বিজ্ঞান বিষয়ক

অন্ধ বিশ্বাস না যুক্তি?  
অতনু নাথ
২৫ জুলাই ২০২১

এই লেখাটি কিছুদিন আগে লেখক সিলেটী উপভাষায় লেখালেখি ও শ্রীহট্টের সংস্কৃতি চর্চার জন্য তৈরি

ফেসবুক গ্রুপ সর্বভারতীয় সিলেটী ফোরাম এর জন্য লিখেছিলেন নিজের একটি সিরিজের অংশ হিসেবে।

আমরা বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতার জন্য লেখাটি এখানে আবার প্রকাশ করলাম।

লেখাটি লেখা হয়েছে সিলেটী উপভাষায়।

লেখক বর্তমানে IIT Guwahatiর Research Associate এবং

আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন গবেষণাগারের সঙ্গে যুক্ত একজন স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক...

Atanu Nath_edited.jpg

সর্ব ভারতীয় সিলেটি ফোরামো প্রায় ওউ ইলা পোস্ট আয়, যেমন “ওতার লগে হতা কেনে খাইন না”, “হেরা কেনে হিতা করতো পারেনা”, “ওউ দিনো হিতা কেনে ছৈন না”, ওলা নানান “পারেনা/ধরেনা/ছাড়েনা/করেনা/ইতানা/হিতানা” ধরনোর না না না জাতীয় জিনিস। বালা লাগে যে বৌতে জানতা চাইন ইতা বিশ্বাসর পিচর যুক্তি কিতা, বহুতে বালা যুক্তি দেখাইনও আবার বৌত সময় যুক্তি পাওয়াও যায়না, আবার বৌত মানুষ যুক্তি ছাড়াও খুশী, কারণ ওলা বুলে “চলিয়া আর” যুগ যুগ তাকি, “চলিয়া আওয়া”টা বহুতে “যথেষ্ট যুক্তি” হিসাবে মানিলাইন। ইতা সবতা দেখতে দেখতে এক কিছ্ছা মনো পড়লো, ই কিচ্ছা প্রথম পাওয়া যায় Gary Hamel আর C.K. Prahalad’র লেখা ১৯৯৬ ইংরেজিরর বই “Competing for the Future” ও, যারা ই কিচ্ছা জানইন তারার বহুতর ধারণা ইটা একটা আসল বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা এক্সপেরিমেন্টর উপরে ভিত্তি করিয়া লেখা, যেটা ভুল ধারণা! তারারে দুষ দিয়াও লাভ নাই কারণ, লেখকরাও বই’ত ওলাউ দাবি করছইন! কিন্তু একটু ঘাটাঘাটি করলেউ দেখা যায় যে ইলা কুনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার আর কুনো জাগাত কুনো উল্লেখ নাই ! এর মানে কুনো এক্সপেরিমেন্টঔ যে ঐছলোনা ইলা নায়, “রিসাস” বান্দর (মাকাক প্রজাতির) রা রে লইয়া একটা ঔ ধরণর (কিন্তু বেশ আলাদা) গবেষণা অইছলো যার উপরে ভিত্তি করিয়া হেমেল আর প্রহ্লাদ বাবুরা তারার গফ টা খাড়া করছলা, যথেষ্ট বদলাইয়া। আসল গবেষণাটার নাম আছলো, “Cultural acquisition of a specific learned response among rhesus monkeys“, D. Starek, R. Schneider, আর H. J. Kuhn’র ঔ প্রবন্ধ টা আপনারা চাইলে পড়তেও পারইন। ১৯৯৬’র বইর কিচ্ছাখান পুরা পুরি সত্যর উপরে আধারিত না অইলেও, ইকান তাকি হিকার কিন্তু আছে বৌততা। যেতাউ অউক, মূল গফও, মানে কিচ্ছাত আই।

পাচ বান্দরর কিচ্ছা

কাল্পনিক ঔ এক্সপেরিমেন্টও আছে মূল তিনটা পর্ব…

পর্ব – ১

ঠান্ডা একখান মাটির তলোর কুঠার মাজে ৫ গু বান্দর রে রাখা অইছে, কুঠাত নাই কুনো দরজা বা জানলা, খালি উপরে এক খান ছুটো কানা, যেগ্গুত পৌছার লাগি আছে একখান হরু মই, মানে ধরৈন একগু বান্দর বাইয়া উঠতো পারবো কুনোমতে। মাজে মাজে বৈজ্ঞানিক রা কিতা করোইন উপরর কানা বায় এক কান্দা কলা জুলাইদেইন। কলা আর বান্দর এম্নেউ হুলস্থূল বেপার, আর ভাবইন ই বন্দ কুটা ইগুত আর কুনো টিবি/মোবাইল/নেটফ্লিক্স ইতা কুনতাউ নাই, ভাবইন কিতা অইবো। কলার কান্দা দেখতেউ বান্দর ফাল্লাই ফাল্লাই মইয়েদি উটা শুরু, আর যেই না এগ্গু বান্দর বাওয়া শুরু করলো মই, লগে লগে অসৎ বৈজ্ঞানিক (ইতা আরও বড়ো বান্দর) ইতায় দেইন সারা বান্দরর উপরে বরফ ঠান্ডা জল ছিটাইয়া। একে তো মাটির তলোর ঠান্ডা কুঠা, তার উপরে শীতকাল, ইতা মানে মরার উপরে খাড়ার ঘা! সবচেয়ে বড়ো বান্দরামীটা ইনো অইলো, উঠলো একগে আর তারা শাস্তি দিলা সারারে ! ইতা হলা টাইপ ঘটনা ওইগেছে, ক্লাসও দুষ্টামি করছে একগে আর দিদিমনি এ “কিগে করছে কইদেও নায় সারারে বেতাইমু”, যেতাউ অউক, ঔ ওলা বার বার চলের… থুড়া বাদে কিতা অইলো, কলা তো জুলে কিন্তু কুনগু আউগাইন না মইর বায়, আর যদি কুনোগু লুবে আউগাইছে খালি, সারায় মিলিয়া ইগুরে গণধুলাই, ইয়ো মানে বান্দরধুলাই। আর ঠিকউ আছে, কিতা করতা আর, মইত একগু উঠলেউনু সারার উপরে ঠান্ডা পানি, এরচেয়ে লাগেনা বাই কলা খাওয়া! এখন আওয়া যাউক দ্বিতীয় পর্ব’ত…

পর্ব – ২

বৈজ্ঞানিক ইতায় কিতা করলা, একগু বান্দর রে কুঠা তাকি হরাইয়া আরেকগু নতুন বান্দর ডুকাইদিলা, ইগে কিন্তু দেশর কুনো খবরউ জানেনা। বুজরাউ কেইস কিতা অইবো এখন, জুললো কলার কান্দা, আগর চাইরগু বান্দর তো চুপ মারি বয়াত, ইতা দেকিয়া নতুন মস্তানে বাবলা, “ইগুইন কানা উনা নি না কিতা?” বাবিয়া যেই আউগাইছে মই ধরতো, এমনেউ পিঠও পড়া শুরু অইলো কিল, চড়, লাথ যেতা আছে… হে বেটা কুনো তাল না পাইয়া বাবলো, “আমারে নয়া পাইয়া ওলা অত্যাচার…”, কিন্তু ওলা যতবার হে উঠতো চায় কলাবায়, উমা দুমা পিটা খায়। পিটা খাইতে খাইতে হেও আর ছাড়িদিলো চেষ্টা, বুজলো যে জুল্লে কলা বাই, মইর দারো যাওয়া মানেউ বান্দরদুলাই !

পর্ব – ৩

যদিও আরো চাইর ধাপে বেপারটা গটলো, তেবু এক পর্ব’ত আনিলাইলাম আরকি সুবিধার লাগি। বৈজ্ঞানিক রা আস্তে আস্তে কিতা করলা, ওলা একগু একগু করি পুন্না বান্দর ইতারে নতুন দি বদলানি শুরু করলা, কয়দিন গেপে গেপে… গেপও চললো কলা জুলানির খেলা আর পিটাপিটি ! শেষে এক সময় এমন অইলো যে কুঠাত একগুও অরিজিনেল বান্দর রইলনা জেতায় বরফ ঠান্ডা জলোর ছিটা খাইছইন, কিন্তু দেখা গেলো, মইর বায় আউগানি আর এর লগেলগে বান্দর ধুলাইর প্রথা চলিয়া গেলো… বৈজ্ঞানিক রা তো বৌত আগেউ জল ছিটানি ছাড়িদিছইন!

কিচ্ছা শেষ ওনৌ!

তে আমরা অইলাম ঔ ওলা বান্দর। আদিমকালো তখনোর সময়র কুনো বিশেষ কারণর লাগি একগু প্রথা বা নিয়ম চালু অইছলো যেগ্গু এখনো আমরা প্রশ্ন না করিয়া অন্ধর লাখান চালাইয়া জাইয়ার। কুনোগে প্রশ্ন করলে ইগুরে গাইলাইয়ারও ! যেমন ধরোইন, “রাইত নৌক কাটইন না”, প্রচলিত যুক্তি হিসাবে, নৌক কাটতে দুইটা জিনিস খুব জরুরি:

১. মনোযুগ
২. বেজান আলো


নাইলে আঙ্গুল গেলো!

আগর দিনো সূর্য ডুবলো মানে সব আন্দাইর, আর সারাদিন খেতো কাম করি হেরান অইয়া চৌকে কর “মুজ মুজ”, বিছনায় কর “লেট্ লেট্”! তখনোর ৫ বান্দরর হিসাব ঠিক আছিল, কলা খাওয়াত গিয়া, ইয়ো মানে নৌক কাটাত গিয়া হেসে রক্ত জরিয়া না মৃত্যু ওয়! এর বাদে কতো প্রজন্ম গেলো, কতো বান্দর আইলা গেলা জেতার কুনো আইডিয়া নাই, “না বাই রাইত নৌক কাটলে বান্দরদুলাই…”! আজকে হক্কল বান্দরর গরো আমরার ইলেক্ট্রিক লাইট আর বেজানে আদা রাইত ওইগেছে তেবু দিমাগ চাঙ্গা…. তেবু কলা খাওয়া যাবেনা… সরি, “রাইত নৌক কাটতো পারেনা”! ঔ চলের আরকি… আমরার মাজে কুনো বান্দরে সাহস করি মই ও উঠাত গেলে হকলে মিলিয়া আটকাইমু বা পিটমু। যদিও আমি কিছাখানোর এক দিকেউ কনক্লুশন টানিয়া জাইয়ার খালি, উল্টা, মানে বালা দিকটাও কইয়া রাখা উচিৎ। যেমন বহুত প্রথা আছে যেতার সত্যতা বা প্রয়োজনীয়তা বা বর্তমান যুগো প্রাসঙ্গিকতা স্টাইল মারি টেস্ট করাত যাওয়ার বিপদ একটু বেশিওউ, উদাহরণস্বরূপ কইমু “জুনিয়ায় কামড় মারলে দুনিয়া আন্দাইর” (ওলা টাইপ কিতা এগ্গু প্রবাদ আছিল, বুল অইলে ঠিক করিলাইবা), জুনিয়া অইলো একটা সম্পূর্ণ সবুজ সাপ যেটা আমরার উত্তর-পূর্বাঞ্চলও বেজান দেকা যায়, আমার দেখা মতো জেগগুরে মাইনসে জুনিয়া কৈন ইগু অইলো “Greater Green Snake”, যেগ্গু আসলে বিষাক্ত নায়। কিন্তু, ঠিক অগুর লাখান দেখতেউ, মানে প্রায় সমান দেখতে, থুড়া থুড়ি তফাৎ ইতা সর্প বিশেষজ্ঞ ছাড়া ধরা সহজ নায়, অইলো গিয়া “Bamboo Pit Viper”, হেঁহেঁ, ইগে দিলে… জুনিয়া অউক কি না অউক, আপনার দুনিয়া কিন্তু হাচাউ আন্দাইর… যেহেতু আমরা প্রায় কেউঔ সর্প বিশেষজ্ঞ নায় তে আর বেশ পাইনচাইতি না করি, ই ক্ষেত্রে সব সবুজ রে জুনিয়া কইয়া নিজর নিজর দুনিয়া বাচানির চেষ্টা করাউ বুদ্ধিমত্তার কাজ।