ঈশানের অম্লজান / Silver Lining

শিশু খুন - কাছাড় প্রশাসনের তৎপর ও সদর্থক ভূমিকা
৮ আগস্ট ২০২০  

শুধু  বরাক নয়, সামাজিক মিডিয়ার প্রচারের মধ্য দিয়ে এই মর্মান্তিক হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন অসমের বাইরের বিভিন্ন মানুষ। প্রচণ্ড বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ ধ্বনিত হচ্ছিল। এই করোনাকালেও কিছু মানুষ পথে  নেমেছিলেন।  সরকার, পুলিশ, প্রশাসনের রাতের ঘুম উবে গিয়েছিল। এরই ফলে  শেষ পর্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আজ এই ঘটনা জানেন না, এমন ব্যক্তি অন্তত বরাকে বিরল। পুলিশের পক্ষ থেকে সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকে।  নেহা বাগতির ও শিলচর আশ্রম রোডের অপহৃত দুই সন্তানের কথা এখনও অনেকেই ভুলতে পারেননি। এইজন্যই দেবশিশু ধ্রুবজ্যোতির অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তকে তৎপরতার সঙ্গে গ্রেফতার করায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।

কাছাড় জেলার সোনাই থানার কাজিডহর থেকে অপহৃত পাঁচ মাসের শিশু ধ্রুবজ্যোতি নাথের অপহরণ ও মৃত্যু (হত্যা ?) র সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত রাজীব চাষা নামের যুবককে তিনদিনের মাথায় গ্রেফতার করে কাছাড় পুলিশ নাগরিকের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন পেয়েছে। অর্থলোভের শিকার পেশাদার অপহরনকারী  রাজীব চাষার মুখ থেকে প্রকৃত সত্য তথ্য বার করার জন্য পুলিশকে 'থার্ড ডিগ্রি' প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে হয়েছে, অতি আধুনিক সভ্য সময়ে দাঁড়িয়ে এই চরম বাস্তবটিও অবশ্য মাথা পেতে মেনে নিতে হয়েছে।


শিশু ধ্রুবজ্যোতির জীবনের এই মর্মান্তিক পরিণতি তার মা লাভলি নাথ ও বাবা দেবজ্যোতি নাথের মনের ওপর চির পাষানভার চাপিয়ে দিয়ে গেল। এরকম অবস্থায় সমবেদনা জানাতেও অজানা কুণ্ঠায় আমরা সংকুচিত হয়ে থাকি। অপরাধ ও তার দমন প্রক্রিয়ার অবস্থান থেকে প্রশাসনের তৎপর ভূমিকায় আপাতত তুষ্ট নাগরিক চাইবেন, পুলিশ প্রশাসন যেন সকল ক্ষেত্রে এইরকম তৎপর থাকে। থার্ড ডিগ্রি নিয়ে আমাদের আন্তরিক অন্বেষণের মধ্যেও পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকায় উপত্যকা কিছুটা স্বস্তিতে।

ডি ক্যাম্প থেকে মুক্তি, পাশে আছে সিজেপি ...  
১ আগস্ট ২০২০  

গত ২২ জুলাই ৬৭ বছর বয়সী জাভেদ আলি কোকড়াঝার ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে জামিন পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে পা ফেললেন। ১২ টি বছর তিনি গরাদের ওপারে আটক ছিলেন। ১০ বছর বিভিন্ন মামলায় এবং দু বছর ডি মামলায় ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটিয়ে আসাম রাজ্যের  সিটিজেন জাস্টিস আন্ড পিস (সিজেপি)-- এর সক্রিয় উদ্যোগে জাভেদ আলি মুক্ত বাতাস দেখলেন অনেকদিন পর।


চিরাং জেলার ধলিগাঁও পুলিশ স্টেশনের নিলিবাড়ি গ্রামের দিন মজুর জাভেদ আলিকে এক দশক সময় আগে এক অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। যদিও স্থানীয় অধিকাংশ মানুষ তাকে ওই গোষ্ঠী অপরাধ কর্মের অংশীদার মনে করেন না। জাভেদ আলি দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে দশ বছরের কারাবাসের সাজা শোনানো হয়। ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই  জাভেদ আলির ওই শাস্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসার দিনই তাঁকে আবার  কুখ্যাত ডি অভিযোগে কোকড়াঝার ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
 

সম্প্রতি এপিএলআই (আসাম পিস আন্ড লিবার্টি ইনিশিয়েটিভ)-- এর করোনাকালীন আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ডিটেনশন ক্যাম্পে দু বছর মেয়াদ পেরোনোদের স্বল্প মূল্যের জামিনের শর্তে মুক্তির নির্দেশ দেয়ার পরই সিজেপি জাভেদ আলির জামিনদার ও অর্থ মূল্য সংগ্রহের তৎপরতা শুরু করে। এই সংস্থার চেষ্টায় এখন অব্দি আসামে ৩৩ জন বন্দি ডেটেনশন ক্যাম্প থেকে শর্তাধীন জামিন পেয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন।


সিজেপির আসাম রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নন্দ ঘোষ ও জেলা কর্মী মতিভাতুর আবুল কালাম আজাদ এই জামিনের ব্যাপারে যাবতীয় আইনি কাজকর্ম করেছেন সিজেপির রাজ্য উপদেষ্টা জামসের আলির পরামর্শে।
 

২০১৫ সাল থেকে ঈশান বাংলার মূলত বাঙালি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের ওপর বেশি বেশি  চলছে মারাত্মক ডি আক্রমণ। এই সময় থেকে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নবী করণ এর নামেও শুরু হয় বিবিধ হয়রানি। ডি ভোটার নোটিশ, ট্রাইব্যুনাল, বর্ডার পুলিশ, ডিটেনশন ক্যাম্প এই সমস্ত মিলিয়ে ডি আতঙ্ক ও আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। 
 

করোনা অতিমারিকালে  বন্যা ও ফাঁক ফোঁকর দিয়ে ডি নোটিশ অসমের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে পঙ্গু করতে শুরু করেছে। এরকম সময় জাভেদ আলি দের জামিন মুক্তির জন্য সিজেপির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ঈশান কোণে অম্লজানের সুবাতাস বইয়ে দিলো। আসামবাসীর হয়ে সিজেপির প্রতি আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।

আদালতের মানবিক রায় ও কিছু দুশ্চিন্তা ... 
২৫ জুলাই ২০২০  

সম্প্রতি করিমগঞ্জ জেলার জুভেনাইল জাস্টিন বোর্ড জেলে অন্তরীণ দুই রোহিঙ্গা শিশুর মুক্তি র পক্ষে রায় দিয়েছেন । মায়ানমার থেকে বিতাড়িত, ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয় আশ্রয় প্রার্থী, নয় অপরাধী ভিনদেশি, পলাতক আসামি আর নয়তো বাংলাদেশের মতো কোনো দেশের আশ্রয় শিবিরে প্রচণ্ড অনিশ্চিতির মধ্যে বেওয়ারিশ আবাসিক। আর্থ রাজনৈতিক কারণে দেশত্যাগে বাধ্য রোহিঙ্গা সমস্যাটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত হলেও বাস্তুহারা রোহিঙ্গারা সর্বত্রই সহায় সম্বলহীন একটি জনগোষ্ঠী।এরকম অবস্থায় একটি দুর্বল জনগোষ্ঠীর ভাগ্যে কেবলই পীড়ন ও যাতনার পাষান ভার চেপে বসে। পেটের দায়ে বাঁচার দায়ে  অপরাধ কর্মের বোড়ে হিসেবেও ব্যবহৃত হতে হয়। 

 

হয়তো এরকমই যাতনাচক্রে পড়ে আমাদের বরাক উপত্যকার জেলখানা গুলোতেও  রয়েছেন কিছু রোহিঙ্গা পরিবার। এরকম একটি পরিবারের দুই সন্তানকে মুক্তির আদেশ শুনিয়েছেন করিমগঞ্জ জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত এডিশনাল সি জে এম ডঃ এন সি ভূইঞা। তাদের মা বাবা দুজনেই কিন্তু ঘোষিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী  বিদেশি হিসেবে করিমগঞ্জ জেলের পুরুষ ও মহিলা সেলে বন্দি ।

 
সন্দেহ নেই ,করিমগঞ্জ আদালতের রায়ে অপরিণত বয়সের দুই রোহিঙ্গা শিশুর মুক্তি রাষ্ট্রের মানবিক আইনের মহান নজির। রায়ে এই কথাও স্পষ্ট বলা হয়েছে যে সরকার যেন দুই শিশুর যথাযথ আবাসনের ব্যবস্থা করে। 

 

বাবা , মা জেলে। দুই মুক্ত শিশুকে আশ্রয় দেবার মত আবাস কাঠামো সরকারের আছে তো ? না থাকলে এই পিতৃমাতৃ সান্নিধ্যহীন শিশুরা যাবেই বা কোথায় ? আদালতের মানবিক রায়ের পর এই স্বাভাবিক উৎকণ্ঠাও সঙ্গে সেঁটে থাকে। এই দুই বাচ্চা তো ভারতবাসী নয়। এই একটা কাঁটাও যেন বিঁধে থাকে।

এই বিভাগের লেখা ও ভিডিও নিয়ে আপনার মতামত

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 by Ishan Kotha. Site Developed by CHIPSS