বিজ্ঞান বিষয়ক

কোভিড ভাইরাস : আগামীতে বিবর্তন কোন‌ পথে ? (পর্ব ২)

 

জয়দীপ ভট্টাচার্য

২২ আগস্ট ২০২১

 

করোনা ভাইরাসের বিবর্তন ও আগামী দিনে এই মহামারির গতিপ্রকৃতি নিয়ে জয়দীপ ভট্টাচার্যর লেখা। দুই পর্ব একসাথে ......

Joydeep da.jpeg

 পর্ব ১ 

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ ... চীনের উহানে সূত্রপাত হয়েছিল সেই ভয়ংকর সংক্রমণের যা গত একশ বছরে এই বিশ্ব দেখেনি। আমরা ধীরে ধীরে কোভিড ভাইরাস বা সার্স কভ-২ এর সাথে সহাবস্থানে অভ্যস্ত হতে যবে শুরু করলাম, সেও লকডাউন সহ অনেক উপসর্গের বিনিময়ে, অনেক প্রিয়জনকে হারিয়ে, তখনই শোনা গেল সার্স কভ-২ তার রূপ বদলাচ্ছে তৈরি হচ্ছে একের পর এক "ভ্যারিয়েন্ট"। বিজ্ঞানীরা যে তা আন্দাজ করেননি তা নয়, কিন্তু কতটা বদলাতে পারে এই ভাইরাস, কখনো কি তা আমাদের সংক্রমণ বা টীকাকরণের ফলে প্রাপ্ত অনক্রম্যতা বা ইমুউনিটিকে ছাঁপিয়ে যেতে পারে তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌছানো যাচ্ছেনা, যদিও সে চেষ্টা বহমান। 


তবে সার্স কভ-২ এর ভবিষ্যত গতিপ্রকৃতি নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানী মহলে আপাততঃ একটি প্রধান আলোচ্য বিষয়।

 

একটি ভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা মূলতঃ তার বিবর্তনের চাকাকে সচল রাখে এবং‌ এই পরিবর্তিত ভাইরাসগুলি প্রাকৃতিক নির্বাচনের(natural selection) জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যাবহৃত হয়। এর ফলশ্রুতিতে গঠনগতভাবে সবচেয়ে কর্মক্ষম এবং‌ যোগ্য প্রকারটি সাধারণ্যে প্রকট হয়ে থাকে ততদিন‌, যতদিন না তার প্রজাতি সংরক্ষনের তাগিদে বিবর্তনের চাপ আবার প্রবল হয়ে ওঠে। কিন্তু একটি থেকে আরেকটি ভাইরাসের জন্মের সময় ভুলভাবে ভাইরাসের আর এন এ বা জেনোম এর প্রতিলিপি হওয়ার উদাহরণও কম নয়। এইসব পরিবর্তিত ভাইরাসগুলি কিন্তু অধিকাংশ সময় বিবর্তনের সহায়ক না হয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায় ফলে এগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়।

সার্স কভ-২ ভাইরাসটির জেনোমে ৩০০০০ টি পৃথক অংশ বা ভিত্তি রয়েছে।‌ কি হারে এই জেনোম পরিবর্তিত হচ্ছে তা সাধারণতঃ বংশবৃদ্ধির স্বার্থে জেনোমের প্রতিলিপি যখন তৈরী হয় তখন এই প্রত্যেকটি অংশ কতটা ভুলভাবে প্রত্যায়িত হচ্ছে সেই সম্ভ্যাব্যতা (probability) দিয়ে বোঝানো হয়। সাম্প্রতিক নিরিক্ষার ভিত্তিতে এটি প্রতি ১০ লাখে তিনবার বলে দেখা গেছে, যদিও এটি তত্ব হিসেবে এখনো প্র্যামান্য বলে কোন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। তবে এটিকে ভিত্তি হিসেবে ধরলে প্রতি ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা দাড়াচ্ছে ৩০০০০ x ৩/১০০০০০০ অর্থাৎ ০.১. প্রতিটি সংক্রমনের শীর্ষে থাকার সময় এইভাবে চার থেকে সাতবার অব্দি এই চক্রটি চলে। তাই গড় পাঁচবার করে ধরলে এই সম্ভাবনা দাড়াচ্ছে ৫ x ০.১ = ০.৫। দুইজন সংক্রমিত হওয়া মানে এই ধরনের মিউটেশনের সম্ভাবনা ২ x ০.৫ = ১।

 
আবার কোন একজন সংক্রমিতের বদলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংক্রমিত ব্যাক্তিদের ভাইরাসে এখন অব্দি যতগুলো পরিবর্তন বা মিউটেশন জমা হয়েছে তা বিশ্লেষন করলেও আমরা এই হার পেতে পারি, যদি কতদিনে এই পরিবর্তন হয়েছে তা তলিয়ে দেখা হয়। এই ক্ষেত্রে ভিত্তি হচ্ছে ভাইরাসের প্রথম আর.এন.এ বা জেনোমটি। সেভাবে সমীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতি দু'সপ্তাহে গড়ে একটি মিউটেশন জমা হচ্ছে মানে সপ্তাহে ০.৫ যা পূর্বতন ক্ষেত্রে একক ব্যাক্তির ক্ষেত্রে সম্ভাবনা বলে দেখা গিয়েছিল। কিন্ত একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে যে উপরোক্ত হিসেব একটি ভাইরাসকে ধরে যেখানে একজন সংক্রমিত হবার অব্যবহিত পরেই শরীরে ভাইরাসের সংখ্যা ৩,০০,০০০ থেকে ৩০০,০০,০০০ অব্দি দাড়াতে পারে। এবং সেক্ষেত্রে প্রতিটি সংক্রমনের ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে এই মিউটেশনের সম্ভাবনা দাড়াচ্ছে ১,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০। ( সম্ভাবনা - ৩/১০,০০,০০০)। অর্থাৎ কমপক্ষে ১,০০০,০০।

একটি ভাইরাসের আর এন এ কোডকে সাধারণত চারটি বর্ণ দিয়ে বোঝানো হয় : G,C,U ও A এবং একটি জেনোমে এরকম ৩০,০০০ আর এন এ রয়েছে। মিউটেশনের ফলে এগুলোর যে কোন‌ একটি বর্ণ অন্য তিনটি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে এবং সেই গানিতিক সম্ভাবনার মানও দাড়াচ্ছে ১,০০,০০০। প্রতিটি সংক্রমিত ব্যাক্তির ক্ষেত্রে এই বৃহৎ সংখ্যক মিউটেশনের সম্ভাবনা থাকলেও সংক্রমণ কমে যাবার সাথে সাথে এদেরও মৃত্যু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা পরবর্তী সংক্রমণের ধাপে পৌঁছয় না। এবং এদের জীবদ্দশা এতটাই সল্পসময়ের যে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া এদের মধ্যে যোগ্যতমকে বাছাই করতে ও অন্যান্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সক্ষম হয়না অর্থাৎ প্রকৃতিগত কারনেই এই ক্ষেত্রে ভাইরাসের হাত পা বাঁধা। তাই গত দেড়বছরের সংক্রমণের ফলে মাত্র ডজনখানেক 'ভ্যারিয়ান্ট' এখন অব্দি পরিচিতি পেয়েছে যেগুলোকে ওয়ার্লড হেলথ অর্গেনাইজেশন 'ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ণ' বা 'ভ্যারিয়ান্ট অফ ইন্টারেস্ট ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আসুন, দেখে নেওয়া যাক সে তালিকাটি।

ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ণ :


আলফা : এটি প্রথম আবিস্কৃত হয় ইউ কে তে। এটিই প্রথম ভ্যারিয়েন্ট যা ব্যাপকভাবে সাধারণ্যে ছড়িয়ে পড়ে।


বিটা : প্রথম দেখা যায় সাউথ আফ্রিকাতে, অনক্রম্যতাকে অতিক্রম করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনাযুক্ত।


গামা : প্রথম ধরা পড়ে ব্রাজিলে, পরে সাউথ আফ্রিকাতে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপকভাবে।


ডেল্টা : প্রথম ধরা পড়ে ভারতে, বর্তমানে অন্যান্য সব ভ্যারিয়েন্ট কে পেছনে ফেলে বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রকট হয়ে ওঠছে।

ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট: ১.ইটা ২.লটা ৩.কাপ্রা ৪.ল্যাম্বডা


এর আগে - ১.এপসাইলন ২.থিটা

বিজ্ঞানীরা প্রথমে যা ভেবেছিলেন তাকে ভুল প্রমাণিত করে এই ভ্যারিয়েন্ট গুলি কিন্তু ক্রমাগত অধিক সংক্রমণশীল এবং অধিক ক্ষতিকর হয়ে ওঠেছে। ২০১৯ এ উহানে আবিস্কৃত ভাইরাস থেকে ডেল্টা প্রকারটি ও অন্য ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট গুলি এতটাই পৃথক যে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের কোভিড প্রতিরোধী কর্মসূচী নিয়ে নতুন ভাবে চিন্তা ভাবনা করতে বা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। যে হার্ড ইম্যনিটির লক্ষ ধার্য করা হয়েছিল, যাতে ভাইরাসের সংক্রমণের শেকল ভেঙে দেওয়া যায় তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। "ডেল্টা স্ট্রেইন দেখার পর আমার মনে হচ্ছে যে এটি ধীরে ধীরে অসম্ভব হয়ে পড়ছে" - মন্তব্য করেছেন সেইন্ট এন্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রমনশীল রোগ বিশেষজ্ঞ 'মিউজ সেভিক' (Muge Cevik)। "হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই আমরা কোভিড সংক্রমণের সবচেয়ে গোলমেলে পর্বের মুখোমুখি হতে চলেছি, কারণ একদিকে কিছু অঞ্চলে এক বৃহৎ সংখ্যক জনগনের মধ্যে অনাক্রম্যতা তৈরী হওয়ার ফলে বিবর্তনজনিত প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হচ্ছে যা ভাইরাস টিকে আরো বিবর্তিত হবার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বের অধিকাংশ অংশে এখনো সংক্রমন বাড়ছে তার ফলে মিউটেশন বা গঠনগত পরিবর্তনের সুযোগও বেড়ে চলেছে" - বলেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভোলিউশোনারি বায়োলজিস্ট 'এ্যরিস কাটযৌরাকিস' (Aris Katzourakis)। প্যানসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন বিশেষজ্ঞ 'এ্যন্ড্রু রিড' (Andrew Read) এর বক্তব্য - "আগামীতে কি হতে চলেছে এটা বলা যথেষ্ট কঠিন। কারণ এ পদার্থ বিদ্যার সমীকরণ কিংবা বিলিয়ার্ড খেলা নয়।"

তবে বিগত ভাইরাল সংক্রমণের ইতিহাস থেকে কিছুটা ধারণা করা সম্ভব এবং সেই হিসেবে কোরোনা ভাইরাস যে বর্তমান ডেল্টা স্ট্রেইন থেকেও বেশি সংক্রমনশীল হতে পারে সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। এ্যন্ড্রু রিডের কথায় "১৯১৮ এর ফ্লু সহ বিগত ভাইরাস গুলির অভিজ্ঞতা থেকে বলা যেতে পারে যে এই কোভিড ভাইরাসটি যদি আমাদের জন্য দিনে দিনে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তাহলে আশ্চর্যের কিছু নেই"। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাল বিবর্তন বিশেষজ্ঞ 'এডওয়ার্ড হোমস' (Edward Holmes) সার্স কভ-২ এর প্রথম জেনোম অনুক্রমটি প্রকাশ করেন ১০ ই জানুয়ারি, ২০২০ সালে। এরপর থেকে  প্রায় ২০ লক্ষ জেনোমের পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়েছে এখন অব্দি, কোন ভাইরাসের ক্ষেত্রে এরকম ব্যাপক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের নজির আর নেই। কিন্তু তাতেও আগামী বিবর্তন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে কই ?

 পর্ব ২ 

ভ্যারিয়েন্ট গুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হচ্ছে এরা অনেক বেশি সংক্রমনশীল। অতিমারী চলাকালীন একটি পর্যায়ে সার্স কভ-২ এর একটি মিউটেশন বা পরিবর্তন হয় যাকে D614G বলা হচ্ছে এবং এটি তার সংক্রমন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হয়। এই বিশেষ প্রকারটি এরপর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং হালের সমস্ত প্রকার এর উত্তরসূরি। এরপর ২০২০ এর শেষভাগে ইউ কের 'কেন্ট'এ এক রোগীর শরীরে প্রথম ধরা পড়ে আরেক নতুন ভ্যারিয়েন্ট 'আলফা' যার সংক্রমণ ক্ষমতা অন্যান্য প্রকার থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। বর্তমান 'ডেল্টা' ভ্যারিয়েন্ট কিন্তু 'আলফা' থেকেও ৪০ /৬০ শতাংশ অধিক সংক্রমণশীল।

JB Covid 1.jpeg

 আগষ্ট ২০২০ থেকে আগস্ট ২০২১ অব্দি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যারিয়েন্ট গুলির আধিক্য 

 

কোভিড ভাইরাসের গতি প্রকৃতি আঁচ করার ব্যাপারে গবেষকদের একটি অন্য সমস্যাও রয়েছে। কারন নতুন একটি ভাইরাস যা এরকম একটি অতিমারীর কারণ হতে পারে ও মানুষের মধ্যে বিবর্তিত হতে পারে তা নিয়ে কোন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। "আমরা এতদিন ধরে যেসব জীবাণু নিয়ে চর্চা করেছি তাঁরা কয়েক শতক ধরে মানব সভ্যতার সাথে সহাবস্থান করছে, কাজেই তাদের বিবর্তন ও সেই প্রেক্ষিতেই ঘটছে, কারন তারা বহু বছর ধরে আমাদের সাথী" - বলেছেন 'ওয়েলকাম ট্রাস্টের কর্তা বিজ্ঞানী জেরেমি ফারার' (Jeremy Farrar)। স্বীকার করেছেন 'কাটযাঔরাকিস' ও - "এটি এই গবেষণার ব্যাপারে আগে থেকে আমাদের ভাবনাচিন্তাকে একটি নির্দিষ্ট ভাবে প্রভাবিত করছে।"

'আলফা' ভ্যারিয়েন্ট এর বাইরের কাঁটা যা একধরণের প্রোটিন দিয়ে তৈরি তাতে একটি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা N501Y নামে পরিচিত এবং এর ফলে আমাদের কোষের 'এসিই - ২ রিসেপ্টর' (ACE 2 receptor) যার সাথে জুড়ে ভাইরাসটি মূলতঃ মানবদেহে ঘাঁটি গাড়ে এই ব্যাপারটি অনেক সহজসাধ্য হয়ে পড়েছে। এবং এর সাথে এই মিউটেশনের ফলে দেহের অনাক্রম্যতা বা ইম্যুউনিটি একে নিস্ক্রিয় করতে যে সব সৈন্যসামন্ত পাঠাচ্ছে তাও কিছুটা অকেজো হয়ে পড়ছে। তাই সংক্রমনের জন্য তুলনামূলক ভাবে অনেক কমসংখ্যক ভাইরাসের দরকার হচ্ছে। 'ডেল্টা' র ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিউটেশন ধরা পড়েছে। তার বাইরের কাঁটা বা 'স্পাইক' প্রোটিনে একটি অংশ থাকে যাকে বলা হয় 'ফুরিন ক্লিভেজ সাইট' (Furin Cleavage Site)। ফুরিন আমাদের দেহের একটি উৎসেচক যা কিছু প্রোটিনের বাইরের খোলসকে ভেঙে তার ভিতরের কাঠামোকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। কোভিড বা অন্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কারণ এর ফলে তাদের কোষে প্রবেশ করা অনেক সহজসাধ্য হয়ে ওঠে। ডেল্টার যে অংশে এই প্রক্রিয়াটি হলে কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে সেখানে 'P681R' নামক একটি মিউটেশন হয়েছে যার ফলে এই প্রক্রিয়াটি সহজে হচ্ছে এবং ভাইরাসটি খুব সহজে ও তাড়াতাড়ি আমাদের কোষে প্রবেশাধিকার পেয়ে যাচ্ছে। গত জুলাই মাসে চীনের এক গবেষক দল দেখিয়েছেন যে ডেল্টা সংক্রমণের ফলে রোগীর দেহে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ভাইরাসের সংখ্যা ১০০০ গুন বেশি হচ্ছে। এবং শুধু সংখ্যাবৃদ্ধি নয় সংক্রমনও শুরু হচ্ছে অবিশ্বাস্য দ্রুততায়।

 

এরকম একটি তত্ত্ব রয়েছে যে যত সময় যেতে থাকে যে কোন ভাইরাস তার প্রজাতি সংরক্ষণের স্বার্থেই ততই কম ক্ষতিকর হতে থাকে। উদ্দেশ্য যে অতিথি দেহকে আশ্রয় করে তার বাড়বাড়ন্ত তাঁরা যাতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে এবং এইভাবে যাতে ভাইরাসের আরো বৃহত্তর জনসংখ্যায় ছড়িয়ে পড়ার পথ সুগম হয়। কিন্তু  'হোমস' এর মতে "ব্যাপারটি এরকম নয় যে এই তত্ত্ব কে সবক্ষেত্রে ধ্রুব হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে। কোন বিবর্তন বিশেষজ্ঞকে একটি ভাইরাসের ভয়াবহতাকে এই নিরিখে ভাবা অনুচিত।" এই ব্যাপারে দুটি পরস্পর বিরোধী উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ১৯৬০ ও ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যথাক্রমে প্রকাশ‌ পায় 'মাইজোমা' (Myxoma) ও 'রেবিট হেমোরেজিক ডিজিজ ভাইরাস' (Rabbits Hemorrhagic Disease Virus) যা ইউরোপীয় খরগোশদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দুই ক্ষেত্রেই খরগোশরা ফসলের পর ফসল নষ্ট করছিল এবং বংশবৃদ্ধিও হচ্ছিল বিশালভাবে। 'মাইজোমা' ভাইরাসের কবলে ৯৯ শতাংশ খরগোশেরই মৃত্যু হয় এবং তারপর সেই ভাইরাসের ভয়াবহতা কমতে শুরু করে কারণ এরপর তাঁর ছড়িয়ে পড়ার মতো অতিথিদেহের অভাব শুরু হয়। অন্যদিকে 'আর এইচ ডি' ভাইরাসটিও অধিকাংশ খরগোশের মৃত্যুর কারণ হলেও তার ভয়াবহতা (virulence) কমার তেমন কোন উদাহরণ পাওয়া যায়নি।

 

আরেকটি বিষয়ও এক্ষেত্রে বাঁধা হতে পারে। ধরুন একজনের দেহে যদি একাধিক ভ্যারিয়েন্ট প্রবেশ করে তবে সবচেয়ে শক্তিশালী যেটি অন্যদেরকে পিছনে ফেলে সেটিই বেঁচে থাকা ও বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় তাতে যদি রোগী অধিক রোগাক্রান্তও হয়।‌ সেক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমতে পারে। কিন্তু কোভিড ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব ও প্রয়োগযোগ্য নয় কারণ এই ক্ষেত্রে যখন ভাইরাসটি আমাদের শ্বাসযন্ত্রের উপরিভাগে থাকে তখনই মূলতঃ সংক্রমণ হয়। যখন তা আমাদের ফুসফুসের গভীরে যায় তখন রোগীর উপসর্গ বাড়লেও সংক্রমণের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

JB Covid 2.jpeg

 ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনামূলক 'এন্টিজেনিক ম্যাপ' 

 

সার্স কভ-২ কি কখনো সংক্রমণ বা টিকাকরণ জনিত অনাক্রম্যতা বা ইম্যুনিটিকে অতিক্রম করে যেতে পারে? অতিমারীর শুরু থেকে এই আশঙ্কা কাজ করছে বিজ্ঞানীদের মনে। যদিও ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন বা বাইরের কাঁটায় কিছু মিউটেশনের ফলে কিছু এন্টিবডি ভ্যারিয়েন্টগুলোর ক্ষেত্রে অকেজো হয়ে পড়েছে তবে এখন অব্দি সেরকম কোন উদাহরণ নেই। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভোলিউশোনারি বায়োলজিস্ট 'ডেরেক স্মিথ' গত কয়েক দশক ধরে কিভাবে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অনাক্রম্যতাকে অতিক্রম করছে তা বোঝাতে তথাকথিত 'এন্টিজেনিক মানচিত্র' নামক একটি মডেলের ব্যাবহার করছেন। স্মিথের এই এন্টিজেনিক মানচিত্রে একটি ভ্যারিয়েন্টের  ক্ষেত্রে কার্যকর এন্টিবডি  অন্য একটির ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হচ্ছে তা দুটির মধ্যেকার দূরত্ব দিয়ে বোঝানো হয়। দূরত্ব যত বেশি হবে একটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এন্টিবডি অন্যটির ক্ষেত্রে ততটাই কম কাজ করবে। স্মিথ ও তার সহকর্মীরা ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড মন্টেফিওরির দলের সাথে মিলে সার্স কভ -২ এর গুরুত্বপূর্ণ ভ্যারিয়েন্ট গুলির জন্য সেরকম একটি 'এন্টিজেনিক ম্যাপ' তৈরি করেছেন। (উপরের ছবি)

এই নতুন ম্যাপে আলফা ভ্যারিয়েন্ট মূল উহান ভাইরাসের কাছে রয়েছে। তার মানে একই এন্টিবডি এই দুটিকেই নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম।ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট কিন্তু অনেক দুরে অবস্থান করছে যদিও এটি অনাক্রম্যতাকে সম্পুর্ন অতিক্রম করে যায়নি। "এটা সেরকম আক্ষরিক অর্থে ইম্যুনিটিকে অতিক্রম করার মতো নয়, তবে যাদের সম্পুর্ন টিকাকরণ হয়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রে অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় 'ডেল্টা'র সম্ভাবনা যে বেশি এটাই বোঝানো হচ্ছে। কিন্তু এটি সম্ভবত সেই গতিপথের প্রারম্ভ এবং সেজন্যই আমি আশঙ্কিত" - বলেছেন 'কাটযাউরাকিস'। মূল ভাইরাস থেকে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনামূলক দূরত্ব বেশি। 'বিটা', যা প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রকট হয়, এই ম্যাপে মূল ভাইরাস থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে, যদিও প্রকৃতি বা টিকা জনিত ইম্যুনিটি এখনো এটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিচ্ছে। এবং এটিকে অতদূর ভ্রমন করতে গিয়ে একটি মূল্যও চোকাতে হয়েছে, সংক্রমণের ক্ষেত্রে ডেল্টা তাকে অনেক পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। "এটা হয়তো এজন্যই যে ইম্যুনিটি অতিক্রম করতে গিয়ে যে কোন ভাইরাস তার অন্যান্য যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।" - 'স্মিথ' এর বক্তব্য।এই মানচিত্র থেকে পরিস্কার যে ভ্যারিয়েন্টগুলি কোন নির্দিষ্ট দিকে এগোচ্ছে না। স্মিথের এই মানচিত্রে মূল উহান ভাইরাসকে যদি একটি শহর ধরা হয় তবে ভ্যারিয়েন্টগুলি যেন লোকাল ট্রেনে চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পাশের শহরে প্রবেশ করেনি - অন্তত এখন অব্দি।

 

মানবদেহে অনাক্রম্যতা ক্রমবর্ধমান। প্রায় ২০০ কোটি জনগনের ইতিমধ্যে টিকাকরণ হয়েছে। আরো কয়েক কোটি ইতিমধ্যে সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। তাই ভাইরাসের প্রত্যায়িত এবং পরিবর্তিত হবার সম্ভাবনাও হ্রাস পাচ্ছে।

২০০৯ সালে যখন প্রথম H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস আত্মপ্রকাশ করে ও অতিমারীর সূচনা করে তখন একই ব্যাপার ঘটেছিল - বলেছেন এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভোলিউশোনারি বায়োলজিস্ট 'কাটিয়া কোলে' (Katia Kolle)। ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে তিনি দেখিয়েছেন যে এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রথম দু'বছর মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবর্তিত হয়, কিন্তু ২০১১ সাল থেকে এর যতগুলো পরিবর্তন হয়েছে সব ইম্যুনিটিকে অতিক্রম করার স্বার্থে। সার্স কভ-২ সংক্রমনশীলতা বাড়িয়ে অধিক লাভবান হওয়া দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। সংক্রমনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি ভাইরাস কতটা কর্মক্ষম হতে পারে তার একটি সীমা রয়েছে এবং একটি স্তরে এসে সার্স কভ-২ ও সেই সীমাকে স্পর্শ করতে বাধ্য। এটা বলা মুশকিল যে সেই স্তরে পৌঁছতে এই ভাইরাস আরো সময় নেবে নাকি আমরা ইতিমধ্যে সেই স্তরে পৌঁছে গেছি। ইভোলিউশোনারী বায়োলজিস্ট 'ক্রিষ্টিয়ান আন্ডারসন' (Khristian Anderson)-এর মতে "সংক্রমনশীলতা বাড়ানোর জন্য এই ভাইরাসের সামনে বিবর্তিত হবার আরো সুযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে বিশ্বে আমাদের জানা সর্বোচ্চ সীমা হচ্ছে হাম (Measles) ভাইরাসের, তার সংক্রমণশীলতা বর্তমান ডেল্টা ভাইরাসের তিনগুণ।"

অনাক্রম্যতাকে অতিক্রম করার সীমা কোনটি তাও এখনো অস্পষ্ট। স্মিথের 'এন্টিজেনিক ম্যাপ' ভ্যারিয়েন্টগুলো কতটা ভ্রমণ করেছে তার ধারণা দিচ্ছে। কিন্তু এসব কি আরো এগিয়ে যাবে? কোথায়ই বা স্মিথের এলাকার সেই স্বতঃসিদ্ধ সীমানা যা পেরোলে ইম্যুনিটি নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে? স্মিথের মতে পরবর্তী কয়েকটি ভ্যারিয়েন্ট ম্যাপের কোন জায়গায় অবস্থান করে তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে। বর্তমানে মূল ভাইরাস থেকে বিটা একপথে এবং ডেল্টা সম্পুর্ন পৃথক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও এত আগে বলা সম্ভব নয় তবে আগামীতে হয়তো এই ভাইরাসের এই দুটি নির্দিষ্ট প্রকার আলাদাভাবে থেকে যাবে এবং একই টিকাতে দুটোর প্রতিষেধকের হয়তোবা বন্দোবস্ত করতে হবে।

অনাক্রম্যতাকে অতিক্রম করার ব্যাপারটি বিপজ্জনক কারণ সেক্ষেত্রে বারবার ভ্যাক্সিনকে পরিমার্জন করতে হবে যা সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে সাধারণ ভাইরাস যেমন হাম, পোলিও বা ইয়েলো ফিভার ইত্যাদির ক্ষেত্রে একই ভ্যাক্সিন গত কয়েক দশক ধরে কার্যকর রয়েছে এমনকি এদের কয়েকটি বিরল অনাক্রম্যতা প্রতিরোধী প্রকারের ক্ষেত্রেও।

'রিড'এর কথায় - "২০২০ সালে একবার এক ভয়ঙ্কর আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল যখন 'হেপাটাইটিস বি' ভাইরাসের এরকম একটি অনাক্রম্যতা প্রতিরোধী ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়ে। কিন্তু ভ্যারিয়েন্টটি সংক্রমিত ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসা কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়। যে কোন ভাইরাসের সংক্রমণশীলতা বৃদ্ধি ও অনাক্রম্যতা প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জনের মধ্যে একধরনের ভারসাম্যের খেলা চলতে থাকে। এবং হয়তো এই ভারসাম্যের খেলার মোকাবেলা সার্স কভ-২ কেও করতে হবে।"

কোরোনা ভাইরাসের পুরোনো যে প্রকার গুলো অনেক যুগ ধরে আমাদের মধ্যে সক্রিয় রয়েছে যারজন্য আমাদের সাধারণ সর্দিজ্বর হয় সেগুলোর কার্যক্রম থেকে এই ব্যাপারে কিছু সূত্র পাওয়া যেতে পারে। এদের কয়েকটিকে মানবদেহে পুনর্সংক্রমণ করতে দেখা গেছে যদিও তা রোগীর অনাক্রম্যতা কমে যাওয়ার জন্য না ভাইরাসের ইম্যুনিটি প্রতিরোধী ক্ষমতার বেড়ে যাবার জন্য তা এখনো পরিস্কার নয়।গত এপ্রিলে PLOS pathogens জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় ব্লুম (Bloom) ও তার সহযোগীরা গত এক দশকের বিভিন্ন সময়ে কোরোনা ভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনকে মানবদেহ বাহিত রক্তের সিরাম কতটা প্রতিরোধ করতে পারছে তা নিয়ে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখিয়েছেন কোরোনা ভাইরাসের একটি প্রকার ২২৯ই (229E) কে যে সংক্রমিত ব্যাক্তির সিরাম তখন প্রতিরোধ করতে পারছে সেটাই দশবছর বা তারপর তা করতে ব্যার্থ হচ্ছে। সার্স কভ-২ এর ব্যাপরে তাদের বক্তব্য "এখন অব্দি এন্টিবডি প্রতিরোধী ক্ষমতার ক্ষেত্রে আমাদের মনে হচ্ছে এটি 229E এর মতোই আচরণ করছে।"

অন্যরা সার্স কভ-২ এর উপর এই ব্যাপার নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। এই মাসে প্রকাশিতব্য এক গবেষণা পত্রে অনাক্রম্যতা অতিক্রম করতে হলে ভাইরাসটিকে কতটা পরিবর্তিত হতে হবে তাই নিয়ে একদল বিজ্ঞানী আলোচনা করেছেন। তারা দেখিয়েছেন যে ভাইরাসের বাইরের কাঁটা বা স্পাইক প্রোটিনে এজন্য ২০ টি পরিবর্তন দরকার। "তার মানে এটা স্পষ্ট যে এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা যথেষ্ট বেশি তবে এরকম কোন যাদুদন্ড আমাদের হাতে নেই যা দিয়ে আগামীতে কি হতে পারে তার স্পষ্ট ভবিষ্যতবাণী করা সম্ভব" - বলেছেন এই দলের সদস্য রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ 'পল বিয়েনিয়াজ' (Paul Bieniasz)।

এটা হয়তো সত্যি যে অনাক্রম্যতাকে সম্পুর্ন প্রতিহত করা কঠিন কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) প্রক্রিয়া এই সমস্যার সমাধানসূত্র বের করতেই পারে এবং এখন ভাইরাসটি প্রজাতি সংরক্ষণের স্বার্থে সেই চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে। তাই সেও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।  তার কৌশল পাল্টাবে।


কোরোনা ভাইরাস গঠনগত পুনর্মিলনে দক্ষ, তার ফলে যে কোন মুহুর্তে দুটো ভ্যারিয়েন্টের জেনোম মিলে একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট প্রকট হতে পারে যা অনাক্রম্যতা প্রতিরোধী ক্ষমতা পেয়ে যেতে পারে। শূকরের কোরোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ রয়েছে। যদিও এই ব্যাপারে অনেক কিছুই আমাদের হাতে নেই তবে যে দুটি বিষয় আমাদের হাতে রয়েছে তা হচ্ছে প্রথমতঃ সংক্রমন রোধে আরো জোরদার উদ্যোগ নেওয়া, গন টিকাকরণ যার একটি অন্যতম হাতিয়ার। দ্বিতীয়ত জেনোম অনুক্রম বিশ্লেষনে (Genome Sequencing) আরো মনোযোগী হওয়া। এই দুটি ব্যাপারেই আমাদের দেশ পিছিয়ে আছে। বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন যতই বলুন না কেন যে ভারত অতিমারীর সাথে মানিয়ে নেবার পর্যায়ে চলে এসেছে, যে কোন আগামী ভ্যারিয়েন্ট কিন্তু সব ছক পাল্টে দিতে পারে যদি তা উপযুক্ত পুনর্মিলনের ফলে বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। একইভাবে উন্নত দেশগুলিকেও গরীব দেশকে এই ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে আজকের 'গ্লোবাল ভিলেজে' কোন ভ্যারিয়েন্টকে কিন্তু একটি দেশে আটকে রাখা যাবেনা তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী হতে বাধ্য।

 সমাপ্ত