সমাজনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি 

Social, Political, Economic Overview 

প্রথম পর্ব

‘W’ , ‘V’  নাকি ‘U’ ধাঁচে ফিরে আসা হবে? সাধারণ মানুষের জন্য প্রশ্নটা অদ্ভুত ঠেকলেও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কিন্তু প্রশ্নটা নতুন নয়,করোনা আবহের মধ্যে এই বছরের প্রথম থেকেই অর্থনৈতিক বিশ্বে উঠছে। করোনার আগমনে পৃথিবীজুড়ে অর্থনীতি যে বিরাট ধাক্কা খাবে সেটা তখন থেকেই পোড় খাওয়া অর্থনীতিবিদদের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রাত্রির পর যেমন অনিবার্য ভাবেই দিন আসে তেমনি অর্থনৈতিক ধাক্কা যতই মারাত্মক হোক না কেন একদিন সেই জায়গা থেকে ফিরে আসা হবেই। সেই বিপর্যয় বা পতন যত ভয়ানক হোক না কেন, চিরস্থায়ী হবে না।তার থেকে একদিন ফিরে আসা হবেই। কিন্তু কিভাবে হবে সেই ফিরে আসাটা? পৃথিবীজুড়ে অর্থনীতিবিদরা নিজেদের মতো করে নিজেদের পছন্দের ধাঁচের পক্ষে সওয়াল করছেন। শুরু করা যাক, ‘U’ দিয়ে, এই অবস্থায় পতনটা যেমন দীর্ঘসময় নিয়ে হবে, ফিরে আসাটাও। ‘V’ ধাঁচে দুটোই হবে তাড়াতাড়ি।‘W’ ধাঁচে করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে মাথায় রাখা হয়েছে যেখানে কিনা অর্থনীতির পতন-উত্থান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ফলে আবার পতন ও অদুপরি উত্থানের কথা বলা হচ্ছে। আমেরিকান রাজনীতিবিদ তথা আসন্ন নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী জো বিডেন কিছুদিন আগে এই মর্মে নিজের আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন যে আমেরিকায় এই ফিরে আসাটা হবে ‘K’ ধাঁচে। কি সেই ‘K’ মডেল? কেনই বা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন প্রার্থী এই মডেল নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন? কারণটা হল এই ধাঁচে কক্ষচ্যুত অর্থনীতি নিজের অবস্থানে তো ফিরবে কিন্তু মানুষ আগের জায়গায় থাকবে না। ‘K ’ অক্ষরের দুই বাহু যেমন দুই দিকে যায়, তেমনি এই ধাঁচে ফিরে আসা অর্থনীতি একই ভাবে দুই দিকে যাবে। ধনীদের আরো ধনী করবে, গরীরদের অবস্থা আরো দুর্বিষহ করবে। গড়ের হিসাবে যদিও দেখা যাবে অর্থনীতি আগের জায়গায় ধীরলয়ে ফিরে আসছে।কিন্তু বাস্তবভূমিতে সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ ভিন্ন বাকী কেউই সেই ‘ফিরে আসার’ সুফল পাবেন না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলেও দেখা যাচ্ছে স্টক বাজার উপরে উঠছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার এই বাজার উপরে উঠলেও বাস্তব পরিচিত্রটা হল এই বাজারের ৮৪ শতাংশে কিন্তু সেদেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের টাকাই খাটানো হয়ে থাকে। আদতে অর্থনীতির এই আশংকাজনকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে মূল কারণ হল সরকারী কোষাগারে টাকার অভাব। যে অভাবের ফলে উন্নয়নমূলক কাজ কমে আসতে শুরু করে যার প্রভাব পড়ে বাজারে। এমনিতেই ধুঁকতে থাকা বাজারে যেখানে টাকার দরকার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বেশি হয় সেখানে সরকারী খরচ কমানোটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের কাজ করে।

এই তো গেল আমেরিকার কথা। ফিরে আসা যাক আমাদের দেশে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংস্থা মুডি এই বছর ভারতের জিডিপি ১১.৫ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে মন্তব্য করেছে। লকডাউনের প্রথম দিকে একই সংস্থা এই অনুমান ৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেশের অর্থনীতি যে অবস্থায় পৌঁছেছে সেখানে আগামী দিনে অবস্থা যে ভয়াবহ হবে মুডির সমীক্ষায় সেটাই স্পষ্ট। এদিকে এক ধাক্কায় জি.ডি.পির ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) বৃদ্ধির দর ২৩.৯% কমে এসেছে।জি-২০ দেশের মধ্যে আমেরিকার থেকেও বেশি আক্রান্ত হয়েছে ভারত। CMIE বলছে মার্চ থেকে আগষ্ট পর্যন্ত ইতিমধ্যে ২.১ কোটি চাকরী চলে গেছে সংগঠিত ক্ষেত্রে। এমনিতেই দেশে বেকার সমস্যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। এবার যোগ হল বাড়তি এই ২.১ কোটি। পরিসরের অভাবে দেশের অর্থনীতির সবগুলো উপাদান নিয়ে কথা হয়তো এখানে বলা যাবে না।শুধু পর্যটন ও নতুন করে গড়ে ওঠা স্টার্ট আপগুলোর দিকেই দেখা যাক।  WTTC  এর হিসাবে ২০১৮ সনে ভারতের জিডিপিতে পর্যটন শিল্পের অবদান ছিল ৯.২% বা ১৬.৯ লক্ষ কোটি। চাকরী সৃষ্টি হয়েছিল ৪.৩ কোটি। লকডাউনের ফলে এই শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। IATOএর মতে জুন মাস পর্যন্তই ক্ষতির পরিমাণ ৮৫০০ কোটি টাকা। হোটেল, পরিবহনসংস্থাগুলো থেকে কর্মীছাটাই চলছে ব্যাপক ভাবে।এই শিল্পে সুদিন তো দূরে থাক, অবস্থা স্বাভাবিক কবে হবে কেউ বলতে পারছেন না। একই অবস্থা দেখি স্টার্ট আপগুলোরও। FICCI বলছে জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২২ শতাংশ স্টার্ট আপেরই আগামী ছয় মাস পর্যন্ত এই অবস্থায় ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নগদ টাকা আছে। আক্রান্ত হয়েছে ৯৬ শতাংশই। ১২ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, ৩০ শতাংশ কর্মী ছাটাই করেছে। করুণ অবস্থা আবাসান নির্মাণ শিল্পেরও।২০২০ এর প্রথম ছয় মাসে দেশের প্রধান ৮ টি শহরে ফ্ল্যাট বিক্রী ৫৪ শতাংশ কমে গেছে।  সংখ্যার দিক থেকে যা ৫৯৫৩৮, দশ বছরে যা কিনা সর্বনিম্ন। তবে এখানে আরো উদ্বেগজনক দিকটি হল এই ৫৯৫৩৮ এর মধ্যে মাত্র ৯৬৩২ টি মার্চ থেকে জুন মাসে বিক্রী হয়েছে। একই সময়ে গত বছরের তুলনায় যা কিনা ৮৪ শতাংশ কম। আবাসন শিল্পের ওপর ধেয়ে আসা এই দুর্যোগের কোপটা পড়ছে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংগঠিত ক্ষেত্রের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবি মানুষের ওপর।এদিকে বেকারত্ব বাড়ছে গ্রাম ভারতেও।আর বেকারত্ব বাড়া মানে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে আসা। এর ফলে অর্থনীতির অতি পরিচিত অদৃশ্য বৃত্তের নিয়ম মেনেই বাজার আরো সংকুচিত হতে শুরু করবে। United Nationএর মতে এই দেশের প্রায় ৪০ কোটি মানুষ যারা অর্থনৈতিক দিকে থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রমশই তারা নিম্ন বিত্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অপুষ্টির জন্য কুখ্যাত ভারতে এই সমস্যা চলতি বছরে আরো মারাত্মক হতে চলেছে। চারিদিকে ঘনিয়ে আসা সমস্যার কালো মেঘ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই বাড়তি টাকা। যে টাকার ব্যবস্থা করতে হবে দেশের সরকারকে। বাজারে টাকা আসলে যেমন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে তেমনি শিল্পোদ্যগগুলোতে উৎপাদন, পরিষেবা বাড়বে, কর্মসংস্তান বাড়বে। সর্বোপরি বাজার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারবে ।

এখানে সমস্যা হল সরকারের কোষাগারের অবস্থা ভালো নয় । পর্যায় ক্রমে গত জুন মাস থেকে লকডাউন খুলে দেওয়া হলেও বাজার স্বাভাবিক হতে এখনো অনেক বাকি ।

দ্বিতীয় পর্ব

আগষ্ট মাসে সরকারী কোষাগারে জি.এস.টি আদায় গত বছরের তুলনায় ১২% কম এসেছে । টাকার হিসাবে বললে গতবার যেখানে এসেছিল ৯৮২০২ কোটি ,এবার এসেছে ৮৬৪৯১ । একই অবস্থা ছিল জুলাই মাসেও , গতবারের তুলনায় এবার ৯ শতাংশ কম জি.এস.টি সরকারী কোষাগারে এসেছে । এবারের কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আগে যেখানে ধার্য হয়েছিল ২৪.২৩ লক্ষ কোটি , কিন্তু যেভাবে বছর এগোচ্ছে সেই লক্ষ্যমাত্রার যে অনেক আগেই থামতে হবে সেটা বলাই বাহুল্য । এদিকে বাড়ছে খরচের বহর । চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে খরচ ও আয়ের পার্থক্য বা বাৎসরিক বাজেট ঘাটতি যেখানে লক্ষ্য রাখা হয়েছিল ৮ লক্ষ কোটি, এর মধ্যে জুলাই মাস পর্যন্তই  সেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ শতাংশ জুলাই মাসের মধ্যেই স্পর্শ করা হয়ে গেছে । সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট ঘাটতিকে যেখানে ৩.৫ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার কথা হচ্ছিল ফেব্রেয়ারী মাসে , পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে সেই লক্ষমাত্রা ছড়িয়ে ঘাটতি ৭-৭.৫ শতাংশে পৌঁছে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না । এই ঘাটতি যত বাড়বে সরকারের খরচ করার ক্ষমতা ততই কমবে । কারণ এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ঋণ করতে হবে এবং যার জন্য বিরাট পরিমাণ টাকা সেই ঋণের সুদ হিসাবে সরকারকে গুণতে হবে । যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ধুঁকতে থাকা বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার পথে ।

এবার দেখা যাক অন্য একটি দিকে । আমেরিকার মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে অতি ধনীদের সম্পত্তি ৫৬৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে , শতাংশের হিসাবে যা কিনা ১৯ শতাংশ । আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মহামারী আক্রান্ত বাজারের হাল ফিরিয়ে আনতে টাকা ছাড়ার যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তার সরাসরি সুফলটা পাচ্ছেন এই অতি ধনীরা ।  স্টক বাজারে তাঁদের কোম্পানীর শেয়ারের দাম বেড়ে চলছে । এখানে লক্ষণীয় যে লকডাউনের ফলে বাজার সার্বিক ভাবে আক্রান্ত হলেও কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু একাদশে বৃহস্পতি দেখা গেছে । রোগ প্রতিরোধে ঔষধের বিক্রী কয়েক গুণ বেড়ে গেছে , তেমনি ঘরবন্দী থাকা মানুষ আন্তর্জাল ও আন্তর্জাল ভিত্তিক ব্যবসার প্রসারও বেড়ে গেছে । টেলিকম ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই লাভ অনেক বেশি হচ্ছে । প্রায় চার কোটি বেকার আমেরিকায় এই সময়ে বাড়লেও অতি ধনীদের প্রাচুর্যও বেড়ে চলেছে একই সঙ্গে । এই পরিচিত্র শুধু আমেরিকা নয়, পৃথিবী জুড়েই । ভারতের দিকে দেখলেও দেখা যায় একই অবস্থা । একদিকে যেমন পাল্লা দিয়ে বারছে বেকারত্ব, দারিদ্র, অপুষ্ট মানুষ তেমনি বাড়ছে অতি-ধনীর সংখ্যা । Kinght Frank Wealth Report এর ২০২০ সনের শুরু দিকে করা সমীক্ষা মতে আগামী পাঁচ বছরে এই দেশে অতি-ধনীর ( স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে যার সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বা প্রায় ২২৫ কোটির বেশি) সংখ্যা ৫৯৮৬ থেকে বেড়ে ১০৩৫৪ হতে চলেছে । পৃথিবীর চতুর্থ ও এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তি বাস এই দেশেই । সরকারের বেসরকারীকরণ নীতি, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের উদার নীতি ও সর্বোপরি করোনা উদ্ভব পরিস্থিতি , অতি ধনীরা সবগুলোকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছেন । বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকার যেখানে একের পর এক রাষ্ট্রয়ত্ত সম্পত্তি বিক্রী করতে উঠেপড়ে লেগেছে, সেখানে এই অতি ধনীরা অনায়াসেই সেই সম্পত্তিগুলো কিনে নিচ্ছেন । বিমানবন্দর, জাহাজ-বন্দর, রেল কিছুই বাদ যাচ্ছে না । একটু অন্যভাবে বললে যে সম্পত্তিগুলো কিছু মাস আগেও ছিল জনগণের বর্তমানে সেগুলো চলে গেছে ব্যক্তিখণ্ডে ।  কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের উদার নীতিতে স্টক বাজারের অবস্থা মন্দের ভালো, লক্ষণীয় ভাবে কিছু কোম্পানীর শেয়ারের দাম বেড়েই চলছে । আমেরিকার মতোই এদেশেও ঔষধ, টেলিকমিউনিকেশনের ব্যবসার প্রসার বর্তমানে আকাশচুম্বী । পরিবর্তিত পরিস্থিতির এই সোনালী ফসল যাচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন কর্পোরেটদের কাছে , অনেকটাই গ্রামের শতাধিক কৃষকের ঘাম রক্তের বিনিময়ে তোলা ফসলের মতো যা কিনা জমা হয় মুষ্টিমেয় কিছু জমিদারের ভাঁড়ারে ।

আমাদের ভারতবাসীদের চরিত্রের একটি অন্যতম দিক হলো আমরা অদৃশ্যবাদী । আমরা ভাবি আমাদের জীবনে, সমাজ জীবনে যা হচ্ছে তা পূর্ব নির্ধারিত ছিল এবং একটা সময়ের পর সব কিছু হিন্দী চলচ্চিত্রের মতোই কোনো নায়কের হাত ধরে ঠিক হয়ে যাবে । হয়তো এই মনোভাবনার জন্যই ভারতবাসীর মধ্যে প্রতিবাদী সত্ত্বা সেভাবে কোনোদিনই প্রখর হয়ে ওঠে নি । বাস্তব জীবনে কোনো সমস্যার সমাধানই নিজে থেকে হয় না বা অতিমানবিক ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো মানুষের হাত ধরে মধুরেণ সমাপেয়ৎ হয়ে যায় না বরং সমস্যা আরো ঘনীভূত হয় । পরিষ্কার ভাবে বললে  অর্থনীতির ভাষায় Haves  এবং Haves not  এর এই পার্থক্য কিন্তু আগামী দিনগুলোতেও বাড়তেই থাকবে । ভূলে গেলে চলবে না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পৃথিবী জুড়ে কিন্তু এই পার্থক্য কমানো যায় নি । ইতিহাস বলে মহামারী, যুদ্ধ, বন্যা, খরার ফলে এই বৈষম্য আরো বাড়তে থাকে । এবারও তাই হবে, মহামারীর ফলে যে অর্থনৈতিক বৈষম্য মারাত্মক হতে চলেছে এই ব্যাপারে IMF ১১ মে সতর্ক করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল । তাঁদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল SARS (২০০৩), H1N1(২০০৯), MERS(২০১২), EBOLA (২০১৪), ZIKA(২০১৬) ভাইরাসের বিস্তার ও তারপরে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক বৈষম্যের তথ্যসহ উল্লেখ । মনে রাখতে হবে এই ভাইরাসগুলো কিন্তু করোনার মতো পৃথিবীজুড়ে বিস্তার লাভ করে নি । পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের বাস এশিয়ায় এদের বিস্তার ছিল অনেক কম , ভারতে তো প্রায় স্পর্শই করতে পারে নি, স্বাভাবিক ভাবেই আক্রান্ত দেশ ও দেশের অর্থনীতি ছিল অনেক কম । করোনার বিস্তার সেখানে এশিয়া মহাদেশের সব দেশ সহ পৃথিবীর ১৯৫ টি দেশে , প্রভাবটাও স্বাভাবিক ভাবেই কয়েক গুণ বেশী হবে । United Nation Population Fund রাষ্ট্রনেতাদের সাবধান করে বলেছে যে অতিমারীর পরবর্তী দিনগুলোতে একদিকে যেমন জনসংখ্যা বাড়তে শুরু করবে , তেমনি পুষ্টির অভাবে শিশু মৃত্যু বাড়বে, বাড়বে স্কুলছুট ও শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা । দারিদ্রক্লিষ্ট সমাজ ব্যবস্থায় বাল বিবাহের প্রচলন বাড়তে থাকবে । অর্থনৈতিক দারিদ্র যে শুধু মানুষকে ভাতে মারে তা কিন্তু নয় সমাজকেও পেছনে টেনে নিয়ে যায় । তবে শুধু মহামারী নয়, এমনিতেই কিন্তু পৃথিবীজুড়ে Haves এবং Haves not বৈষম্য দিনের পর দিন বাড়ছে । শুধু ভারতের দিকে যদি দেখা যায় তাহলে বলতে হয় ১৯৮০ সনে দেশের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী মানুষের যেখানে দরিদ্রতম ৫০ শতাংশ মানুষের দ্বিগুণ সম্পত্তি ছিল ২০২০ আসতে আসতে সেই ১ শতাংশ মানুষের সম্পত্তি জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ মানুষের সম্পত্তির চারগুণেরও বেশি হয়ে গেছে । এবার এই করুণ অবস্থার ওপর এসে পড়বে করোনার কুঠারাঘাত । মনে রাখতে হবে অর্থনীতি স্থবির নয়, সে সদা চলনশীল । মহামারী ও তার ফলে আরোপিত লকডাউনের ফলে যদিও এই সময়ে তার গতি স্লথ হয়ে গেছে, তার গ্রাফ নীচে নেমে গেছে কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তন কিন্তু হবে । অর্থনীতির গ্রাফ আবার উপরে উঠবেই এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই কিন্তু এই উপরে ওঠাটা কোন ধাঁচে হবে সেটাই আজ একটি বড় চিন্তার বিষয় ।

আসামের বাঙালিদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক দল - প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিবন্ধকতা ​
26 September 2020

 

আসামের বাঙ্গালিদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক ভাবেই সম্ভব ।

সেই রাজনৈতিক সমাধানের পথ কি পৃথক রাজনৈতিক দল দিয়েই সম্ভব ??

না বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো বাঙ্গালিদের নিয়েও ভাবছে ??

এইসব প্রশ্ন নিয়েই আমরা বসেছিলাম অনলাইন আলোচনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ সন্ধ্যায় ...

 

আলোচনায় ছিলেন ...

 

আলোচক / Panelists -

Dipankar Ghosh (Writer/Columnist/Social Activist)

Santanu Mukherjee (Working President, Sara Assam Bangali Oikyo Mancha)

Sanjib Deblaskar (President, Silchar local Committee, Barak Upatyaka Banga Sahitya o Sanskriti Sammelan)

 

সঞ্চালক / Moderator - Krishanu Bhattacharjee 

 

বিজ্ঞান ও ধর্ম- একটি পর্যালোচনা
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
সৌমেন চক্রবর্তী, এসোশিয়েট প্রফেসর, সেন্ট এডমান্ডস কলেজ, শিলং

বিজ্ঞান ও ধর্ম-একে অপরের বিপরীত না সহায়ক-বর্তমান প্রযুক্তি যুগে এই বিষয় বিশেষ আলোচ্য।
 

বিখ্যাত একটি উক্তি আছে---
“Literacy guide us towards education, improvisation of education is knowledge, and improvisation of knowledge leads to wisdom".


উক্ত উক্তির ভিত্তিতে সাধারণ জ্ঞানে ধর্ম হইল যাহা ধারণ করে। একটি উপমা স্বরূপ বলা যায় যে, গাড়ির ব্রেকের ধর্ম হইল থামানো।অতএব ব্রেক ফেল-কে সেই অর্থে বিধর্মী না বলিতে পারিলেও অন্ততঃ ধর্মীয়  বলা যাবে না। আবার, বিজ্ঞান- যা কিনা বিশেষ  জ্ঞান - তাহা আমাদের জ্ঞান এবং অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। মানবজাতির উত্তরণের পথ প্রদর্শক।বিজ্ঞানের দ্বারা আমরা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের গতি প্রকৃতি,ক্রিয়া পদ্ধতি ইত্যাদি জানিতে পারি। সেই স্থানে আরোহণ ও অনুসন্ধান  করিতে হইলে চাই, সুশৃঙ্খল চিন্তা ও ভাবনা। ইহার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু,সুসামাজিক পরিকাঠামো,যে  পরিবেশে মুক্ত চিন্তা ও ভাবনা গড়িয়া ওঠে, উন্মুক্ত নহে । যুগ যুগ ধরিয়া ধর্ম এই সংঘবদ্ধ বোধ গঠনে পথ দেখাইয়া আসিতেছে।
 

আবার আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করিলেই নয়, যাহা হইল প্রযুক্তি। মানব জীবন ধারণে নানাবিধ প্রাকৃতিক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন  হইতে হয়। এই বিষম পরিস্থিতির মোকাবিলা করিতে মানুষ নানাবিধ প্রযুক্তির সৃষ্টি করিয়াছে। এই প্রযুক্তি হইল "improvisation of science"। কিন্তু প্রযুক্তি বিদ্যা যদি মুল্যবোধের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহা হইলে নানাবিধ প্রাকৃতিক এবং সামাজিক বিশৃঙখলার সৃষ্টি করিয়া থাকে-যাহা কিনা ধ্বংসের পথে ধাবিত করে। মূল্যবোধকে যদি আমরা অবজ্ঞা করি, তবে প্রযুক্তি যাহা কিনা বিজ্ঞানের প্রমাণদায়ক পদ্ধতি এবং প্রতিবাদক, সমস্ত ব্যক্তিকে বিপথে চালিত করিবে। সেই ক্ষেত্রে ধর্ম-যাহার লক্ষ্য মানব জাতিকে  কু উদ্দ্যেশ্য হইতে পৃথক করিয়া রাখা-এর একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে।
 

তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু মনে রাখিতে হইবে, ধর্মকে ‘dogma' হইলে চলিবে না। তাই ধর্মের ধারক কে সত, সুচিন্তা, সুউদ্দ্যেশ্য ন্যায় বোধের অধিকারী হইতে হইবে। ন্যায় বোধকে relative অর্থের পরিকাঠামো দ্বারা বিচার করিলে হইবে না, universal truth এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইতে হইবে। ধর্মের আসল উদ্দ্যেশ্য মানুষকে জীবনবোধ শিক্ষা দেওয়া  ও সংঘবদ্ধ করিতে সাহায্য করা। তাহার জন্য কতকগুলি নিয়মের দ্বারা আবদ্ধ করিতে হয়। এই rituals বা নিয়মগুলি guard wall এর ভূমিকা পালন করিয়া থাকে। মুখ্য  হইল মানব জাতির উন্নতি। জ্ঞানের পথে ধাবিত হওয়া। কিন্তু মুশকিল হইল, বহু generation ধরিয়া চলিতে থাকা এই নিয়মগুলি কখনো কখনো মনুষ্য জীবনে মুখ্য হইয়া ওঠে। এবং তখনি ধর্মের সঙ্গে জ্ঞানের বিবাদ বাধিয়া ওঠে এবং প্রকারান্তরে  বিজ্ঞান এবং ধর্মের বিবাদ লাগিয়া যায়। এই সংঘাতই আমাদের অজান্তে আমাদের ধর্মের মূল্যবোধকে ধ্বংস করতে উদ্যত হইয়া মানবজাতি ও প্রকৃতিকে বিনাশের পথে লইয়া যায়।

 

তাই, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সহিত ধর্মীয় মূল্যবোধের জ্ঞান প্রদান করার সুযোগ ও রাখিতে  হইবে। আমাদের মনে রাখিতে হইবে যুক্তি ও তর্ক- যাহা কিনা আধুনিক বিজ্ঞানের মুল আধার, ইহার সহিত সুশৃঙখল গঠনমূলক চিন্তা জুড়িয়া দিতে হইবে, যে চিন্তাশক্তি মানুষকে মেশিন হইতে superior করিয়াছে।
 

তাই রবীন্দ্রনাথ তাঁহার বিখ্যাত লেকচার ‘Religion of Man'-এ উপনিষদের উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন- "Knowledge of man should be science based but must be guided by value education"।

এই বিভাগের লেখা ও ভিডিও নিয়ে আপনার মতামত

Marble Surface

ঈশানের যোগাযোগ

Marble Surface

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

Marble Surface

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 by Ishan Kotha. Site Developed by CHIPSS