কবিতার খাতা - ৯

Maitrayan Choudhury.jpg
কবি - মৈত্রায়ন চৌধুরী
করিমগঞ্জ, আসাম 

  "নামতা" 

আকাশ পথে আঁকছি জীবন
হলদে সমীকরণ --
জট ছাড়ানো কালের গুহায়
রোজই নবীনবরণ।
হৃদয় কাব্যে স্বপক্ষ রাত
জুড়তে চাওয়া শর্ত --
স্বপ্নে বাঁচে আরশিনগর
আঙুল যখন ব্যর্থ।


 "আগামীকাল"

দ্বিতীয় বিদ্যার আবাসনে ছাই মেখে বসে থাকি আলোর অপেক্ষায়
প্রত্যেকটি হৃদ স্পন্দনের আড়ালে,স্নায়ুচিত্র আঁকি ইশারায়--
গলিত কোষ,আজ অন্ধকার।
ঈশ্বর বিহীন কাল,পাপহীন সুদের চাদর,
নিয়তির ভরাট অহঙ্কার।

অনুচক্রিকার জীবন এবং হারানো যৌবন
   তার পাশে বেড়ে চলা স্রোত,নিজেও মিতবাক --
রাত শেষে আমার মৃত অবিশ্বাস জ্বলে পুড়ে যাক
 তার কোলে রূপকথা দিন, দিই বিসর্জন।

 

 "এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ"

তোমরা কি শুনেছ,কখনো এই তেপান্তরের মাঠে মেলা বসত!
অনেক লোক,নানা রংয়ের পোশাকে সেজে মেলা দেখতে আসত,
বড়লোকেরা হাতি ঘোড়া চড়ে, ছোটলোকেরা পায়ে হেঁটে,নয়তো 
নৌকোয় নদী পেরিয়ে মেলার মাঠে ভিড় করত---
তোমরা কি দেখেছ, সেইসব ছদ্মবেশী কিশোরদের,

যারা মেলায় খেলা দেখাতে আসত,তারপর হারিয়ে যেত ভিড়ে,

বদন হরবোলার আশেপাশে গিজগিজ করত হাজার কচিকাঁচার দল।
তেপান্তরের মাঠ আছে আজো,তবে
সেখানে আর মেলা বসে না----
এই নিস্তব্ধ উপত্যকায়, আজ আনন্দ চুরি গেছে।
কিছু কোট প্যান্ট পরা বাবুরা, হাতে কাগজ নিয়ে সবাইকে খু্ঁজছে,
তারা জানতে চায়, এতদিন মেলায় যারা জিলিপি,মাটির পুতুল, কড়াই গরম বিক্রি করত
তারা মানুষ না অশরীরী, তাদের শরীরে রক্ত-মাংস-চামড়া আছে, না আছে মিহি কাঁচের গুড়ো!!
বাবুদের ভয়ে, মাঠে মেলা বসে না,

লোকে আনন্দ করতে ভুলে গেছে, মাঠের আকাশে মেঘ জমে রোজ।
কিছুদিন পর অফিসের বাবুরা তাদের কাগজে লিখে দিলেন,

এই তেপান্তরের মাঠে কখনো মেলা বসে নি, বদন হরবোলা ব্রহ্মদত্যি, জিলিপি বিক্রেতা রামু আসলে এক পিশাচ---
অনেকে তাদের কথা বিশ্বাস করেছিলো, সুবোধ বালক গোপালের মতো সায় দিয়েছিল প্রতিটি উচ্চারণে,

তাই জমানো আনন্দ চুরি গেছে এই উপত্যকায়।

মাঠ নিজেও আজ এক প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে,

তার বুকে প্রতিবছর মেলাই বসত,নাকি চলত অশরীরী উল্লাস!