ঈশানের অম্লজান

'বেটার লেট দ্যান নেভার'
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ বাক্য আছে - 'বেটার লেট দ্যান নেভার'। সেটিকে মনে রাখলে নিঃসন্দেহে একটি অম্লজান বাহী খবর পাওয়া গেলো আজ। 

খবরটি আর কিছুই নয়। অবশেষে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে এই ঘোষণা করেছেন স্বয়ং মূখ্যমন্ত্রী। তবে তার আগে এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেকটা জল গড়িয়েছে। 

আসাম সরকারের "অসম ভাষা গৌরব ও প্রজ্ঞান ভারতী" প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের একুশটি ভাষা গোষ্ঠীর সাহিত্য, সংস্কৃতি সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয় সম্প্রতি। উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে সাধুবাদ যোগ্য। কিন্তু গোল বাধে যখন দেখা যায় যে এই নির্বাচিত তালিকায় অসম সাহিত্য সভা থেকে শুরু করে বোড়ো, ডিমাসা, রাভা, তিওয়া ইত্যাদি সহ রাজ্যের ২১ টি ভাষিক জনগোষ্ঠী-র সংগঠনের নাম থাকলেও উল্লেখ নেই শুধু রাজ্যের কোন বাঙালি সাহিত্য, সংস্কৃতি সংগঠনের। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে (হয়তো সামনে নির্বাচন বলেই) শাসকদলের বরাকের দুই সাংসদ ব্যাপারটি নজরে আনেন মূখ্যমন্ত্রীর। সাফাই দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন যে "বরাক বঙ্গ" আবেদন করেনি বলেই অনুদান পায়নি। এখনো আবেদন করলে ব্যাপারটি ভেবে দেখা হবে।

এই প্রসঙ্গে এরপর মুখ খোলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তপোধীর ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে অনুদানের জন্য তালিকাভুক্ত করতে সরকার ভুলে যায় কি করে ? তার বক্তব্য ছিল আবেদন নিবেদনের ভিত্তিতে নয় অনুদান দিতে হলে সরকার স্বপ্রনোদিত হয়ে এগিয়ে আসুক। বাঙালি ভিক্ষাবৃত্তি করে নয় স্বাভিমান নিয়ে বাঁচতে অভ্যস্ত।

যাইহোক যদ্দুর খবর তাতে আবেদন ছাড়াই "বরাক বঙ্গ" কে অনুদান দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। এবং বরাক বঙ্গের প্রতিনিধিদের সেই বার্তাই আজ দিলেন মূখ্যমন্ত্রী।

বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের আরেকটি অবদান এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার একটি তারিখ ১৯ মে শহিদ দিবস উৎযাপন দিবসে নির্ধারিত ছিল। বরাক বঙ্গের প্রতিনিধিদের অনুরোধে শিক্ষা পর্ষদ সেই তারিখটিও পরিবর্তন করে অন্য তারিখে নির্ধারিত করেছে। ঈশান কথা বরাক উপত্যকার তথা অসম রাজ্যের সকল মাতৃভাষাপ্রেমিদের পক্ষ থেকে বরাক বঙ্গ এবং রাজ্য শিক্ষা পর্ষদকে আন্তরিক অভিবাদন জানাচ্ছে।

এই রাজ্যের বাঙালিদের মনমানসে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, গত কয়েক দশক জুড়ে, তা প্রশমিত হতে পারে একমাত্র এরকম সদর্থক পদক্ষেপের মাধ্যমেই। তবে তার জন্য আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে। মুখে বলে নয়, একমাত্র কাজের মাধ্যমেই রচিত হতে পারে সমন্বয়ের রাজপথ ...