বিজ্ঞান বিষয়ক

জলাবদ্ধ জলমগ্ন
অভিজিৎ চক্রবর্তী
১৭ জানুয়ারি ২০২১

বছর দুয়েক আগের কথা। বসন্তের শেষ। প্রবল গরম আর ধুলো ঝড়ে সবাই নাজেহাল। নদীনালা, খালবিল সব শুকিয়ে খটখট করছে। দিনভর রোদে পুড়ে গরমে তেতে পুরো পূর্ব আর উত্তর পূর্ব ভারত দু-এক পশলা বৃষ্টির জন্য হা-পিত্যেশ করে বসে আছে।

এইরকমই এক খটখটে অস্বস্তিকর বৃষ্টিহীন বৈশাখের প্রচণ্ড বিরূপ সন্ধ্যায় ফোনে কথা হচ্ছিল করিমগঞ্জের ছোট বেলার এক বন্ধুর সাথে।

 

আসামের বরাক উপত্যকার প্রান্তিক শহর করিমগঞ্জ।

বন্ধুর  গলায়  উদ্বেগ  আর  উৎকন্ঠা।


“খুব চিন্তায় আছি রে! কি যে হবে! জানালা  দিয়ে  দেখতে  পাচ্ছি দক্ষিণ পশ্চিম আকাশে  থেকে  থেকে  বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।”

আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম।


“আরে সে তো ভালো খবর! তোর তো খুশিতে লাফানো উচিত!”

বন্ধু বিমর্ষ কন্ঠে বললো, “আমারা ঘর পোড়া গরু। সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই।”

বিরক্তি প্রকাশ করে বললাম, “ভণিতা  বাদ  দিয়ে  সরাসরি  বল তো ব্যাপার কী?”

বন্ধু এক  নিঃশ্বাসে ঝড়ের গতিতে  বলে  গেলো,

“এক  পশলা  বৃষ্টিতেই বেহাল  দশা  হয়ে যাবে।  শহরে  জল  থই থই করবে। বাড়িতে  নর্দমার  জল  ঢুকে যাবে। ঘরের মধ্যে হাত পা  গুটিয়ে বসে থাকতে  হবে।”

সেই মুহূর্তে যদিও কথাগুলো পুরেপুরি বিশ্বাস করতে কষ্ট  হচ্ছিলো, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই  বুঝতে পারলাম বন্ধু  এক বর্ণও বাড়িয়ে বলে নি। ইদানীং করিমগঞ্জের মানুষের জন্য বৃষ্টি মানেই কার্যত বানভাসি শহর! বৃষ্টি মানেই রাস্তা যেন চাষের ক্ষেত!  বৃষ্টি মানেই গোটা শহর হাঁটু থেকে কোমর জলে তলিয়ে যাওয়া! বৃষ্টি মানেই সীমাহীন ভোগান্তি!

একটা  সময় পর্যন্ত  কিন্তু  পরিস্থিতি  এমন ছিল না। পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে মূলত গত দু দশকে। বিশেষ করে বিগত দশকটাতে।

কিন্তু কেন এমন হলো? সমস্যাটা ঠিক কোথায়? প্রথমেই বলে রাখা দরকার যে কোনো সমস্যার গভীরে যেতে না পারাটাই সব থেকে বড় সমস্যা। আর এখানে খুব সম্ভবত আমরা সেরকমই একটা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।

অতঃ কিম!  বিস্তর  কাটা  ছেঁড়া  পরীক্ষা-নিরীক্ষা  হলো। উদ্ভূত তথ্যের বিশ্লেষণ করা হলো। তা থেকে স্পষ্ট হলো যে অভিযুক্ত হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত এক নয়, একাধিক ফ্যাক্টরকে। তার সব তো এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার জন্য এখানে আমরা আপাতত শুধু একটা অন্যতম মুখ্য কারণকেই বেছে নিচ্ছি। বাকিগুলো নিয়ে না হয় পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে আলোচনা করা যাবে।

অভিযুক্তের কাঠগড়ায় তোলা মামলার প্রথম আসামি হচ্ছে পলিইথিলিনের মোড়ক।


পলিইথিলিন আসলে কী?

বিজ্ঞানীদের ভাষায় পলিইথিলিন হচ্ছে এক ধরনের সাদা, অস্বচ্ছ ও শক্ত পলিমার।


স্বাভাবিকভাবেই পরমুহূর্তে ঠিক যে প্রশ্নটা মনের মধ্যে উঁকি দেবে সেটা হলো, পলিমার তাহলে কী?

বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে অনেকগুলো বিশেষ  ধরনের ক্ষুদ্র  ও  সরল অণু একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে কখনো কখনো একটা অতি বৃহৎ অণু তৈরি করে।  সেই অতি বৃহৎ অণুকে বলে পলিমার। আর ক্ষুদ্র অণুগুলোকে বলে মার (ইউনিট)।  এক একটা  পলিমারে  কয়েকশো থেকে শুরু করে  হাজারেরও বেশি মার (ইউনিট) থাকতে পারে। পলিমারের ধর্ম কিন্তু মার  থেকে  সম্পূর্ণ  আলাদা।  ওদের  আণবিক ভরও অনেক  অনেক  বেশি।

কিছু পলিমার আছে  যেগুলো  প্রকৃতি  থেকে  পাওয়া  যায়। যেমন  রবার, সিল্ক, পশম, সেলুলোজ ইত্যাদি।  আবার  কিছু পলিমার কৃত্রিমভাবে  উৎপাদন  করা  হয়।  উদাহরণ,  পলিইথিলিন, নাইলন, টেফলন, পিভিসি এবং আরো অনেক।

আমরা  এখানে আলোচনা করবো কৃত্রিম পলিমার পলিইথিলিনের বিষয়ে। পলিইথিলিন হলো একটা পলিমার। আর পলিইথিলিনের মার (ইউনিট) হলো ইথিলিন। ইথিলিন হচ্ছে গিয়ে একটা হাইড্রোকার্বন অণু, যাতে আছে দুটো কার্বন আর চারটে হাইড্রোজেন পরমাণু। অল্প অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ইথিলিনকে উচ্চ চাপে ২০০ থেকে ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে অনেকগুলো  ইথিলিন অণু (মার বা ইউনিট) একসাথে জুড়ে গিয়ে পলি-ইথিলিন বা পলিথিন (পলিমার)  উৎপন্ন করে।

পলিইথিলিন সাধারণত তিন ধরনের হয়। হাই ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), লো ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই) এবং লিনিয়ার লো ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলএলডিপিই)। এইচডিপিই  এবং এলএলডিপিই পলিইথিলিনে ইথিলিনের বাঁধনগুলি সোজাসুজি ধরনের হয়।  কিন্তু এলডিপিই পলিইথিলিনের শৃঙ্খলে থাকে একাধিক শাখা। মুদির দোকানে আমরা যে পলিথিনের থলেগুলো পাই তা সাধারণত এইচডিপিই দিয়ে তৈরি।

 

পলিথিন দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ও অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। পলিথিন স্ভাবাবিক ভাবে পচে যায় না। ব্যাকটেরিয়া বা ফাংগাস এটার বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন  করতে পারে না।

 

ইউরোপ-আমেরিকায় প্যাকেট বা মোড়ক বাঁধার কাজে পলিইথিলিনের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয় সত্তরের দশক থেকে। বরাক উপত্যকায় এর ব্যবহার শুরু মূলত আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তারপর থেকে আক্ষরিক অর্থেই এ অঞ্চলে পলিথিনের বন্যা বয়ে গেছে। একটু পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারা যায় আজকের দিনে ভারতের অনেক প্রান্তের তুলনায় বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জে মাথাপিছু অনেক গুণ বেশি পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। তার পেছনে অবশ্য অনেকগুলো বিশেষ কারণও রয়েছে।

 

সর্বাগ্রে করিমগঞ্জের মানুষের থাওয়ার প্রতি একান্ত ভালোবাসা। রোজ পাঁচ পদে খাওয়ার অভ্যেস। রোজ রোজ টাটকা বাজার করতে না পারলেই তাই এখানকার লোকেদের মেজাজ খিঁচড়ে যায়। রোজ রোজ বাজার করা মানেই রোজরোজ মুদি দোকান, সবজিওয়ালা, মাছওয়ালার থেকে আরো কয়েকটা পলিথিন ব্যাগ নিয়ে এসে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দেয়া।

তারপর আসবে করিমগঞ্জ নিবাসীদের খাদ্যাভ্যাস। শহরের কোনো বাড়ির হেঁসেলে উঁকিঝুঁকি মারলেই বোঝা যাবে মৎস্যপ্রীতির নমুনা। তাছাড়া করিমগঞ্জের মানুষ রোজকার খাদ্য তালিকায় সাধারণত যে সমস্ত উদ্ভিদ্ তরকারি ব্যবহার করে সে সবের মধ্যে অস্ট্রিক-ভাষী আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর ছোঁয়া খুব স্পষ্ট। যেমন কাঁকরোল, পেঁপে, উচ্ছে, কুমড়ো, কচু, কাঁচা কলা, বরবটি, থোড়, মোচা, ডাঁটা, সজনে ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটাই দু এক দিনের বেশি টাটকা থাকে না। ফলে করিমগঞ্জ বাসীকে প্রায় প্রত্যেকদিনই অন্তত একবার শাকসবজি আর মাছ বাজারে ঢু মারতে হয়। তাছাড়া করিমগঞ্জের স্যাঁতসেঁতে  ভেজা আবহাওয়ায় খাদ্যশস্য বেশিদিন মজুত করে রাখা যায়না। অগত্যা বাজারও করতে হয় দফায় দফায়। ইচ্ছে থাকলেও একসাথে অনেক দিনের বাজার করে রাখা সম্ভব নয়।

 

আরেকটা ব্যাপারও রয়ে গেছে আজকের থেকে দুদশক আগেও দেখা যেত  করিমগঞ্জের মানুষ হাতে করে একটা চটের ব্যাগ আর পকেটে করে একটা চিরকুট নিয়ে শহরের ঐতিহ্যপূর্ণ ছন্তর বাজারে যাচ্ছে বাজার করতে। ট্যাকে পয়সা থাকলে একই বাজারে চাল, ডাল, ফলমূল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, চিড়ে, মুড়ি, গুড় সবকিছুই হাতের নাগালের মধ্যে চলে আসতো। সময়ের সাথে সাথে ছন্তর বাজারের কমেছে জৌলুস, হারিয়েছে কৌলিন্য। শহরের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে ছোটো ছোটো  বাজার। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে শাকসবজি, কোথাও মাছ, কোথাও আবার ফলমূল।

 

গেল কুড়ি বছরে কুশিয়ারা আর লঙ্গাই নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। মানুষের চিরাচরিত জীবন যাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বেড়েছে মানুষের ব্যস্ততা। আজকাল শুধু মাত্র বাজার করার জন্য খুব কম লোকই বাড়ি থেকে বেরোয়। এখন হাজার ব্যস্ততার মধ্যেই অন্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে টুক করে চটজলদি সেরে ফেলতে হয় এটা সেটা কেনাকাটা।  দিনে একবার নয়, কয়েকবার। প্রত্যেকবারই বেশ কয়েকটা পলিইথিলিনের মোড়কে আবৃত হয়ে ঘরে এসে ঢুকছে কোনো এক ধরনের আহার্য বস্তু। ফরমালিন, ক্যাডমিয়াম আর ক্রোমিয়াম মেশানো চকচকে মাছ। কপার সালফেট, রেডামিন অক্সাইড কিংবা ম্যালাকাইট গ্রিন দিয়ে ভোল বদলে দেয়া শাকসব্জি। ক্যালসিয়াম কারবাইড দিয়ে পাকানো কলা, মেটানীল ইয়েলো রং মাখানো আনারস, কপার সালফেটে চুবিয়ে রাখা তরমুজ, মোমের প্রলেপ দেয়া রেশমের মতো মোলায়েম আপেল।

 

সম্প্রতি করিমগঞ্জ শহরের বুকে পৌরসভা এলাকার মধ্যে একটা সমীক্ষা চালানো হয়েছিলো।  সমীক্ষা চালানো হয়েছিল সম্পূর্ণ  পেশাদারী পদ্ধতিতে।  সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে তা কিন্তু যথেষ্ঠ উদ্বেগজনক।

 

করিমগঞ্জের পৌর এলাকা ২৭ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।  করিমগঞ্জ পৌর এলাকার মোট ভৌগলিক আয়তন প্রায় ৬ বর্গ কিলোমিটার। দু হাজার এগারোর জনগণনা অনুসারে করিমগঞ্জ পৌর বোর্ডের এলাকার জনসংখ্যা ছিলো ৫৬,৮৫৪ জন। তার ঠিক আগের দশকে করিমগঞ্জের বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিলো ২%। এই একই প্রবণতা বজায় থাকলে করিমগঞ্জ পৌর এলাকার এখনকার জনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৬৯৩০৫। মানে সত্তর হাজারের কাছাকাছি। করিমগঞ্জ পৌরসভা বোর্ডের অধীনে পঞ্জিভূত রয়েছে বারো হাজারেরও বেশি বাড়িঘর, যেখানে পৌরসভা পানীয় জল জাতীয় মৌলিক সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেয়। মৌলিক সুযোগ সুবিধার আওতার বাইরে থাকা বাড়ির সংখ্যা নয় নয় করেও দু হাজার।  একটি রক্ষণশীল পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই মুহূর্তে এছাড়াও করিমগঞ্জ পৌর অঞ্চলে ভাড়াটে হিসেবে বাস করছে তিন হাজারের মতো পরিবার। প্রাপ্ত সংখ্যাগুলোর গাণিতিক সমষ্টি সুস্পষ্টভাবে জানান দেয় বর্তমানে করিমগঞ্জ পৌর এলাকায় বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা আঠারো হাজারের কাছাকাছি।

 

তা যে সমীক্ষার কথা বলছিলাম তাতে যে তথ্য উঠে এসেছে তা কিন্তু কপালে ভাঁজ ফেলার মতো। দেখা যাচ্ছে করিমগঞ্জ পৌর এলাকার এক একটা পরিবার গড়পড়তা প্রত্যেক দিন প্রায় পাঁচটে করে পলিইথিলিনের থলে এনে বাড়িতে ঢোকায়। 

 

করিমগঞ্জ শহরের দোকান বাজারে  সচরাচর যে সমস্ত পলিথিন ব্যাগের দেখা মেলে সেগুলোর আকার সাধারণত ৯" x ১৩", ১১" x ১৩", ১৩" x ১৬", ১৬" x ২০", ১৭" x ২৩", ২০" x ২৬", ২৪" x ৩০", ২৭" x ৩০" আর ৩০" x ৪০"। তার মধ্যে সবচে কাটতি বেশি ১১" x ১৩"  আর ১৩" x ১৬" সাইজের পলিইথিলিনের ব্যাগের। এই দুটো সাইজের মাঝামাঝি সাইজ হলো ১২" x ১৪.৫" । অর্থাৎ  ৩০ সেমি x ৩৬.২৫ সেমি। হিসেব নিকেষ সহজতর করার জন্য আমরা এই গড় সাইজটাকে করিমগঞ্জে প্রচলিত পলিথিনের থলের স্ট্যান্ডার্ড সাইজ হিসেবে ধরে নিচ্ছি। 

 

একটা পলিথিন ব্যাগের সাইজ যদি ৩০ সেমি x ৩৬.২৫ সেমি হয়, তবে তার এক পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল হবে ১০৮৭.৫০ বর্গ সেন্টিমিটার। এরকম একটি থলের এক প্রান্ত বরাবর লম্বালম্বি কেটে ভাজ খুলে মাটিতে বিছিয়ে দিলে ক্ষেত্রফল হয়ে যাবে দ্বিগুণ।  মানে ২১৭৫ বর্গ সেন্টিমিটার।

 

পলিইথিলিনের আয়তন ২১৭৫ বর্গ সেন্টিমিটার। করিমগঞ্জ পৌর এলাকার ১৮০০০ পরিবার। প্রত্যেক পরিবারপিছু প্রত্যেক দিন পাঁচটা পলিথিনের থলে। বছরে ৩৬৫ দিন। এই সংখ্যাগুলোর গুণফলকে বর্গ কিলোমিটারে রূপান্তর করলে যে সংখ্যাটা পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে ৭.১৪ বর্গ কিলোমিটার। অন্যদিকে করিমগঞ্জ পৌর এলাকার ভৌগলিক আয়তন প্রায় ৬ বর্গ কিলোমিটার।

হিসেব নিকেষ করলে সহজ সরল মানে এই দাঁড়ায় যে, করিমগঞ্জ পৌর এলাকার অধিবাসীরা ফি বছর যে পরিমাণ পলিইথিলিন ভূপৃষ্ঠে নিক্ষেপ করেন তা দিয়ে গোটা পৌর এলাকাকে পুরোপুরি একবার আচ্ছাদিত করার পরও এক বর্গ কিলোমিটারের বেশি আয়তনের পলিইথিলিন বেচে যাবে।

মোদ্দা কথা হলো এই, যে পলিথিনে করিমগঞ্জবাসী খাবার দাবার মুড়ে আনে, পরবর্তীকালে সেই পলিইথিলিনে খোদ করিমগঞ্জ  নিজেই মুড়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর। আস্তরণের ওপর আস্তরণ।

কি পড়ে চমকে গেলেন? আজ্ঞে মশাই, হ্যাঁ, আমারও একই অবস্থা হয়েছিলো। সন্দেহ নিরসনের জন্য তাই পরিসংখ্যানগুলোকো কষ্টিপাথরে যাচাই করে দেখা হলো। নির্ভুল তথ্য। বরং অতি সাবধানী মনোভাব অবলম্বন করে প্রাপ্ত তথ্যের পরিসরের তলারদিকের সীমাকেই বিবেচনার জন্য নেয়া হয়েছে। আসল ছবিটা বোধহয় এর থেকেও একটু বেশি ভয়াবহ।

এখন দেখে নেয়া যাক এই যে বিপুল মাত্রার পলিথিন রোজদিন শহরের বুকে প্রক্ষিপ্ত করা হয় তার অন্তিম পরিণতি কী হয়!

গেল ষাট বছরের নথি অনুযায়ী করিমগঞ্জের বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৪০০০ মিমি থেকেও বেশি। আর ভৌগোলিক বিচারে করিমগঞ্জ হলো একটি নিচু এলাকার লোকালয়। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে করিমগঞ্জ শহরের গড় উচ্চতা মাত্র ১৩ মিটার।

চলুন একবার করিমগঞ্জের অবস্থানের সঙ্গে  আশপাশের এলাকাগুলোর অবস্থানের একটা তুলনা করে দেখা যাক। সমুদ্রের উপরিতল থেকে শিলচর, বদরপুর, নিলাম বাজার, পাথারকান্দি, হাইলাকান্দি এবং বাংলাদেশের সিলেট শহরের গড় উচ্চতা যথাক্রমে ২২ মিটার, ১৬ মিটার, ১৪ মিটার, ১৪ মিটার, ২১ মিটার এবং ৩৫ মিটার।

এবার দেখা যাক রাজ্যের দূরবর্তী কয়েকটা অঞ্চলের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ডিব্রুগড় ১০৮ মিটার,  তিনসুকিয়া ১১৬ মিটার,  যোরহাট ১১৬ মিটার আর গুয়াহাটি ৩৬৫ মিটার উচ্চতায় রয়েছে।

এই ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য এমনিতেই করিমগঞ্জের জল নির্গমনের গতি খুব শ্লথ। এই জলা পরিবেশ পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ গুলোকে খুব তাড়াতাড়ি চারদিকে ছড়িয়ে দেয়।

তারপর কী হয়?

ধরুন আপনি একটি কলা খেয়ে খোসাটা মাটিতে ফেলে দিলেন। দু থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে খোসাটি পঁচে প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।

এবার মনে করুন কোনো একদিন ভোরবেলা সকালের মিষ্টি রোদে বারান্দায় বসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। কোনো একটা খবর পড়ে মেজাজ গেলো বিগড়ে। ছুড়ে ফেলে দিলেন খবরের কাগজটাকে সামনের উঠোনে। বড়জোর চার থেকে ছ সপ্তাহ। তার মধ্যেই আপনার সংবাদপত্র পুরোপুরি মাটিতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।

আপনার পরনের সুতির শার্টটি মাটিতে মিশে যেতে সময় নেবে দু থেকে পাঁচ মাস; একটা প্লাইউডের টুকরো নেবে এক থেকে তিন বছর।

কিন্তু যখন একটি পরিত্যক্ত পলিথিনের ব্যাগ আমাদের এই পৃথিবীর বুকে পতিত হয়,তখন সেটা বিয়োজিত হতে ঠিক কতটা সময় নেয়? একটা সময়ে বিজ্ঞানীরা বলতেন দশ বছর থেকে হাজার বছর। হালে  অনেকটা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে সেই সময়সীমাকে বেঁধে দেয়া হয়েছে চারশো থেকে হাজার বছরে।

কিন্তু কিসের ভিত্তিতে নিরূপণ করা হয়েছে এই সময় সীমা? এটা কি কোনো বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরীক্ষিত সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে, না কি এটা একটা কেবলমাত্র ধারণা? প্রকৃত সত্য হলো, এটা নিছকই একটা ধারনা।

আমাদের এই গ্রহে বাণিজ্যিকভাবে পলিইথিলিন ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়েছে মাত্র পাঁচ দশক আগে। পলিইথিলিনকে মাটির সঙ্গে মিশে যাবার জন্য বিজ্ঞানীদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার ধারে কাছে পৌঁছতে পৌঁছতে বেশ কয়েকটা প্রজন্ম কেটে যাবে।

কাজেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে ৪০০-১০০০ বছরের পরিসংখ্যান কোথা থেকে আসছে?

উত্তরে বিজ্ঞানীরা বলেন এটা একটা নিছকই কথার কথা।  আসলে ওরা যা বলতে চায়, তা হলো, বর্জিত এবং পরিক্ষিপ্ত পলিইথিলিন ক্ষয়প্রাপ্ত হতে মাত্রাহীন সময় নেবে।

এটি নিঃসন্দেহে যথেষ্ট উদ্বেগ ও হতাশার ব্যাপার। কিন্তু তার চাইতেও ভয়ঙ্কর সত্যটা লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। পলিইথিলিন কি আদৌ কখনো ডিকম্পোস হবে?

ব্যাপারটা বোঝার জন্য এবং এর মূলে পৌঁছানোর জন্য একেবারে মৌলিক একটা প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা যাক। বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন।

কী এই বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন?

চলুন ফিরে চলে যাই সেই মিষ্টি রোদের সকালে। রেগে গিয়ে খবরের কাগজটাকে আপনি ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন মাটিতে। কাগজ হলো একটি জৈব পদার্থ। জীব কোষ থেকে তৈরি। অর্থাৎ এটি এককালে এক বা একাধিক জীবিত পদার্থের অংশ ছিলো। মাটিতে থাকে অজস্র জীবাণু এবং অণুজীব। যেমন ব্যাক্টেরিয়া আর ছত্রাক। এদের জন্য জৈব পদার্থ কাগজ হল এক ধরনের খাদ্য। রসায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে কাগজের উপাদানগুলো হচ্ছে জটিল জৈব। মাটিতে থাকা জীবাণু এবং অণুজীবেরা যখন এই জটিল জৈবগুলোকে ভক্ষণ করে তখন জটিল জৈবগুলো  সরল জৈব পদার্থে রূপান্তরিত হয়ে যায়। কালক্রমে সরল জৈব পদার্থগুলো মাটির সাথে মিশে গিয়ে মাটির প্রাকৃতিক উপাদানে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে উদ্ভিদ এবং গাছপালা এই সরল উপাদানগুলোকে খাদ্য হিসেবে মাটির থেকে শুষে নেয়। উপাদান গুলো জৈব পদার্থ থেকে জীবের অঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই চক্র চলতেই থাকে। যেহেতু সম্পূর্ণ জৈবিক পক্রিয়ায় এই ডেগ্র্যাডেশন সংঘটিত হয় তাই একে বলে বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন।

মাটিতে খাকা অণুজীবেরা বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় প্রকৃতির প্রায় সব ধরনের পদার্থকেই ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করতে পারে। কিন্তু পলিইথিলিনের মতো পদার্থকে ভাঙার ক্ষমতা অণুজীবদের নেই। কেননা সাধারণ কোনো ব্যাকটেরিয়া পলিইথিলিনকে খাবার হিসেবে গণ্য করে না। একে হজমও করতে পারে না। পলিথিন দেখলেই তাই ওরা  নাক সিটকায়। সুতরাং পলিইথিলিনের বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন কখনো হয় না।

আবার সেই একই প্রশ্ন পলিইথিলিনের যদি বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন কখোনো হয়ই না তবে কেন বলা হচ্ছে ৪০০-১০০০ বছর পর পলিইথিলিন মাটির সঙ্গে মিশে যাবে!

আসলে কী হয়, মাটিতে পড়ে থাকা পলিইথিলিনের একটা প্যাকেট যখন সূর্যের অতিবেগুনী বিকিরণের সংস্পর্শে আসে তখন পলিইথিলিন ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে পলিইথিলিনের থলেটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সিনথেটিক কণায় বিভাজিত হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে পলিইথিলিন কিন্তু রাসায়নিকভাবে প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। কোনো সরল যৌগিক পদার্থে পরিবর্তিত হয় না। শুধু ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর কণিকায় রূপান্তরিত হয়। বলা যেতে পারে পলিইথিলিন মাইক্রোপলিইথিলনে বদলে যায়। এটা কিন্তু মোটেও বায়ো-ডেগ্র্যাডেশন নয়। এই প্রক্রিয়াটিকে বলে ফটো-ডেগ্র্যাডেশন।

আর আমার উদ্বেগ ঠিক এখানটাতেই। ভূপৃষ্ঠে পড়ে থাকা আস্ত একটা পলিইথিলিন প্যাকেটকে না হয় যান্ত্রিক উপায়ে অপসারিত করা যেতে পারে, কিন্তু মাটির সাথে মিশে থাকা কণাময় পলিইথিলিনকে নিষ্কাশন করা কি আদৌ সম্ভব? খুবই দুরূহ। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তো এর পরিনামে কী হচ্ছে একবার দেখে নেয়া যাক। পলিইথিলিনের এই কণাগুলো মাটির মধ্য দিয়ে জল আর অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের চলাচলকে বাধা দেয়। ফলে ক্রমে করিমগঞ্জ শহরের মাটির উৎকর্ষতা যাচ্ছে কমে। তার দরুন মাটি তার মৌলিকত্ব হারাচ্ছে।

আরেকটা করুণ সত্য হলো, করিমগঞ্জ শহরের রাস্তার সমান্তরালে চলা ড্রেনগুলো বহু বছর ধরে অবহেলিত। বেশির ভাগ ড্রেনের অস্তিত্বই বলতে গেলে এখন আর নেই। নর্দমার যেটুকু অবশিষ্ট ছিল বর্জিত পলিইথিলিনের ব্যাগ জমে জমে সেটুকুও প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।

এখানে উল্লেখযোগ্য, ভূপৃষ্ঠে যখন বৃষ্টিপাত হয় তখন বৃষ্টিজলের প্রায় সত্তর শতাংশ ভূ-পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বাদবাকি শতকরা ত্রিশ ভাগ জল মৃত্তিকা ও শিলার রন্ধ্র দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে ভূ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভৌমজল রূপে সঞ্চিত হয়।

পৃষ্ঠতলের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া জলের কিছু অংশ বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ঠিক কতটা বাষ্পীভূত হবে সেটা নির্ভর করে স্থান কাল আর পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর। তবে অধিকাংশই গিয়ে মিশে যায় নদী বা অন্য কোনো জলাধারে।

ফিরে আসি করিমগঞ্জ প্রসঙ্গে। বছরের অধিকাংশ সময়ই এখানে আর্দ্র এবং সেতসেতে আবহাওয়া বিরাজ করে। এদিকে বাতাসের জলীয় বাষ্প ধারণ করার একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে। একে বাতাসের সম্পৃক্ত অবস্থা বলে। বাতাস সম্পৃক্ত অবস্থায় পৌঁছে গেলে আর নতুন করে জলীয় বাষ্প শোষণ করতে পারে না। বেশিরভাগ সময়ই যেহেতু করিমগঞ্জের বাতাসের আর্দ্রতা সম্পৃক্ত অবস্থার খুব কাছাকাছি থাকে, তাই এখানকার বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প শোষণ করার ক্ষমতা খুবই কম হয়। ফলস্বরূপ করিমগঞ্জে বৃষ্টির জলের যৎকিঞ্চিৎ অংশই বাষ্পীভূত হয়।

সমীক্ষায় করিমগঞ্জের জল নির্গমন-প্রণালী সরোজমিনে নিরীক্ষণ করা হয়েছে। তত্ত্বানুসন্ধানের উদ্ভূত তথ্য অন্য কোনো আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। শুধু এটুকু বলছি, দু'পাশে কুশিয়ারা আর লংগাই নদীর আলিঙ্গনে থাকা করিমগঞ্জ শহরের জন্য নিকাশী জলাধার কোনো সমস্যাই নয়। পৃষ্ঠতলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তাই বৃষ্টির জল তর তর গতিতে প্রাকৃতিক জলধারে নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু অন্য আরো কয়েকটা  কারণের সাথে এখানে বাঁধ সাধছে নালা নর্দমায় জমে থাকা পলিইথিলিন। এমনিতেই শহরের নিকাশী ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত এবং ত্রুটিপূর্ণ। তার উপর সংকীর্ণ এবং অবৈজ্ঞানিক নর্দমা গুলো পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যগ দিয়ে ভরাট হয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থাটাকেই অচল করে দিয়েছে। এই ড্রেনগুলি অল্প বৃষ্টির জলের চাপ নিতেই অক্ষম।

এখন দেখা যাক করিমগঞ্জের বুকে বৃষ্টিজলের তৃতীয় গতিপথ কতটুকু ক্রিয়াশীল। তার জন্য দরকার পলিইথিলিনের গঠন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা।

আকার ভেদে পলিইথিলিন বা যে কোনো ধরনের প্লাস্টিককে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। মাইক্রো (পাঁচ মিলিমিটার থেকে ছোটো), মেসো (পাঁচ মিলিমিটার থেকে আড়াই সেন্টিমিটারের মধ্যে) আর ম্যাক্রো (আড়াই সেন্টিমিটার থেকে বড়)।

মাইক্রো-পলিইথিলিন  গুলো কিন্তু মাটির ভয়ানক শত্রু। এই ছোট্ট দানা গুলো মাটির চরিত্রের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। অনেক সময় বিশেষ উদ্দেশ্যে মাইক্রো-পলিইথিলিন  তৈরি করা হয়।  যেমন ধরুন প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যাবহার করার জন্য। করিমগঞ্জের মাটিতে ইতিমধ্যেই মিশে গেছে বিশাল পরিমানের মাইক্রো-পলিইথিলিন। এখানে কিন্তু মাইক্রো-পলিইথিলিন  সৃষ্টি হচ্ছে মূলত মেসো আর ম্যাক্রো-পলিইথিলিনের  বর্জ্যের ক্ষয়ে হত হতে। ম্যাক্রো-পলিইথিলিনের দানাগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেলে জৈবপদার্থের জৈবিক পরিবর্তনে বাঁধা দেয়; মাটির জলবাহী পরিবাহিতা হ্রাস করে;  জল ধারণ  ক্ষমতা কমিয়ে দেয়;  অণুজীবের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায়; মাটির গুণগত মান কমিয়ে দেয়।  আক্ষরিক অর্থে ম্যাক্রো-পলিইথিলিন মাটির রসায়নকেই প্রভাবিত করে ফেলে। মাটি আর মাটি থাকে না। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, মাটি কিন্তু মোটেও একটি রিনিউয়েবল সম্পদ নয়। যে মাটি একবার উৎকর্ষতা হারিয়ে ফেলে, সেই মাটিকে আগেকার অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবার মেনে নিতে চেষ্টা করুন এই সহজ ও নির্ভেজাল সত্যটি। প্রত্যেক বছর আরো একটা করে পলিইথিলিনের পরত পড়ছে করিমগঞ্জের দেহে। তার মানে আদতে যেটা দাঁড়াচ্ছে সেটা হলো করিমগঞ্জের মাটি বৃষ্টির জল শুষে নেয়ার ক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

পরিণামে কয়েক পশলা বৃষ্টি হলেই শহর জলাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে; গোটা শহর নোংরা জলে প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে; নানা রকম রোগের প্রকোপ বাড়ছে; বদ্ধ ও নোংরা জলে মশা ও মাছি এবং নানা ধরনের ক্ষতিকারক কীটের দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটছে। এই সব কীট ও মশামাছি আবার নানা রকম দূরারোগ্য ব্যাধি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু করিনগঞ্জের মানুষেরও নিশ্চয়ই স্বাভাবিক জীবন যাপন করার অধিকার রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকার হক আছে। আলবৎ আছে।

তবে কীভাবে সেটা সম্ভব? বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করে অবিলম্বে কার্যকর কিছু একটা শুরু করতে হবে।  নিঃসন্দেহে আরো অনেক কিছুর সঙ্গে পলিইথিলেনের হাত থেকেও বাঁচতে হবে। পরিস্থিতির অবনতির যদি গতিরোধ করতে হয় তবে যে করেই হোক পলিইথিলিনের ব্যাবহার ব্যাপকভাবে কমাতে হবে। এতে কারো দ্বিমত থাকতে পারে না।

মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে পলিইথিলিনের ক্যারি ব্যাগ বা মোড়ক হিসেবে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নির্দেশিকা জারি করা হয়। তবুও বাজারে পলিইথিলিনের ব্যবহার চলে দেদার।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে এই সমস্ত নিষিদ্ধকরণের সাথে সাথে কোনো কার্যকর বিকল্প উপায় সধারণত বাতলানো হয় না। জনসাধারণের মধ্যে তাই তার প্রায় কোনো প্রভাবই পড়ে না।

মোদ্দা কথা হলো সফলতা পেতে হলে এমন একটা বিকল্পের কথা ভাবতে হবে যেটা বাস্তবে করা সম্ভব। যেটা অর্জনযোগ্য।

আসুন তবে এবার করিমগঞ্জের প্রেক্ষাপটে পলিইথিলিনের ক্যারি ব্যাগের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই উত্থাপিত হওয়া কয়েকটি উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করি। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর স্বপক্ষে ও বিপক্ষের যুক্তি গুলো নিয়েও আলোচনা করা যাক।

অনেকেই আজকাল পলিইথিলিনের ব্যাগের বিকল্প হিসেবে কাগজের ব্যাগ ব্যবহারের পক্ষে ওকালতি করেন। তাদের অবহিত করার জন্য একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ প্রসঙ্গের উল্লেখ করছি।

পলিইথিলিনের ব্যাগ আবিষ্কার এবং ডিজাইন করেছিলেন সুইডিশ প্রকৌশলী স্টেন গুস্তাফ থুলিন। ১৯৫৯ সালে।  সুইডেনের একটি সংস্থা সেলোপ্লাস্ট পলিইথিলিনের ব্যাগের পেটেন্ট করে ১৯৬৫ সালে। কয়েক বছর আগে স্টেন গুস্তাফ থুলিনের ছেলে খুব তাৎপর্যপূর্ণ একটা তথ্য উন্মোচিত করেছেন। থুলিন যখন কাগজের ব্যাগের বিকল্প  হিসেবে পলিইথিলিন ব্যাগের পরিকল্পনা করছিলেন তখন ওনার মাথায় একটা চিন্তাই কাজ করছিলো। পৃথিবীকে যে করেই হোক অবশ্যম্ভাবী বন নিধনের হাত থেকে রক্ষা করা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আমেরিকাতে কেবল মাত্র ১৯৯৯ সালে কয়েক বিলিয়ন কাগজের ক্যারি ব্যাগ উৎপাদন করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়নগাছ কাটতে হয়েছিল। তারপরই সেখানে তুমুল শোরগোল সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ কাগজের ক্যারি ব্যাগ উৎপাদন প্রক্রিয়া একটা জোড়াল ধাক্কা খায়।

করিমগঞ্জের বড় বড় দোকানে ঢু মারলে দেথা যাবে আজকাল ওরা ওদের সামগ্রী বায়োডেগ্রেডেবল ব্যাগে করে বিক্রি করছে। ব্যাগগুলোর গায়ে বড় বড় হরফে লেখা থাকে ‘বায়ো-ডেগ্রেডেবল’, ‘অক্সিডিগ্র্যাডেবল’, ‘ইকো ফ্রেন্ডলি’। দুর্দান্ত শোনায়! কিন্তু একটু ভালো করে পরখ করে দেখলেই এই খুশির ঝিলিক খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হবেনা। উল্টে মনে নেমে আসবে বিষাদের ছায়া। কারণ এগুলো মোটেও বায়োপ্লাস্টিক নয়; এমনকি বায়ো-ডেগ্রেডেবলও নয়। এই সমস্ত তথাকথিত বায়ো-ডেগ্রেডেবল ব্যাগগুলো সাধারণ পেট্রোকেমিক্যালস দিয়ে তৈরি হয়। এধরণের পলিইথিলিন তৈরি করর সময় অল্প পরিমানে কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ বা আয়রন যুক্ত রাসায়নিক অনুঘটক  মিশিয়ে দেয়া হয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে আলো এবং অক্সিজেনের উপস্থিতিতে অনুঘটকগুলো পলিমারের ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার পক্রিয়াকে শুধু তরান্বিত করে। ধীরে ধীরে পলিইথিলিন অদৃশ্য মাইক্রো পলিইথিলিনে রূপান্তরিত হয়ে যায়। চলে যায় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু পলিইথিলিন পলিইথিলিনই থেকে যায়। এটা আসলে ফটো-ডেগ্র্যাডেশন ছাড়া আর কিছু নয়।

করিগঞ্জবাসী যদি পলিইথিলিনের থলেতে ‘বায়ো-ডেগ্রেডেবল’ শব্দটি দেখে বিশ্বাস করে ফেলে যে এটি সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষয় হয়ে যাবে, তাহলে কিন্তু ঠকতে হবে। এরই মধ্যে ভুয়ো বায়ো-ডেগ্রেডেবল পলিইথিলিনের কণাগুলো করিমগঞ্জের মাটিতে মিশে গিয়ে জল সঞ্চালনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে শুরু করে দিয়েছে।

হালে পলিইথিলেনের বিকল্প হিসেবে বায়ো-প্লাস্টিক নিয়েও বেশ চর্চা চলছে। অনেকেই বায়ো-প্লাস্টিকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দারুণ আশাবাদী। সাধারণ প্লাস্টিক পেট্রোলিয়াম বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি হয়, অন্যদিকে বায়ো-প্লাস্টিক তৈরি হয় বায়োমাসের উৎস থেকে যেমন কর্ন স্টার্চ, কাসাভা বা আখের সুগার।

এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যত বায়ো-প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে তার সিংহভাগই হলো পলিল্যাকটিক অ্যাসিড (পিএলএ)। পিএলএ হ'লো ল্যাকটিক অ্যাসিড ইউনিট দিয়ে তৈরি একটি পলিমার। মানে এখানে মার হচ্ছে ল্যাকটিক অ্যাসিড আর পলিমার হচ্ছে পলিল্যাকটিক অ্যাসিড।ল্যাকটিক অ্যাসিড একটি জৈব অ্যাসিড যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার শরীরের পেশীতে যখন ব্যথা করে, তখন জানবেন তার পেছনে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিডের হাত। যখন দুধের স্বাদ টক হয়ে যায়, তখন তার জন্যও দায়ী ল্যাকটিক অ্যাসিড। গ্লুকোজ জাতীয় যে কোনও কিছুকেই ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত করা যেতে পারে। গ্লুকোজের একটি পরিচিত উৎস হলো ভুট্টা। তাই পলিল্যাকটিক অ্যাসিড বা বায়ো-প্লাস্টিক বানানোর জন্য সচরাচর ভুট্টাকেই বেছে নেয়া হয়।

কর্নকে প্লাস্টিকে রূপান্তর করতে প্রথমে কর্ন কার্নেলগুলোকে সালফার ডাই অক্সাইড মেশানো গরম জলের ডুবিয়ে রাখা হয়। এভাবে রাখলে এর উপাদানগুলো স্টার্চ, প্রোটিন এবং ফাইবারে বিভক্ত হয়ে যায়। তার পর স্টার্চ থেকে কর্ন অয়েল আলাদা করে অল্প সাইট্রিক অ্যাসিড মেশানো হয়। এবার যে স্টার্চটা পাওয়া যাবে তাতে থাকবে প্লাস্টিকের কার্বন শৃঙ্খলের মতো কার্বন অণুর লম্বা শৃঙ্খল।

বলা হয় বায়ো প্লাস্টিক যেহেতু জৈব পলিমার তাই খুব সহজেই এর বায়ো-ডেগ্রেডেশন হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা এতো সোজা নয়। বায়ো-প্লাস্টিকের বায়ো-ডেগ্রেডেশন প্রক্রিয়া এবং এর সময়কাল নির্ভর করে সম্পূর্ণ পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর। বায়ো-প্লাস্টিকের বায়ো-ডেগ্রেডেশনের জন্য অতি দরকারি তিনটি উপাদান হলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বিশেষ ধরণের জীবাণু। তাপমাত্রা কম করেও ৬০° সেন্টিগ্রেড হতে হবে। খোলা পরিবেশে এত উচ্চ মাত্রার উত্তাপে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

উপরন্তু পলি ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণে ভুট্টার প্রয়োজন হয়। বায়ো-প্লাস্টিক পলিল্যাকটিক অ্যাসিডের ১ কেজি তৈরি করতে ২.৬৫৫ কেজি ভুট্টার প্রয়োজন। বর্তমানে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন পলিইথিলিন উৎপাদিত হয়। যদি এই পরিমাণ পলিইথিলিন ভুট্টা ভিত্তিক উৎস থেকে আসে, তবে তার জন্য ১০০০ মিলিয়নেরও বেশি টন ভুট্টা লাগবে। প্রত্যাশামতো চলতি বছরে সারা বিশ্বের ভুট্টার উত্পাদন হতে পারে ১১৪০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

সোজা কথায় আজকের দিনে আমরা যদি অজৈব পলিমার পরিত্যাগ করে জৈব পলিমার তৈরি করতে মনস্থ করি, তবে পৃথিবীর মোট ভুট্টা উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই লেগে যাবে বায়ো-প্লাস্টিক বানাতে। পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর খাদ্য সঙ্কট সৃষ্টি হবে। বিশেষত এমন সময়ে যখন গ্লোবাল ওয়ার্মিং ক্রান্তীয় অঞ্চলে কৃষিকে প্রতিকূলতার মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।

ইতিমধ্যেই পৃথিবীর বর্ধিত জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে নির্বিচারে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত কৃত্রিম সার, কীটনাশক, ভেষজনাশক আর জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এটা বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাদামাটা ভাষায় বলা যেতে পারে আমরা যদি পলিইথিলিনের বিপদ থেকে বাঁচার চেষ্টায় বায়ো-প্লাস্টিককে আঁকড়ে ধরি তবে তা বিশ্বের লাখো মানুষকে নিশ্চিত ক্ষুধা ও অনাহারের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। পৃথিবীকে ঠেলে দেয়া হবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের দিকে।

আরো একটি বড় রকমের সমস্যা থেকে যাচ্ছে। বায়োপ্লাস্টিক কেবল মাত্র কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষেই ভেঙে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। বায়োপ্লাস্টিক যদিওবা জৈব পদার্থ কিন্তু বায়োপ্লাস্টিককে বিয়োজিত করার জন্য যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তির পরিকাঠামো দরকার, যে পরিকাঠামো তাপমাত্রাকে ৬০° সেন্টিগ্রেডে নিয়ন্ত্রণ করবে আর যথেষ্ট অক্সিজেনের সরবরাহ বজায় রাখবে।

এবার ধরে নিলাম একদিন বায়ো প্লাস্টিক এসে দখল করে নিলো করিমগঞ্জের বাজার। বেজায় খুশি সবাই। হাটে বাজারে দোকানে যেখানেই যাচ্ছে না কেন, দোকানদার জিনিস দিচ্ছে বায়ো প্লাস্টিকের থলিতে পুরে। ব্যবহারের পর শেষ পর্যন্ত প্যাকেটগুলোর অন্তিম আস্তানা হচ্ছে গিয়ে শহরের উন্মুক্ত মৃত্তিকা। করিমগঞ্জে যেহেতু বর্ষার স্থায়িত্বকালও বেশি, আবার প্রকোপও বেশি, তাই বছরের বেশির ভাগ সময়ই বায়ো প্লাস্টিকের টুকরোগুলো থাকছে জলের তলায়। যেহেতু বায়ো প্লাস্টিকের টুকরোগুলো জলের তলায় থাকছে, সুতরাং ওগুলোতে খুব একটা অক্সিজেন গিয়ে পৌঁছচ্ছেনা। আবার যখন পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পলি ল্যাকটিক অ্যাসিডের রাসায়নিক পরিবর্তন হয়, তখন মিথেন গ্যাস নির্গত হয়। মিথেন গ্যাস হচ্ছে গ্রিনহাউস গ্যাস। মিথেন গ্যাস সূর্যের তাপ শোষণ করে, বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করে। এই জন্য এটি কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে এটি কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ২৩ গুণ বেশি ক্ষতিকারক। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মিকে বায়ুমন্ডলের যে আস্তরণ শোষণ করে নেয় সেই সৌর পর্দা ওজোন স্তরকে মিথেন গ্যাস ধ্বংস করে ফেলে।

তাছাড়া মানব দেহের উপরও মিথেন গ্যাস বিরূপ প্রভাব ফেলে। মিথেন গ্যাসের বিষক্রিয়ায় লোক দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগতে পারে। যেমন কার্ডিওভাসকুলার ডিসিস, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা, মৃগী, নিউমোনিয়া, ক্লাস্ট্রোফোবিয়া, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, হার্টের সমস্যা, মানসিক হতাশা এবং আরো অনেক।

পলিইথিলিনের সমস্যার প্রসঙ্গ উঠলেই সচরাচর চটজলদি একটা সমাধান সূত্র বাতলে দেয়া হয় রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আদৌ কি তাই? দেখা যাক একটু বিশ্লেষণ করে।

বাস্তবে পলিইথিলিনের রিসাইক্লিং পদ্ধতিটা পরিবেশ এবং উদ্ভিদ আর প্রাণী জগতের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকারক। পলিইথিলিন গলানোর সময় অনেকগুলো অপকারী ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড নির্গত হয়। এই সমস্ত উদ্বায়ী যৌগ কারখানার আশেপাশের উদ্ভিদ এবং প্রাণীর জীবনের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে।


তাছাড়া সব ধরনের পলিইথিলিন পুনর্ব্যবহারযোগ্যও নয়;কারণ পলিইথিলিন জিনিসটাই বড্ড খটমটে। আমরা অহরহ যেসমস্ত পলিইথিলিন ব্যবহার করে থাকি তার সবগুলো কিন্তু এক ধরণের নয়। এমনকি ক্যারি ব্যাগের পলিইথিলিনের মধ্যেও রয়েছে হাজারো রকমের প্রকারভেদ।

প্রত্যেক ধরণের পলিইথিলিনের আবার পুনর্ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলদা। তাই রিসাইকেল করার আগে আবর্জনার স্তূপ থেকে আলাদা আলাদা পলিইথিলিনকে সাবধানে বাছাই করে নিতে হয়। পলিইথিলিনের মধ্যে লেগে থাকা খাবারের কণা থেকে শুরু করে যে কোন অবাঞ্ছিত উপকরণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিইথিলিনের একটা পুরো ব্যাচকেই নষ্ট করে দিতে পারে।

পলিইথিলিনের ব্যাগ এবং অন্যান্য নরম পলিইথিলিন তাদের গঠনের বৈশিষ্ট্যের জন্য পুনর্ব্যবহার করা কঠিন। পলিইথিলিনের ব্যাগগুলো হালকা ওজনের হওয়ার দরুণ কনভেয়র বেল্টে ধরো রাখা খুবই মুশকিল। সহজেই উড়ে চলে যায়। আবার পাতলা এবং নমনীয় হওয়ায় এগুলোর মধ্যে মেশিনে জট পাকিয়ে যাওয়ারও একটা প্রবণতা থাকে।

বেশিরভাগ রিসাইক্লিং এবং প্রসেসিং সিস্টেম শুধুমাত্র প্লাস্টিকের শক্ত বোতল বা পাত্রের মতো অনমনীয় জঁজালকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার উপযুক্ত করে ডিজাইন করা হয়। সেই সিস্টেমে রিসাইক্লিংয়ের জন্য বর্জ্য পদার্থগুলোকে কিছুটা দৃঢ়, পুরোপুরি পরিষ্কার আর খটখটে শুকনো হতে হয়।

ভাগাড়, ডাস্ট বিন বা রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জঞ্জাল থেকে পলিইথিলিনের ব্যাগ বেছে নিয়ে, গুণগত মান অনুযায়ী আলাদা আলাদা করে, ধুয়ে, শুকিয়ে, বিশেষ ধরণের রিসাইক্লিং ইউনিটে নিয়ে গিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা রীতিমতো একটা হারকিউলিয়ান টাস্ক। রাসায়নিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে পুনঃব্যবহারের জন্য শেষমেষ যে জিনিসটা তৈরি হবে সেটা কিন্তু মোটেও উন্নত মানের হবে না। পুনর্গঠিত জিনিসটা খুব একটা বাজার দরও পাবে না। সাধারণ পলিইথিলিন ব্যাগের রিসাইক্লিংয়ের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার আশা করা তাই আসলে গুড়ে বালি।

এই জন্যে বেশির ভাগ রিসাইক্লিং সিস্টেম পরিষ্কার প্লাস্টিকের বোতল বাদ দিয়ে অন্য কোনো পলিইথিলেনের বর্জ্য রিসাইকেল করতে পারে না।

মাঝে মাঝে কোনো কোনো বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এমন জীবাণুর নাকি হদিশ পাওয়া গেছে যেগুলো পলিথিনকে খেয়ে হজম করে ফেলতে পারে। কিন্তু সেই সমস্ত আখ্যান কখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় নি। বছর তিনেক আগে একবার খবর ছড়ালো স্পেন এবং ইউকের বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ ধরণের শুঁয়োপোকার সন্ধান পেয়ে গেছেন। গারলেরিয়া মেলোনেলা। ওই শুঁয়োপোকারা নাকি পলিথিনকে খেয়ে হজম করে সরল যৌগে পরিবর্তিত করতে পারে। কিন্তু পরবর্তী কালে এই দাবি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভবত  প্রচন্ড ক্ষুধার্ত শুঁয়োপোকারা আর কিছু না পেয়ে পলিইথিলিন গিলে নেয়। তারপর পলিইথিলিনকে তাদের অন্ত্রের এনজাইম দিয়ে হজম করে না; যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চূর্ণ করে মাত্র। পলিইথিলিন পলিইথিলিনই থেকে যায়।

তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম, গারলেরিয়া মেলোনেলা শুঁয়োপোকারা পলিথিলিন খেয়ে হজম করে ফেলে।  তাহলেও ভয়ঙ্কর অন্য এক সমস্যা থেকে যাবে। একটি  শুঁয়োপোকা দিনে দুই মিলিগ্রামের বেশি পলিথিলিন গিলতে পারে না। যে বিশাল পরিমাণ পলিথিন আমরা বর্জ্য পদার্থ হিসেবে নিক্ষেপ করি, তার সামান্য অংশের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলেও লক্ষ কোটি শুঁয়োপোকার দরকার হবে।

এ ছাড়াও গারলেরিয়া মেলোনেলা শুঁয়োপোকাদের অন্য একটি বিশেষত্ব হলো মৌমাছিরা যে মোম দিয়ে মৌচাক তৈরি করে সেই মোম খেতে এরা খুব পছন্দ করে। এই করে ওরা যেখানে থাকে সেখানকার মৌমাছিদের উপনিবেশগুলোকেই ধ্বংস করে ফেলে। এমনিতেই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারের ফলস্বরূপ পৃথিবীতে মৌমাছিদের সংখ্যা গুরুতর সংকটের মধ্যে রয়েছে। তার উপর এখন যদি আমরা গারলেরিয়া মেলোনেলা শুঁয়োপোকাদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দেই তাহলে নিঃসন্দেহে অতিসত্বর পৃথিবীর বুক থেকে মৌমাছিদের বিলকুল বিলুপ্ত হওয়ার রাস্তা প্রশস্ত হয়ে যাবে।

একটি বহু চর্চিত মতবাদ সম্পর্কে আপনারা অনেকেই নিশ্চয় অবগত আছেন। এই মুহূর্তে যদি পৃথিবী থেকে মৌমাছিরা অন্তর্হিত হয়ে যায়, তবে আজ থেকে মাত্র চার বছরের মধ্যে ধরাপৃষ্ঠ থেকে গোটা মানব প্রজাতিই সমূলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বলা হয় এটা নাকি অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি। জানিনা সত্যিই এটা আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি কি না। কিন্তু উদ্ধৃতিটির সত্যতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সনদেহের অবকাশ থাকতে পারে না। মৌমাছি নেই মানে পরাগায়ন নেই। পরাগায়ন নেই মানে গাছপালা নেই। গাছপালা নেই মানে প্রাণী নেই। প্রাণী নেই মানে মানুষও নেই।

এজন্যই বিজ্ঞানীরা গারলেরিয়া মেলোনেলা শুঁয়োপোকা ব্যবহারের প্রস্তাব উঠলেই লাল ঝান্ডা দেখিয়ে দেন।

তা হলে দেখা যাচ্ছে যে কোনো আলোচনাই শেষমেষ আমাদের কেবল একটা রাস্তার দিকেই ঠেলে দেয় সেটা হচ্ছে করিমগঞ্জের জনসাধারণকে এক্ষুনি এই মুহূর্তে এক বার ব্যবহারের ক্যারি ব্যাগে অ্যাডিইউ বিড করে দিতে হবে।

তার মানে কি এই যে করিমগঞ্জবাসীকে বলা হবে এখন থেকে আবার চটের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যাওয়া শুরু কর। সেটা বাস্তবে বোধহয় একেবারেই অসম্ভব। দ্রুত নগরায়নের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। দৈনন্দিন কর্মসূচিও আমূল বদল গেছে। আজকের দিনে হাজারো আইন কানুন প্রণয়ন করলেও কাউকে দিয়ে আর মান্ধাতার আমলের একটা থলে হাতে বাজারে পাঠনো সম্ভব নয়।


তাহলে উপায়?

বিদেশে  আজকাল  একটা  দৃশ্য  প্রায়ই  দেখা যায়। কাজ শেষে অফিস ফেরত জনতা ছুটছে সুপার মার্কেট, মল, শপিং সেন্টার বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। প্রবেশ পথে সাঁটা পোস্টারে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে ‘ব্রিং ইওর ওন ব্যাগ’ । তবুও অনেকেই কিন্তু যাচ্ছে খালি হাতে। স্টোরে ঢুকেই ওরা টুক করে পকেট থেকে বের করে নিচ্ছে ছোট্ট করে ভাঁজ এক ফালি কৃত্রিম কাপড়। বেশ কয়েকটা ভাঁজ খুলতেই হাতের মুঠোর ছোট্ট এক চিলতে টুকরোটা হয়ে উঠছে ঢাউস সাইজের এক একটা ব্যাগ। তারপর লম্বা ফর্দের বাজার করে জিনিসপত্র ভর্তি ব্যাগটাকে কাঁধে ঝুলিয়ে গটগট করে বেরিয়ে আসছে ওরা সবাই।

জিজ্ঞেস করলে জানা যায় এগুলো নাকি রিপস্টপ ব্যাগ। এই ব্যাগ গুলো  সুপার  লাইটওয়েট।  স্বচ্ছন্দে  বহনযোগ্য । দারুণ  টেকসই। সহজে ছিড়ে যায় না।  আড়াআড়িভাবে  কয়েক বার ভাঁজ করে নিলে দিব্যি  শার্ট  বা  প্যান্টের  পকেটে  পুরে  ফেলা  যায়।  এমন  কি অনায়াসে পার্সের ভেতরেও  ঢুকে  যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাইজ চল্লিশ বাই ছত্রিস সেন্টিমিটার।  তলাটা প্রায় পনেরো স্কোয়ার সেন্টিমিটারের।


ওজন বইতে পারে  কুড়ি কেজির  থেকেও  বেশি। হাতে করে নিয়ে যাওয়া যায়; বা কাঁধেও ঝোলানো যায়। সাবান জলে ধুয়ে নেওয়া যায়; কিংবা ওয়াশিং মেশিনেও কেচে ফেলা যায়।

কী করে তৈরি হয় এই ব্যাগ?

অনেকেই ধরে নেন রিপস্টপ ফ্যাব্রিক বোধহয় নাইলন দিয়ে তৈরি। আসলে এটি কেবল আংশিকভাবে সত্য। আসল সত্যটা একটু বিস্তৃতভাবে অনুসন্ধান করে দেখা যাক।


নাইলন হলো গিয়ে সিন্থেটিক পলিমার পরিবারের একটি সদস্য।

আমেরিকাতে  বস্ত্রশিল্পে  নাইলনের  ব্যবহার শুরু হয়  দ্বিতীয়  বিশ্বযুদ্ধের  সময়টাতে।  প্যারাসুট তৈরিতে।  সিল্কের বিকল্প হিসেবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আমেরিকাতে সিল্ক আসতো জাপান থেকে বা জাপান হয়ে। বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর জাপান থেকে সিল্ক আসা বন্ধ হয়ে গেলো। যে সংস্থাগুলি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্যারাসুট প্রস্তুত করছিল, তারা তখন মরিয়া হয়ে অন্য একটি ফ্যাব্রিক খোঁজা শুরু করলো যা তাদের প্যারাসুটে রেশমের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। তারা এমন একটি ফ্যাব্রিক চেয়েছিল যা রেশমের মতো হালকা, তবে অনেক বেশি টেকসই। খুঁজতে খুঁজতে ওদের নজর গিয়ে পড়লো নাইলনের ওপর।

নাইলনের উৎপাদকেরা তখন লক্ষ্য করে দেখলো যে হাল্কা এবং টেকসই ফ্যাব্রিক হিসেবে নাইলনের বেশ কয়েকটা কাঙ্ক্ষিত গুণ রয়েছে। আবার কয়েকটা অনাকাঙ্ক্ষিত দিকও রয়ে গেছে। ওরা পরীক্ষা করে দেখলো নাইলন ফ্যাব্রিকের সাথে পলিয়েস্টার, স্প্যানডেক্স বা সুতি বিশেষ ভাবে মিলিয়ে দিতে পারলে নাইলনের পছন্দসই বৈশিষ্ট্যগুলি তো বজায় থাকেই, উপরন্তু এই ফ্যাব্রিকের অনেকগুলি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রকৃতিও অপসারিত হয়ে যায়।

রিপস্টপ নাইলন তারই ফলশ্রুতি। দেখা গেলো রিপটপ নাইলন সিল্কের চেয়ে অনেক বেশি উৎকৃষ্ট। তার কারণ এটি অনেক বেশি টেকসই, অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক, অনেক বেশি জীবাণু প্রতিরোধী এবং অনেক বেশি সস্তা।

স্ট্যান্ডার্ড নাইলন এবং রিপস্টপ নাইলনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, রিপস্টপ নাইলনে বেস মেটেরিয়াল পলিয়েস্টার, স্প্যানডেক্স বা সুতির ওপর নাইলনের ইন্টারলকিং থ্রেডিং থাকে। দুটো বা তিনটে সূক্ষ্ম সূতোর একসাথে সামান্য কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে বুননের এই থ্রেডিং ফ্যাব্রিকের স্থায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।

ইন্টারলকড প্যাটার্নটি দূর থেকে দৃশ্যমান নয়, তবে আপনি যদি ফ্যাব্রিকের  খুব কাছে গিয়ে ভালো করে লক্ষ্য করেন, তবে আপনি বেস মেটেরিয়ালের ওপর এই থ্রেডগুলি স্পট  দেখতে পাবেন।  ইন্টারলকড প্যাটার্নটি সাধারণত ফ্যাব্রিকটিতে একটা ত্রি-মাত্রিক টেক্সচার যুক্ত করে, যা আপনার চোখ এড়িয়ে যাবে না। যদি আপনি কোনো ফ্যাব্রিকে এই ইন্টারলকড প্যাটার্নটি  দেখেন বা অনুভব করেন, তবে নিশ্চিত হয়ে যাবেন যে এটি স্ট্যান্ডার্ড নাইলন নয়। এটি একটি  রিপ স্টপ নাইলন।

এই ফ্যাব্রিক শক্তিশালী হলেও এটি আশ্চর্যরকম হালকা। রিপ স্টপ নাইলন জলরোধী। কিছু ধরণের রিপস্টপ নাইলন আবার ওফায়ার রেটার্ড্যান্টও।

যদি প্রশ্ন ওঠে নাইলন কি জৈব পদার্থ?


সাফ উত্তর, মোটেও না।

নাইলন কি ইকো ফ্রেন্ডলি?


কক্ষনো না।

নাইলনের কি বায়োডেগ্র্যাডেশন হতে পারে?


অসম্ভব ব্যাপার।

যদি তাই সত্যি হয়, তবে রিপস্টপ নাইলনের সমর্থনে জোরালো সওয়াল করার কী যুক্তি থাকতে পারে?

সাদামাটা প্রত্যুত্তর হলো, রিপস্টপ নাইলনের প্রধান দুটো বিশেষত্ব টেকসইতা আর পুনরায় ব্যবহারযোগ্যতা।

এক একটা রিপস্টপ নাইলনের ব্যাগ নয় নয় করেও হেসেখেলে ছ'মাস ব্যবহার করা যেতে পারে।

এবার করিমগঞ্জের মানুষকে যদি রিপস্টপ ক্যারিব্যাগের সুফল সম্পর্কে যথাযথ ওয়াকিবহাল করা হয়, আর সাথে সাথে মানুষের কাছে রিপস্টপ ক্যারিব্যাগ সহজলভ্য করে দেয়া যায়, তবে করিমগঞ্জে দিনে পাঁচটা, মাসে একশো পঞ্চাশটা আর ছ'মাসে ন'শোটা পলিইথিলিনের থলে কম ব্যবহৃত হবে।

এবার ন'শোটা পলিইথিলিন ব্যাগে থাকা সিনথেটিক পদার্থের পরিমানের তুলনায় একটা রিপস্টপ নাইলন ব্যাগের সিনথেটিক পদার্থের পরিমান একশো ভাগের এক ভাগও নয়।

বর্তমানে যে পরিমান পরিত্যক্ত পলিইথিলিন করিমগঞ্জের মাটিকে ধারণ করতে হয়. তা সহজ ভাষায় বলতে গেলে পুরোদস্তুর ভাবে অনিয়ন্ত্রণীয়। এই পরিমাণ সিনথেটিক বর্জ্য সামলানোর মতো সংস্থান আমাদের হাতে উপলব্ধ নেই।

পরিত্যক্ত জঁজালের আয়তন যদি এক ধাক্কায় কমে গিয়ে এখনকার এক শতাংশের আশে পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে কব্জা করা আয়ত্তের মধ্যে এসে যাবে। করিমগঞ্জের জমি আরো বেশি করে কলুষিত হওয়ার হাত থেকে নিস্তার পাবে। হাফ ছেড়ে বাঁচবে করিমগঞ্জের মাটি।

অন্ধকারের মাঝে তাই একটা আশার ঝিলিক।

সারা বিশ্বের নিরিখে পলিইথিলিন ক্যারিব্যাগের একজন উপভোক্তা গড়ে মাত্র বারো মিনিটই একটা পলিইথিলিনের থলে ব্যাবহার করে থাকেন। যদি আমরা বিবেচনাকে শুধু করিমগঞ্জ শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি, তবে এই সময় কালটা আরও কমে দাঁড়াবে এগারো মিনিটেরও তলায়।

সুতরাং শহরের যা সর্বনাশ হবার তা কিন্তু এই এগারো বা বারো মিনিটের মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে। তাই সংকট মোচনের উপায়ও নিহিত রয়েছে এই এগারো বারো মিনিটের মধ্যেই। চাই শুধু একটু সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মনশ্চক্ষু আর কল্পনাশক্ত।

Marble Surface

ঈশানের যোগাযোগ

Marble Surface

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

Marble Surface

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions