হাল্কাচ্ছলে - ৩

লিফট করা দে
বিজয়া পুরকায়স্থ

মা বলতে বা জননী বলতে আমাদের চোখের সামনে কেমন ছবি ভেসে ওঠে ? একজন শান্তশিষ্ট, মমতাময়ী, করুণাময়ী, ধৈর্যশীলা ইত্যাদি ইত্যাদি গুণসম্পন্না একজন নারী। যার সন্তানদের দেখলেই মুখে একটা অনাবিল স্নেহের হাসি চলে আসে। একটু আস্কারার জায়গা, একটা অভয়ের স্থান। ঠিক কিনা ?

 
কিন্তু আমার মা একদমই তেমন ছিলেন না। মা ছিলেন ভীষণ চঞ্চল..ছোটবেলা থেকেই বুঝি। মা চঞ্চল..শুনতে কেমন অদ্ভুত লাগে না ? কিন্তু ভুললে চলবে কেন মায়েরাও আমাদের মতোই মানুষ। দু পা, দু চোখওয়ালা মানুষ্য প্রজাতিরই অন্তর্ভুক্ত। তাই একজন মা চঞ্চল হতেই পারেন। আর উনি ছিলেন ভীষণ মজাদার মানুষ তবে মজা সব অন্যদের জন্য। আমাদের জন্য ছিল মুখে একট কাঠিণ্য।  আর মমতাময়ী? নাহ্..ছোটবেলায় তেমন দেখিনি। বরং ভীষণ স্ট্রিক্ট ছিলেন। পান থেকে চূন খসলেই রাগ..রক্তচক্ষু। আর হ্যাঁ, ধৈর্য্য ? ওনার খুব ধৈর্য্য ছিল .. অসীম ধৈর্য্য কিন্তু সবই বাইরের লোকের জন্য। আমাদের ব্যাপারে তিনি বরাবরই খুব অধৈর্য্য ছিলেন। হাহাহাহা..এখন বড় হয়েছি তাই মুখ ফুটে বলতে পারছি..আগে তো মায়ের কথা এভাবে বলতে পারবো সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এই বয়সে এসে বুঝতে পারি তখন মা ভুল ছিলেন না..ওনার রাগ, রক্তচক্ষু অকারণ ছিল না। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। ওনার মেয়ে এমন আহামরি কিছু নির্ভেজালি ছাগশিশু ছিল না যে মুগুর ভেজে উনি খুব একটা অন্যায় করেছেন।

আমার মায়ের কথা লিখতে বসেছি। এতে খুব একটা ধারাবাহিকতা থাকবে না..সবই বিক্ষিপ্ত ঘটনা। ঘটনাগুলো পড়ে আমার মায়ের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একটু হলেও আপনারা বুঝতে পারবেন আশা করি।

আমরা প্রতি বছর ট্রেনে করে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যেতাম। আত্মীয়স্বজনের বাড়ীই। গৌহাটি, কোলকাতা, মুম্বই, পুণে ইত্যাদি জায়গায়। কিন্তু বাবা বাদ পড়তেন। উনি বাড়ীতেই থাকতেন। ছুটি পেতেন না সুতরাং মা একাই বেডিং বেঁধে ওনার দুই মেয়েকে বগলদাবা করে ট্রেনে চাপতেন। খাবারদাবার, জলটল সাথেই থাকতো কিন্ত তাও প্রতিটা স্টেশনে মায়ের নামা চাই। আমরা কামরায় বসে জানালা দিয়ে দেখতাম মা শালপাতায় পুরি তরকারি কিনছেন নয়তো ফ্লাস্কে স্টেশনের শীতল পানীয় জল ভরার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং এটা অনিবার্য যে সেই সময় ট্রেনটা হুইসেল বাজিয়ে ছেড়ে দেবে। আমরা মা মা বলে চিল চিৎকার শুরু করতাম। মা ট্রেনের সাথে সাথে দৌড়োচ্ছেন এবং একসময় দেখবো মাকে আর দেখা যাচ্ছে না। ট্রেনে উঠতে পারলেন না মনেহয়। আমরা ভয়ে কেঁদে উঠতাম। কামরার বাকি প্যাসেঞ্জাররাও চিন্তিত হতো। আমাদের কি হবে, আমাদের নিয়ে কি করা উচিত সেই নিয়ে আলোচনা শুরু হতো। ট্রেনের টিটির খবর করতে ওরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো। দরজার সামনে গিয়ে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখতো। কামরায় একটা হৈচৈ পড়তো। চেন  টানা হবে কিনা সেই নিয়ে তুমুল তর্ক বাধতো। পরের স্টেশনে সব  কো- প্যাসেঞ্জারের  তর্কের মুখে জল ঢেলে মা এসে কামরায় উঠতেন। দৌড়ে যে কোন কামরায় উঠে পড়তেন আরকি। কিন্তু সেই ছোট্ট বয়সে আমাদের কি অতটা বোঝার ক্ষমতা ছিল ? কেঁদে মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। 
 

পরের স্টেশনগুলোতে প্যাসেঞ্জাররাই মাকে প্ল্যাটফর্মে নামতে বারণ করতো। কিন্তু কে শোনে কার কথা ? সকালের দিকে মা আমাদের নিয়ে কোন একটা প্ল্যাটফর্মে নেমে পড়তেন দাঁত ব্রাশ করাতে। স্টেশনের জলের কলের সামনে আমরা ব্রাশ মুখে নিয়ে লাইনে দাঁড়াতাম আর নজর থাকতো ট্রেনের দিকে। আমার নতুন জামা, প্রিয় খেলনা সব সেই সুটকেসে। ট্রেন চলে গেলে আমার সখের সব জিনিস হারিয়ে যাবে। এক সময় ট্রেন নড়ে উঠতো। হাইমাই শব্দে মা ছুটতেন আমাদের দুজনকে নিয়ে। কিন্তু আমাদের কামরা কোথায় ? তাই মা এক একটা কামরায় আমাদের  তুলে দিয়ে নিজে অন্য একটা কামরায় উঠে পড়তেন। মুখে ব্রাশ আর পেস্টের ফেনা নিয়ে আমাদের সেই মরা কান্না দেখার মতো ছিল। মা ছাড়া, বোন ছাড়া অজানা লোকের মাঝে নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগতো। তখনকার মানুষ এতো খারাপ ছিল না। আমাদের সান্ত্বনা দিত। দরজার সামনে নিয়ে গিয়ে দেখাতো পেছনের কোন কামরার দরজা থেকে মায়ের শাড়ী পৎপৎ করে উড়ছে। মানে উনি ট্রেনে উঠেছেন। হাঁফ ছেড়ে বাঁচতাম। পরের ছোট ছোট স্টেশনে উনি নেমে একটা একটা কামরা পেরিয়ে এগিয়ে আসতেন। বড় স্টেশন এলে উনি ওনার দুই সন্তানকে বিভিন্ন কামরা থেকে কালেক্ট করে নিজের কম্পার্টমেন্টে এসে পৌঁছাতেন। এধরণের ট্রেন কান্ড আরো আছে। বলার সুযোগ পেলে কখনও বলা যাবে নাহয়। 

 

মা সিনেমা দেখতে খুব ভালবাসতেন। আসলে আমাদের বাড়ীতে সিনেমা দেখার খুব চল ছিল। বাবা, জ্যেঠু, কাকুরা খুব সিনেমা দেখতেন..বিশেষ করে রবিবারারের মর্নিং শো তে ইংরেজি সিনেমাগুলো। বাবা জ্যেঠুরা বুঝি সিনেমার টিকিট দিয়ে বালিশ বানিয়েছিলেন। ছোটকাকু তো আরেক পা এগিয়ে ..একটা কোলবালিশই বানিয়ে ফেলেছিলেন। যাইহোক, মা জ্যেঠিমাদের ইংরেজিতে অরুচি তাই ওনারা দেখতেন বাংলা আর হিন্দি সিনেমা। বাড়ীর সব কাজ সেরে মা আর জ্যেঠিমা যেতেন সিনেমা দেখতে..ম্যাটিনি শোতে। মাঝেমাঝে ফাশ শো ( আগে ইভিনিং শো কে ফার্স্ট শো বলা হতো) যেতেন। সাথে দু চারটে কাজের মেয়েও যেতো। ওরা মায়েদের সাথেই সিনেমা দেখার অনুমতি পেতো। সিনেমা শুরু হওয়ার অনেক আগে মা চলে যেতেন সিনেমা হলে টিকিট কাটতে। আমরা একবার জ্যেঠুর বাড়ী গৌহাটি গেছি তখনকার একটা ঘটনার কথা বলছি।
 

সেদিন সিনেমা দেখতে যাওয়া। আমরা ছোটরা যাবো না । মা জ্যাঠিমা আর কাজের দুটি মেয়ে শুধু যাবে। বাড়ীর সবার খুব উৎসাহ। ধুমাধুম কাজ করছে। দেড়টার মধ্যে কাজ সেরে বেরোতে হবে। মা এরমধ্যে কিভাবে যেন বাড়ীর একটা   বিশাল বড় চৌবাচ্চার মধ্যে পড়ে গেলেন। বেশী ঝুঁকে জল তুলতে গেছিলেন বোধকরি। এত বড় চৌবাচ্চা ছিল যে বালতিতে দড়ি বেঁধে জল তুলতে হতো। উনি সেটাতেই পড়লেন। মাথা ফেটে চৌচির অবস্থা। বাড়ীর কাজ থমকে গেল। এত বড় একটা অঘটন  তাহলে সিনেমা যাওয়া নিশ্চয়ই বন্ধ। কাজের মেয়ে দুটোর মন খারাপ হয়ে গেল। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো মাকে। চারটে সেলাই পড়লো। চোখের ওপরটা ফুলে গেছে। কিন্তু বাড়ী ফিরেই মা ব্যস্ত হয়ে কাজ সারলেন। সিনেমা দেখা বন্ধ হবে না। উনি আগে চলে যাবেন টিকিট কাটতে। জ্যেঠিমা পরে আসবেন। মাথা আর থুতনি মিলিয়ে একটা বিরাট ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় মা রিক্সা চেপে চললেন মেঘদূত সিনেমা হলে টিকিট কাটতে। রিক্সার ঝাঁকুনিতে আবার শুরু হলো রক্তপাত। মাথা, চোখ থেকে বুক অব্দি রক্তে ভিজে যাচ্ছে। আঁচল চাপা দিয়ে মা তাও চলেছেন। এরকম রক্তাক্ত অবস্থায় একজন মহিলাকে দেখে টিকিট লাইনের সবাই সরে দাঁড়ালো। কিছু ব্ল্যাকার জাতীয় লোক এসে বৌদি আপনি কি সিনেমা দেখতে এসেছেন, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো জাতীয় প্রশ্নবাণে মাকে বিরক্ত করে তুললো। মা শুধু মাথা নেড়ে গেলেন। পরে ওরাই বললো আপনার টিকিট আমরা কেটে দিচ্ছি..আপনি এই টুলে বসুন। সবাই অবাক দৃষ্টিতে মাকে দেখছে। এক রক্তাক্ত মহিলা সিনেমা দেখবে সেটা তো আশ্চর্য ঘটনার মধ্যেই পড়ে। এরমধ্যে মা বলেও দিলেন...শোন, পেছনদিকে ফ্যানের নীচে সীট চাই কিন্তু। 

 

বিয়ের বেশ কিছু বছর বাদে আমি একবার শিলচর গেলাম। মায়ের তখন পুজো পার্বনে তুমুল মতিগতি। বুধ আর রবিবার ছাড়া রোজই ওনার কোন না কোন ব্রত থাকে সাথে কাষ্ঠ উপোস। সকাল ছয়টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা অব্দি ওনার ঠাকুরঘরেই কাটে।   এত বাড়াবাড়ি দেখে আমি কিছুটা বিরক্তই হলাম। বললাম তুমি রামকৃষ্ণ মিশনের দীক্ষিত ..গুরুকে পুজো করলেই তো তোমার হয়ে যাওয়া উচিত। তা না করে তুমি বজরংবলী, গনপতিকেও এনে জুটিয়েছ। মা মুচকি হেসে বললেন...একটা নতুন মন্ত্রও যোগ হয়েছে। সন্ধ্যেবেলা শুনবি।  সন্ধ্যের অপেক্ষাতে থাকলাম। একটু সন্ধ্যে হতেই দেখলাম মা রুমে রুমে ধূপধুনো দিচ্ছেন আর একটা গান গাইছেন। ভাল করে কান পেতে গানটা শুনেই আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম ! মা গাইছেন...
 

" মেরি আর্জি মান লে মৌলা, তু হ্যায় সবকুছ জাননেওয়ালা, মেঁ হুঁ তেরা মাননেওয়ালা,
মুঝকো ভী তো লিফট করা দে। 
বাংলা মোটরকার দিলা দে
এক নেহি দো চার দিলা দে, 
ডলার দে দে, পেয়সে দে দে।
ক্যায়সে ক্যায়সে কো দিয়া হ্যায় 
মুঝকো ভী তো লিফট করা দে। "

 

পাকিস্তানী গায়ক আদনান সামীর গান !! আমি ছুটে গিয়ে মায়ের মুখ চেপে ধরলাম। আশেপাশের লোকজন শুনলে কি ভাববে ? মা বললেন..কেন, খারাপ কি ? সবাই তো এসবই চায়। বিদ্যাবন্তং যশস্বন্তং লক্ষ্ণীবন্তঞ্চ মাং কুরু। এই মন্ত্র বলিস না ? ঐ একই হলো। ভগবানের কাছে হাত পাতা। শুধু দাও আর দাও। আমিই বা বাদ যাবো কেন ? আমারও একটা বাংলো চাই, দু চারটে গাড়ী চাই। আর এই গানের সুরটাও বেশ সুন্দর..গাইতেও বেশ লাগে বলে মা ঠাকুরঘরে ঢুকে গেলেন। আমি মাকে আর কি বলবো ? চেয়ে রইলাম মহিলার দিকে। 

 

মাকে নিয়ে মাঝেমাঝেই আমরা লজ্জায় পড়তাম মানে মা ইচ্ছে করে আমাদের অসোয়স্তিতে ফেলতেন। আমার বিয়ে হয়েছে নতুন। স্বামী আমার একটু গভীর প্রকৃতির। ভাল ভাল বই পড়ে, জীবনানন্দ রবীন্দ্রনাথ পছন্দের কবি, অ্যাওয়ার্ড উইনিং সিনেমা অথবা একটু অফবিট সিনেমা দেখে ..যেমন ছেড়াতমশুক অথবা অন্তর্জলী যাত্রা ইত্যাদি। মা এসেছেন আমাদের বাড়ী, কিছুদিন থাকবেন। তখন ভিসিআরে সিনেমা দেখার খুব চল ছিল। স্বামী অফিস ফেরত প্রায়ই একটা সিনেমার ক্যাসেট নিয়ে আসতো। তাই একদিন অফিস যাওয়ার আগে মাকে জিজ্ঞাসা করলো...মা, আজ কোন সিনেমার ক্যাসেট আনবো ? উত্তম- সুচিত্রার কোন সিনেমা দেখবে ? মা একবার আমার দিকে তাকালেন তারপর বললেন ..জুলি সিনেমাটা এনো..আর না পেলে ববি। আমি নতুন স্বামীর সামনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। সে একটু অবাক হয়ে মাথা নেড়ে চলে গেল। মাকে নিয়ে কি করি আমি ? সে অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর মাকে পাকড়াও করলাম। কেন জুলি সিনেমার নাম নিলে ? জুলি ববি ছাড়া তোমার মাথায় আর নাম এলো না ? শাশুড়ি সম্পর্কে নতুন জামাইয়ের কেমন ধারণা হলো বলো তো ? সে তো এসব সিনেমা দেখে না।  মা হো হো হো করে হেসে উঠলেন। বললেন...দাঁড়া তোকে আরো লজ্জায় ফেলবো।
 

পরে একদিন ঘর মুছতে মুছতে মা গান গাইলেন...তেরে মেরে বিচ মে ক্যায়সা হ্যায় ইয়ে বন্ধন আনজানাআআআ। শাশুড়ির এই জাতীয় গান শুনে নতুন জামাই ফিক করে হেসে ফেললো । মা বললেন...এক দুজে কে লিয়ে সিনেমার গান। রতি আর কমল নায়ক নায়িকা।  কি সুন্দর না গানটা ? রতি আর কমল শুনে আমি লজ্জায় কোথায় লুকোবো খুঁজে পেলাম না।

 

আমার মা এখন আশি বছরের মহিলা। রেটিনা জনিত রোগে প্রায় অন্ধ কিন্তু তাতে উনি দমবার পাত্র নন। একাই শিলচর টু দিল্লি, মুম্বই, কোলকাতা করে যাচ্ছেন। এই লকডাউনের দৌলতে আমার কাছে ছয়মাস ছিলেন। কত যে কান্ড করলেন। মায়ের অনেক অজানা দিক এবার আমরা আবিষ্কার করলাম। আমার মেয়ে তো দিদিমার কান্ডকারখানা দেখে হেসে লুটোপুটি খায়। সেদিন মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো তোমাদের পছন্দের নায়ক নায়িকা কে কে ? আমরা সবাই যে যার পছন্দের নামগুলো বললাম..তারমধ্যে উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন পাহাড়ী সান্যাল, কমল মিত্র,  সন্ধ্যারাণীর নাম উঠে এলো। আমার মাকে জিজ্ঞাসা করায় উনি চটপট জবাব দিলেন.. ঋষি কাপুর আমার খুউব প্রিয় নায়ক...ডফলিওয়ালে ডফলি বাজা মেরি ঘুঙুরু লালালা লালালা। আর প্রিয় নায়িকা ?ড্রিমগার্ল..ড্রিমগার্ল..লালালা লালালা...উফফফ কি সুন্দর দেখতে হেমা ! আর পছন্দের সিনেমা হলো অমর আকবর অ্যান্টনি। আমি চমকে মায়ের দিকে তাকালাম। আবার ! আবার এসব বলে আমাকে লজ্জায় ফেলা ! স্বামী আড়চোখে আমার দিকে তাকাতে আমি সরে পড়লাম। মা পাশের চেয়ারে বসে আমার দিকে তাকিয়ে সেই পুরোনো হাসিটা হাসলেন। চোখে চোখে যেন বললেন..কেমন দিলাম ? 
 

এই বয়সে এসেও আমার মা সেই একই থেকে গেলেন। আর বদলাবেন না মনেহয়। নো চেঞ্জ।