রাজ-সমাজ-অর্থ + নীতি

মাতৃসাধনায় উন্মীলিত হোক আত্মসচেতনাবোধ


দীপক সেনগুপ্ত

Dipak Sengupta.jpeg

অতিমারির আবহে শারদীয় দুর্গা পূজার আয়োজনে কতটা সফল উৎসব হয়ে উঠবে জানিনা, আর কতটা সফল হওয়া উচিত এই নিয়েও প্রশ্ন আছে কেননা চুড়ান্ত সাফল্য যদি অতিমারিকে তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেয় এই আশঙ্কা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সচেতন থাকা উচিত। ধর্মকে কেন্দ্র করে আবেগের কাছে বিজ্ঞান পরাভূত। আবেগের কাছে যুক্তির পরাজয় অবশ্যই একটি সংকট এবং সভ্যতার নানাবিধ সংকটের মধ্যে অন্যতম প্রধান সংকট। ব্যক্তি জীবনের বোধ এবং বিশ্বাসের সীমা অতিক্রম করে ধর্ম সমাজকে প্রভাবিত করে রাষ্ট্রের হাতে ক্ষমতার দণ্ড তুলে দেয়। আবহমান কাল থেকে এই দণ্ডে বলীয়ান রাষ্ট্র সমাজ ও ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়ন্ত্রণের নামে ক্ষমতার আস্ফালনে সমাজ ও ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতার ক্রম প্রসারণ সমাজের অবক্ষয় এবং ব্যক্তির অসহায়তাকেই আবাহন করে। শক্তিকে আরাধনা করতে যূপকাষ্ঠে অতি নিরীহ প্রাণীকে যেমন বলি দেওয়া হয় তেমনি রাষ্ট্রের শক্তির কাছে নিরীহ গোবেচারা নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা বলি প্রদত্ত। আন্তর্জাতিক জাতীয় এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে এই কথা প্রমাণিত। 


সংকটের আবর্তে বাঙালির সামাজিক জীবনে শুধু অতিমারির প্রাকৃতিক বিপর্যয়ই নয় সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের আবহে এবছরের দুর্গা পূজার আয়োজন। বাঙালির প্রধান উৎসব দুর্গা পূজা, এই উৎসব হিন্দু মুসলমানের সম্মিলিত। পূর্ব ভারতের বাইরে দুর্গা পূজার প্রচলন প্রায় নেই। অথচ একমাত্রিক আরোপিত জাতীয়তাবাদের ধারনা আজকের ‘উত্তর সত্য’ যুগে আমাদের চেতনাকে যখন আচ্ছন্ন করছে তখন বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলে। শত সহস্র বছরের সাংস্কৃতিক বিনিময় জাতীয়তাবাদের ধারনাকে জন্ম দেয়। যার জন্য জাতীয়তাবাদ যতটা রাজনৈতিক তার চেয়ে ঢের বেশি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয় যা সীমান্তের কাঁটাতারে বিভাজিত হওয়ার নয়। যেমনটা হয়নি জার্মানিতে এমনকি পূর্ব ইউরোপের দেশ সহ এশিয়ার অনেক দেশে। বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক দুর্গা পূজা হয় আবার এই কথাও সত্য বাংলাদেশে দুর্গা পূজা আয়োজনে প্রচুর প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করা হয়। মৌলবাদ সব দেশে সব সমাজে আছে, কিন্তু মৌলবাদ দিয়ে মৌলবাদকে প্রতিহত করা যায় না। হিন্দু-মুসলমানের সমন্বয়ের বিরুদ্ধে জামাতি বা রাজাকাররা যতই সক্রিয় থাকুক না কেন মুক্তি যুদ্ধে কিন্তু অসাম্প্রদায়িকতার জয় হয়েছে। অসাম্প্রদায়িকতার জয়ই সভ্যতার বিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে বজায় রেখেছে নইলে অনেক আগেই গাঢ়তর অন্ধকারে ধ্বসে যেত সভ্যতার বিজয় রথ। সভ্যতা এগিয়ে চলে আপন ছন্দ এবং লয়ে, কখনো খুব দ্রুত আবার কখনো খুব মন্থর। 


আমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংকট কেটে যাবে ইতিহাসের নিয়মে কিন্তু তার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের চেতনাকে শান দিতে হবে অন্যথায় ভবিতব্যের ভরসায় থাকলে হবে না। বর্ষার মেঘাচ্ছন্ন আকাশ শেষে শরতের নীলাভ আকাশে উজ্বল হাল্কা সাদা মেঘ আসে। কিন্তু ভবিতব্য বা নিয়তিবাদে  ভেসে কেউ যদি বর্ষার মেঘে সাবধানতা অবলম্বন না করে ভিজে নিউমোনিয়া অসুখে মরে যায় তার আর শরতের আকাশের সৌন্দর্য দেখা হয়ে উঠবে না। বর্তমান সময়ের ঘনীভূত সংকটে আমাদের নির্লিপ্ত উদাসীনতা আমাদেরকে প্রলয়ের বন্যায় বানভাসি করবে, আমরা ডুবে যাব আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি অতলে তলিয়ে যাবে। নির্লিপ্ত উদাসীনতাকে জয় করার শক্তি যেন আমরা অর্জন করি,  এই হোক আমাদের সাধনা এবং পূজার লক্ষ্য। 


ইতিহাস চর্চা আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের পথে নিয়ে যাবে যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা আত্মসত্তা নির্মানে ব্রতী হব এবং আত্মশ্লাঘা বোধে স্ফীত হব। লিগ্যাসি কোডের সংকীর্ণ পরিসরে নয় শতবর্ষ প্রাচীন ঐতিহ্যের বিস্তারে আত্মপরিচয়কে আবিষ্কার করব।


অতিমারির জন্য অনেক পাড়াতেই শতবর্ষের বা সুবর্ণ জয়ন্তী বা হীরক জয়ন্তী বর্ষের জমজমাট দুর্গোৎসব পালন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না এই বাস্তবতার পাশাপাশি ৫১ কিংবা ৭১ দিয়ে যারা ‘লিগ্যাসি কোড’ বানিয়ে আমাদের নাগরিকত্বকে অগ্নি পরীক্ষা দিতে বলেন কিংবা যারা কথায় কথায় বাঙালি এবং বাংলাদেশিকে  সমার্থক মনে করেন তারা অনেক কিছু জানলেও ইতিহাস জানেন না । 


২০১২ সালে ইটখলা দুর্গা পূজার শতবর্ষ উদযাপিত হয় অর্থাৎ ১৯১১/১৯১২ সালে এই পূজার সূচনা হয়। তারও আগে জেল রোডে আসাম রাইফেলেসের ( পল্টনদের বলে পরিচিত) পূজার উল্লেখ আছে। সর্বজনীন এবং বারোয়ারি এই দুই শব্দের মধ্যে গুণগত পার্থক্য আছে। সর্বজনীন কথার অর্থ অস্পৃশ্যতা বর্জিত যেখানে কোন জাতপাতের বিচার নেই, উদার প্রসারিত মনের পরিচয় পাওয়া যায় সর্বজনীন পূজায় অন্যদিকে বারোয়ারি পূজাতে একই গোষ্ঠীভুক্ত একাধিক (কথায় আছে কমপক্ষে ১২জন) মানুষের যোগদান দেখা যায়। অনেকের মতে শহর শিলচরের কেন্দ্রস্থলের দত্ত বাড়ির (দুর্গাশঙ্কর দত্তের বাড়ির) পূজা সব থেকে প্রাচীন পারিবারিক পূজা। তারাপুরের কালীমোহন দেব, নতুনপট্টির দাশগুপ্ত বাড়ি, মালুগ্রামের দেব বাড়ি শহর শিলচরের আদি পূজার কয়েকটি। শহরের সীমানা ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলের পূজা বিশেষ উল্লেখের দাবী রাখে কাছাড়ের বড়খলা গ্রামে দেব লস্কর পরিবারের পূজা বরাক উপত্যকার অন্যতম আদি পূজা। অবিভক্ত কাছাড়ের করিমগঞ্জ মহকুমার গ্রামাঞ্চলের অনেক পারিবারিক পূজা সার্ধশত বছর অতিক্রম করেছে। উল্লেখ্য করিমগঞ্জের মীরজাপুর গ্রামের পাল পরিবারের পঞ্চম পুরুষ শশাঙ্ক শেখর পালের পরিবার  প্রায় দ্বিশত বছরের পূজাকে নিয়মিত টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।

 
ইতিহাসের শিক্ষক দেবাশিস দাসের লেখায় পাই "১৮৩০ সালে কাছাড়ি রাজ্যের শেষ রাজা গোবিন্দচন্দ্রের মৃত্যুর সঙ্গেই রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। ১৮৩২ সনের ১৪ আগস্ট রাজার কোন উত্তরাধিকারী না থাকায় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক কাছাড়ি রাজ্য অধিগ্রহণ করেন। ১৮৩৪ সনে সরকারি তৎপরতায় আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ অধিগ্রহণের সময় বরাক উপত্যকার ভৌগোলিক অবস্থান ছিল উত্তরে বড়াইল পাহাড়, পূর্বে মণিপুর দক্ষিণে লুসাই পাহাড় এবং পশ্চিমে উন্মুক্ত অঞ্চল। পশ্চিমের এই সমতল অঞ্চল বঙ্গদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। ইতিমধ্যে ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক শাসন কার্যের সুবিধার জন্য কাছাড়কে ঢাকা ডিভিসনের অন্তর্গত করেন। শিলচর প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়ায় ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে চাকুরিজীবীদের আগমন আরম্ভ হয়। তবে বাঙালিরা সর্বাধিক সংখ্যায় শিলচরে বসতি স্থাপন করে। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে শিলচর বঙ্গ সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠে।" ইতিহাসের এই অধ্যায় জানা প্রয়োজন কেননা আজ যখন ইতিহাস চর্চার অভাবের সুযোগ নিয়ে নষ্ট রাজনীতি চর্চা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে তখন সেই সব মানুষদের কাছে সত্যকে তুলে ধরা প্রয়োজন। যারা লিগ্যাসিকোড ও ভুমিপুত্রের তত্ত্বে বাঙালিকে কোণঠাসা করতে উদ্যত হয় তাদের মুখের উপর এই সত্য কথাগুলো বলা প্রয়োজন। 


অবিভক্ত কাছাড়কে আসামের রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজনে ১৮৭৪ সনে আসামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯৪৭ সনের দেশভাগ, ১৯৭১সনে করিমগঞ্জ  সীমান্তে যুদ্ধ কতশত ঘটনা পার হয়ে আজও বরাক জুড়ে আছে আসামের সঙ্গে যদিও স্বাধীনতার পর আসাম থেকে অনেক ছোট ছোট রাজ্য তৈরি হয়েছে কিন্তু বরাক এত কিছুর পরেও আসামের সঙ্গে জুড়ে আছে। সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয়তাবোধ তৈরি হয় বিচ্ছিন্নতাবোধে ছিন্নমূল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা অনাকাঙ্ক্ষিত। মহালয়ার সকালে আমরা শুনি সেই কালজয়ী গান "আনন্দধারা বহিছে ভুবনে -------" এই গানেই আমরা পাই সম্প্রসারিত হৃদয়ের কথা যেখানে বলা হয়েছে "চারিদিকে দেখ চাহি হৃদয় প্রসারি / ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি"। রেনেসাঁসের ঐতিহ্য বয়ে বেড়ানো বাঙালি প্রসারিত চেতনাবোধের আলোতেই পথ হেঁটে যায় যার জন্য পশ্চিমবঙ্গ নামের রাজ্যটি উত্তরবঙ্গের অবাঙালি ভাষিকগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে আছে এখনো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়নি শত প্ররোচনাকে জয় করে। বরাক উপত্যকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি ভাষিক গোষ্ঠী অন্য সব ভাষিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে প্রত্যেক ভাষিক গোষ্ঠীকে মর্যাদা দিয়ে চলেছে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০০৫ সনের ১৮ ডিসেম্বর বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের নেতৃত্বে বহুভাষিক সমন্বয় সমিতির জন্ম হয়। এই উপত্যকার দুর্গা পূজা শুধুমাত্র হিন্দু বাঙালিদের অনুষ্ঠানই নয় অন্যসব ভাষিক গোষ্ঠী এমনকি অন্য ধর্মে বিশ্বাসীদের বড় অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। দশমীর বিসর্জনে যে মিছিল হয় তাতে মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোক নৃত্য পরিবেশন প্রত্যেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে বাজারে যে জোয়ার আসে এতে প্রত্যেকেই কম বেশি উপকৃত হয়। কয়েক শত কোটির অর্থনৈতিক লেনদেন এই উপত্যকার একটি বড় শিল্প বললে ভুল হবে না। সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রেও এই উপত্যকায় জোয়ার আসে, শুধু কলকাতা কেন্দ্রিক সাহিত্য পত্রিকা নয় এই উপত্যকার লেখক লেখিকাদের লেখা নিয়ে সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। শুধু সাহিত্য পত্রিকাই নয় নিজেদের লেখা, নিজেদের সুরে বরাক উপত্যকার নিজস্ব গান বঙ্গ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছে। প্রতি আগ্রাসনে নয় আন্তরিক চর্চায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। বরাক উপত্যকার নাট্য চর্চা অনেক সমৃদ্ধ। বরাক উপত্যকার নাট্য চর্চা বিশেষ করে শিলচরের নাট্য চর্চার প্রচার ও প্রসার পাড়ায় পাড়ায় পূজা মণ্ডপে হয়েছে। ১৯৩১ সনে আর্যপট্টি দুর্গাবাড়িতে নাট্যাভিনয়ের সূচনা হয়, যে সব কালজয়ী নাটক এই মঞ্চে পরের বছরগুলোতে মঞ্চস্থ হয়েছে তার কয়েকটির নাম উল্লেখ করছি যেমন ‘বিল্বমঙ্গল’ ‘ফুল্লরা’ ‘সাবিত্রী’ ‘প্রাণের দাবী’ ‘মেঘমুক্তি’ ‘প্রতাপাদিত্য’ ‘পল্লীসমাজ’ ‘বঙ্গনারী’ সিরাজের স্বপ্ন’ ‘খুনি কারা’ ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ‘সম্রাটের মৃত্যু’ ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ এই তালিকা শেষ করতে পারব না। ১৯৪৮ সনে শিলচর মিশন রোডে দুর্গা পূজা শুরু হয়, পূজার সঙ্গে নাটক মঞ্চস্থ হতে শুরু করল। মিশন রোড মঞ্চে একসময় প্রয়াত ফণী দাশগুপ্ত, রনি দাশ গুপ্তরা অভিনয় করতেন তাঁদের হাত ধরেই উঠে আসা  আজকের শিলচরের নাট্য জগতে শেখর দেবরায়,মনোজ দেবরা বিচরণ করছেন। চৌরঙ্গীতে পলু বিশ্বাস, চানু ভৌমিক, নলিনী দাস প্রমুদের নাটক দেখতে মানুষ পূজার তিনিদিন রাত জেগে বসে থাকত । অম্বিকাপূর পূর্ব পাড়ায় প্রয়াত অনিল বিশ্বাস, সুখময় সিংহ, আশিস রায়, কেপ্টেন বিশ্বাসরা অভিনয় করতেন। এই ঐতিহ্যকে অনেক পাড়াই ধরে রাখতে পারেনি তবুও হাজার প্রতিকূলতার মধ্যে মিশন রোড সহ হাতে গোনা কয়েকটি পাড়া এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার সংগ্রাম করছে। বাঙালির দুর্গা পূজা শুধু মাত্র মাতৃ আরাধনাই নয় তার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন বোধ। এই কথা ভুলে গিয়ে এক ছিন্নমূল সংস্কৃতি জন্ম নিয়েছে যারা অর্থহীন হৈহুল্লোড় করে নিজেরা যেমন ভ্রান্ত পথে পা বাড়িয়েছে সমগ্র বাঙালিকে বিভ্রান্ত করছে। ‘কেন হে বাপু এত ঘটা করে গণেশ চতুর্থী পালন করছ’ এই কথাটা বলবার মত মানুষ সমাজে নেই আর যদি কেউ সাহস করে করে তবে তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে কুৎসা থেকে পুলিশি এফ আই আর সব সহ্য করতে হবে । বাঙালি সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের সিলেটি বলে ভাবতে শুরু করেছেন তারা না জানে রামকুমার নন্দী মজুমদারের কথা না জানে নগেন্দ্র শ্যাম, মালতী শ্যামের কথা। আত্মঘাতী বাঙালি নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে মুষল পর্বকে আবাহন করছে ।


এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশিষ্ট কবি রাজনীতিবিদ শরচ্চন্দ্র ( এই বানানেই নিজের নাম লিখতেন) ১৮৯৬ সালে ‘দেবীযুদ্ধ’ কাব্যকাহিনি লিখেছিলেন। ‘দেবীযুদ্ধে’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে অসুর হিসাবে উপস্থাপন করে দেবী দুর্গা হয়ে উঠেছেন দেশ মাতৃকা। 


কথাগুলো উল্লেখ করলাম এই কারণে যে যদি আমাদের সংস্কৃতি ঐতিহ্য স্নাত না হয় তবে ছিন্নমূল সংস্কৃতির জোয়ারে আমরা বানভাসি হব । আমাদের আত্মসচেতনাবোধ  উন্মীলিত হোক মাতৃসাধনায়, এই হোক প্রার্থনা। ঐতিহ্যে স্নাত আধুনিকতায় বহমান সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, এই হোক প্রার্থনা।