হাল্কাচ্ছলে

অম্ন মধুর : টেলিফোন ও টর্চ লাইট

কল্যাণ দেশমুখ্য

86738759_199264754522747_353792166302895

টেলিফোন ও টর্চ লাইট বিজ্ঞানের বিষ্ময়কর আবিষ্কার। এই দুটো যন্ত্র ছাড়া জনজীবন অচল। তবে ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন, টর্চের আছে টর্চার। আর টেলিফোনের আছে রঙ নাম্বার এর অত্যাচার। পুরনো টর্চ লাইট বিগড়ে গেলে বেয়াড়া হয়ে যায়। আর ল্যান্ড লাইন টেলিফোনের কথা বলে লাভ নেই। গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ ল্যান্ডফোনে হ্যালো বললেই গেল। মানে, সামান্য বাতাসে ও ল্যান্ডলাইন অচল হয়ে যায়। আর ঝড়, তুফান হলে তো কথাই নেই। যে সব অঞ্চলে বানরের উপদ্রব আছে, সেসব অঞ্চলে ল্যান্ডফোন সচল রাখা সহজ কাজ নয়।

একদিন গ্রামের একটি ছেলে তার বাবাকে ল্যান্ডফোনে জানাতে চেয়েছিল, বাবা বলদ হারিয়ে গেছে। কিন্তু 'বাবা বলদ বলতেই লাইন কেটে গেল। কিছুতেই ছেলেটা আর তার বাবাকে খবরটা জানাতে পারল না। ওপার থেকে ওর বাবা ভাবলেন, আমার ছেলেটা জাহান্নামে গেছে। সে তার বাপকে বলেছে বলদ। অবশ্য ঘন্টা দুয়েক পরে পুনরায় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সচল হবার পর সে তার বাপকে পুরো বাক্যটি জানাতে পেরেছিল, মানে  'বাবা বলদ হারিয়ে গেছে'। আর তখন বাবার রাগ ও কমে গিয়েছিল। 
   

মানুষের সঙ্গে ভাইল মানে সম্পর্ক রাখার জন্য মোবাইল ফোন আবিষ্কার হয়েছে। বাঙলা সিনেমার বিশিষ্ট কৌতুক শিল্পী ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় টেলিফোন নিয়ে একটি কৌতুক নকশা তৈরি করেছিলেন। সেখানে এক গ্রাম্য লোক জীবনে প্রথমবারের মতো টেলিফোন হাতে ধরেছেন। লোকটি প্রথমে টেলিফোন ধরতে চাননি। কিন্তু বারবার টেলিফোনের রিঙটোন বাজতে থাকায় তিনি রিসিভার হাতে তুলে নেন। অপর প্রান্ত থেকে যিনি ফোন করেছেন, তিনি বারবার বলছেন হ্যালো। কিন্তু গ্রাম্য লোকটি ভাবলেন, তাকে হেলতে বলা হচ্ছে। তাই রিসিভার হাতে ধরা অবস্থায় তিনি প্রথমে সামান্য কাৎ হলেন। এরপর যতবার তিনি হ্যালো শব্দটি শুনেছেন, ততবারই তিনি কাৎ হচ্ছেন। একটু পরেই তিনি পুরোপুরি চিৎ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে তখন ও বলা হচ্ছে হ্যালো। গ্রাম্য লোকটি তখন রেগে গিয়ে বললেন, হেলতে হেলতে আমি মাটিতে এখন শুয়ে আছি। আর হেলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

ল্যান্ডফোন বা মোবাইল ফোন ডায়াল করলে প্রায়ই শোনা যায়, নারী কন্ঠের রেকর্ড করা সুমধুর আওয়াজ। 'ইস রোডকে সবি লাইন ব্যস্ত হ্যায়। কৃপয়া থোড়া বাদ মে ডায়াল করে'। এছাড়াও কখনও কখনও কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, দাদা, ইটা কুন জেগা? আমার এক বন্ধু অচেনা ব্যক্তির এই প্রশ্ন শুনে বললেন, দাদা, ইটা তো আমেরিকা। কোইন কারে লাগে? আপনে কিতা আমেরিকার প্রেসিডেন্টোর লগে মাতিতা চাইন নি? ভারতো অখন রাইত দশটা। আর আমেরিকাত অখন দুপুর বারোটা। অখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সাব ঘুমাইতরা।কাইল দুপুরে আপনে ইচ্ছা করলে প্রেসিডেন্ট সাব ওর লগে মাতিতা পারবা। 
     

আমার অন্য আরেক বন্ধু বলে, কেউ তাকে ফোন করে যদি জিজ্ঞেস করে, ইটা কুন জেগা, তাহলে সে বলে, এটা তো হাফলঙ থানা। আমি ডি এস পি মিস্টার কাকতি বলছি। কি দরকার বলুন আমাকে। তখন সঙ্গে সঙ্গে ওই লোকটি ফোনের লাইন কেটে দিল। এভাবে সে অবৈধ ফোনকে এড়িয়ে চলে।

 

অধিকাংশ গ্রাহক বলেন, ল্যান্ডফোন বেশিরভাগ সময় মৃত অবস্থায় থাকে। আর যখন জীবিত অবস্থায় থাকে, তখন বারবার রঙ নাম্বার বলতে বলতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাই। এক- ই ব্যক্তি এক- ই ভুল নম্বরে বারবার ফোন করতে থাকে। একদিন একটা লোক ক্লান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করছিল, দাদা, এটা কি রঙ নাম্বার?  আমি ও চটপট বলেছিলাম, হ্যা, এটা রঙ নাম্বার। কয়েক সেকেন্ড পর আবার ক্রিঙ ক্রিঙ করে আওয়াজ হলো। এবার স্ত্রীকে বললাম, তুমি ফোনটা একটু ধরো তো। তিনি ফোন ধরে হ্যালো বলতেই শুনলেন, দিদি, সত্যি করে বলুন তো, এটা কি রঙ নাম্বার? আমার স্ত্রী বললেন, দিন দুপুরে মদ খেয়ে আর মাতলামো করার সুযোগ পাও নি? ফোন রেখে দাও। নাহলে তোমাকে আমি পুলিশে ধরিয়ে দেব।আমাদের ফোনে আই ডি কলার লাগানো আছে। আপনার ফোন নম্বর আমরা পেয়ে গেছি। এরপর ওই লোকটা রিসিভার রেখে দিয়েছিল। পরে  আর সে ফোন করে নি।

 

প্রেমিক -প্রেমিকারা সাধারণত নিজের টাকায় প্রেম করে না। তারা বাপের পয়সায় প্রেম করে। একদিন এক প্রেমিকা তার প্রেমিকার কাছে মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়েছিল। 'আমি দূর দিনে হব সাথী। দুজনে দেব সাগর পাড়ি। আমার হাতে থাকবে তোমার গলার দড়ি। তুমি বলবে হাম্বা হাম্বা। আমি তোমার পাছায় দেব বেতের বাড়ি'। এর জবাবে প্রেমিক  ও এস এম এস করেছিল। সে লিখেছিল, 'আমি আকাশ হয়ে তোমাকে দেখতে চাই। বাতাস হয়ে তোমাকে স্পর্শ করতে চাই। পথ হয়ে তোমাকে পথ দেখাতে চাই। পথের পাশের বেলগাছ হয়ে তোমার মাথায় পড়ে তোমার মাথা ফাটাতে চাই'। একদিন মাঝরাতে ডাক্তার দত্ত বাবুর বাড়িতে টেলিফোন বেজে ওঠে। ডাক্তার দত্ত ফোন ধরতেই ওপার থেকে একজন বলল, আমি তোমাকে ছাড়া বাচব না। তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো। ডাক্তার বাবু জিজ্ঞেস করলেন, আপনার বাড়ি কোথায়? আপনার অসুখটা কি? এমন সময় দত্ত বাবুর মেয়ে এক ঝটকায় তার বাবার হাত থেকে রিসিভার কেড়ে নিয়ে বলল, বাবা, এটা তোমার ফোন নয়। এটা হলো আমার ফোন। এই কলটা হলো আমার বয়ফ্রেন্ড এর কল।

কোন ও কোন ও পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা প্রায়ই তাদের ঘরের লোকজনকে টেলিভিশন বিল বেশি আসে কেন, এই বলে গরমাগরমি করেন। তিনি বলেন, ব্যবসার কাজে আমি রোজ আমার দোকানে গিয়ে বসি দিনে দুবেলা। তাই ঘরে থাকেন, বৌ আর ছেলেমেয়েরা। আমি জানি, আমি ছাড়া আমার ঘরের সবাই বেশি বেশি ফোন করে বিল বাড়ায়। এখন থেকে যদি তোমরা কম ফোন করে বিল না করার, তবে আমি টেলিফোন লাইন কেটে ফেলতে বাধ্য হব।তবে কর্তার রাগারাগির ফলে কোন ও কোন ও বাড়িতে বিল কমানো হয়। মানে, ফোন কম করলেই বিল কমে যায়।

মোবাইল ফোনের উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি এর অপকারিতা ও আছে। বেশি সময় মোবাইল ফোন কানের কাছে বা ঘুমানোর সময় বিছানায় মোবাইল ফোন রাখলে, এর দ্বারা অনিষ্ট হতে বাধ্য। ডাক্তার বাবুরা বলেন, বেশি সময় কানের কাছে মোবাইল ফোন রাখলে কানে ইনফেকশন হতে পারে। এর থেকে কানে শুনতে ও অসুবিধা হতে পারে। তাই মোবাইল ফোন থেকে সবসময় দূরে থাকুন।

 

একদিন এক রোগী একজন ডাক্তার বাবুর চেম্বারে হাজির হয়ে বলল, আমার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য আমি আপনার পরামর্শ নিতে এসেছি। ডাক্তার বাবু বললেন, শরীর যদি ফিট রাখতে চান, তাহলে রোজ দশ কিলোমিটার হাটুন। সম্ভব হলে দৌড়ে দশ কিলোমিটার দূরে যান। আবার দৌড়ে দশ কিলোমিটার ফিরে ঘরে আসুন। এতে আপনার শরীর ফিট থাকবে। এরপর এই লোকটা বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে দশ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আবার ও হাটতে থাকল। এতে সে বাড়ি থেকে অনেক দূর চলে গেল। এরপর লোকটা তার ওই ডাক্তারকে ফোন করে বলল, স্যার, আপনার পরামর্শ মতো আমি নিয়মিত হেটে চলেছি। ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, এখন আপনি আপনার বাড়ি থেকে কত দূরে আছেন? লোকটি বলল, আমি আমার বাড়ি থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আছি। আর কি আমার দৌড়ানোর দরকার আছে?