বিজ্ঞান বিষয়ক

অক্ষয়কুমার দত্ত : আধুনিক ভারতের প্রথম বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী  
(মার্চ ফর সায়েন্স, শিলচর চ্যাপটার এর সংগ্রহ থেকে)
১৮ জুলাই ২০২১

বাঙলা সাময়িক-পত্রে প্রথম শ্রেণীর বৈজ্ঞানিক আলোচনা সর্বপ্রথম পাওয়া গিয়েছিল 'বিদ্যাদর্শন' পত্রিকায়।

১৮৪২ সালের জুন মাসে। পত্রিকাটির অন্যতম পরিচালক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত,

যাঁকে বলা যেতে পারে পাশ্চাত্য বিজ্ঞানকে দেশীয় সাজে সজ্জিত করবার পথিকৃৎ। প

ত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল, "যত্নপূর্বক নীতি ও ইতিহাস, এবং বিজ্ঞান প্রভৃতি বহু বিদ্যার বৃদ্ধি নিমিত্ত নানা প্রকার গ্রন্থের অনুবাদ করা যাইবেক, এবং দেশীয় কুরীতির প্রতি বহুবিধ যুক্তি ও প্রমাণ দর্শাইয়া তাহার নিবৃত্তির চেষ্টা হইবেক।"

পত্রিকাটি বেশিদিন না চললেও তিনিই ছিলেন প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দিলেন। উনবিংশ শতাব্দীতে তাঁর সুবিশাল সাহিত্য সাধনার মধ্যে দিয়ে সে যুগের বঙ্গবাসীর চিন্তাধারায় যে বিপ্লব এনে দিয়েছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত, এ যুগের বাঙালী তার বড় একটা সন্ধান রাখে না। 

 

১৫ জুলাই ২০২১ তাঁর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী পূর্ণ করার দিন আমরা হয়ত বিস্মৃত অবস্থায় কাটিয়ে দিয়েছি

কিন্তু তাঁকে স্মরণ করা আমাদের অন্যতম পবিত্র কর্তব্যের মধ্যে পড় ...

220px-Akshay_Kumar_Datta_photo.jpg

বাঙলা সাময়িক-পত্রে প্রথম শ্রেণীর বৈজ্ঞানিক আলোচনা সর্বপ্রথম পাওয়া গিয়েছিল 'বিদ্যাদর্শন' পত্রিকায়। ১৮৪২ সালের জুন মাসে। পত্রিকাটির অন্যতম পরিচালক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত, যাঁকে বলা যেতে পারে পাশ্চাত্য বিজ্ঞানকে দেশীয় সাজে সজ্জিত করবার পথিকৃৎ। পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল, "যত্নপূর্বক নীতি ও ইতিহাস, এবং বিজ্ঞান প্রভৃতি বহু বিদ্যার বৃদ্ধি নিমিত্ত নানা প্রকার গ্রন্থের অনুবাদ করা যাইবেক, এবং দেশীয় কুরীতির প্রতি বহুবিধ যুক্তি ও প্রমাণ দর্শাইয়া তাহার নিবৃত্তির চেষ্টা হইবেক।" পত্রিকাটি বেশিদিন না চললেও তিনিই ছিলেন প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দিলেন। উনবিংশ শতাব্দীতে তাঁর সুবিশাল সাহিত্য সাধনার মধ্যে দিয়ে সে যুগের বঙ্গবাসীর চিন্তাধারায় যে বিপ্লব এনে দিয়েছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত, এ যুগের বাঙালী তার বড় একটা সন্ধান রাখে না। তাই তাঁর জন্মদিনে আজ তাঁকে স্মরণ করা আমাদের অন্যতম পবিত্র কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। 

১৮৫১ এবং ১৮৫৩ খ্রীস্টাব্দে দুইখণ্ডে প্রকাশিত অক্ষয়কুমারের 'বাহ্য বস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধবিচার' গ্রন্থটিকে পুর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানগ্রন্থ না বলা গেলেও এর মধ্যে জায়গায় জায়গায় বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি আছে। এই গ্রন্থটিকে স্কটিশ বিজ্ঞান লেখক জর্জ কুম্বের Essay on the constitution of man and its relation to external object গ্রন্থের ভাবানুবাদ বলা যেতে পারে। ১৮৫২, ১৮৫৪ এবং ১৮৫৯ খ্রীস্টাব্দে তিনখণ্ডে প্রকাশিত 'চারুপাঠ' গ্রন্থে উপদেশ ও নীতিকথামুলক প্রবন্ধের ফাঁকে ফাঁকে অক্ষয়কুমার প্রাণী ও উদ্ভিদবিজ্ঞান, ভূগোল, পদার্থবিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে আলোচনা করেন। অক্ষয়কুমারের সর্বশেষ বিজ্ঞানগ্রন্থ 'পদার্থবিদ্যা' ১৮৫৬ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। বাংলায় সুপরিকল্পিতভাবে পদার্থবিজ্ঞান রচনার প্রয়াস প্রথম এই গ্রন্থেই পাওয়া গেল। গ্রন্থ্টির আলোচ্য বিষয় ছিল - জড় ও জড়ের গুণ। এই বইটির অন্যতম বিশেষত্ব হল এতে অক্ষয়কুমার ইংরেজি বৈজ্ঞানিক শব্দগুলির প্রথমবার বাংলা পরিভাষা ব্যবহার করেন যা আজও পদার্থবিজ্ঞানের বইতে প্রচলিত। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার আগে প্রায় প্রতিটি প্রবন্ধই তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। 

এইখানে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সাথে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পর্কের কথা একটু আলোচনা করা আবশ্যক মনে করি। এই পত্রিকার অন্যতম প্রধান পরিচালক ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তত্ত্ববোধিনী যুগের মধ্যমণি যদি দেবেন্দ্রনাথকে বলা যায়, তাহলে অক্ষয়কুমার হবেন তার সর্বোজ্জ্বল জ্যোতিস্ক। রচনা উৎকর্ষে ও বিষয় গৌরবে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সেকালের সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকপত্র রূপে পরিগণিত হয় মূলত অক্ষয়কুমারের জন্যই। শোনা যায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথমদিকের কোনো সংখ্যা পাঠ করে ডিরোজিও শিষ্য বিখ্যাত বাগ্মী রামগোপাল ঘোষ সুবিখ্যাত শিক্ষাবিদ রামতনু লাহিড়ীকে সম্বোধন করে অতি বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, "রামতনু ! রামতনু ! বাঙ্গলা ভাষায় গম্ভীর ভাবের রচনা দেখেছো? - এই দেখো !"

অক্ষয়কুমার তত্ত্ববোধিনীকে কেবল ধর্মতত্ত্বের রহস্য বিচারের পত্রিকা করতে চাননি, চেয়েছিলেন জ্ঞানবিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় অনুশীলনের একটি উচ্চাঙ্গের পত্রিকা করতে। তত্ত্ববোধিনীর ৪৭ তম সংখ্যা থেকে এতে প্রথম শ্রেণীর বৈজ্ঞানিক রচনা একের পর এক প্রকাশ হতে লাগলো। তাদের বিষয়বৈচিত্রও ছিল বিপুল। পুরাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, মনস্তত্ত্ব ইত্যাদি বিজ্ঞানবিষয়ক রচনা ছাড়াও এতে প্রকাশিত হল, কৃষি, বাণিজ্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ক প্রবন্ধসমুহ। শিক্ষাবিস্তার, স্বজাত্যবোধ, স্ত্রীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, বিধবা বিবাহ প্রচলন, সুরাপানের অপকারিতা, কৌলিন্যপ্রথা ও বহুবিবাহের বিরোধিতা, প্রাচীন হিন্দুদের সমুদ্রযাত্রা, পল্লীগ্রামস্থ প্রজাদের দুরবস্থা বর্ণন প্রভৃতি সমাজ-হিতকর নানা ব্যাপারের উপর নানাজনের সুচিন্তিত যুক্তিপূর্ণ প্রবন্ধ্যাদি প্রকাশ করে এই পত্রিকা বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে নবজাগরণের এক প্রধান প্রেরণাস্থল হয়ে উঠেছিল। বিধবা বিবাহ প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে ১৮৫৫ খ্রীস্টাব্দে তত্ত্ববোধিনীর চৈত্র সংখ্যার পাতায় অক্ষয়কুমার একটি অসাধারণ মানবিক আবেদন রাখেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, "যাঁহার কিছুমাত্রও হিতাহিত বোধ আছে, ও যাঁহার অন্তঃকরণে কস্মিন কালে কারুণ্য-রসের সঞ্চার হয়, তাঁহাকেই জিজ্ঞাসা করি, বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না? .... যিনি দেখিয়াছেন যে সাধ্বী রমণী মাসদ্বয় পূর্বে স্বামী সমাদরে মানিনী ও গৌরবিনী বলিয়া স্ত্রীজনের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল, সেই স্ত্রী মাসদ্বয় পরে একান্ত অনাথা ও নিতান্ত সহায়হীনা হইয়া দীনভাবে, শীর্ণশরীরে, সাশ্রুনয়নে দিনপাত করিতেছে এবং স্বামী সম্বন্ধীয় রমণীগণ কর্তৃক নানাপ্রকার নিগৃহীত ও পরিবারস্থ দাসদাসিগণ কতৃক উপেক্ষিত ও অশ্রদ্ধিত হইয়া কাতর স্বরে প্রতিবেশীদিগের দয়ার্দ্র হৃদয় বিদীর্ণ করিতেছে, তাঁহাকেই জিজ্ঞাসা করি, বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না? .... কোন পতিবিহীনা পীড়িতা স্ত্রী তিথিবিশেষে পথ্যাভাবে নিতান্ত নির্জীব হইল, তথাপি কেহ কণামাত্র আহার সামগ্রী অর্পণ করিল না, জলতৃষ্ণায় তালু ও কণ্ঠ পরিশুস্ক হইয়া দুইচক্ষু স্থিরীকৃত করিয়া প্রাণত্যাগ করিল, তথাপি কেহ জলবিন্দু প্রদান করিল না, এই হৃদয় বিদারক ব্যাপার যিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন, তাঁহাকেই জিজ্ঞাসা করি, বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না?" অর্থাৎ অক্ষয়কুমার বিধবাবিবাহকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক মানবতাসম্মত বলে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে এইপ্রকার মানবিক আবেদন সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসের এক নুতন ধারার সূচনা করেছিল। এক্ষেত্রে অক্ষয়কুমার ছিলেন বিদ্যাসাগরের বিশ্বস্ত সেনাপতি।

ফলে ভাববাদী সাধক দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে বিশুদ্ধ জ্ঞানমার্গী পণ্ডিত অক্ষয়কুমারের পদে পদে সংঘর্ষ শুরু হল। ঘন ঘন সংঘর্ষ ও মতবিরোধের ফলে দেবেন্দ্রনাথ ক্রমেই তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েন। আসলে বিদ্যাসাগরের মতো অক্ষয়কুমারও ছিলেন উনবিংশ শতকের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোর যুক্তিবাদী। অক্ষয়কুমার 'বেদ অপৌরুষেয়, অতএব নিত্য এবং অভ্রান্ত' এ মত মানতেন না। অক্ষয়কুমার প্রায় বলতেন, কৃষকরা পরিশ্রম করে শস্য পায়, জগদীশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে কোনো কৃষানের কস্মিনকালেও শস্য লাভ হয় নি। প্রার্থনার ফলাফল যে শূন্য, কিছু নয়, তা তিনি বীজগণিতের সমীকরণ প্রণালীতে এইভাবে বুঝিয়ে দিতেন,


পরিশ্রম = শস্য, 
পরিশ্রম + প্রার্থনা = শস্য, 
প্রার্থনা = শূন্য।"  


প্রকৃতপক্ষে হিন্দু কলেজের ছাত্ররা একদিন অক্ষয়কুমারকে প্রার্থনার কার্যকারিতা সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে অক্ষয়কুমার উপরোক্ত সমীকরণটির মাধ্যমে তাদের কৌতূহল নিরসন করেন। একই সঙ্গে এটি হিন্দুদের পৌত্তলিক বিশ্বাস ও ব্রাহ্মদের নিরাকার ঈশ্বরে বিশ্বাস - এই দুই মতবাদকেই চরম আঘাত করে বসে। ব্রাহ্মদের মধ্যে অক্ষয়কুমার এ হেন মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হলে অক্ষয়কুমার প্রতিক্রিয়া দেন, "বিশুদ্ধ-বুদ্ধি বিজ্ঞানবিৎ লোকের পক্ষে যাহা অতি বোধসুলভ, তাহা এদেশীয় লোকদের নুতন বোধ হইল, এটি বড় দুঃখের বিষয়।"

 

বলা বাহুল্য, প্রার্থনার ক্ষেত্রেও অক্ষয়কুমারের এই বীজগণিতের সূত্র প্রয়োগ এবং ধর্মতত্ত্বের বদলে বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ নিয়ে আগ্রহ দেবেন্দ্রনাথ বরদাস্ত করতে পারতেন না। এই মতবিরোধ নিয়ে দেবেন্দ্রনাথ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, "আমি কোথায়, আর তিনি কোথায় ! আমি খুঁজিতেছি ঈশ্বরের সহিত আমার কি সম্বন্ধ, আর তিনি খুঁজিতেছেন, বাহ্য বস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির কি সম্বন্ধ। আকাশ পাতাল প্রভেদ।" এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে 'বাহ্যবস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার' গ্রন্থের প্রথম ভাগে অক্ষয়কুমার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষনা করেন, "সংস্কৃত শাস্ত্রোক্ত প্রমাণ ভিন্ন অন্য কোনো প্রমাণ গ্রাহ্য নহে, এবং সংস্কৃত শাস্ত্রকারেরা যে বিষয় যতদূর নিরূপণ করিয়াছেন, তাহার অধিক আর জানা যায় না, এই মহানর্থকর কুসংস্কার নিতান্ত ভ্রান্তিমূলক এবং অত্যন্ত হেয় ও অশ্রদ্ধেয়।" বাস্তবিক অর্থেই অক্ষয়কুমার ও বিদ্যাসাগরকে সামলাতে না পেরে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর একসময় উত্তেজিত হয়ে ১৮৫৪ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসে রাজনারায়ণ বসুকে চিঠিতে লেখেন, "কতকগুলান নাস্তিক গ্রন্থাধ্যক্ষ হইয়াছে, ইহাদিগকে এ পদ হইতে বহিস্কৃত না করিয়া দিলে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের সুবিধা নাই।" এক্ষেত্রে নাস্তিক বলতে বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমারকেই বোঝানো হয়েছে।

 

১৮৬৩ খ্রীস্টাব্দে অক্ষয়কুমারের 'ধর্মনীতি' পুস্তকটি প্রকাশিত হলে সমাজে প্রবল আন্দোলন উপস্থিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রচলিত দেশাচারের বিরুদ্ধে প্রায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথাকে তীব্র আক্রমণ করে অক্ষয়কুমার প্রশ্ন তোলেন, "আর কতদিন আমরা এই বিষম দোষকর দেশাচারের দাস হইয়া সদাচারে বিরত থাকিব?" একই গ্রন্থে তিনি বিধবাবিবাহের সপক্ষেও যুক্তি সাজিয়েছিলেন। স্ত্রীশিক্ষারদাবী করে বলেছিলেন, "এক্ষণে আমাদের দেশ যেরূপ দুর্দশাগ্রস্ত, তাহাতে স্বামী স্বীয় পত্নীকে শিক্ষাদান না করিলে আর উপায় নাই।" সমকালীন বাঙালী যুবকদের অনেকেই গ্রন্থটির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হন।

অসুস্থতা নিয়েই করেছেন ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’ বইটির কাজ যাতে হিন্দু ধর্মের নানা শাখাপ্রশাখা, নানান সম্প্রদায়, বিচিত্র আচরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। "এমনই ১৮২টা সম্প্রদায়কে নিয়ে দুই খণ্ডে প্রকাশিত এই বইয়ে তিনি প্রকাশ্যে ভাববাদী চিন্তাকে আক্রমণ করেছেন। কোনও কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণকে মানসিক রোগ বলতেও ছাড়েননি।" এই গ্রন্থেরই দ্বিতীয় খণ্ডে অক্ষয়কুমার প্রকৃত জ্ঞান বলতে কি বোঝায় যার ব্যাখ্যা করে বলেন, "যে জ্ঞান শিখলে বুদ্ধি মার্জিত হয়, ভ্রম ও কুসংস্কার দুরীভুত হয়, এবং জগতের প্রকৃত নিয়ম-প্রনালী অবগত হয়ে কর্তব্য-অকর্তব্য নির্ণয় করা সম্ভব হয়, তা-ই প্রকৃত জ্ঞান।" হরপ্রসাদ শাস্ত্রী যথার্থই বলেছিলেন - তিনিই বাঙালির প্রথম নীতি শিক্ষক।