কবিতার খাতা - ৪

Chirashree%20Debnath_edited.jpg
কবি - চিরশ্রী দেবনাথ
ধর্মনগর, ত্রিপুরা

দ্বৈত

এক

 


প্রত্যেকটি বন্ধুত্বের নীচে নোনা দাবি থাকে 
আমি সে আবদার রাখতে জানি না    
আস্তে আস্তে আমার স্বপ্নের বন্ধুত্বগুলো দূরে চলে যায়
আমি হেরে যেতে যেতে, দেখি
চারপাশে নেমে আসছে ধূসরতা 
আবারো হাত বাড়াই ক্ষণকাল    
স্পর্শহীন উষ্ণতার অলীক চাওয়া নিয়ে    
পুড়ে যাচ্ছে যেসব কবিতা, তাদের দহন অক্লান্ত থাক। 
সেখানে নিভৃত বালুচর, পদচিহ্ন রয়েছে। 
বই হিসেবে তুমি তাকে না পড়লেই কি? 
নিভৃতে পড়ব বলে নিজের জন্য  লিখে রেখেছি সব। 

 

 

 

 


দুই

 


অনেকদিন পর আমি লিখতে বসেছি
তোমাকে হারিয়ে, তোমাকে নিজের মতো ভাবতে
কিছু পংক্তি জমা করব।
দিকচক্রবাল থেকে গ্রীবা উঁচিয়ে আমাকে দেখছে নম্র রাত
ব্যস এতটুকুই লেখা হলো
তারপর থেকে ভাবছি,
 আমার ফুরিয়ে যাওয়া  দীর্ঘ ক্লান্তিকর লেখার মতো, 
উচ্ছলতার কাছ থেকে আরব্ধ নিয়ে, নিভে যাচ্ছি মৃদু রবে
দুর্বল শব্দগুচ্ছের প্রতিবাদ গলা টিপতে চাইছে
শ্বাস নেই, সবুজ হলকা বেরোয়, অসংবৃত অবকাশ

 

 

 

 

 


তিন


যখন অস্থিরতার পাশ দিয়ে যাও তুমি, 
আমি টের পাই গোধূলির লাল চোখ থেকে নেমে যাচ্ছে অন্ধকার
বাগানের সহিষ্ণু আগাছায় বাড়ছে বাগিচার অনাঙ্খিত সুখ, 
পৃথিবীর গভীর থেকে আসা কম্পন, 
আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রথমের কাতরতা
এইসব বহন করতে করতে, আমরা কবি হই
আসলে আমি লিখতে জানি না, প্রলাপের কাছে ঋণ জমা    করি শুধু।