বিজ্ঞান বিষয়ক

তিতলির ব্রহ্মান্ড

বিজ্ঞান বিষয়ক ধারাবাহিক সিলেটী ডায়রি

অতনু নাথ

১৩ অক্টোবর ২০২১ - ২৩ জানুয়ারি ২০২২

 

বরাক উপত্যকার স্বনামধন্য যুব বৈজ্ঞানিক, গবেষক, সিলেটী লেখক বর্তমানে গুয়াহাটি নিবাসী অতনু নাথ এর নতুন একটি অন্যরকম ধারাবাহিক গল্প "তিতলির ব্রহ্মাণ্ড"। ধারাবাহিকটি সর্বভারতীয় সিলেটী ফোরাম এর ব্লগ এবং ঈশান কথায় একসাথে প্রকাশিত হচ্ছে।

কিছু কথা লেখকের জবানীতে...

"তিতলির ব্রহ্মাণ্ড" কইয়া একটা ধারাবাহিক শুরু করছি, ইটা অইলো তিতলি ডাকনামর একটা ছুট মেয়ের ডায়েরি, তাইর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাই ডায়েরির লগে বন্ধুর মতো গল্প করে। তাইর fascination এর বিরাট অংশ অইলো বিজ্ঞান কিন্তু তাইর লেখাত উঠিয়া আয় বড়রার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা যেতার সবতা তাই না বুঝলেও ডায়েরিরে কয় রাত্রে একলা বইয়া। লালার দারোর নতুন বাজার গ্রামো ভাড়া থাকইন তারা, ভাই বইন আর তারার সায়েন্স টিচার মা।

তাইর ডায়েরির প্রথম প্রথম অধ্যায় আছিল "আকাশ গঙ্গা"। আপনারার লগে share করছিলাম বাক্কা কিছুদিন আগে,

ডায়েরির দ্বিতীয় অধ্যায় হইল "পিঙ্গল রহস্য"। শুরু করছিলাম গত নভেম্বর মাসে... কিন্তু তারপরে বেরাছেরার মাঝে তিতলিও আর লেখতে পারছিল না, আমিও আর আপনারার লগে share করতে পারছিনা। কিন্তু অখন থাকিয়া আবার তিতলি এও লেখা শুরু করের আর আমিও আপনারার সামনে তুলিয়া ধরতে পারমু "তিতলির ব্রহ্মাণ্ড" ...

Atanu Nath_edited.jpg

 প্রথম অধ্যায় – আকাশ গঙ্গা 

রাইত ১১ টা, ৫ অক্টোবর, ২০২১, নতুন বাজার

হেলো ডায়েরি, রাগ করিওনা প্লিজ, আজকে বাক্কা দেরি ওইগেলো! মার লগে পেকিং সারতে সারতে রাইত ১০.৩০ বাজিগেলো, দৌড়ে বাটার আর ডিমোর কুসুম দি খাইয়া আইলাম, কই পটাপট তুমার লগে একটু গফ করিলাই ঘুমানির আগে, কাইল নু সকাল সকাল উঠা আছে, না… না, মহালয়ার লাগিয়া নায়, অন্য ব্যাপার! কালকে আমরা মজ্জার এক জাগাত জাইয়ার, কত দি…ন পরে কুনোখানো যাইয়ার, লকডাউনে এক বছর তাকি বন্দি, দেখা নাই শর্মিষ্টা, পুলক, টিংকি তারার লগে… ইস্কুলো যাইবার লাগি মনে যে টানে, তবে টিভিত হিমন্ত মামায় কৈছইন ইস্কুলো যাওয়া স্টার্ট ঐজাইবো পূজার পরে তাকি। সকাল সকাল সৌমেন মামা এ এল্টো লইয়া আইবা আমরারে নেওয়াত, জলদি ঘুমাইজাইতে লাগবো, কালকে রাইত পৌছিয়া সব কইমুনে, Good night diary

— তিতলি

সন্ধ্যা ০৫.১০, ৬ অক্টোবর ২০২১, জাতিঙ্গা গ্রাম

কালকে একদম গল্প ঐছেনা তুমার লগে ওতালাগি আজকে লম্বা গল্প করমু, তাছাড়া সারা বিকাল তাকি বৃষ্টি দের কুনোদিকে যাওয়ার নাই তে আর সারাদিন কিতা অইলো সবতা এক্কেবারে ডিটেইলস এ কইমু, কিন্তু ডর অইলো কারেন্ট বিকাল তাকি নাই, ইনভার্টার চলের চার্জ শেষ ওইগেলে অবশ্য গফ শেষ আর কারেন্ট আইগেলে তো পের্ পের্ চালাইয়া যাইমু… বৌর ওইওনা দেকিও!


আজকে সকালে আন্ধাইর থাকতে মাইকো “ইয়া দেবী সর্বভূতেষু..” শুনিয়া ঘুম ভাঙ্গিয়ায়, চৌক কচলাই কচলাই মারেও তুলিদেই আমি। ভাই ইগু কুম্ভকর্ণ আর মহিষাশুরর মিক্স, তারে ডাকতে ডাকতে সাড়া নাই, শেষে ধাক্কা দিতে ডরাইয়া “কি কি কি কিগুরে..” চিল্লাইয়া লাৎ উৎ মারিয়া, যে দুখ পাইছি পেটো। “ইয়া দেবী..” শেষ অইতে অইতে সৌমেন মামা আইগেছলো, আমরাও অবশ্য পুরা রেডি, ভাই এ কোনরফলেক্স ওর লাস্ট চামচ গিলের… মায় জিগানিয়ে মাথা নোয়াইয়া মাস্কর তলে তাকি মামায় কইলো “দিদি.. ইও এমনে তো ঘন্টা দেড়ে একে জাওয়াগী যায় কিন্তু আইজনু মহালয়া, জাম অইবো আর তুমরার ট্রেইন ৮ টা ৫ এ ঢুকিযাইবো বদরপুর, থুড়া আধা ঘন্টা আতো রাখলে সেইফ আরি…”, “আচ্যা দাড়াও এক চুমুক মারিদেই লিকার টা” কইয়া মায় এক টানে চা শেষ করিয়া, আমরারে মাস্ক পরাইয়া লৈলা একটা বেগ আর ট্রলিটা সৌমেন মামায় লইলো, ভাই আর আমি আমরার স্কুলব্যাগও লইলাইলাম। তালা মারিয়া গিয়া বৈগেলাম কারো। মামায় সব সময় মাস্ক লাগাইন আর একগু সেনিটাইজারর বুতল তান হাতউ থাকে, আমরাও আজকে সবে মাস্ক লাগাইছি আর মায় একটা বড়ো স্যানিটাইজার স্প্রে লৈছইন। সাড়ে পাচ টা বাজে যখন আমরা নতুন বাজার ছাড়িয়া বারই, নাইকোল গাছ’র বাগান আলা বাড়ি পারইতে সময় মার মোবাইলো দেখছলাম। আমরা থাকি লালা বাজার তাকি আইয়া নতুন বাজার ঢুকলে রাস্তায় ডাইনে যে টার্ন লয় নদীর দিকে, ঔ টার্নিং ও বামে সমীরণ নাথ মামা তারা বাড়িত। মায় আইতে সময় মামীরে কইয়া আইচইন শিফুর খিয়াল রাখার লাগি, যদিও তাইরে সবে বালা পাইন তাই সাদা আর দেখতে বিদেশী করি, কিন্তু আমারে ছাড়া তাই কিলা থাকবো? সকালে মামীয়ে তাইরে লইয়া বারইছলা মহালয়া দেখানিত আর ইদিকে আনচইন না, তারা বারান্দাত তাইর ফেইবরিট মেরিগোল্ড খাওয়াত আছিল বুলে যখন আমরা চুরর লাখান বারৈয়া আই, কিলা টেরপাইলাইছে, দূর তাকি হাউ হাউ করি কি কান্দা… আমারো যে কান্দা আইছে, ঔ প্রথম তাইরে ছাড়া ওতো দূর যাইয়ার, বুকোর ভিতরে কিলা একটা বেদনা বেদনা করের। মায় কইছইন এখন কবিডর সময় বুলে কুকুর রে লইয়া যাওয়ার পারমিশন বার করা কঠিন আর শিলচর যাওয়া উয়া লাগবো। লালাত আজকে সকালে ওতো ভীড় আছলো মাইগ্গো মাই, গতবার সমীরণ মামায় আমারে আর ভাইরে বাইকো করি লালা আনচলা মহালয়া দেখানিত। হাইলাকান্দি রোউডেদি লইয়া গিয়া বাইপাস অইয়া ফিরছিলাম আমরা, আইতে সময় চৌরঙ্গীর রাহুল কাকু তারা দুকান তাকি আইসক্রিম খাওইছলা, কৈচলা “তুমরার মারে কইওনা, তাই যে করোনা করোনা… আমার শ্রাদ্ধ করি দিবো” ভাইয়ে গেইটো ঢূকতেউ “মা…. আমরা স্ট্রবেরি আইসক্রিম খাইছি..” কইয়া চিৎকার! আজকে অবশ্য পুরা রৈদ উঠিগেছিল, দূরে মাইকে “আল্লাহ হু আকবর…”


সৌমেন মামায় পুন্না পুন্না কিতা কিতি গান বাজায় “মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যা” জীবনেও শুনছিনা, পরে আমি মার মোবাইল তাকি ইউটিউব খুলি লাগাইছি ব্লুটুথ দি “তেরি মিট্টি মে মিল যাওয়া গুল বনকে..”, রৌদ উঠলেও বাতাস ঠান্ডা, সকালে যে কুয়াশা দিছিল হাইলাকান্দি বাইপাস ঢুকতে সময়ও থুড়া থুড়া রইছিল, কুয়াশার মধ্যে ধুমা আটকিয়া ঝুলি থাকে দূরে যে সুন্দর লাগে দেখতে, আমি ভাবতাম ইতা মেঘ পরে মায় বুঝাইছলা ইতা ধুমা। হাইলাকান্দি ঢুকিয়া পেট্রোল পাম্পো দাড়াইলাম, ভাইয়ে লাগাইছে কুরকুরে খাইতো, মায় রাজি অইলানা, “বাইরোর কুনো জিনিস বালা টিকে না ধইয়া খাওয়া না নু করলাম তুমরারে?” ঘর তাকি লোয়া অইছলো বিস্কুট ইতা হে খাইলোনা। আখতা সৌমেন মামায় আনিয়া দিদিলো পেকেট, ইগু ভিজা সেনিটাইজারে, ভাই পুরা খুশ! হাইলাকান্দি ছাড়িয়া আলগাপুর অইয়া ফুল স্পিডে আমরার এল্টো পৌছিগেলো পাচগ্রাম, মায় কইরা “আগে কি বিশ্রী গন্ধ থাকতো ইখানো আইলেউ.. কতদিন ওইগেছে মিল বন্ধ”, মামায় কইলা আবার বুলে খুলিজাইবো মিল, প্রোটেস্ট চলের। চাইরদিকে বালাটিকে চাইতে থাকলাম পাচটা গ্রাম চৌকো পড়লোনা, খালি জল আর জল সবদিকে… মণিপুরী-জাল দি মাইনসে মাছ ধররা, মায় কইলা “সাতটা বাজের, কিতা কও আধা ঘন্টায় পৌছিযাইমুনি?”, “আর বিষ মিনিট লাগবো বেশি অইলে দিদি…” মামায় কইলো। বিরাট ব্রিজর তলেদি পারইয়া থুড়া যাইতেউ দেখলাম ডাইনে লাল প্রাচীন টাইপ কিল্লা না কিতা, মায় কইলা ইটা বুলে চাইরশো বছর পুরানা মুগলোর সময়র ফোর্ট, দেখতেও একটা লাল কেলা লাল কেলা ভাব। একটু পরেউ পুরা বদরপুর টাউন শুরু ঐগেলো, ইশ ওতো ভীড়, মাইনসে হাতো কাপড়োর পেকেট লইয়া লইয়া যাইরা খালি। থুড়া যাইতে হাতর বামে একটা গল্লিত ঢুকিগেলাম আমরা, আমরার গাড়ি ইগু নৌকার লাখান যেমন আর মানুষর ভীড় যেমন জল, ভিড় ঠেলাই ঠেলাই আউগাইলাম… রাস্তার দুইদারো পাহাড়োর লাখান কিতা কিতি অজানা ফল দি ভরা ঠেলা, আমরার নতুন বাজারো তো হাইফাই ফল খালি আপেল তাও ছুটো-ছুটো আর পচা রচা! ঢুকিগেলাম স্টেশনো, কি বিশাল স্টেশন… অত সুন্দর ধব ধবা সাদা রং আর লাল-লাল পিলার… স্টেশনর বড়ো ডিজিটেল ঘড়িত বাজে 07:45, “বদরপুরো ওলা জাম লাগবো বুঝছিনা, অবশ্য আছে আধা ঘন্টা হাতো…” কইয়া ট্রলি ঠেলাই ঠেলাই গিয়া আমরার AC কামরা যেনো থামবো ওনো দাড়াইলো মামা, আমরা সবও পিছে পিছে, ট্রেইন আইগেলো টাইমেউ, আমরারে সিটো পৌছাইয়া ট্রলি ব্যাগ রাখিয়া হে গেলগি।


আমরার কামরাত ভিতরর দিকে চাইরটা সিট্, জানলার দুই সাইডে দুইটা আর ওটাইনতর উপরেউ, মানে দুতালার লাখান উপরে আরো দুইটা, আমরা ছাড়া আর কেউ নাই ইনো, মায় সব সিটো স্যানিটাইজার স্প্রে মারিয়া তেনা একটা দিয়া বালা করি মুছানির পরে আমরা বইলাম, ভাই আর আমি দুনোটায় জানলার সাইড পাইলাইলাম আর কেউ না উঠায়, কিন্তু জানলার কাচ ইটা সান গ্লাসর লাখান কালা, বাইরে ওতো রৈদ কিন্তু লাগের যেমন একটু একটু মেঘলা, একটু মন খারাপ ওইগেলো। আমরা বোয়ার লগে লগে ট্রেইন ছাড়িদিছিল, বরাক নদীর উপরেদি যে ব্রিজর তলেদি একটু আগে আমরা আইছলাম, ওটার উপরেদি ঔ পারৈগেলাম। কত চা, বারো মজা, ঝাল মুড়ি, কোল্ড ড্রিঙ্কস লইয়া আইরা কিন্তু মার স্ট্রিক্ট নিষেদ, ট্রেইনো কিচ্ছু কিনা যাইতোনা। প্রথম প্রায় আধা ঘন্টা গেলগিয়া ইতা আমরার মুক্তাছড়া, নতুনবাজারর লাখান বন্দ, খেত, বিল, নদী… আখতা দিনো সব অন্ধকার ওইগেলো আর বিরাট শব্দ, ডরাইয়া একফালে ভাই মার কুলো আর আমিও ধরছি মারে জুরে, “ইতা tunnel রে…tunnel…পাহাড়র মধ্যে সুড়ঙ্গ কাটিয়া ট্রেইন যাওয়ার রাস্তা…”, ঔ প্রথম সুড়ঙ্গ দেখলাম ওতো লাম্বা… আগে অবশ্য কাটলিছড়াত যাইতে একবার সুড়ঙ্গ পাইছলাম কিন্তু বাট্টি আর ট্রেইনর নায়, গাড়ির। টানেল তাকি বারইতেউ আখতা যেমন অন্য কুনো টিভির কুনো জাগাত অইগেলাম, যেদিকে দেখি খালি পাহাড় আর পাহাড়, সবুজর পরে নীল পাহাড় তারও পরে দূরে কুয়াশার মতো ধুমা ধুমা রঙ্গর মেঘে আধা ঢাকা পাহাড়… পৃথিবী যেমন জলোর লাখান, ঢেউ খেলি খেলি গেছে দূরে আকাশ পর্যন্ত… ইশ কতো গাছ আর বড়ো বড়ো ঘাস, আমরার নতুনবাজারোও কাশ ফুলোর ঝুপ আছে কিন্তু ইখানো শেষ অয়না ওলা কাশ ফুলোর জঙ্গল, টিল্লা এক একটা কাশফুলে ঢাকা সাদা আর পিছে ওতো নীল আকাশো কাশ ফুলোর লাখান ঔ মেঘ… ভাই এ তার আর্ট ওর খাতা বার করিয়া আকা শুরু করিদিছে, আমি খালি হা করি জানলাবায় চাই রইছি..ভাবিয়ার ইশ ওটা যদি সৌমেন মামার এল্টো ওইতো তে কইলামনে দাড়ানির লাগি… ভাবা শেষ করার আগে জানলার একদম কিনারো পুরা টিভির মতো ঝর্ণা, লাগে যেমন পাহাড়োর উপরে তাকি কে দুধ ঢালরা… ঝর্ণা পড়িয়া রেল ব্রিজর নিচেদি পাত্তরে পুত্তরে ধাক্কা খাইয়া ছিটকাইয়া নাচিয়া পাগল অইয়া দৌড়ার, ট্রেইনর ঝিক ঝিক খট খট আর জলোর সাঁ সাঁ মিলিয়া এক ওইগেছে..মায় মুবাইল দি ভিডিও কররা আর কিতা কইরা শুনাও যারনা মাস্কর ফাকেদি! ঔ প্রথম আসল ঝর্ণা চৌকে দেখছি, টিভির নায় আর ঝুলন পূজার নকলি নায়…এক্কেবারে আসল ঝর্ণা…ইশ নামিয়া জল ছানা যাইতো যদি! খালি একটা জিনিস ওতো বাজে লাগছিল যে দেখরায় দেখরায় তে আইজায় সুড়ঙ্গ… আমরার ঠিক উল্টাদিকে, যাওয়া আওয়ার রাস্তার লগে লাগাইল যে সিট্ অগুর জানলাবায় দেখাযার যখন বিরাট বিরাট সব পাহাড়, মায় আখতা দিলা ডাক “তিতলি… ওই দেখ ঝাটিঙ্গা নদী”, মাথা ফিরাইয়া জানলার দিকে চাইতেউ দেখি এ কি… ইতা তো পুরা টিভির দুনিয়াত আইগেছি, গুল গুল বিরাট, মাঝারি, ছুটো সব ধরনোর পাত্তরর মাজেদি স্পিডে চলের নদী…একদম নীল নায়, হাটিয়া পারোনি যাইবো…ইয়া মালিক, তলা দেখা যার ওতো সাপ্লাইর লাখান পরিষ্কার জল… ইশ রে বা কেনে কুনো স্টেশন নাই ইখানো, একটু যদি থামতো..একটু নামিয়া হাত দিয়া মাছ ধরিলাইলামনে, আমরার রাজ্যেশ্বরপুর এম ই ইস্কুলোর পিছর খালো খালি হাগাটালি ধরা যায়, আর কিচ্ছু নাই! ইশ নতুন বাজারো কাঠাখাল না অইয়া ঝাটিঙ্গা কেনে ওইলোনা, কেনে ভগবানে আমরার হিকানো ওলা পাহাড়, জঙ্গল, নদী কাশবন দিলানা… মন খুশি আর খারাপে মিলিয়া কিলা কিলা করলো কিচ্ছু বুঝিয়ারনা এমন সময় আখতা দেখি দুইটা খরগুস পুছুত্তি ঢুকিগেলা রেল লাইনর সাইডোর ঝুপর মাঝে, পুরা পুলক তারা বাড়ির খরগুসর লাখান, কিন্তু একটা একটু ছুট, বাচ্যা বুধয়… পুলক তারা বাড়ির ইতা কিনিয়া আনা, পিঞ্জিরাত থাকইন… মারে কান্দি কান্দি কইছলাম আমরার ও ওলা কিউট খরগুস আনার লাগি, মায় কইছলা “নারে মা ইরকম পশু কিনতে নাই, খুব খারাপ, তুমারে যদি কেউ আমার কাছ তাকি টানিয়া নিয়া পিঞ্জিরাত ঢুকাই বেচিদেয়? ওতালাগি আমরা বাজার তাকি লুম আলা বিদেশী কুকুরও কিনিনা, শিফু রে আমরা পাইছি রাস্তাত, একলা, ওতালাগি লইছি…তাই তুমার বইন… পশুরাও মানুষর মতো, কুনোদিন কিনা বেচা ঠিক না রে মা…” আমি আর কুনোদিন মারে কইছলামনা খরগুস কিনার লাগি। ঘন্টা সময় ধরিয়া ঝাটিঙ্গার পারে পারে আমরা যাইতে থাকলাম, কুনোসময় ট্রেইন আগে তে কুনোসময় নদীর শ্রুতে লয় দৌড়… কুনোসময় আমরা ব্রিজ দি ফাল মারি পারই তারে… ওলা খেলা চলতে চলতে একসময় আমরা পৌছিগেলাম নিউ হাফলং স্টেশনো, ব্যাগ উগ নামাইয়া আমরাও নামলাম, কিলা বুদ্ধিস্ট মনাস্টারির লাখান দেখতে স্টেশন ইগু আর চাইরোদিকে পাহারাদাররার লাখান গার্ড দিয়া উচা উচা সবুজ পাহাড়োর পরে নীল নীল পাহাড়… মেঘ ইতা তুলার লাখান পাহাড়োর গার লগে আঠা লাগিয়া আর উড়িয়া যেনো যাইতে পাররানা… মায় ফোন বার করি একটা ফটো লইলা panoramicও.. ভাই এ উঠিয়া “মা ডাব খাইতাম… ”, “ইনো ডাব কৈতাকি পাইতে, একটা বাজিগেছে, বিশু তো স্টেশনো আইয়া কিবা অপেক্ষা করের… দাড়া ফোন লাগাই…” কইতে কইতে স্টেশনর ভিতরে তাকি হাত তুলিয়া “রাঙাদ্দি… ” কইয়া খুব মজার দেখতে, চুলো খুফা বান্ধা কালা চশমা হাফ পেন্ট পরোনো এক দাদা… ইও মানে মামা, দৌড় মারি আমরার দিকে আইলা… আইয়াউ আমরা দুইটারে দুইটা কেডবেরী ডার্ক চকলেট, আমার খুব ভাল্লাগে কিন্তু কুটুশর ইতা তিতা চকোলেট একদম পুষায়না… তবু হে মুখ কালা করি লইলো, মায় কইলা “ঔ তুমরার বিশু মামা, ধলাইর বাবু দিদার ছেলে , আমার ক্লাস্মেইট আর বন্ধু ”, আমরার সপ্তগ্রামর বাড়িত গেলেউ ধলাইর বাবু দিদার লগে দেখা ওইতো, কিন্তু বদমাশ কোরোনার লাগি কতদিন ওইগেছে দিদারে দেখছলাম না শেষে আইছলা সেকেন্ড ওয়েইভ’র জাস্ট আগে ঠান্ডার সময়, আমার ফাইবোর পরীক্ষার ঠিক পরে… বাক্কা দিন থাকিয়া মেড়ামেড়ির পরে গেছলা, রুজ দুপুরে আর রাত্রে আমরা দুইটারে দুই সাইডে লইয়া সইয়া কতো মজার মজার গল্প শুনাইছলা.. বিশু মামার ওখানো পাখী নিজে নিজে পাথরো পড়িয়া মরিজওয়ার গল্পও কইছলা। ইচ্ছা অইছলো মামারে জিগাইতাম কিন্তু একটু একটু লইজ্জা করায় কিচ্ছু কৈছিনা, বিশু মামার লগে নু আগে কুনদিন দেখা ওইছেনা, ইতালিত পড়াশুনাত আছলা বহুতদিন, ঔ মাত্র কয়বছর আগে আইছইন দেশো, তান পাখি খুব ভাললাগে ওতালাগি ফরেস্টর না ট্যুরিজম এর কিতা চাকরি করোইন তাইন। মায় আমরার চকোলেট লইয়া চকোলেট আর আমরার হাত সেনিটাইজ করি দিছইন, “ইয়া রাঙ্গা তোর এখনো কোভিড রৈছেনি, ইতা আমরার পাহাড় জঙ্গলো নাই…অবশ্য মাস্ক লাগাইয়া আইছো তুমরা বালা করছো, ট্রেইনো কত জাগার কত ধরনোর মানুষ” কইয়া পিঠও ব্যাগ আর হাত দি ট্রলি টানিয়া রওয়ানা দিলো একটা মহিন্দ্রা জিপর দিকে, জিপ আমার যে ভাল্লাগে এর উপরে ই গাড়ির আস্তা বডিত খালি পাখির ছবি এ ভরা, কিছু কিছু চিনি আর বেজান অদ্ভুত অদ্ভুত সব অজানা পাখির স্টিকার হাজারে বিজারে লাগাইল। মায় কইলা:

– তোর পাখির নেশা রৈ গেছে হলাউ, ফরেস্টার সিনহা কাকুর কেমেরা খুজিয়া লইয়া সকাল সকাল বনে জঙ্গলে খালি পাখির ফটো তুলতে, একবার এগ্গুরে পালচলে নানি?


– তোর ইতাও মনো আছেনিরে রাঙ্গা, ওয় রে তুফানে গুয়া গাছ তাকি বাদা ভাঙ্গিয়া পড়িগেছিল উঠানো… বাবুইর বাচ্যা, কয়দিন যত্ন করিয়া ছাড়িদিছলাম। তোর ও তো গাড়ি চালানির খুব নেশা আছিল, ধলাই কলেজো পড়তে সময় দেবুদার বাইক লইয়া কিতা স্টান্ট, কতো এডভেঞ্চার করলাম আমরা, ওলা পাগলার লাখান স্পিডে চালাইতে তুই…

মায় ইশারা মারলা দেখলাম আয়নাত আর লগে লগে মামায় টপিক চেইঞ্জ করি “এখন মাস্ক ওটাইন খুলিলাও সবে, আর… এনজয় করো পাহাড়োর ফ্রেশ বাতাস… চালাইতেনি রাঙ্গা?” মায় কইলা “না রে প্রেকটিস নাই আর ইতা পাহাড়ি রাস্তা”

মায় স্কুটি চালাইন কিন্তু স্পিডে বাইক? আর গাড়ি চালাইতে পারোইন একদম জানতামনা! ভাই সামনে বিশু মামার লগে বইলো, স্টেশন তাকি আস্তে আস্তে উপরেদি উঠিয়া রাস্তা বারইলো। আমি সাহস করি জিগাইলাম “মামা half-long, মানে আধা-লম্বা ইতা কিরকম নাম?”, “আধা-লম্বা?? হা হা হা হা হা হা…“, তান ইলা হাসিয়ে বাক্কা লইজ্জা লাগলো, হাসি থামলে কইলা “ইখানোর ভাষা অইলো ডিমাসা, ডিমাসা ভাষায় হাফলং মানে ant hill মানে উলির টিবি, পিপড়ার টিল্লা..” স্ট্রেইঞ্জ একটা নাম, পিপড়ার টিল্লা কেনে!

জিপ মামায় চালাইয়া উঠতে থাকলা তেড়া বেড়া রাস্তা অইয়া উপরর দিকে, আমরার পিছে ফালাইয়া আওয়া রাস্তা ইতা সাইডে তলে দেখা যায় আকাবাকা… সবদিকে দূরে আকাশ ঢাকিয়া খালি পাহাড় আর আমরাও উঠিয়ার পাহাড়োর উপরে… এক এক সময় রাস্তার লগে ঘেসিয়া বামে খাড়া পাহাড় আর ডাইনে রাস্তার পিচ শেষ অইতেউ নামিগেছে একদম সুজা খাড়া নীল গভীর তলে… এমন তলে যে আমরার তলে মেঘর ফাকেদি দেখা যায় মানুষর বাড়ির চাল উল আর পিপড়ার মতো ছুটো ছুটো মানুষ…. “পিপড়ার মতো মানুষ?” অতালাগি পিপড়ার টিল্লা?… বুক কাপিয়া কাপিয়া উঠে, টাইট করি ধরছি জিপোর রড আর হাটুয়ে-হাটুয়ে টাইট করি লাগাইছি, কিন্তু ডরর মাঝেও ওত্তো মজা লাগের যেমন উড়িয়ার আমরা সান্টা ক্লোসোর হরিণ-রথো বইয়া মেঘর ভিতরেদি মেঘর উপরেদি… উড়তে উড়তে একসময় একটা চার্চ’র সাইডে আইয়া লইলো মামায় বামে টার্ন, “আইগেছি আমরার জাতিঙ্গা ভিলেইজ…”, জাতিঙ্গা শুনিয়া আমার মনে যেমন আরেকটা ফাল মারলো, তে তো জাতিঙ্গা নদীত নামা অইবো অইবো…ইয়েই.. আস্তে আস্তে পাহাড় রে বামে রাখিয়া ছুটো রাস্তাবায় আমরার জিপ আস্তে আস্তে আউগার, এক সেলুনর ভিতরে তাকি এক বেটায় চিল্লাইয়া কিতা কইলা “জুতা…নাওরাই ” না কিতা… মামায় ও ঘুরাইয়া কিতা কইলা “ওম…আনি বুবি” কিচ্ছু বুঝলামনা। টাউনর গা গেসি গেসি পাহাড়রে বামে রাখি রাখি মারলাম আমরা ডাইনে টার্ন, মারিয়া আরেকটা চার্চ’র একটু পরেউ এক দুতালা বাড়ির গেইটো থামলাম, “লালু দা, গেইট খান খুলোচাইন…” বাট্টি চিকনা মাথাত কুকড়া-কুকড়া করি চুল আলা একজনে হাসি হাসি ফুল গাছর চিপাত তাকি আখতা বারৈয়া গেইটেদি আউগাইলা, গাড়ির ভিতরে তাকি তান সারা দাত গনা যাইবো ওলা হাসি, কালা-সাদা চুক্কা চুক্কা দাড়ি… মায় লগে লগে “লালু দা রে অনিলাইছোস নি ওনো? বাহ্ মজা তো… তে তো হাওয়াইতাঙ্গর গফ শুনমু… কতদিন ওইগেছে…”, “কৈছনা, কান পাকিগেছে মিজোরাম – হাওয়াইতাঙ্গর যুদ্ধর গফ শুনতে শুনতে…” মাতি মাতি আস্তে আস্তে গেইটেদি ঢুকাইলা মামায় জিপ “দুইমাস আগর গুল্লা গুলির সময় আবার শুরু অইছিল…” গাড়ি পাক্কার উঠানোর মাঝখানো দাড়া করলা, লালু মামায় পিছ তাকি নামাইরা ব্যাগ.. “ইতা মার কাম… পরে কইমু লাম্বা গফ…” কইয়া গাড়ির সুইচ অফ করি ভাই রে তার সাইডে তাকি কুলো করি নামাইলা, স্টেশন তাকি একঘুমে আইগেছে ভাই ওনো, পরে মার্ মোবাইলো ভিডিও দেখিয়া নাউকাইবো! আমরা ব্যাগ উগ লইয়া বারান্দাত উঠতে উঠতে দেখি ছুট্ট জাতিঙ্গা গ্রামরে মেঘে কম্বলর লাখান প্রায় ঢাকিলাইছে, সাইডোর পাহাড়োর লগে ঘসা খাইয়া যেনো আইসক্রিমর লাখান মেঘ ইতা গলিয়া জল অইয়া বৃষ্টি নামবো… ঔ প্রথম জীবনে মেঘর মাজেদি আইছি, বিলাইপুরোর জঙ্গলো পিকনিকো একবার জেলা ব্রজ গুরুজী এ দা দি জঙ্গল কাটি কাটি আমরারে লইয়া আউগাইছলা ওলা আইজ বিশু মামায় জিপ দি মেঘ কাটি কাটি পাহাড়েদি উঠছইন… আগে লাগতো মেঘোর উপরে বওয়া যাইবো, দৌড়ানি যাইবো অথচো সামনে তাকি আইজ দেখলাম, সংক্রান্তির সকালোর পুকুরর উপরে জমা ঘনো কুয়াশার মতৌ মেঘ, একদম শক্ত নায়। ঘরো ঢুকতেউ আইলো তুমুল বৃষ্টি। লালু মামায় হাসি হাসি আমরারে আমরার দুতালার রুম দেখাইলা, বাড়ির পিছদিকর ঘর, বিরাট একটা পড়ার টেবিল জানালার লগে লাগাইল, পর্দা সরাইলাম আমি… জানলার কাচ ভিজিয়া জল নামের আর পিছে ঝাপসা ঝাপসা দেখা যার ঘন জঙ্গল উপরেদিকে বাইয়া বাইয়া উঠিয়া খাড়া বিরাট মেঘে ঢাকা পাহাড়.. শিফু থাকলে বাড়ীর পিছেদি দৌড়িয়া পাহাড়েদি উঠিগেলনে আর ঘাউ ঘাউ করি আমারে ডাকলোনে, ইশ শিফুটায় কিবা খুব কান্দের… মন খারাপ ওইগেলো। এমন সময় মায় দেখি ফোনে

হেলো বৌদি.. ওয় ওয় ওউমাত্র ঢুকলাম ঘরো… না না একদম টাইমে… না না সব ok আছিল.. ঠিকনি? ইশ… ওয় ঔ প্রথম আমরারে ছাড়া অতসময়.. এহে, রাগে দুঃখে কিবা খারনা! শ্যামলে দিছে নানি মাংশ আনিয়া? আমি জানতাম ওতালাগি তারে রাইতোউ ফোন করি কৈছলাম… ওহো! এহ… দাড়াও, আবার ফোন করমু তারে… মহালয়ায় কিবা ভুলিগেছে! তুমরারেও একটা ঝামেলাত ফালাইলাম বৌদি… হা হা… ওয় দাদায় তো খুব আদর করোইন আর তুমারেও ওলা ভাল পায়… না না ইতা তো ঠিক… না না দাদার যাওয়া লাগতোনা বেক্কার আমি করিয়ার তো, আনিয়া দিবো! আচ্যা তে রাখি, দুইটা বাজিগেছে একটু ছান উন করিলাই, যে খিত খিত করের গাত… ট্রেইন, সেনিটাইজার হক্কলতায় মিলিয়া… না আর কই বারইতায় ঘরো ঢুকতেউ যে ঝড়ি… ওয় কাইল সাফ ঐজাইবো আশা… আচ্যা আচ্যা বৌদি, ঠিক আছে রাখি তে…

শিফু এ সিওর খারনা, কেনে যে মায় আনলানা শিফু রে, কতো মজা করলামনে একলগে, তাই থাকলে গাড়ির জানলাবায় হা করি বইলোনে জিব্বা উড়াইলনে পাহাড়ি বাতাসে, যে আরাম পায় তাই গাড়ি চড়তে, টুক-টুক কাকুর টুকটুকো উঠলে তাইর কিতা ফুর্তি ওয়, মাথা অগু পেন্ডুলামোর লাখান ডাইনে বামে খালি নাচানিত থাকে যাতে কুনো ছিন যাতে স্পিডে মিস না ওইজায়। মা বাথরুম তাকি ফ্রেশ অইয়া আওয়ার পরে আমারে আর ভাইরেও গা মুছাইয়া হাত মুখ ধোয়াইয়া দিরা এমন সময় লালু মামায় ডাক দিলা খাওয়ার লাগি… বারৈয়া পটাপট আমরা সব রেডি অইয়া নিচে নামিগেলাম, আমরা রুমোর ঠিক তলে ডাইনিং রুম, কিচেনর লগে লাগাইল… টেবিলর সুজা সুজি বড়ো কাচর জানলার বাইরে খুলা বারান্দাত ঝপা ঝপ বৃষ্টি পড়িয়া জাতিঙ্গা নদীর মতো বাইয়া পিছন দিকে গিয়া পড়ের জঙ্গলো, ইখানো বৃষ্টিও কতো সুন্দর লাগের… মেঘরে ছইয়া দেখার পরে যেমন আরো সুন্দর লাগের বৃষ্টি। বিশু মামা আইয়া বইলো চেয়ার টান মারি, চুল ছাড়া.. ইয়া ভিজা চুল পুরা মার্ চুলোর মতো লম্বা, মায় আখতা “চুল ইতা কাটস না কেনে? তোর বাবুই ওতার বাদা বানাইত্রেনি?”, “হা হা হা হা” করি হাসি দিলা মামায়… ওলা জুরে সিরিয়েলর রাবণর লাখান হাসইন মামায়, ওলা হাসি উঠে শুনলে.. কিন্তু কুনোমতে হাসি গলার ভিতরে থামাইলাম। “তুই পুরানামলি মানুষ, স্টাইল উইল বুঝস না… ঠিক নানি মামা?” কইয়া আমার দিকে চইলা মামায় আমি আমতা আমতা করি সামনোর থালোর ভাত খুমটাইলাম.. কুটুশে আখতা উঠিয়া “ইয়েই… মুরগি মুরগি মুরগি… আমি ঠেং খাইতাম আমারে বড়ো ঠেং দেও… ” লালু মামায় মার্ পাতো দিদিতা আচলা একটা ঠেং আমি চট করি কইলাম

আমি: এ রাম… না না… মায় মাংস খাইন না!


লালু মামা: ই বেটি সস্তোয়িনি নি?


মা: না লালুদা এমনেউ ছাড়িদিছি মাছ মাংস!”


বিশু মামা: সর্বনাশ! আগে কইতে! পনির উনির অনলামনে..


লালু মামা: ইশ রে বা, আর তো এমন কুন্তাউ রান্দছিনা, চানার ডাইল, বেগুন ভাজা, পাপড় আর একটু টমেটুর টক…


মা: উফ! অততা রান্দিলাইছো আর লাগে কিতা, বেগুন ভাজা আর চানার ডাইল দুইটাউ আমার খুব প্রিয়… একলা অততা করো কিলা আমি তো দুই পদ রান্দতেউ জান বারৈয়ায়..


লালু মামা: কিতা যে কস বেটি, একলা দুই বাচ্যা বড়ো কররে তার উপরে ইস্কুল, বাজার রান্দা…


বিশু মামা: কিন্তু ইতা কিতা? ভিগান নি তুই?


মা: না বে ডিম্ দুধ খাই, যে বাড়িত ভাড়া থাকি তারার ঔ গরু মুরগি সবতা আছে…


বিশু মামা: আর তারা?


মা: তারা সব খাইন, বাড়ার বয়স সব ধরোনোর নিউট্রিশন দরকার… তারার খানির চয়েস তারা বড়ো অইয়া বুঝ অইলে নিজে ঠিক করবা! ইনো আমার কুন্তা কোয়ার নাই… ইতা বাদ্দে, আগে কোয়াত আচলে লম্বা গফ, কিতা ব্যাপার?


বিশু মামা: ওহ… আর কইসনা, মায় লাগাইছলা বিয়া দিলাইতা, না খাইয়া বুলে আমি দিন দিন বগুড়ার ঠেঙ্গর লাখান ওইয়ার, আইজকাইল কুন্ বেটিয়ে আইয়া আমারে রান্দিয়া খাওয়াইয়া মুটা করার ভার লইবো কো চাইন..


মা: বাবুর যতো মাত, পুয়ারে রান্দা খান তে হিকাইলানা কেনে, মেয়ে ইগুর কিতা আর কাম, স্বপ্ন নাই নি জামাইরে খাওয়ানি ছাড়া?
বিশু মামা: হে হে… ইতা কৈছনা, এইসা “স্পাগেত্তি আল্লি কন ওলিও” খাওয়াইমু বানাইয়া আঙ্গুল চাটবে, ইতালিত গিয়া আর কুন্তা হিকি না হিকি রান্ধা হিকিয়া আইছি..


মা: ঠিকনি? বেতালা তো… খাওয়া লাগবো, আছে নি পাস্তা? তে হিনো কিতা কাজোর মাসি উসি পাওয়া যাইতো উইতো নানি?


বিশু মামা: পাওয়া যাইতোনা কেনে কিন্তু বের্লুস্কোনি ছাড়া আর কেউর রাখার ক্ষমতা নাই… হা হা হা হা… না রে হিনো সবে নিজর সব কাম নিজে করোইন, আমার প্রফেসর হকলে, মহিলা ওউক্কা আর পুরুষ সকালে উঠিয়া কাপড় লন্ড্রি করিয়া রান্না বাড়া করিয়া ইউনিভার্সিটি আইতা… কতবার নিমন্ত্রণ খাইলাম প্রফেসরে নিজে রান্ধিয়া খাওয়াইলা।


মা: কিতা কস? আমরার ইনো ইতা ভাবাউ যায়না!


বিশু মামা: তাছাড়া রান্দা টা ইতালি-ফ্রান্স ও একটা আর্ট প্লাস লাইফ স্কিল, ইটা সবেউ জানে আর যে ভালা জানে তার খুব দাম… বালা গার্লফ্রেন্ড পাইতে খুব সুবিধা… হা হা হা হা…


মা: তোর খালি ফাতরামি, তে আর লইয়া আইতে ইতালিয়ান বৌ…


বিশু মামা: খুব ভালা রান্দা না জানায় পাইলামনা, মায় হিকাইতা যদি… হা হা হা হা… বৌ জুটেরনা দেকিয়া শেষে লালুদারে লগে পাঠাইদিলা হা হা হা…

মুরগির ঠেং দি ভাই আর আমি খুব স্বাদে খাইলাম, ইশ লালু মামার রান্দা ওতো নি সুয়াদ… টমেটুর টক ইগুত খেজুরর টুকরা আনুক্কা লাগছে! ভাইয়ে উফতা চাটা দিলো আঙ্গুল আমারও মনে ওলা করছিল চাটার কিন্তু কুনোমতে নিজরে সামলাইয়া আইগেলাম উঠিয়া। সবে রেস্ট লোয়াত আইগেলাম আমরার দুতালার রুমো, মায় সাইডে টেবিলো রাখা একটা পাখির বই পড়তে পড়তে ঘুমাইগেছইন, ভাই ও ধুম ঘুমো… আমি খালি চাইতে থাকলাম ঝাপসা জানলার পিছনোর পাহাড় আর বৃষ্টি… ওলা কত সময় গেছে জানিনা শেষে এক বিকাল ৫টায় আমি বৈগেলাম ডাইরি লইয়া.. এখন বাজে প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে সাত টা, মা আর ভাই নিচে গেছইন… চা বিস্কুটর ডাক পড়লে আমিও যাইমু, আজকে তো আর কুনোদিকে ঘুরাত যাওয়া ওইতোনা বৃষ্টি থামের ঔ না, কারেন্ট ও যে কুনসময় গেছে জানিনা..বাইরে সম্পূর্ণ আন্ধাইর, লাগের যেমন আদিম এক পৃথিবীত আমি একলা আর কুনো প্রাণী নাই… খালি ঝম ঝম ঝম শব্দ! ডাক পড়ছে, আমি আই… পরে রাত্রে আবার আইমু ডাইরি মশাই তুমার লগে গল্প করাত।

— তিতলি

রাইত ১০.০৫, ৭ অক্টোবর ২০২১, জাতিঙ্গা গ্রাম

কালকে রাত্রে আইমু কইয়া আর আইলামনা, সন্ধ্যা চা টার পরে লুড্ডু খেললাম সবে মিলিয়া, খেলতে খেলতে কত দেরি ওইগেলো, রাত্রে খাইয়া সইতে সইতে প্রায় সাড়ে এগারোটা, লালু মামায় ফাইনেলি পনির তরকারি বানাইছলা মার্ লাগি। বিশু মামায় কইছলা যদি বৃষ্টি থামিযায় তে আমরা পাখি দেখাত যাইমু, সামনেউ বুলে Jatinga Bird Watching Tower, রাত্রে বৃষ্টি না থামলেও হালকা ওইগেছিল, সইয়া সইয়া মনে মনে কৈছি কমিযাউক রেবা বৃষ্টি.. বৃষ্টির শব্দয় কুন্ সময় ঘুম আইগেছিল টের ঔ পাইছিনা.. খালি মাঝখানো একবার খুব ভয়ানক একটা তরকর শব্দয় ডরাইয়া উঠিগেছলাম… জানলার পর্দা সরানি রৈছিল, বেজান তরক দিছে রাত্রে.. তরকর সময় লাগছে কেউ বিরাট মুবাইল দি আন্ধাইরো ফ্লেশ মুড অন করি পাহাড়োর ফটো তুলের.. সকাল সকাল লালু মামার ডাকে ঘুম ভাঙ্গিযায়, তখন সাড়ে পাচটা অইবো, বৃষ্টি থামিগেছে, জানলাবায় দেখা যার পাহাড়োর গাত খালি হালকা কুয়াশার মতো থুড়া মেঘ, আকাশ ঘনো নীল আর খালি পাখির কিচির মিচির শব্দ… জানলার সামনে গিয়া গ্রিলোর ফাকেদি যতদূর দেখা যায় টেবিলর উপরেদি উকি মারি দেখলাম.. পাহাড়, গ্রাম, সব ঘর বাড়ি.. সবে যেনো আজকে ছান করিয়া ফ্রেশ! পটাপট রেডি অইয়া নিচে গিয়া দুধ কর্ণফ্লেইকস খাইয়া বারইগেলাম সব, উঠলাম জিপো… লালু মামায় একটা ব্যাগ দিলা তুলিয়া, “ডিম্, লূফ, জল, চা, দুধ সব আছে… খাইও ” মায় কইলা “এহে মামা তুমি যাইতায় নানি?”, “না রে বেটি ইতা সারা পাক্কি ওনো ও আইন, আর আমরার হাওয়াইতাং ওর সেরিকালচারর বাগানো ইনতাকি বেশি পাক্কি আইতা, কত রং বিরঙ্গা দেশি বিদেশি… আমার পারা কাম ও আছে, তুমিতাইন যাও… ” গাড়ি স্টার্ট দিতেউ যেমন পৌছিগেলাম, এক মিনিটও লাগলোনা, মামায় কইলা যে আরো বেজান জাগা যাওয়া আছে ওতালাগি গাড়ি লইছইন। একটা সাইনবোর্ড ও লেখা “Welcome the coming birds, Let them live and add attraction, To the Jatinga Valley” আর সাইডেদি বেজান সিড়ি উপরেদি উঠি উঠি একদম পাহাড়োর উপরে এক ঘরো গেছে, মামায় আঙ্গুল দেখাইয়া কইলা হউ দেখো, চাইরদিকে খুলামেলা যে বারান্দার মতো ঘর, অটাউ tower… হাটতে হাটতে তাইন একটা কবিতা আবৃত্তি করতে থাকলা..

“Welcome the coming birds, Let them live and add attraction,
To the Jatinga Valley, Perched on the mountain slope,
This watch-tower, Welcomes us, and those unknown guests.
The smiling face of a Jaintia damsel,
Along with a wrinkled-face old lady, back from their jhum,  
on the other fold of the Borail,
what is your name? I asked, But they only blushed.
I asked again. Panchi, said the younger lady, softly.
But the old lady gave only a smile.”

(মামারে জিগাইয়া জানছি তপতী বরুয়া কশ্যপর কবিতা, পুরাটালেখাইয়া লইলাইছি)

একসময় উপরে পৌছলাম, যে হেরান অইছলাম কিন্তু উঠিয়া যেই সামনে দেখছি দৃশ্য, সব হেরান নাই ওইগেছিল… কুটুশর ওয়াটার কালারর খাতার লাখান লাগছে, দূরইর নীল পাহাড় তাকি মেঘে থুড়া জল টানিয়া ছিৎরাইয়া যেমন আকাশরে নীল করিদিছে, তুলার মতো ছুটো ছুটো টুকরা টুকরা মেঘ লাগিয়া আছে পাহাড়োর গাত… ঘনো কুয়াশা ইতারে বন্দি করি রাখিদিছে বারৈয়া যাইতে দের না যেমন পাহাড়-রাশিয়ে… যে ঠাণ্ডা বাতাস চলের, ভাগ্য বালা আমরা সবে সুয়েটার লাগাইয়া বারইছি, মামা কিন্তু টিশার্ট আর হাফ পেন্ট! মামায় কইলা “কাইল অমাবশ্যা গেছে, আইজ ঘুর অন্ধকার থাকবো, বৃষ্টিও প্রায় সেশ, আইজ রাইত আবার আইমু এক চক্কর সন্ধ্যার সময় চা-টা খাইয়া, এখন খালি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখো…ফ্রি পাখীর লাখান উড়ো…”, আমরা সব আজকে ঠিকউ পাখীর মতো ফ্রি, কতদিন পরে আজকে মায়ও মাস্ক ছাড়া, ব্যাগো লইলেও আমরা কেউ লাগাইছিনা। ইখান তাকি আমরা খুব তাড়াতাড়িউ গেলামগি, জাতিঙ্গা গ্রামর এক সাইড তাকি মাজেদি মারিয়া আরেক সাইডে বারইলা মামা, তারপরে ঔ তিমুকাত রিমন রূপসী নামর একটা সুন্দর রেস্টুরেন্টর সামনেদি বামে টার্ন করি কালকে যে রাস্তায় আইছলাম ওটায় আবার বারইগেলাম, মামায় কওয়াত আছলা আইজ ফিরতে দুপুরে ঔ রেস্টুরেন্টো খাওয়াইবা দিমাসা খানি। কালকের লাখান আবার একসাইডে গ্রাম আর আরেক সাইডে পাহাড়র লগে লাগি লাগি চার্চরে বামে রাখিয়া সুজা বারইয়া আবার কালকের রাস্তায় আমরা রওয়ানা, একউ রাস্তা অথচ আজকে পুরা আলাদা দৃশ্য, কাইল বেশি মেঘ আছিল, আকাশ আছিল আমরার কাটাখালোর লাখান ঘুলা ঘুলা, সারা রাত্রে সব মেঘ বৃষ্টি অইয়া ঝরিয়া আকাশ আজকে নীল… দারোর পাহাড় জঙ্গল ইতা আইজ ধইয়া মুছিয়া যেমন বেশি সবুজ। আমরার গাড়ি খালি উপরে উঠতেউ থাকলো, বেশি সময় লাগলোনা, দশ মিনিটে পউছিগেলাম, সকাল সাতটা পনরো তখন, পুরা রইদ কিন্তু গরম নাই, খালি ঠাণ্ডা বাতাস। রাস্তার লগেউ লাগাইল একটা ভুসিমালর দুকানর লাখান ঘর, সাইডে মাত্র দশ বারটা সিড়ী দিয়া গেলেউ দুকানর উপরে পুরা খুলা ছাদর মতো রেলিং দেওয়া আব্রাহাম ভিউ পয়েন্ট, রাস্তার ঠিক সাইডে যেমন শূন্যে ঝুলাইল জাগা, একদারেদি রাস্তা আর ঘরর পিছে নিছে অতল গভীর… আর সামনে খুলা ময়দানর মতো যতদূর চৌক জায় জলর ঢেউর মতো ঢেউ খাইয়া খাইয়া একটার পর একটা পাহাড়, খালি সবুজর পরে নিলোর পরে আকাশী অইয়া আকাশ পর্যন্ত পাহাড় আর পাহাড়র উপরেদিয়া যেমন কেউ দুধ ঢালিদিছে, বাইয়া বাইয়া পড়িয়া যার মেঘ, আকাশর সাদা সাদা মেঘর টুকরা ইতাও চুর পুলিস খেলার মতো একটার পিছে আরেকটা লাইন ধরি রেইসে দৌড়াইতরা, আর ঠিক তলেউ বাইয়া জার পাহাড়ি নদী। দুরে পিপড়ার মতো কয়েকটা ঘর দেখা যার, ছুট্ট গ্রাম কিবা, হিকানর বাচ্যারার কতো মজা যখন ইচ্ছা হাটু জল পাথুরে নদিত নামিয়া খেলা সাতার মাছ ধরা, ঈশ আমরা কেনে ইখানো থাকিনা! আধা ঘণ্টার লাখান কাটানির পরে মামায় কইন “চলো লেইকো, আমার একটা ছুটো কামও আছে মিটানির …” নামিজাই আকা বাকা রাস্তায় ঘুরি ঘুরি নিচে হাফ্লং শহরো, লেইকো পৌছার থুড়া আগে মামায় জিপ একজাগাত পার্ক করাইলাইন, আমরা হাটিয়া একটা তিমুকাত পউছি, মাঝখানো একটা যে বিরাট ফুয়ারা… ডাইনেউ হাফ্লং লেইক, আরেকটু আউগাইয়া মামায় মার কাছতাকি ড্রাইভিং লাইছেন্স লইন টিকেট বুক করার লাগি, আমরা তিন জনর হাতো টিকেট দেইন আর তিনটা কমলা রঙ্গর লাইফ জ্যাকেট… “আমার একটা জরুরি কাম আছে তুই তারারে লইয়া চড় একটু নৌকা… মজা আছে… বাক্কা জাগা ”, কইয়া বিশু মামা জাইনগি। কমলা রঙ্গর যে সুন্দর নৌকাত আমরা উঠিজাই, লগে উঠইন দুইজন ইউটিউবার, ফোন দি তারা বিডিও করাত থাকইন মাতি মাতি, আমরার বিডিও করতা আছলা মায় কইন “Please don’t mind guys, I’m a bit privacy freak..ha ha” আমার ভাল্লাগেনা, কি মজা লাগলোনে তারার চ্যানেলো গিয়া দেখলামনে আমরারে। একটা ব্রিজর তলেদি নৌকা যায়, তারপরে একটা যে সুন্দর মন্দিরর সাইডেদি আমরা যাই, জলো ঝুমিয়া বড়ো বড়ো গুলাপি রঙ্গর পদ্ম ধরছে… আখতা বিশু মামায় ফোন করইন মারে

হেলো ? শুনিয়ারনা জুরে কো … বউটর যে noise.. কই? পারকিং ও? ওহ… আচ্যা… ঠিক আছে নামিয়া করিয়ার দাড়া আবার তরে…

মায় নামিয়া ফোন করি জানলা যে মামায় কইরা জিপ যেনো পার্ক করাইছইন তার থুড়া আগে সুজুকি বাইক শওরুমো’র সামনে যাইতাম গিয়া, জ্যাকেট উকেট জমাদিয়া গেলামগি আমরাও… দেখি একটা দুকানর সামনে হেলমেট হাতো লইয়া দাড়ানিত মামা, মুচকি মুচকি হাসরা… আমরা আউগাইতে মার হাতেদি হেলমেট আউগাইয়া দিলা, মায়

– ইতা কিতারে?

– রয়েল এনফিল্ড


– ইতা তো আমিও দেখিয়ার, but কিতা এবং কেনে?


– অউত্ত কলেজ ডেইজ অইজাইত আইজ, ভাড়া লইলাইলাম দুইখান বুলেট…


– তোর মাথাত দূষ নি? দশ বারো বছর অইজার অভ্যাস নাই, স্কুটি আর বাইক কিতা এক নি?


– ইতা তুই মাতরেনি রে? তুই? আমরার লিডিং স্পিড বাইকার মৈত্রেয়ী দাস a.k.a মিস মারুতি? একশ বছর না চালাইলেও হাওয়ায়াত উড়াইবে বাইক…


– অতালাগি লাইচেন্স লইছলে নানি বান্দর, তে দে…হ

কইয়া মায় হেলমেট লইলা, মার চৌক মুখ উজ্জ্বল অইগেছে, হেলমেট লাগাইলা মায়… ই যেনো এক অন্য মা, আমি চিনিনা… মা ঔ নায়, যেনো কুনো এক বাইকার কলেজর মেয়ে, আমি হা করি দেখিয়ার… আখতা আমার মাথার দিকে মামায় ঢুকাইদিলা একটা ছুটো হেলমেট, তান পিঠও আছিল খানির ব্যাগ, জলোর বুতল, স্যান্ডউইচর প্যাকেট, ডিম ইতা সব বাইকর বাক্সত ভরিয়া ভাইরে লইলা তান পিছে আর আমি বইলাম মারে আইঞ্জা করি ধরিয়া তান পিছে… আমার খুশিয়ে ধরা দেরনা, আড়ুয়ার মতো খালি মুচকি হাসিয়ার… বাইক স্টার্ট দিলা তারা বুর বুর বুর বুর বট বট বট শব্দ করিয়া… একটা বিরাট স্ট্যাচুর সামনে আইয়া আমরা বামে টার্ন লইলাম, বরশা হাতো এই মহাপুরুরশ কে জানতে চাইলে মায় জুরে জুরে কইলা “এইন বির দেমালিক ক্যাম্পরাই… বাইক তাকি নামিয়া পরে কইমু, মনো করাইছ…” শহরর মাজেদি ওলা তেড়া বেড়া মিনিট খানেক জাইতেউ আরেকটা লেইক টাইপ দেখলাম জাগা, অগুর কিনারো যাইতে একটা ছুটো রাস্তা ঢুকিগেলও আর যাইতে থাকলো উপরর দিকে… ঔ সরু রাস্তাবায় উঠতে থাকলাম, সাইডে নিচে কি পরিষ্কার ছিম ছাম গ্রাম আর উপরে দেখা যার একটা বিরাট চার্চ, খুব তাড়াতাড়ি পউছিগেলাম ফিয়াংপুই চার্চ’র কাছে, গেইটর সাইড দিয়া বামে তিনটা রাস্তা গেছে, একটা নিচর দিকে আর আরেকটা খাড়া উপরে, মাঝখানর চিপা মাঝারি ধরনর খাড়া রাস্তা ধরিয়া উঠতে থাকলাম আমরা, আমি আরো টাইট করি ধরলাম মারে… রাস্তা পাক্কা তাকি আস্তে আস্তে ভাঙ্গা পাথুরে অইগেলো, বামে খাড়া পাহাড়র গা ঘেসিয়া ডাইনে আঙ্গুর না কিতার খেতরে রাখিয়া সামান্য আউগাইতে আখতা যেনো রাস্তা গিয়া খুলিগেলো আকাশো! ফস করি খাড়া নামিগেলো রাস্তা আর সামনে দুরে আকাশ ঢাকিয়া নীল পাহাড় দাড়ানি, ভাইয়ে চিৎকার “ইয়েই দিদিভাই…কিত্তা মজা” আবার উঠিগেলো রেইসে উপরেদি রাস্তা… বুর বুর বুর চলের আমরার বাইক… দুইসাইডে জঙ্গলে চিপাইয়া রাখা চিকনা রাস্তার মাজেদি গিয়া আমরা ফাইনেলি বারইলাম একটা খুলা ময়দানর মতো জাগাত… ইলা জাগা খালি নেশনেল জিওগ্রাফিকো দেখছি… অতো উচা পাহাড়র উপরে বিরাট ঘাসর ফিল্ড… বাতাসে ঘাস ইতার মধ্যে জলোর ঢেউর লাখান ঢেউ খেলার, বাইক তাকি নামিয়া আমি মারে আইঞ্জা করি ধরিয়া একটা আদর দিলাম… আমরা যেমন স্টেইজো দাড়ানিত আর সামনে খুলা প্রকৃতির সিনেমা, সবুজ লম্বা বাটটি ঘাস নামিগেছে আস্তে আস্তে দুরে গিয়া নিচর দিকে, আর এর পরেউ খুলা বিশাল আকাশরে পিছে রাখিয়া সামনে পাহাড়র রাশি… আব্রাহাম ভিও পয়েন্টও গ্রাম দেখছি, কিন্তু ইখানো আমরা চাইর জন ছাড়া আর কেউ কুনখানো নাই, শুধু হলদিয়া সবুজ ঘাস, নীল আকাশো দুধ সাদা মেঘর জাতিঙ্গার মতো স্রুত আর পাহাড়রে ঢাকিয়া রাখা সবুজ জঙ্গলর চাদর, আর কিচ্ছু নাই… বহুত সময় আমরা সব হা করিয়া চুপ আছলাম… শব্দ আছিল খালি বাতাসর সাঁ…হুঁ…শ…হ…হ… বিশু মামার মাতে চমকিয়া উঠলাম “একটু বইয়া খাওয়া দাওয়া জাউক…” বাইকর সাইড বাক্স তাকি জিনিস পত্র সব বার করি আমরা সব ঘাসো বইলাম, কাগজর কাপো হরলিক্স আর চা বাটিয়া দিলো মামায়, একটা একটা স্যান্ডউইচ লইলাইলাম সবে। আমার আখতা মনো পড়লো স্ট্যাচুর কথা, জিগাইতে মায় কইলা “প্রায় আটশো বছর আগে হিরিম্বা সাম্রাজ্যত জন্ম বীর দিমালু ক্যাম্পরাইর, কওয়া ওয় যে পনরো বছর বয়সও তাইন খালি হাথে বাঘরে হারাইদেইন, এর পর তাকি তানে সবে বীর ডাকইন… পরেদি গিয়া তাইন তান রাজ্যর সেনাপতি অইয়া বহুত জুদ্ধ জয় করইন, মনিপুর, বার্মা কতো রাজ্য জুদ্ধে জিতইন আর আরো কতোয় তান বীরত্বর সামনে আগে তাকিয়াউ হার মানিলাইন… থাইল্যান্ড পর্যন্ত গেছলা তাইন… কিন্তু তানে খালি জুদ্ধর লাগি নায়, শান্তির লাগিয়াও মানা ওয়… বীর দেমালির নেতৃত্বে বার্মার লগে শান্তি চুক্তি সফল অওায় বার্মার রাজায় তানে দুইটা সাদা হাত্তি উপহার দেইন, তান বেজান স্টেচুর লগে সাদা হাত্তিও দেখা যায় …” অতোটা কইয়া চুমুক দিলা মায় চা’ত, মামায় কইলা “তুই তো দিমাসা ইতিহাস বাক্কা জানোস…”, “নারে ওখানো আইতাম যখন ঠিক করলাম ঔ কয়দিন আগে তখন মনো অইলো একটু জানি, ঔ YouTube’ও কয়টা ডকুমেন্টারি দেখছলাম…” কইয়া মায় হাসলা, “তে ইতা কিতা ইম্পরট্যান্ট নায় নি, জানার ইচ্ছাটা সবর থাকেনা আন্দু আইজাইন কেমেরা লইয়া চ্যানেলো দিলাইতা আর guys, please like share and subscribe! যাই অউক, আমার ইখানর লকেল কালচার আর হিস্ট্রি বেতালা ভাল্লাগে … ঔ যে আমরা ফিয়াংপুই গ্রামো, ইখানর হিস্ট্রিও fascinating…ইখানর মানুষ কিন্তু দিমাসা নায়!”, আমি কইলাম “এরা তো সব দেখতে আমরার নতুনবাজারর মণিপুরির লাখান, ভাষাও ওলা চাইনিজর লাখান…”, মামায় একটু দুঃখিত চেহারা বানাইয়া কইলা “ইরকম কইন না, অন্য জাতির মানুষরে ignorance এর কারণে বহুতর মনো ওয় সব একরকম, আসলে তারারে সামনে গিয়া দেখার জানার ইচ্ছা নাই দেখিয়া… সামনে তাকি জানলে সব জাতির প্রতি respect জন্মে , ওয় দিমাসা, মণিপুরি, বিয়াতে…ইতা সব প্রাচীন চাইনিজ ভাষা তাকি আইচে, জেলা বাংলা, হিন্দি, ইতালিয়ান ইত্যাদি একটা প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা তাকি আইছে… তবে এরা আলাদা, যেলা বাংলা আর হিন্দি আলাদা ওলা মণিপুরি আর ঔ গ্রামর বিয়াতেও বেজান আলাদা …” আমি সরি কইয়া মামারে জিগাইলাম বিয়াতে মানে কিতা… মামায় কইলা

মামা: বিয়াতে কথার মানে অইলো পূজারিরা/,পূজা কররা/worshippers… কুন দেব বা দেবীর পূজারি এরা, না প্রকৃতির পূজারি, স্পষ্ট ভাবে জানা নাই আর এখন তো এরা সবউ খ্রিস্টান, আইতে রাস্তাত যে চার্চ দেখছো ইটা পুরা দিমা হাসাও অঞ্চলর সবচেয়ে বড়ো চার্চ…


মা: তে এরা দিমাসা নায় তে কারা? কইতাকি এরা ইনো আইলা তে?


মামা: তারার রূপকথা তাকি যতদূর জানা যায় তারা চাইনার পুবেদি মাঝখানর শানছি অঞ্চল তাকি রওয়ানা দেইন হান বংশর শুরুর দিকে, মানে খ্রিস্ট পুরব ২০০’র আশে পাশে … আস্তে আস্তে ইউনান প্রভিন্স অইয়া মাইগ্রেশন চলতে থাকে, তারা বার্মা আইজাইন প্রায় হাজার বছর আগে, হিনো সেটেলও করইন তারপরে মিজোরামর দিকে ঢুকইন। তারাউ আসলে মিজোরামর প্রথম বাসিন্দা…”


আমি: কিলা জানা গেলো যে তারা মিজোরামর প্রথম বাসিন্দা?


মামা: খুব বালা প্রশ্ন, very good ভাইগ্নি… ইটা জানার একটা সহজ উপায় আছে, জাগার নাম যে যখন থাকইন পাওয়ারো তাইন তাইন বদলাইন, কিন্তু নদী, পাহাড় ইতার নাম থাকিজায় আদিম… প্রথম যারা আইয়া যে নাম দিছলা অটাউ থাকিজায় … যেমন আমেরিকার নদী আমাজন, মিসিসিপি ইতা কিচ্ছু ইংলিশে নায়… জাগার নামও অবশ্য আদিমটা থাকিজায় যদি আমরার দেশর মতো প্রতি পাছ বছরে নাম বদলানির পাগলামি না থাকে… যেমন টেক্সাস, ছিকাগো , অ্যালাব্যামা, প্রায় সব আমেরিকার জাগার নাম নেটিভ আমেরিকান ভাষায় রইছে… মিজোরামর কথাত আইলে হাজারে বিজারে নদী পাহাড়র নাম বিয়াতে ভাষায়, রাজধানী আইজলও যদি ধরো, প্রাচীন নাম আইমো-জল, ধরা ওয় আইমো আর বিয়াতে শব্দ আইমরই তাকি, এক ধরনর জংলি আদার গাছ যেটা হকানো পাওয়া যাইত…


মা: fascinating, তোর linguistics ও অতো ইন্টারেস্ট জানতামনা তো…


মামা: আছিলনা রে, কিন্তু ইতালিত গিয়া আস্তে আস্তে খেয়াল করা শুরু করি যে হক্কলতা শুনতে বাংলা হিন্দি টাইপ, যেমন গলা মানে গলা, মা বাবা অইলো মাদ্রে পাদ্রে, নাম্বার ইতা তো বেতালাউ উনো, দুয়ে, ত্রে, কুয়াত্র, চিঙ্কুয়ে, ছেই, সেত্তে, অত্ত, নভে, দিয়েশি… আমি তো কানা লাগি গেছি! ঔ আস্তে আস্তে জানতে শুরু করি আর ইন্টারেস্ট খালি বাড়তে থাকে মা: ঠিকউ তো আনুক্কা facts…


মামা: কিছু কিছু linguist রার ধারনা যে পৃথিবীর সব ভাষার জননী সম্ভবত কুনো এক আদিম ভাষা আছিল আফ্রিকাত… কিছুটা বেবেল টাওয়ারর গফর লাখান নানি কো?


কুটুশ: কিতা গল্প মামা? মজার নি কওনা?


মামা: দাড়া কই… বাইবেলর ফ্লাডর গল্প তো তুমরা শুনছো? ঔ ফ্লাডর পরে, বর্তমান ইরাকর রাজধানী বাঘদাদ যার প্রাচীন নাম বেবিলন, অনো পৃথিবীর সব মানুষ জমলা জমিয়া ঠিক করলা তারা মিলিয়া একটা অতো উচা টাওয়ার বানাইবা জেগগু স্বর্গপর্যন্ত পউছহিজায়, তখন সবে এক ভাষায় কথা কইতা অতালাগি প্ল্যানিং উনিং করতে কুনো অসুবিধা অইলনা… জোর শোরে কাজ চললো… ভগবানর দেকিয়া লাগলো আরে ইতা তো বালা দুষ্ট খুনি ধার্মিক সারা স্বর্গত উঠিজাইবা, সর্বনাশ… কিচ্ছু একটা করা লাগবো, তাইন ভাবলা যে টাওয়ার খালি ভাঙ্গিদিলে ইতায় আবার বানানি শুরু করবা তে কিতা করা যায়… আখতা তান মাথাত আইলো বুদ্ধি, সারার ভাষা আলাদা আলাদা করিদেই তে আর একগে আরেকগুর মাতউ বুঝতানা কিতা প্ল্যানিং আর কিতা টাওয়ারর কাম! অতাউ করলা, দিলা সারারে আস্তা প্রিথিবিত ছিতরাইয়া আর ভাষা দিলা সবর আলাদা আলাদা করিয়া…

ঔ গল্প কইয়া মামায় লাস্ট কামড় দিলা স্যান্ডউইচো দুরে পাহাড়র দিকে কিলা খালি খালি একটা দৃষ্টিতে চাইয়া। ঘণ্টা দেড় কাটাইয়া আমরা নামিজাই নিচর দিকে, ফিয়াংপুই চার্চ তার সামনে পুরা গ্রাম বাইক দিয়া চক্কর উক্কর দিয়া, হাফ্লং শহরর চক্কর দিয়া বাইক জমা দিতে দিতে বাজিজায় দুপুর বারোটা, জিপো বইয়া আমরা ফিরিজাই জাতিঙ্গা গ্রামো। মামার বাড়ীর থুড়া আগে রাস্তাত পড়ে, যাইতে সময় যে কইছলা খাওয়াইবা অনো ঢুকলাম, কিতা কিতি অর্ডার দিলা নাম খেয়ালউ করতে পারলামনা তাইন পরে বুঝাইয়া কইলা একটা করইল’র লগে চিকেন মিলাইয়া কারি, সিদল টাইপর মাছর সুপ উপরে তুলসী পাতা দেওয়া… মায় লইলা রুটি, ডাইল আর ভেন্ডির লগে ডিমর একটা মিলাইল ভাজা টাইপ… খাইয়া দাইয়া ঘরো ফিরিয়া ছান করিয়া দিলাম সবে লম্বা ঘুম উঠলাম বিকাল ছয় টার সময় বিশু মামার ডাকে, “জাগো দেশ ওয়াসিও জাগো…” কইয়া দরজাত ধাক্কা, “উঠো উঠো এক চক্কর টাওয়ারো গিয়া আই… রেডি অওা লাগতনা, হাটি হাটি জাইমুগি পাজামা লাগাইয়াউ চলো…”, মায় কইলা “দাড়া অস্থির অইছনা, পাছ মিনিট দেয়…” আমরা পট করি দুনটা বারইগেলাম আর মায় চুল আস্রিয়া নামলা “কিতারে সুয়েটার কে নিতো? ঠাণ্ডা লাগেনানি… পূজা পরে বিছনাত কাটবনু…” কইয়া কইয়া হাতো করি লইয়া নামছলা উলোর শার্ট-প্যান্ট সেট লাগাইয়া দিলা আমরারে… রওয়ানা দিলাম সকালর হউ টাওয়ারোর দিকে, কি অন্ধকার, কটুশ’র হাতো মামার শক্তিশালী লাম্বা টর্চ, ইগু ছাড়া কিচ্ছু দেখা গেলনানে, মামায় কইলা “কালকের ঝড়িয়ে কুনবায় গাছ গুছ পড়ি হউ যে রাইত গেছে আর আইছেনা কারেন্ট… এর মধ্যে just কাইল গেলো অমাবশ্যা। ” গল্প করি করি পাচ মিনিটে তিমুকাত পউছিয়া ডাইনে ঘুরতেউ সিড়ী, “যেতা দেখানিত নিয়ার ইতা দেখার বা দেখানির কুনো ইচ্ছা নাই কিন্তু আমার হাতো কিচ্ছু নাই আর ইটা না দেখলে বুঝতায়না কতোটা মর্মান্তিক ই বিষয়টা… দেখলে হয়তবা তুমরাও কিচ্ছু করবায় ইতার সমাধানর লাগিয়া ” কইয়া মামায় কটুশোর একহাতো ধরলা, সিড়িবায় আমরা উঠতে থাকলাম, আমার কিন্তু মজাউ লাগের, ঘন অন্ধকার কুনদিকে কুনো আওয়াজ নাই খালি পুকার ডাক আর মাঝে মাঝে অজানা পাখী না কিতার আওয়াজ, দুরে তাকি কে কুন কুন করি কিতা ভাষায় একটা গান যেমন গার… ও হউত্ত তলে গ্রামো আগুণ জ্বালাইয়া কারা বওয়াত হন তাকি আওয়াজ আর বুধয়… ঈশ ইখানো এখন মাইনসে আগুণ পুয়াইত্রা আর আমরার নতুন বাজারো ফ্যান চালাইয়াও ঘামিয়া ভিজিজাই ঘুমানি যায়না। আখতা শুনা গেলো একটা পাখীর মরণ চিৎকার লগে লগে মামায় “কতো বুঝাইয়া কই আগুণ উগুইন ই সময়টা জালাইওনা দয়া করি তবু কিছু অপদার্থ আছইন… অতো ননসেন্স কিলা যে অইন মানুষ!” আমি জিগাইলাম কিতা অইছে মামা, কইতে না কইতে আরো পাখীর আওয়াজ… মামায় কইলা, “বছরর ঔ সময় বিভিন্ন জাগার পাখী ওখানো আইন আর ওলা অমাবশ্যার অন্ধকার সন্ধ্যা সাত টা তাকি দশ টার মধ্যে আগুইনোর দিকে গিয়া পড়িয়া মরইন… মাইনসে কইন সুইসাইড, কিন্তু ইতা মার্ডার! প্রথম দিকে ট্রাইবেল মানুষরা ভাবতা পাখীর রূপে আকাশ তাকি আত্মারা নামরা তারারে শাস্তি দেওয়ার লাগিয়া… এরলাগি তারাউ চুক্কা বাশ দি মারতা… এখন সচেতনতা বাড়ায় বহুত কমিয়া আইছে…” আমি জিগাইলাম কেনে ইলা করে পাখীয়ে, ইখানউ কেনে আর ই টাইমেউ কেনে, মামায় বুঝাইলা “সঠিক কারণ জানা নাই, কিছু থিওরিজ আছে… কিছু বিজ্ঞানীরার ধারণা অইলো উচা পাহাড়ে ঘেরা অঞ্চল, স্পিডে চলা উপরি বাতাসে আখতা বেরা লাগিয়া পাখীরা নিচর দিকে আখতা নামে আলোর দিকে কিন্তু ঘনো কুয়াশাত ডিরেকশন বেরা লাগিয়া উলটি পালটি পড়ে, যেলা ওয়েদার খারাপ থাকলে প্লেইন ল্যান্ডিং করতে গিয়া ক্র্যাশ ওয় … আবার কেউ কেউ কয় ইখানর পাথরর তলর জলর চুম্বকীয় পরিবর্তন ওয় ই সময় যেটায় পাখিরার navigation ও বেরা লাগাইদেয়…” , মায় কইলা “আমার ই থিওরিত কুনো বিশ্বাস নাই… নিজে কিছু magnetic field মাপার ইনস্ট্রুমেন্টস আনাইয়া দেখ tests করিয়া, তবে আমার মনো অয়না সন্ধ্যার এক বিশেষ সময়ও আখতা magnetic field change অইজাইব…”, “ফিসিক্স উসিক্স ইতা মারাত্মক জিনিস তোর expertise রে বইন, আমার মাথাত ঢুকেনা… আমি আমার পাখীরে বাচানির চেষ্টাত আছি”, “কিন্তু বৈজ্ঞানিক কারণ জানা গেলে হয়তবা একেবারে solve করিদেওয়া যাইব সমস্যাটা, একটাও পাখী হয়তবা আর মরতানা… বা at least সঠিক কারণ গ্রামর মানুষরে ভালা টিকে বুঝাইলে অন্ধবিস্বাশ টা থাকতনা আর আত্মা ভাগানির লাগি আগুণ জ্বালাইয়া বাশ দি খুচা খুছিও কেউ করতনা…”, “ইটা তুই খাটি কথা কইছস … চল নামিজাই , লালুদারে কইয়া আইছি বেশ করি কিছু পিয়াইজি বেগুনি আর মশালেদার চা বানাইত… রেডি অইগেছে কিবা”, আমি দাড়াইয়া সামনোর খুলা আকাশর দিকে চাই রইছি দেখিয়া মামায় কইলা “তিতলি, চলো আমরার ছাদো গিয়া বেগুনি খাইয়া খাইয়া মাদুরো সইয়া খুলা আকাশ দেখবায়, ইলা আকাশ তুমরার হিবায় পাইতায়না”, মায় কইলা “ওয় চল, কালকে সকালর ট্রেইন কাপড় চুপড় ঢুকানি আছে …” নামিয়া আইগেলাম আমরা। মামায় একটা মাদুর লইলা রোল করা আর ডাকিয়া কইলা “লালুদা চা-চু অতা লইয়া তুমিও আইজাও…” উপরে গিয়া বিরাট মাদুর পাতিয়া সব বইলাম, লালু মামায় পকোড়ার ট্রে রাখিয়া চা আনার লাগি গেলা… ভাই পুরা লাম্বা অইয়া উপরেদি মুখ করি সইগেলো… সইয়া কয় “ওই দিদিভাই দেখ… মেঘর ফাকেদি অতো তারা দেখা যার কিতা সুন্দর…” আমি আর পাত্তা না দিয়া একটা বেগুনিত কামড় দিয়া পিছেদি এক হাথ রাখিয়া রেলিং ও হেলান দিতেউ চমকিয়া উঠলাম… “ইয়া… ইতা কিতা ???” মামায় কইলা “হে হে কইছলাম নানি… ইটা অইলো আকাশ গঙ্গা our own Milky Way Galaxy” আকাশ গঙ্গা বইত পাইছি কিন্তু কুনদিন ইরকম দেখছিনা… আকাশর পুরা উত্তর তাকি লইয়া দক্ষিণ, মানে ক্যাথলিক চার্চর পিছর পাহাড়র পিছ তাকি বারইয়া পুরা পাখী দেখার টাওয়ারর অদিকে রামধনুর মতো আস্তা আকাশ লইয়া যেনো একটা তারাদি বানাইল লম্বা মেঘ… আকাশর উপরে মহাকাশর মেঘ… পাখীর টাওয়ারর দিকে গিয়া ঝাপসা অইগেছে, বুধয় এমনে মেঘে ঢাকিদিছে, উফ কি অদ্ভুত জিনিস যেন স্বর্গ দেখিলাইছি… সকাল সকাল ঠাণ্ডাত লেপর তল তাকি বারইলে যেলা লুম খাড়া ওয় ওলা অইগেছে… কুয়াশার মতো দেখতে সাদা সাদা আর মাঝে মাঝে কিছু বিরাট বিরাট পুরা বাল্বর লাখান উজ্জ্বল তারা… আমি কইলাম “ইয়া মামা তুমরার ইখানো অতো সুন্দর পাথুরে জাতিঙ্গা নদী আর উপরে জাতিঙ্গার ঔ মতো আকাশ জুড়িয়া আকাশ গঙ্গা… আমরার নতুন বাজারো কিচ্ছু নাই …” মামায় কইলা “আকাশ গঙ্গা নতুনবাজারোও আছে, তোর মারে জিগা রাঙ্গা ইতার expert…” মা আমরার সায়েন্স টিচার কিন্তু মহাকাশ লইয়া কিচ্ছু এখনো পড়াইছইন না, মায় কইলা “pollution এর কারণে দেখা যায়না সব জাগাত তাকিয়া, ইখানো পাহাড়র স্বচ্ছ হাওয়া, বৃষ্টির পরে খালি আকাশ আর অমাবশ্যার রাত্রে লউডশেইডিং ওর লাগি perfect situation create অইছে, আকাশ গঙ্গা সব জাগাত আছে, আসলে আমরাউ আকাশ গঙ্গার মধ্যে আছি… ”, “মানে? মা কওনা বুঝাইয়া…” কইতে মায় শুরু করলা…

মা: সবে বেগুনি লও ঠাণ্ডা অইলে থেতলা অইজাইব, আরাম পাইতায়না… সৌরজগতর ছবি বা ম্যাপ তো তোরে আকাইছলাম বৃত্তির সময়, মনো আছে তো?


ভাই: আমিও জানি … আমিও আকতে পারি।


আমি: ওয় ওয়, আর ভাইয়ে খুব সুন্দর করি একটা পেইস্টেল কালার দি আকছিল আমার টেবিলো গম দি চিপকাইল আছে…


মা: ok… যেলা সূর্যর বিভিন্ন গ্রহ, গ্রহাণু, পাত্থর টাত্থর লইয়া পুরা পরিবার অইলো আমরার সৌরজগত ওলা সূর্য নিজে আরেক আরো বড়ো পরিবারর মেম্বার… আমরা পৃথিবী মঙ্গল ইত্যাদি সব রে একলগে লইয়া।


আমি: পুরা বুঝছিনা…


মা: মশার কয়েল দেখছস নি, ভাব যে মশার মরটিন কয়েল অইলো আস্তা বড়ো ফ্যামিলি যারে আমরা Galaxyকইমু ঔ কয়েলর ডাণ্ডা ইতা বনছে লক্ষ লক্ষ সূর্যর মতো নক্ষত্র আর তারার পরিবার লইয়া… আমরার সৌরজগত আছে কয়েলর ডাণ্ডার প্রায় শেষর দিকে… ইখান তাকি আকাশে দিকে আমরা যদি চাই তে কিতা দেখমু?


আমি: কিন্তু মা আমরা তো ইলা কয়েলর লাখান কিচ্ছু দেখিনা, অউত্ত উপরে দেখোনা , just একটা সুজা ডাণ্ডার মতো আকাশ জুড়িয়া, ঘুরাইল ঘুরাইল কয়েল কই?


মা: good, very good তিতলি… ধরো আমরা পিপড়ার মতো, কয়েলর শেষ ডাণ্ডার ভিতরর দিকে একটা পিপড়া বওয়াত, এই পিপড়ায় কিতা কয়েলর প্যাচ দেখবো?


আমি: না!


মা: তে? কিতা দেখবো?


আমি: কয়েলর নেক্সট প্যাচ’র ডাণ্ডা টাউ দেখবো কারণ ওটায় বাকিটাইন রে ঢাকিদিবো ।


মা: exactly! কয়েলরে চেপটা করি মুখা মুখি না ধরিয়া যদি তেরছা করি ধরো তে? একটা ডাণ্ডাউ লাগবো… ঔ ডান্ডাউ আমরা বর্তমানে দেখরাম পিপড়ার মতো galaxy নামক কয়েলো বইয়া… কয়েলর ডাণ্ডা আসলে নক্ষত্র সমষ্টি…


আমি: তে মা ইগু দেখতে ইলা মেঘর মতো কেনে? শক্ত কয়েলর লাখান নায় কেনে?


লালু মামা: চা বেগুনি সব ঠাণ্ডা অইজার আর তুমরা কিতা কয়েল কয়েল? আমরার ইনো মশা উশা নাই!


মা: হা হা হা লালু দা হাসাইলায়! তিতলি, কো চাইন মেঘ আসলে কিতা জিনিস? শক্ত বরফর টুকরা নি?


আমি: না জলিয় বাষ্প, জলর কণা কাছা কাছি জমা অইয়া বাতাসো ঝুলের, একটাআস্তা বরফরটুকরা নায়, মাঝেদি আমরা জিপ লইয়া পারইলাম আজকে!


মা: একদম ঠিক! অউরকম একটা galaxy ও তারার সমষ্টি, লক্ষ লক্ষ তারা মহাকর্ষণে ঝুলিয়া আছইন মহাশূন্যে, কাছা কাছি, অথচ একজনে আরেকজনর লগে লাগিয়া নায়… মাঝখানো হাজার কুটি কিলোমিটারর খালি জাগা!


বিশু মামা: কিতা কস? অততা নি?


মা: অয়রে average separation 0.01 light-years এর মতো


মামা: হিয়া মালিক… কি মহাকান্ড!


আমি: মা, light-years কিতা?


মা: light-years বা আলোক-বর্ষ অইলো মিটার, কিলোমিটার, মাইল ওলা দূরত্বর একটা একক…


ভাই: মিলি -সেন্টি-ডেসি-মিটার-ডেকা-হেক্ট-কিলো / একটা একটা করি শূন্য বাড়ি বাড়ি গেলো! তুমি যে ছড়া শিকাইছ


মা: একদম ঠিক! মহাকাশর দূরত্ব ইতা অতো বেশি বেশি যে অতউ বেশি শূন্য লাগিজায় যে আর মিটার কিলোমিটার ইতা ব্যবহার করা যায়না! যেমন ধর লালা তাকি হাইলাকান্দির দূরত্ব কতো?


আমি: শুল্ল কিলোমিটার


মা: মিলিমিটারে কতখান অইবো?


আমি: ১৬০০০০০০ মিলিমিটার… ইয়া অতো বড়ো সংখ্যা!


মা: হে হে হে … অতালাগিয়াউ জাগা বুজিয়া ইউনিট সিস্টেম… এক টেবিলর উপরে রাখা জিনিস পত্র দৈর্ঘ্য মাপতে সেন্টি মিটার কি ইঞ্চি, আবার আঙ্গুলর আগাত আইজায় জিনিস মাপতে মিলি, বাড়ীর বাইরর কিন্তু এক এরিয়ার দূরত্ব মাপতে মিটার আবার এক জাগা তাকি আরেক জাগা আইগেলে কিলোমিটার ব্যাবহার করি আমরা। সৌর জগতর ভিতরে গ্রহে গ্রহে দূরত্ব মাপতেও কিলোমিটারে চলিযায় কিন্তু নক্ষত্রে নক্ষত্রে দূরত্ব মাপতে কিলোমিটার ব্যাবহার করলে শূন্য লাগাইতে লাগাইতে খাতা ভরিজাইব তাছাড়া পাতা ভর্তি শুন্যত কয়গু মিস অইগেলে সব অঙ্কউ অইজাইবো ভুল… ঔ অতালাগি বার করা ওয় আলোক-বর্ষ একক


আমি: আলোক বা light কেনে ইখানো?


মা: শূন্যর মধ্য দিয়া সবচেয়ে দ্রুত যাইতে পারা জিনিস ঔ অইলো আলো, এক সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার যায় আলো আর আলোর বেগ সব সময় সমান থাকে, মানে ইলা নায় যে আইজ আলিয়ামি লাগের তে থুড়া আস্তে দৌড়াইল কাইল থুড়া জুরে, আলোর ঔ বিশেষ চরিত্রর লাগি আলোরে select করা ওয়, আলো এক বছরে যতদূর যায় ঔ দূরত্বরে কওয়া ওয় আলোক বর্ষ, light-year!


আমি: বুঝিলাইছি! আমি একবছরে যতদূর দৌড়াইয়া জাইমু ওটা অইবো তিতলি-বর্ষ…


ভাই: আর আমারটা কুটুশ-বর্ষ


আমি: তুমি কইছ দুই তারার মধ্যে দূরত্ব 0.01 light-years মানে আলো 0.01 year মানে… 365 রে ১০০ দি… মম… 3.65 দিন লাগিজায় আলোর যাইতে এক তারাত তাকি আরেক তারা? ইয়া তে আমরা তো কুনদিন যাইতে পারতামনা… যাইতে যাইতে মরিয়া ভুত!


লালু মামা: রাইত কাল হিতার নাম লইন না, ঔ গির্জার পরর বাড়ীর রেস্টুরেন্টর মালিক বেটায় সুইসাইড করছিল গত লকডাউনো ! আমরার হাওয়াইতাঙ্গর সুবীরর পুয়াও ঝুলিয়া মরলো… হায়রে করনায় কতো মানুষ রে এমনেও নিলো আর হেমনেও…


বিশু মামা: লালু দা বাইচ্যান্তর সামনে কিতা মাতরায় ইতা? আচ্যা রাঙ্গা, আমরার সবচেয়ে কাছর তারা কতো খান দুরই অইবো?


মা: আমরার সবচেয়ে কাছর তারা তো সূর্য এর পরে সবচেয়ে কাছর অইলো Proxima Centauri প্রায় চাইর light-years দূরে!


আমি: ইয়া সবচেয়ে কাছর অগুত জাইতেউ আলোর চা…ই…র বছর লাগিজায়? কিলা কুনোদিন জাইমু আমরা!!!


মা: সূর্য তাকি আলো আমরার কাছে আইতেও প্রায় আট মিনিট লাগিজায়! ধর তুই পিছে চাতলো বইয়া রউদ পুয়াইরে আর আখতা সূর্য নাই অইগেলো… তোর গাত রইদ কিন্তু সূর্য নাই অইজাওয়ার আট মিনিট পর্যন্ত পড়তে থাকবো!


আমি: ইয়া কিতা কও ইতা? তার মানে সূর্য আমরার তাকি আট আলোক-মিনিট দূরে…


মা: আলোক মিনিট সুন্দর কইছস… exactly… উপরে যে তারা ইতা দেখরে ইতা হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ আলোক-বর্ষ দূরে…

বেগুনি চাবাই চাবাই আমি আকাশ গঙ্গার দিকে চাই রইলাম… কতো দূরে লক্ষ লক্ষ তারা জমা অইয়া মেঘর মতো… হাজার লক্ষ বছর আগর তারা ইতা কিবা আজকে আর নাই কিন্তু হাজার লক্ষ বছর আগর আলো ইতা অখন আইয়া পৌছের জাতিঙ্গা গ্রামর ঔ ছাদো… ইতা তে তো তারা নায় তারার ছবি খালি বা তারার ভুত? ভুত কিতা তে ওলা মরি জাওয়া মানুষর রইজাওয়া একধরনর আলো নি? যদি পুরা Milky Way Galaxy’র আস্তা কয়েলর ডাণ্ডাটাউ ভুত ওয়? যদি এই কুনো তারাউ আজকে আর নাই সব হাজার লক্ষ বছর পুরানা আলো? হউ সব তারার সৌরজগতর মানুষ ইতার কিতা ওইলো? আমার মতো আরেক তিতলিয়ে কিবা তারার ছাদো বইয়া লক্ষ বছর আগে ওরকম ভাবছিল… তারার কুটুশে আকাশর দিকে টর্চ মারছিল হউ আলো কিবা এখন আইয়া পৌছের আমরার ছাদো। মন টা আশ্চর্যে ভরিগেলো কিন্তু কিরকম একটা অজানা ডর… তে আমরা কিতা একলা নি? কুটুশে ঠাণ্ডায় আখতা হাচছি দেওয়ায় আমরার খেয়াল ওয়, ছাদ তাকি নামতে নামতে রাইত সাড়ে নয়টা বাজিজায়, নামিয়াউ সুজা ডাইনিং রুমো ঢুকিয়া খাইয়া আমি উপরে আইয়া ডায়েরি লেখাত বইজাই… এখন বাজে এগারটা পনেরো, মার পাওর শব্দ শুনিয়ার সিড়িত… আজকের লাগি অতটাউ, goodnight diary!

— তিতলি

ভুর ০৫.০৫, ৮ অক্টোবর ২০২১, জাতিঙ্গা গ্রাম

আখতা ঘুম ভাঙ্গিয়া আর ধরলোনা তে কই ঘটনাটা কইদেই তুমারে। Milky Way এর মাঝেদি আমি যাইয়ার আমার spacecraft লইয়া, ইঞ্জিনর হমমমমমম একটা আওয়াজ ছাড়া আর কুনো শব্দ নাই Universeও, জানালার বাইরে আকাশ গঙ্গার মেঘ স্পিডে পাস হর আমি মেঘ চিরিয়া যাইয়ার আউগাইয়া… দুরে একটা উজ্জ্বল লাল রঙ্গর তারা দেখা যার তার চাইরোবায় ঘুরের কতো রঙ বিরঙ্গা গ্রহ… আমি আস্তে আস্তে ব্রেইক মারিয়ার… আখতা ঘট করি একটা আওয়াজ পিছর জানলা তাকি… শিফু এ লাগাইছে ঘাউ ঘাউ… ফিরতেউ দেখি দুইটা মুরগির মতো আঙ্গুল আলা বড়ো বড়ো হাত… জানলাত ঠুকিদের… খুলাত যাইতাম আখতা লালু মামার হাথ আমার ঘাড়ো… আমি চিৎকার দিছি কিন্তু আওয়াজ বারোর না… তাইন কইন “খুলিওনা বাইগ্নি খুলিওনা…ইগু সুবীরর পুয়া…” আমার শ্বাস বন্ধ অইগেছে… জুরে ঝাকড়া মারছি নিজরে আর লগে লগে ঘুম ভাঙ্গিগেছে… তখনো শুনই হউ ঘট ঘট শব্দ… চাইয়া দেখি দেওয়ালর কেলেন্ডার ভেন্টিলেটর তাকি ঢুকা বাতাসে লড়িয়া বাড়ি খাইয়া ঘট ঘট শব্দ… আর পারলাম না ঘুমাইতে, সাহস করি উঠিয়া কেলেন্ডার টা খুলিয়া রাখিয়া জল খাইয়া তুমারে অতা কওয়াত বইলাম। দাড়াও কে ডাকরা… লালু মামায়… যাই দেখি…

— তিতলি

রাইত ০৯.৪৫, ৮ অক্টোবর ২০২১, নতুন বাজার

সকালে লালু মামার ডাকে ০৫:১৫ সব ঔ উঠিযাই, মার বুলে কওয়াউ আছিল, ব্রাশ-বাথরুম করিয়া গিয়া ব্রেকফাস্ট করিলাই, বিশু মামায় কইন “তিতলিয়ে খালি জাতিঙ্গা জাতিঙ্গা করের একটানে গিয়া তাইরে দেখাইয়া লইয়া আই জাতিঙ্গা… চলো সব”, “কাইল রাইত হাওয়াইতাঙ্গর মিজোরাম-আসামর জুদ্ধর গফ করতে করতে আর কাপড় গুছহানির সুজুগ পাইছিনা, তুই অতা দগুরে লইয়া গিয়া আয়… আমি শান্তিতে পটাপট আটাইলাইতেও পারমু , পটাপট আইজাইও এগারোটায় ট্রেইন… ”, “উহ… বেজান দেরি, আরামসে আইজাইমু” কইয়া মামায় আমরারে লইয়া বারইতা এমন সময় ভাইয়ে দৌড় মারি দুতালাত… কিচ্ছু বুঝার আগে দেখি তার পিটবেগ লইয়া নামের, sure আকার খাতা রঙ ইত্যাদি… মায়ও আনিয়া সুয়েটার দিলা আমরারে পরাইয়া… মামায় কইলা, “জাতিঙ্গা কইছি কিন্তু মেইন বড়ো জাতিঙ্গা এখন জাওয়া সম্ভব না বরং জাইমু হকানো যেখান তাকি জাতিঙ্গার শুরু…”, আমার তো কিতা ফুর্তি! সাপর লাখান পেচাইল লামডিং-শিলচর রউডেদি সকাল ছয়টার ঘনো কুয়াশার মধ্যেদি আস্তে আস্তে চালাইয়া জাগাত পৌছতে সময় লাগিজায় প্রায় বিশ মিনিট… পাহাড় আজকে প্রায় কিচ্ছু দেখা গেছেনা সব সাদা কুয়াশায় ঢাকা… কয়েক মিটার দুরই ঔ কুন্তা দেখা যারনা! একটা জাগাত গিয়া রাস্তার সাইডে জিপ থামাইয়া আমরা সামান্যা এক মিনিট হাটতেউ পাইলাইলাম জাতিঙ্গার শুরুর দিক, প্রায় উৎস… কালকের মতো একদম নায় বরং চিকনা কিন্তু ঝরনার মতো স্পিড আলা একটা ছুটো নালা টাইপ লাগলো আজকে… উপরে তাকি পাহাড়র ঘনো জঙ্গল তাকি বারইয়া আইছে পাত্থরো ধাক্কা ধুক্কা খাইয়া ছিটকের জল ইদিকে সিদিকে আর কল কল ঝম ঝম গুড় গুড় মুড় মুড় খালি শব্দ… পরিষ্কার আমরার বাড়ীর একুয়া গার্ডর লাখান পরিষ্কার জল… একটা বড়ো পাত্থরো বইয়া ভাইয়ে স্কেচ করের আর আমি প্যান্ট আটাইয়া পাওর পাতা ডুবাইছি জলো… মজা অইলো কুনো কাদা মাটি পেক নাই, খালি বালি আর পাত্থর… যত ইচ্ছা জল ছানো কাপড় ভরার চান্স নাই… ভাবছলাম ঠাণ্ডা অইবো জল কিন্তু আসলে একটু একটু উম গরম… মামারে জিগাইতে কইলো “গত কালকে সারাদিন রইদ খাইয়া পাথর ইতা গরম অইছিল সারা রাত্রে পুরা ঠাণ্ডা অইছেনা, অতা ধইয়া উপরে তাকি জল আর … দুপুর দিকে যখন পাথর ঠাণ্ডা অইজাইবো তখন জল ও থাকবো ঠাণ্ডা… আবার বিকাল ওইতে ওইতে সারাদিনে পাথর গরম…” মামায় আরো কইলা “ঔ ওখান তাকি শুরু অইয়া একশো কিলোমিটারর লাখান তেড়া বেড়া ঘুরিয়া বদরপুরর কিনারো গিয়া বরাক নদীত পড়ছে জাতিঙ্গা” আমি কইলাম যে আমরার নতুন বাজারর কাটাখাল আর আমরার বাড়ীর ধলাই-সপ্তগ্রামর রুকনিও তো গিয়া বরাকো পড়ছে… নদী লইয়া মামায় বহুত তা কইলা আর কইলা কিলা নদীর উপরে কারেন্ট বানানির লাগি যে ডেম বনে ইতায় কিলা কতো শত পাখীরে লুপ্ত করিদেয়… পাখীরা নদী, ঝিল, বিল ইতার উপরে কতো নির্ভরশীল আর আমরা মানুষ রা কিচ্ছু করার আগে তারার কথা ভাবিয়াউ না প্ল্যানিং করার সময়, মায় কইছলা তারা ছুটোবেলা ধনেশ পাখী প্রায় দেখতা সপ্তগ্রাম কিন্তু এখন আর নাই, অলাউ নাই অইছে আরো কতো যে পাখী। ঘণ্টা খানেক গল্প জল ছানা ছানির পরে আমরা ফিরিজাই… সকাল সকাল হালকা গরম গরম ভাত ঘী দিয়া খাইয়া রওয়ানা দিলাই স্টেশনর লাগি, মামায় ট্রেইন ছাড়া পর্যন্ত আমরার লগে কামরাত থাকইন তারপরে আমরার বাড়িত আইবা প্রমিজ করিয়া নামিজাইন ট্রেইন তাকি, শেষে আমার আর লইজ্জা লাগছেনা মামারে একটা হাগ করিয়া bye bye কই… মামায় bye কইলানা খালি চাও চাও কইলা… বুঝলামনা কিতা চাইতাম, ট্রেইনেও স্পিড লইলাইলো। সউমেন মামায় যেই বাড়ীর সামনে আনিয়া আমরারে নামায় বাড়ীর ভিতরে তাকি দৌড়িয়া আইয়া আমার উপরে পুরা ফাল শিফুয়ে মুখে উখে চাটতে চাটতে শেষ… ঔ যে কুলো উঠছে আর নামেনা, দশ কেজির শিফুরে পুরা রাস্তা তাকি ঘর পর্যন্ত লইয়া গেলাম… তাই ডরাইগেছিল খিজানু আবার নি তাইরে ফালাইয়া জাইগি। সারাদিন আমার লগে লাগিয়া লাগিয়া আছিল, আমি বাথরুমো ছানো ঢুকছি তাই বাইরে দরজাত বাইড়াই বাইড়াই নউক দি চিরি চিরি কান্দাত আছিল, এখন বাজে রাইত সাড়ে দশটা এখনো আমার পাওর লগে লাগিয়া চেয়ারর তলে সওয়াত, আমিও ঠিক করছি পৃথিবীর জাতিঙ্গা অউক আর গঙ্গা, হউক spacecraft এ মহাকাশর আকাশ গঙ্গা, শিফুরে সঙ্গে না লইয়া আমি আর কুনখানো যাইতামনা। এখন যাই আমিও ঘুমাইজাই, good night diary

— তিতলি

 দ্বিতীয় অধ্যায় : পিঙ্গল রহস্য – প্রথম পর্ব 

 

 

রাইত ১০.১৫, ০৭ নভেম্বর ২০২১, নতুন বাজার

হ্যালো ডায়েরি, ই কয়দিন একদম সময় পাইছিনা তুমার লগে বালা টিকে গল্প করার। কতো কাজ গেলো, সমীরণ মামা আর জন্টুদার লগে মিলিয়া ভাই আর আমি আস্তা বাড়ি পরিষ্কার করলাম, মায় অনলাইনে টুনি সেট আর প্রদীপ আনছলা ইতা সবে মিলিয়া ঘরর চাইরবয় লাগানি অইলো, তারপরে গাছ গাছালি জঙ্গল পরিষ্কার করা কতো কাজে সন্ধ্যার পরে বিছনাত পড়িয়াউ ধুম ঘুম। দিওয়ালীর আগর দুইতিন দিন গেলগিয়া অলাউ। স্কুল তো খুলছে কিন্তু রুজ ক্লাস থাকেনা সবর, আইজ আমরার তে কাইল অন্য ক্লাসর, অতালাগি দিওয়ালীর আগর দুইদিন বন্ধ পাইলাইলাম, কুটুশর অবশ্য খুলা থাকলেও কান্দা কাটি করি আর গেলনা। দিওালির সারা সকাল আমরার সামনোর গেইটোর দুইদারেদি লাগাইলাম গেইটর মতো করি দুইটা কলাগাছ আর ইতার মধ্যে গাড়া অইলো বাশর শলা, অতা শলাত পেক লাগাইয়া রাত্রে প্রদীপ সেট করলাম মা, আমি, কুটুশ, আর মামিয়ে। মায় কইছইন এখন বুলে কেউ ইলা আর কলাগাছ সাজাইন না, তারার ছুটোবেলাত তারা ভাই বইন রা মিলিয়া সাজাইতা দেখিয়া এখনও তাইন ওলা সাজাইতে আরাম পাইন। শিফু সারাদিন লগে থাকলেও সন্ধ্যা ওইতে যেই মাইনসে বম ফাটানি শুরু করলা, লগে লগে তাই ডরাইয়া যে চকির তলে ঢুকছে আর বারইলউ না! মায় বম ফাটাইন না, মামার বাড়ীর দাদুর বুলে প্রত্যেক দেওয়ালির পরেউ খুব শ্বাস কষ্ট অইত বারুদর গন্ধে, অলাউ এক দিওয়ালীর পরে দাদু বাক্কা কষ্ট পাইয়া শ্বাস কষ্টে মারাযাইন, এর পর তাকি মায় আর দিওালিত বম ফাটাইন না, তাইন কইন “দিওয়ালী আলোর উৎসব, শব্দর নায়“! আমি আর ভাইয়ে একটু তারাবাত্তি জালাইছি আর সমীরণ মামায় আঠাইশ ফাটাইছইন কয়েকটা। আমরার নতুন বাজার এমনে তো অন্ধকার অন্ধকার থাকে কিন্তু দিওয়ালীর বিকাল কিত্তা সুন্দর কিতা কইতাম, সব বাড়ীর চাইরো সীমানা, বাড়ীর কুনা-কানা সব জাগাত প্রদীপর আলোয় ঝলমল… কুটুশে তো ল্যাট্রিন-বাথরুমর ধারিতও প্রদীপ জালাইদিছিল! আর নাইকল বাগান আলা বাড়ীর কথা কিতা কইতাম, বাড়ীর চাইর কুনার চাইর নাইকল গাছ তারা পেচাই পেচাই টুনি লাগাইছলা আর উচা দেওয়াল ইগু পুরা ভরিদেওয়া অইছিল প্রদীপ দি… বাড়ীর জানলা, বেটন টুনি সেট দি এমন ভাবে সাজানি অইছিল যে মনো অইছিল অন্ধকারর মাঝে কেউ আলো দিয়া আস্তা দালান বাড়ি যেনো আকিদিছে।

 

বিকাল দিকে সমীরণ মামায় লইয়া গেছলা আমারারে ঘাটো, অউত্ত আমরার বাড়ী ফালাইয়াউ তিমুকার ডাইনর রাস্তাবায় ঢুকিয়াউ যে বাজার, এর লগেউ লাগিয়া ঠিক বাজারর ঠিক পিছে কাটাখালর পার ঢালু অইয়া নামিগেছে। নদীর পারে পারে এখন খালি সবজির খেত। মামাতারার সব্জিখেতর মাজেদি আস্তে আস্তে একটু নামিয়াউ পাইলাইলাম ঘাট, বাশর বড়ো এক আটি পারো বান্ধা জলো ভাসের, আমরা ঘাসো দাড়াইলাম আর মামা বাশর ভুরো উঠিয়া বইলা। সূর্য সবে ডুবছইন আমরার বাড়ীর পিছেদি, আলো তবু রইছে বাক্কা। আমরার কাটাখাল গেছে কুনাকুনি, মানে অগ্নি তাকি বায়ুর দিকে বাইয়া যার… মামায় কলা গাছর বাকল দি ছুটো ভুরর মতো একটা বানাইছলা, ওটার উপরে মোমবাতি গাথিয়া জ্বালাইয়া ছাড়ছলা জলো, রওয়ানা দিছে ভুর ভাটিবায়। আস্তে আস্তে তখন আরেকটু অন্ধকার অর তে দেখি নদীর হপারো মাইনসে আরও কত-শত ওলা আলোর ভুর ভাসাইছইন আর আমরার পারেদিও কইতাকি বাইয়া আইছে ওলা আলোর আরো কতো ভুর, ই এক অদ্ভুত অলৌকিক পরিবেশ… আখতা লাগছে যেনো সব আলো জাগাত আর আমরা নদীর পার সহ উজানেদি যাইয়ার নৌকার মতো বাইয়া। দাড়াইয়া দেখতে দেখতে যখন অন্ধকার কিছু ঘনাইল মামায় কইলা “চলো ইবার যাওয়া জাউক…মাইনসে সারা বম হেশে ফাটাইলাইবা“। আমরা যখন পারেদি আস্তে আস্তে বাইয়া বাইয়া বাজারো আইয়া উঠি, পিছে ঘুরতেউ অবাক অইযাই… ঘনো অন্ধকারর মাঝে নদী যেনো আর নাই, জলোর বদলা বাইয়া যার আলো, অগ্নি-দিক তাকি নামছে অগ্নির স্রুত… মনো পড়িগেছে জাতিঙ্গার আকাশ গঙ্গার কথা। ঈশ, বিশু মামারে কতো কইছি আওয়ার লাগি, আইলানা নাইলে দেখাইলামনে আমরার নতুন বাজারও আছে আলোর গঙ্গা। ইবার প্রথম দিওয়ালী-ভাইফুটাত নতুন বাজারো আছি নাইলে তো ধলাই-সপ্তগ্রাম! এর আগে কুনোদিন ইলা দেখছিনা, সমীরণ মামারে Thank You কইলাম। বাড়িত ঢুকতে সময় দেখি মা আর মামি গেইটো মোম বাতি লইয়া, আমি আর ভাই তারার লগে লাগিগেলাম প্রদীপ জালানিত কলাগাছো, মামা গেলাগি বাড়ীর ভিতরে। সন্ধ্যা কিরকম গিয়া রাইত অইগেলো কইতেউ পারিনা, আমরার দিকে ৮-৯ টায় বম ফাটানি শেষ অইগেলেও লালার আকাশ বহুত রাইত পর্যন্ত রঙ্গিন আলোয় ভরা আছিল! মামা তারার ছাদো তাকি দইগ্নেদি দেখা যায় লালার আকাশ, মামায় কইলা ইতা রতন মুদক উদক এরা ফাটাইন বুলে লাখ টেকার বম। ভুরে অন্ধকার থাকতে আমরা সব উঠিয়া জাইগি কালীবাড়ি। সকালে কেউ বম না ফাটানিয়ে শিফুও আমরার লগে গেছিল, তাইর কি ফুরতি আইজ অতো মানুষ সকাল সকাল সাজিগুজি বেড়ানিত তাইর লগে।

 

কালকে তো সারা বিকাল গেলো গিয়া ভাই ফুটায়, কুটুশরে দিলাম আমি ফুটা তে হে কয় হেও দিতো আমারে, তে ইতাও অইলো। হিদিকে ধলাই সপ্তগ্রাম তাকি আইছলা আমরার দুই মামা, তারাও ফুটা দিলা… সমীরণ মামা তারা ঘর বড়ো অওায় সব ফুটা তারার ঘরউ অইছিল। মামির ভাইও আইছলা দুধ পাতিল তাকি, শঙ্কু মামা, তাইন আজকে গেলা, ঈশ তান লগে শিফুর কি ভাব, খালি লগে লগে। হেইন নু শিফুরে লালার কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারর রশগুল্লা খাওয়াইদিছলা আইতেউ, তাই এম্নেউ মিষ্টির পাগল আর লাগে কিতা একটু আদর পাইলেউ লেজ নাচাইয়া পেট উপরেদি করি মাটিত উলটিগেলি! ঔ আজকে একটু সময় পাইলাম কই তুমার লগে একটু গফ করিলাই, তুমি কিবা তারিকর পর তারিক সাদা পাতা লইয়া রাগে ফুলিয়া লাল অইয়া বওয়াত। রাগ করিওনা, একটা মজার ঘটনা ঘটার চান্স আছে খুব তাড়াতাড়ি সব তুমার রাগ ফুস করি হাওয়া অইজাইবো লাগের!

দুর্গা পূজার পরে স্কুল খুলার পরে লক্ষ্মী পূজার একদিন আর দিওয়ালীর আরো একদিন বন্ধ আছিল, ভাইফুটার লাগি কালকে আর গেছিনা, আইজ তো রবিবার। আইজ ফোনে মারে মাততে শুনছি কাইল হাওবাম স্যারর বাড়িত জাওয়ার একটা প্ল্যান আছে মনে ওর, ইলা অইলে মজ্জা লাগিজাইবো! হাওবাম স্যারর বিলাইপুর বাগানর গল্প তো আগেও কইছি তুমারে, পিকনিক যেবার গেছলাম, কিন্তু স্যারর বাড়িত এর আগে জাওয়া অইছেনা আমার। শুনছি বিরাট বাড়ি আর বাড়িত বুলে আছে পৃথিবীর কতো শত অজানা গাছ গাছালির সম্ভার, এক খজানা কইলে চলে, আরও আছে পুকুর ফিশারি ইত্যাদি। তান বাড়িত জাওয়ার কথা তো বহুত দিনর, প্রতি বছর ক্লাস সেভেনর টপ কয়েকজনরে তাইন এস্কারশনো লইয়া জাইন তান বাড়িত যারার উদ্ভিত লইয়া খুব উৎসাহ, কিন্তু যেহেতু হাওবাম স্যার মার কলিগ আর এম এস সির সময়র ক্লাসমেইট, আমার চান্স সিক্সও থাকতেউ অইজাইব লাগের! তাছাড়া আমার গাছ লাগানিত আর যত্ন লওয়াত খুব ইন্টারেস্টও স্যারর খুব ভাল্লাগে। ইসকুলর পুরা বাগান টা ছাত্র-ছাত্রীরারে লইয়া তান একলা বানানি, আমরা বহুতে রুজ জল দেই ইতাত! লকডাউনর সময় যখন কয়টা গাছ শুকনায় মরিজায় তখন খবর পাইয়া হাওবাম স্যারে স্পাশ্যাল পারমিশন বার করিয়া সপ্তাহে তিন দিন আইতা ইসকুলো খালি গাছ ওতার লাগি! তাইন কইন “তুমরা যেলা আমার পুয়া পুড়িন্তর লাখান আমার গাছ ইতাও ওলান, কেউ কম কেউ বেশ নায়“, কিন্তু ইতা লাগি বেজানে স্যার রে লইয়া হাসইনও কিন্তু তাইন অঙ্কত জিনিয়াস অওার লাগি সবে সম্মানও করইন! অঙ্কর স্যার ডকটর হাওবাম চূড়ামণি সিংহ আমার খুব প্রিয় স্যার। সবসময় ইচ্ছা আছিল তান রূপকথার বাড়িত একদিন যাইতাম কালকে বুধয় পুরা অইব ই স্বপ্ন, যদি ওয় তে কালকে ফিরিয়া বাকি গল্প … দাড়াও মায় কিতা লাগি ডাকরা শুনিয়া আই…

 

 চলবো