তমানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজ্যপাল তথাগত রায় মহাশয়ও একই মত পোষণ করেন। বাঙালি হিন্দু আর বাঙালি মুসলমানের মধ্যে তেলে জলে সম্পর্ক, এ কথাটা তথাগত মহাশয়ের বয়ানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।প্রসংগত, বাঙালি মুসলমান সম্পর্কে আবুল ফজল মহাশয়ের হতাশা তুলে ধরা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি :  
 

''যে জাতি উন্নত বিজ্ঞান, দর্শন এবং সংস্কৃতির স্রষ্টা হতে পারে না, অথবা সেগুলোকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে গ্রহণ করতে পারে না, তাকে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র সৃষ্টিও সম্ভব নয়। যে নিজের বিষয় নিজে চিন্তা করতে জানে না, নিজের ভালোমন্দ নিরূপণ করতে অক্ষম, অপরের পরামর্শ এবং শোনা কথায় যার সমস্ত কাজ-কারবার চলে, তাকে খোলা থেকে আগুনে কিংবা আগুন থেকে খোলায়, এইভাবে পর্যায়ক্রমে লাফ দিতেই হয়...''

ফজল মহাশয় মনে করেন যে তাঁদের ধর্মই তাঁদের এই পর্যায়ে রেখেছে। সুতরাং গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, সদা উত্তরোত্তর উন্নতি পন্থী, সংস্কৃতিমনস্ক, সুকুমার বৃত্তির প্রতি আবিষ্ট বাঙালি হিন্দুর সাথে কী করে চৌদ্দশো শতকের আগের অপরিবর্তনীয় নারকীয় মতবাদের সংগে খাপ খাবে চরৈবেতি বাঙালি হিন্দুর ?

হিন্দু সমেত সকল অমুসলিম বাংলাভাষীরা নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিতে অধিক আগ্রহী, তাদের কাছে জাতি পরিচয়ে ধর্মের প্রাধান্য স্থান পায় না। ভাষিক পরিচয়ের বদলে ধর্মীয় পরিচয়কেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বাংলাভাষী মুসলমান অর্থাৎ আগে মুসলমান পরে প্রয়োজনে স্থান ও সময়ের প্রেক্ষিতে অন্য পরিচয়ের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে, এমন। বিশ্বময় মুসলমানের একই পরিচয়, তারা মুসলমান, নামে মুসলমান অর্থাৎ মুরতাদদের কথা বাদ দিলাম। কথার পিঠে কথা উঠে আসে, বাংলাদেশের জাতীয় কবি, সকল বাঙালির পরম ভক্তির মানুষ কাজি নজরুল ইসলাম, নামে মুসলমান, তিনি মুমিন ছিলেন না, মুরতাদ। সোজা কথা ইসলামের প্রতি অনাসক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি করা হয়েছে। তাঁর নাম মুসলমানি ছিল বলে তাঁকে সে দেশের জাতীয় কবি করা হলো। নজরুলের কোনো বাসস্থান পূর্ব বঙ্গে ছিল না, রবীন্দ্রনাথের ছিল—জমিদারি  পর্যন্ত ছিল। রবীন্দ্রনাথ সে দেশের জাতীয় কবি নন কারণ, তিনি অন্তত নামে মুসলমান নন, নামে স্পষ্টত তিনি কাফের।

জীবন ধারণের খাতিরে বাঙালি মুসলমান যে কোনো ভাষিক পরিচয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু এ-যে বইয়ের মলাটের মতো, মলাটের ভেতরে বই পড়লে বোঝা যাবে বইয়ে কী লেখা আছে। সকল সময় বহিঃপ্রকাশ তাদের উদ্দেশ্য বলে দেয় না। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় যেসব বাঙালি মুসলমান বাস করেন তারা সরকারি খাতায় নিজেদের  অসমিয়া পরিচয় দিয়েছেন। দিল্লিতে কয়েক লক্ষ বাঙালি মুসলমানের বাস, তারা সরকারি খাতায় নিজেদেরে মুসলমান পরিচয় দিয়ে উর্দু ভাষী বলছেন। প্রয়োজনের তাগিদে বাঙালি মুসলমান যে কোনও সময় বাঙালি শব্দ ত্যাগ করতে পারেন,  কিন্তু মুসলমান পরিচয় নয়। মুসলমান হচ্ছে তাদের প্রথম পরিচয়। তথাগত ঠিকই বলেছেন, “একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান” ফানুস মাত্র, বাস্তবে তা আজো ফলপ্রসূ হয়নি এবং হবে বলে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।

অঙ্গুলিমেয় মুসলমান নামধারী বাঙালি প্রকৃত বাঙালি কিন্তু তাঁদেরে মুমিনরা মুরতাদ বলেন, তাঁরা বুঝি মুসলমানের শত্রু— কাফের হত্যার বিধান যেমন ইসলামে রয়েছে, মুরতাদ হত্যার বিধানও বুঝি রয়েছে। ইসলাম মুসলমান পরিচয়ের বাইরে আর কোনো পরিচয়ে কোনও জাতি থাকুক তা চায় না। বিশ্বের সকল মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হোক—এটা ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য। ইসলামে বিধর্মীর জন্যে প্রেম-সেবা-ক্ষমা-কৃতজ্ঞতাবোধ, এসব কিছুই নেই। মুসলমান পরিচয়ই প্রথম এবং শেষ পরিচয়, সুতরাং বিশ্বের প্রায় ত্রিশ কোটি বাঙালির ভাষিক পরিচয়ে ‘বাঙালি’ নামে পরিচয় অমূলক, তা কাঙ্ক্ষিত হলেও অমূলক। বাংলাদেশে কোটি কোটি বাঙালি ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন, ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন, জমি জিরেত বেহাত হয়েছে, দেবালয় নিশ্চিহ্ন  করা হয়েছে, অকথ্য অত্যাচারে জর্জরিত বাঙালি বাংলাদেশে এবং এসব এখনো অব্যাহত। মুমিন নেতারা চান বাংলাদশের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথের লেখা “ও আমার সোনার বাংলা...”র পরিবর্তে মুসলমানের লেখা গান হোক যে গানে ইসলাম ধ্বনিত হবে। বাংলাদেশের নামও ইসলামি করণের লক্ষ্যে। তাঁদের মনোবাসনায় বাংলা ভাষাটাই পাল্টে দিয়ে উর্দু হোক সে দেশের রাষ্ট্র ভাষা, আরবি বা পার্সি হলেও তাঁরা হয়তো মেনে নেবেন। বৃহৎ সংখ্যক মুমিনরা চাইছেন বাংলা আরবি অক্ষরে লেখা হোক। প্রসংগত, বাংলাদশে বাংলা রাষ্ট্র ভাষা হোক, এই লক্ষে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত পাকিস্তানের সংসদে নিজের জীবন বিপন্ন করে লড়ে গেছেন— সকল মুসলমান সদস্যরা বাংলার বিরুদ্ধে বয়ান দিয়েছিল। ফল কী হলো, তাঁকে অকথ্য অত্যাচারে মৃত্যু বরণ করতে হল। এই মহাপুরুষের জন্মদিন বাংলাদেশে পালন করা হয় না, তাঁর স্মৃতি সম্পর্কিত কোনো গুণগান হয় না, ঢাকাতে কোনও রাস্তার নাম, স্ট্যাচু, বা অন্য কোনোভাবে তাঁর স্মৃতিচারণ নেই। সুতরাং, তথাগত রায়ের বক্তব্যের মূল সুরে সুর মিলিয়ে বলতে বাধ্য হিন্দু বাঙালি আর মুসলমান বাঙালি অভিন্ন নয়। যাঁরা হিন্দু বাঙালি আর মুসলমান বাঙালির মধ্যে ঐক্য আনতে চান, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করেন, এ ছাড়া আর কী বলা যায়। আগেই বলেছি ইসলামে অমুসলিমের জন্য প্রেম-সেবা-মার্জনা-কৃতজ্ঞতার কোনো বালাই নেই— এরকম কথা অকপটে বলতে পারেন তথাগতের মতো ব্যক্তিত্বরাই।

পার্থসারথি চন্দ ...
প্রাক্তন অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক, রাজনীতিবিদ
১ আগস্ট ২০২০
 
মাননীয় তথাগত রায়ের বক্তব্য আমি পড়েছি। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন আমাদের কাম্য। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য কারণে এই মেলবন্ধনটা হয়ে উঠে না। বাঙালি হিন্দু কাঁরা ? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সোজা।ভারতবর্ষের মূল সনাতন ধর্মের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী আছে। মহারাষ্ট্রে যাঁরা থাকেন, তাঁদের কে আমরা মারাঠি হিন্দু বলি, পাঞ্জাবে যাঁরা থাকেন তাঁদেরকে পাঞ্জাবি হিন্দু বলি, কর্নাটকে যাঁরা থাকেন তাঁদেরকে আমরা কানাড়া হিন্দু বলি, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় যাঁরা থাকেন তাঁদেরকে মুলত আমরা অসমিয়া হিন্দু বলে জানি। ঠিক তেমনি অবিভক্ত ভারতবর্ষের বঙ্গ প্রদেশে যাঁরা থাকেন এবং ইদানীংকালে বিভক্ত ভারতে পঃবঙ্গ প্রদেশে যাঁরা থাকেন, সেই হিন্দু সমাজকে আমরা বাঙালি হিন্দু বলে জানি। বাঙালি মুসলমান মূলত ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন, কিন্তু বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ঐতিহাসিক কারণে বাঙালি হিন্দু এবং বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ে একটা স্পষ্ট বিভাজন আছে। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের যে বিভাজন হয়েছিল, সে বিভাজন ধর্মের ভিত্তিতেই হয়েছিল। কেন হয়েছিল, কাঁরা এর জন্য দায়ী-এ আলোচনায় আমি যাচ্ছি না। স্বল্প পরিসরে এর সুযোগও নেই। ধর্মকে স্বীকার করলে ধার্মিক পরিচয়কেও আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে। আমি মনে করি, সংস্কৃতি ধর্ম থেকেই উঠে আসে। ভাষা সেই সংস্কৃতিকে জনসাধারণের মধ্যে সহজ ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুঘটকের কাজ করে। বাঙালি হিন্দু এবং মুসলমান এক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করলে খুব ভাল হত। কিন্তু সেট হছে কোথায়? কিছু কিছু ব্যতিক্রমী বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বকে বাদ দিলে বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক পরিচয় ধর্মের ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বাংলাদেশে ক্রমাগত বাঙালি হিন্দুর নিপীড়ন আমরা অস্বীকার করতে পারি না। মধ্যযুগে মুসলমান শাসকেরা বহুক্ষেত্রে হিন্দু সমাজ ব্যবস্থা এবং জীবনধারাকে বিধ্বস্ত করার যে চেষ্টা শুরু করেছিলেন, সে প্রক্রিয়া আজকের দিনেও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বিদ্যমান। কোন জাতিগোষ্ঠী মানবতাবাদী কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ কি না সেটা জানার অন্যতম শর্ত হচ্ছে-সেই জাতিগোষ্ঠী যে ভৌগলিক সীমারেখায় সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেই সীমারেখায় তাঁরা ধর্মীয় সংখ্যালঘিষ্ঠদের সাথে কি আচরণ করেন। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের পর বাঙালি মুসলমানরা (কিছু কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে) যে পদ্ধতিতে এবং যে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বাঙালি হিন্দুদের নিপীড়ন করেছেন এবং করছেন তার ইতিহাস সবারই জানা। আমি এর পুনরুক্তি করতে চাই না। পৃথিবীর সব দেশেই যাঁরা সংখ্যালঘু থাকেন, তাঁদের কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাঁরাও স্বীকার করবেন যে আজকের দিনেও Black American-দের বিভিন্ন বৈষম্যের স্বীকার হতে হয়। বৈষম্য, নিপীড়ন এবং extermination-এই তিনটি কাজই বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী বাঙালি হিন্দুদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছেন। বৈষম্যকে আমরা সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করতে পারি না।কিন্তু কিছু কিছু বৈষম্যকে আমরা অজান্তেও স্বীকার করে নেই। বাংলাদেশে যা  চলছে, সেটা বৈষম্য নয়। সেটা নিপীড়নের পরের ধাপ, অর্থাৎ-extermination of the whole community। যাঁরা এটা করছেন তাদের সঙ্গে বাঙালি হিন্দুর সহাবস্থান কতটুকু সম্ভব সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। আশা করব যে, তাত্ত্বিক আলোচনাকে পিছনে ফেলে আমরা বাঙালি হিন্দুর সামগ্রিক বিকাশের জন্য রাজনৈতিক আদর্শের উর্ধ্বে উঠে এক মঞ্চে আসব। সেটাই সময়ের দাবি।
 
আমি দু একটা ছোট উদাহরণ দিতে চাই:-
১৯৪৭ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের কিছু জেলাতে বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। যেমন- খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা জেলার অনেক অংশ এবং সারা চিটাগাং অঞ্চল। কিন্তু আমরা দেখলাম ৭০ বছরে বাঙালি হিন্দু জনগোষ্ঠীকে ক্রমাগত উত্পীড়নের মাধ্যমে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল। সহাবস্থান হবে কার সাথে !

তথাগত রায় ইতিহাসের বাস্তব চিত্রকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। ইতিহাসে wishful thinking- এর কোন স্থান নেই। যেটা হয়েছে সেটাকেই আমাদের গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশে একটা অঘোষিত cultural apartheid চলছে। যে apartheid-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা জনগোষ্ঠীকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। আমার মনে হয় বাঙালি হিন্দু সমাজের যাঁরা হিতকামী এবং যাঁরা বাঙালি হিন্দুর সামগ্রিক বিকাশ এবং উত্তরণের জন্য কাজ করেন, তাঁদের ইতিহাসের এই পটভূমি জেনে রাখা দরকার। না হলে, ভারতবর্ষে যাঁরা বাঙালি হিন্দুরা বাস করেন, তাঁদের ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়াবে। সেই scenario কে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়াই ইতিহাসের শিক্ষা।

সমীরণ আচার্য ...

ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, সমাজ কর্মী 

১ আগস্ট ২০২০

 

তথাগত রায় কে যারা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর বিচারে পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা জানেন তিনি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংগে বহুকাল থেকেই জড়িয়ে আছেন। ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির আজও তিনি ধারক। বাহক কিনা জানিনা। কারণ এখন তিনি রাজ্যপাল নামক সাংবিধানিক পদ সামলাচ্ছেন। অতএব দুই ধর্মের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বার করা যেমন আর দশজন মৌলবাদীদের কাজ সেটা থেকে নিজেকে আলাদা করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করি। বিশেষ করে তিনি যে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন সেই সরকারের নীতি বিচার নয় প্রয়োগ করাই তার কর্তব্য। তাহলে সেই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি কি তা সর্বজন বিদিত উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না।


এখন আসি প্রাসংগিক বিষয়ে কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্যে।

 

প্রথমত হিন্দু ও মুসলীম কোন জাতি নয়। পৃথিবী সকল মুসলমান ধর্মীয় মানুষও এক জাতি নয়। ধর্মে এক জাতিতে স্বতন্ত্র। হিন্দু নেপাল দেশের নাগরিকগণ জাতিতে ভারতীয় নয়। ইসলামিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে তিরিশ লক্ষ মানুষের প্রাণ বলিদান দিয়ে বাঙলাদেশ স্বাধীন হল ওরা ইসলাম বলে কোন খাতির যত্ন করেনি পাকিস্তান। 


স্বাধীনতা পূর্ব ভারতে 1925 সনে যখন আর.এস.এস-র জন্ম হল সেই সময় কি তাদের গঠিত সংগঠনের সামনে কী উদ্দেশ্য ঘোষণা করা হয়েছিল সেই ইতিহাস পাঠ করলে সকলে অবগত হতে পারেন হিন্দু মুসলীম বিভাজন অব্যাহত রেখে দুইটি জাত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করাই সংগঠনের লক্ষ রাখা হয় এবং তার জন্য ওরা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধেই যায় বৃটিশ শাসকদের পক্ষ নিয়ে এদেশে বিপ্লবীদের উপর দমন পীড়নের প্রত্যক্ষ সমর্থন দেয়। 


এই রকম কোন সংগঠনের সদস্যদের কোন বক্তব্য ই গণতান্ত্রিক হতে পারে না। গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে বিশ্বাস ভাজন ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা সমিচীন নয়। স্থান ও সময়ের বিবেচনায় সেই বক্তব্যের আসল কারণ উদ্ঘাটিত করা উচিত।

কল্পার্নব গুপ্ত ...
ছাত্র, এন.আই.টি শিলচর
১ আগস্ট ২০২০
 

মেঘালয়ের মাননীয় রাজ্যপাল মন্তব্য করেছেন বাঙ্গালী হিন্দু এবং বাঙ্গালী মুসলমান দুইটি আলাদা জনগোষ্ঠী। "এক বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান" – এ নাকি সম্পূর্ণ ভুল তত্ত্ব ।

 

এখন একটু বিচার করে দেখা যাক যে রাজ্যপাল মহোদয় হঠাত এই আলটপকা মন্তব্য কেন করলেন। সাধারণত তার বক্তব্য, লেখনী কিংবা কর্মের পেছনে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে। সেদিক দিয়ে বিচার করলে তিনি একজন উপযোগিতাবাদী, নিষ্ফল কর্মযোগ তার ধাতে নেই ।

 

উত্তর-পূর্ব  ভারতে  বাঙ্গালীর বর্তমান অবস্থা যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে তার বক্তব্যে নিহিত রাজনীতিটা আমরা ধরতে পারবো। উওর-পূর্ব ভারতে বাঙ্গালী বহুদিন থেকে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। কখনও শিলং, কখনও মান্দাই, কখনও নেলী - হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে, ধর্ষণ করা হয়েছে। হাজার হাজার বাঙ্গালী ঘরবাড়ি ছেড়ে পশ্চিম বাংলা এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ধর্মীয় পরিচয় নয় বরং ভাষিক পরিচয়ের জন্যই উত্তর –পূর্ব ভারতে বাঙ্গালী আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমান সময়ে বাঙ্গালীরা এই বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠছে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে বাঙ্গালী আজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের এই জাগরণে ধর্মীয় মৌলোবাদীরা ভীত সন্ত্রস্ত। তাদের সিংহাসন আজ টলমল। তাই তারা এরকম মন্তব্য করে বাঙ্গালীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।

 

ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঙ্গালীকে বিভক্ত করার এই রাজনীতি নতুন নয়। পরাধীন ভারতে মুসলিম লিগ এই ঘৃণ্য খেলায় মেতেছিল। দ্বিজাতিতত্ত্ব সফল করার জন্য লীগপন্থীরা ধুতি ছেড়ে লুঙ্গি পড়তে শুরু করলেন। অনেকেই নামের আগে “শ্রী” ব্যবহার করা ছেড়ে দিলেন। “মোহম্মদী” , ”আজাদ”এর মতো পত্রিকায় “স” এর জায়গায় “ছ” ব্যবহার করা শুরু হল। পানি-জল, আণ্ডা-ডিম, গোসল-স্নান, বদনা-গাড়ু প্রভৃতির সাহায্যে একদল প্রমাণ করতে সচেষ্ট হল যে হিন্দু-মুসলমান দুইটি আলাদা জাতি, তাদের মিলন আদৌ সম্ভব নয়।কিন্তু পৃথক রাষ্ট্র নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার আমূল পরিবর্তন হল। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেওয়া দূরে থাক বরং সংখ্যাগুরু বাংলাভাষী মুসলমানেরা অনেক অবিচার ও অসম্মানের সম্মুখীন হল। শেষমেশ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাঙ্গালী গর্জে উঠল এবং বাংলাদেশ গঠনের মধ্য দিয়ে জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্বের পরিসমাপ্তি গঠলো।

 

এখানে উল্লেখ্য যে লীগের রাজনীতি এবং হিন্দুত্বের প্রজেক্ট হুবহু এক। ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু ঐক্যের নাম করে বাঙ্গালীর ঘাড়ে উওর-ভারতীয় হিন্দি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বস্ততপক্ষে ধর্মীয় বন্ধন কখনও ভাষিক বন্ধন থেকে দৃঢ় হতে পারে না। কারণ একেবারে মৌলিক স্তরে ধর্ম একটী চূড়ান্ত ব্যক্তিগত চর্চা। ব্যক্তির আত্মানুসন্ধানে কিংবা নির্বাণ আকাঙ্খায় সমাজের স্থান গৌণ।অপরদিকে ভাষা সবসময়ই একটি সমষ্টিগত চর্চা। হ্বিটগেনস্টাইনের মতো দার্শনিক প্রাইভেট লাঙগুয়েজের ধারণা একেবারেই খারিজ করে দিয়েছেন। নানা সমস্যায় জর্জরিত আধুনিক মানুষ ধর্ম নিয়ে বিস্তারিত চিন্তা ভাবনা করার সময় বা সুযোগ কোনটাই পান না, মন্দিরেও নিয়মিয় যান না। কিন্তু ভাষার ব্যাপার আলাদা। দিনের পর দিন মাতৃভষায় বাক্যালাপ করতে না পারলে অনেকেই হাফিয়ে উঠেন।

 

রাজ্যপাল  মহোদয়  খাদ্যাভাস, পোশাক  নিয়ে যা মন্তব্য করেছেন তাও যথাযথ নয়। বিশ্বায়ণ, নয়া উদারনীতি এবং ইন্টারনেটের যুগে মানুষের রুচি, পোশাক, খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ করছে বাজার এবং অর্থনীতি, ধর্ম কিংবা পরম্পরা  নয়। হিন্দু বাঙ্গালী এবং মুসলমান বাঙ্গালী উভয়ই হইচই-তে সিনেমা দেখছে, জিন্স প্যান্ট পড়ছে এবং কে.এফ.সি তে গিয়ে চিকেন বিরিয়ানি সাঁটছে।

 

রাজ্যপাল মহোদয় মনে করেন দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যেকার পার্থক্যকে অস্বীকার করলে বিষবৃক্ষ ফলবে। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে মানুষে মানুষে কিংবা ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ স্বীকার করে যে রাজনীতি গড়ে উঠে তা কখনও মঙ্গলময় হয় না। সুতরাং ভেদাভেদ কে স্বীকার করার চেয়ে অস্বীকার করা বহুগুণে শ্রেয়। “এক বৃন্তে দুইটি কুসুম” কথাটি তো তার ভালো না লাগারই কথা কারণ কুসুম দুইটিকে বৃন্তচ্যুত না করলে যে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধ হচ্ছে না ।

Subhashish Choudhury ...

Student, GC College, Silchar

1 August 2020

 

I do feel that Respected Governor, Shree Tathagata Roy Sir is completely correct regarding his view. Had that not been the case, we, the Bengali Hindus would not have been pushed out so ruthlessly from the Independent Nation of Bangladesh. Bangladesh, when liberated, was expected to be a homeland for the Bengalis, regardless of their religious affiliation, isn't it? What was the liberation fight for, if not for the mother tongue, 'Bangla'. Hindus contributed and felt the worst heat of the liberation war, but had this expectation to recieve a warm welcome in the free Nation. Unfortunately, the real scenery didn't match that of the imagination. Lakhs of Bengali Hindus are pushed back to India, due to their religious affiliation, thousands of whom are now in Assam.

 

NRC-CAA row is all revolving around the existence of this bengali Hindu community and yet no convincing result has yeilded out of this whole ruckus for the Bengali Hindus. We are here targetted for ethnicity and for religion in Bangladesh. The calculation needs to remain very simple. I dont hate anyone but I need to preserve my existence as well and for that existence preservation, I need to know who are my mates and from whom I shouldn't carry any expectations or belief.

এই বিভাগের লেখা ও ভিডিও নিয়ে আপনার মতামত

Marble Surface

ঈশানের যোগাযোগ

Marble Surface

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

Marble Surface

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 by Ishan Kotha. Site Developed by CHIPSS