রাজ-সমাজ-অর্থ + নীতি

ভাবনায় নির্বাচন ২০২১
পর্ব ৯
বিষয় : ভোটের খেলা, খেলার ভোট
ডাঃ মৃণ্ময় দেব  
২৪ মার্চ ২০২১
 
দেখতে দেখতে এসে পড়লো ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন।
আসামের নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছে ২৭ মার্চ, ০১ এপ্রিল এবং ০৬ এপ্রিল।
বরাক উপত্যকায় নির্বাচন আগামী ০১ এপ্রিল ২০২১।
আসন্ন নির্বাচন কে সামনে রেখে "ঈশান কথা" পুরো মার্চ মাস ধরে আপনাদের সামনে তুলে ধরবে এই ধারাবাহিক
"ভাবনায় নির্বাচন ২০২১"
যাতে থাকবে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সমাজের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, লেখক, বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকা মানুষ এবং ছাত্রছাত্রী দের ভাবনাচিন্তা, মত-অভিমত, অথবা বিশ্লেষণমূলক লেখা ...
আজ পর্ব ৯ ...

 

নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়। আম জনতা কদিন হুল্লোড়ে মাতে, তারপর – সব থিতিয়ে যায়। গড্ডল প্রবাহে জীবন চলে, চলতে থাকে যেমন  চলছিল। তো এই নির্বাচন নিয়ে সুশীল সমাজে ভাবনা-চিন্তা কি সেভাবে পরিলক্ষিত হয় ? উত্তরটা যে বহুলাংশে নেতিবাচক সে তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক কিছু হয় বইকি, হার-জিত নিয়ে জ্যোতিষীর মত অঙ্ক কষে ভবিষ্যতবাণীও করেন কেউ কেউ। ব্যাস, ওই পর্যন্তই। পরিবর্তনের আওয়াজ শোনা যায়, হাল ফেরে না জনজীবনের – পরিবর্তন থাকে ধরাছোঁয়ার ওপারে। এসবই জানা সবার। জানা, তবু জেনে শুনে বিষপান  করার কু-অভ্যাসে আমরা মেতে উঠি নির্বাচন-উৎসবে - পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঝে মাঝে অকাল-বোধনেও। মানুষ হিসেবে মান-মর্যাদা থাক  বা না-থাক ভোটার হিসেবে খানিকটা স্বল্পমেয়াদী সমীহ আদায় করা যায় বটে। নেই মামার চেয়ে কানা মামার কদর যে একটু হলেও বেশি সে তো মিথ্যে নয়। ভোটাররা জানেন, বোঝেন। উৎসব এলে কলাটা-মূলোটা কারো কারো কপালে যেমন জুটে যায়, অতএব, তেমন আশায় বুক বেঁধে মঞ্চে মঞ্চে ঘুরঘুর করেন কিছু মানুষ –  পছন্দের প্রার্থী জিতে গেলে ছেলের চাকরিটা, মেয়ের ট্র্যান্সফার কিংবা পেনশনের বকেয়া টাকাটা- ইত্যাদি সমস্যার যদি হিল্লে হয়ে যায় তো মন্দ কি! সত্যিই তো, ‘মাঝে মাঝে মন্দ হলে মন্দ কি’! তাই, চোখে মুখে ‘আমি তোমাদেরই লোক’ বোর্ড ঝুলিয়ে  ছাপোষা মানুষজন যদি ভাবেন ‘শাওন  রাতে’  না হলেও ‘আচ্ছে দিনে’ যদি ‘স্মরণে আসে মোরে’ তাহলে তেমন একটা দোষ দেওয়া যায় না। এরকম ভাবনাগুলো, বলা অপ্রয়োজনীয়, ‘ভাবা প্র্যাক্টিস’ করার পরিণাম নয়।  নয়, কারণ সুশীল সমাজের মেজো সেজোদের অত ভাবাভাবির ধাত আদপেই নেই।

কিন্তু তবু, তার পরেও কিছু কথা থাকে। নির্বাচন মানে দুটো দল – ছোট দল ভোট মাগে, আর সাধারণের বিশাল দল ভোট দেয়, অকাতরে। যারা মাগে তাদের যার-যার নিজস্ব যুক্তি আছে, অঙ্ক আছে। কিন্তু যারা দেয় তারা ‘কেন দেয়’ সে এক হেঁয়ালি – ‘যে যায় লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ’ এমন  গণ-উপলব্ধি  সত্ত্বেও কেন যে দেয় তা এক রহস্য বটে ! প্রতিটা নির্বাচন আর কিছু না হোক একটা জিনিস নিশ্চয় শেখায় যে আগের বারের নির্বাচন থেকে আমরা কিছুই শিখিনি। সরকারি বয়ানে ভোট দেওয়া কেবল গণতান্ত্রিক অধিকার নয়, দায়িত্বও বটে। অতএব, দাও ছাপ – আম জনতা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ অপবাদ নিয়ে স্বভাবত বাঁচতে অনিচ্ছুক। আরেকটা দরকারি দিকও অবশ্য রয়েছে, শাসনযন্ত্রের নাট-বল্টু যদি একটু-আধটু ঢিলে করে দেওয়া যায় সে সাধ মাঝেসাঝে  মাথা চাড়া দেয় কিনা! অনেকটা কুঁজোর চিৎ হয়ে শোবার সাধ যেমন ! হালে আরেক সাঙ্ঘাতিক কারণও এসে যোগ হয়েছে – পরাণ বাঁচানোর দায়।  ভোট না দিলে ‘ডি-ভোটার’ বানিয়ে ভায়া বিদেশী ট্রাইব্যুনাল ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’-এ এক টানে চালান করে দিতে পারে। কাজেই যাকে খুশি দাও, কিন্তু ভোট অবশ্যই দাও, চাই কি কাউকেই না দিয়ে ফিরে এসো, কিন্তু ভোটটা দিয়ে এসো।  এরাজ্যে তাই, ভোট বড় বালাই! ‘ন্যাংটোর নেই বাটপারের ভয়’ কথাটা এ রাজ্যের ন্যাংটোদের বেলায় মোটেও খাটে না। ‘রাষ্ট্রহীন’ তকমা সেঁটে জান মান কেড়ে নেবার জমাটি প্রয়াস চলছে নিরন্তর।

এরকম এক অসময়ে ঘোলা জলে মাছ ধরার চিরকালীন অভ্যাসে ভোট-যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন যারা , কোন-না-কোন দলে টিকি বন্ধক রেখে কিংবা না রেখে ‘একলা চলো রে’ নীতি অনুসরণ করে, তারাও নয়া স্ট্র্যাটেজি আয়ত্ত করে ফেলেছেন। এতোকাল নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতির ললিপপ দেখিয়ে চলত কথার ফুলঝুরি। সেসব এখন সেকেলে হয়ে গেছে, ফলে এখন নয়া কৌশল হচ্ছে ভীতি প্রদর্শন – কখনো বিদেশি জুজুর ভয়, কখনো পাকিস্তানের ভয়, কখনোবা অস্তিত্বের সংকট কিংবা সভ্যতার সংকটের নামে ভয় দেখানোর অসভ্যতা চলছে। যারা ‘নেতা’ হিসেবে খ্যাত ত্যানাদের  নাচন-কোঁদন এমন এক আমোদজনক স্তরে পৌঁছে গেছে যে ‘খেলা হবে’ গোছের শ্লোগান  বিপুল ভাবে জনপ্রিয় না হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। নির্বাচন মানে বাছাই করা, - এতদিন জনগণ পছন্দের নেতা বাছাই করতেন ‘যোগ্য প্রার্থী’কে ভোট দিয়ে। এখন অবস্থা এমন যে পচা-গলা ফলের ঝুড়ি থেকে ‘সবচেয়ে ভালো’ (পড়ুন কম পচা) ফলটি বেছে নেওয়ার খেলার নাম হচ্ছে ‘ভোট’। ‘জনগণের হিতে’ ব্যাপারটা এখন আর জনগণেশের ভাবনায় ঠাঁই পায় না, অতএব, ‘সব জানতা হ্যায়’ পাব্লিকের কাছে একটাই অপশন – যে ব্যাটাদের ‘ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা’ সব থেকে কম তাদেরকেই ভোটটা দাও। বুদ্ধিমান সুশীল মানুষজনেরও সেরকম অভিমত। তবে আজকাল কে যে ‘লীডার’ আর কে যে ‘ডিলার’ বোঝা বিষম দায় !

  

                                                                               

খেলার দর্শক বনে গিয়ে খেলাচ্ছলে এতক্ষণ যা বলা হলো তা থেকে এটা স্পষ্ট যে অবস্থা বিশেষ সুবিধের তো নয়ই, বরং এই উদাসীন গা-বাঁচানো হালকা মেজাজ ও চালের মধ্যে অনাগত ও অনিবার্য দুর্দিনের সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। কাজেই ভাবনা-চিন্তার আবশ্যকতা নিয়ে দ্বিমত থাকার কথা নয়। নির্বাচনের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে চিন্তাচর্চা যে একেবারে হয়নি তাও নয়।  সেদিকেই নাহয় এবার দৃষ্টিপাত করা যাক । সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কথাই হচ্ছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন – Free and Fair Election – তা কতটা অবাধ এবং সুষ্ঠু ভাবে এই মহাযজ্ঞ সাধিত হয়, হচ্ছে সেটা প্রতিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে দল বদলের হিড়িক এবং দল সমূহের ব্যয়ের বহর থেকে সহজেই অনুমেয়।  ১৯৪৭ সালের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচন গুলোর মধ্যে কেবল প্রথম দু তিনটে নির্বাচনে আপেক্ষিক স্বচ্ছতা বজায় ছিল এমন অভিমত বিজ্ঞ জনের। তারপর থেকে অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটেই চলেছে। নির্বাচন-পরবর্তী পর্যায়েও ঘোড়া কেনা-বেচা যে হারে হয়ে থাকে তাতে ক্ষমতা দখলই যে মুখ্য সেটা দিনের আলোর মত স্পষ্ট। এসব কথা বিবেচনা করে নির্বাচনী সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা তর্ক-বিতর্ক কম হয়নি, কিন্তু হাল বদলায়নি।  অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে বাধা স্বরূপ যেসব সমস্যা তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে অর্থের অপব্যবহার এবং পেশিশক্তির আস্ফালন। এর সঙ্গে রয়েছে প্রশাসন যন্ত্রের অপব্যবহার, নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ, জাতপাতের নিরিখে বিভাজন, ভাষিক ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি। তার চেয়েও ভয়ানক সমস্যা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, রাজনীতির মঞ্চে দুর্বৃত্তদের দাপাদাপি সাম্প্রতীক সময়ে এমন স্তরে পৌঁছেছে যে বিষয়টি অবশিষ্ট বিশ্বেও আলোচ্য হয়ে পড়েছে। এরকম যাবতীয় সমস্যাগুলোকে শুধুমাত্র একটি বন্ধনীর বন্ধনে আবদ্ধ করতে হলে বলতে হয় রাজনীতির ক্ষেত্রে ‘মূল্যবোধের অনুপস্থিতি’। জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাদের ‘নির্বাচন’ করা হয় তাদের ব্যক্তি অথবা দলগত চারিত্রিক লক্ষণে যদি মূল্যবোধের অস্তিত্ব পর্যন্ত না থাকে তো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কতটুকু সহায়ক হবে ! প্রশাসক হও (কিংবা নেক নজরে থাকো) অথবা প্রশাসনের অধীনে থাকো – এই দুই অবস্থার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ভোটারদের থাকতে হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে  রাষ্ট্রের চরিত্র বদলায় না, প্রশাসক বদলায় মাত্র - সেটা নির্বোধেও বোঝে। আর বোঝে বলেই জিভের স্বাদ বদলানোর মত ‘রাজনৈতিক রুচি বদলের’ স্বার্থে  ‘গণতান্ত্রিক অধিকারের মোয়া’ তুলে দেওয়া হয় ‘জনতা জনার্দনের’ হাতে - প্রতি পাঁচ বছর অন্তর । এবং যেহেতু নির্বাচনের মাধ্যমে  জনতার ক্ষমতায়নের আশু সম্ভাবনা নেই, অতএব, সংস্কারের প্রাসঙ্গিকতা খানিকটা থাকে বইকি !

১৯৬২ সালের নির্বাচনের পর থেকে ক্রমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কারের দাবি জোরালো হয় এবং বিভিন্ন কমিটি ও কমিশন গঠিত হয়। তার মধ্যে বিশেষ  উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল জগন্নাথ রাও-এর নেতৃত্বে Joint Parliamentary Committeeon Ammendments to Election Law (১৯৭১), Tarkunde Committee (1974), Dinesh Goswami Committee (1990), Indrajit Gupta Committee (1998), National Commission to Review the Working of the Constitution বা Venkatachaliah Commission (২০০০) – এই কমিটি গুলো বিভিন্ন প্রস্তাব বা সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন পেশ করেছে বিভিন্ন সময়ে। বিভিন্ন সুপারিশের কিছু কিছু - যেমন ভোটারের বয়স, ভোটার পরিচয়পত্র, ইলেকট্রনিক ভোটার মেশিন  (EVM),সম্পত্তির বিবরণ ও অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য, নির্বাচনী ব্যয় ইত্যাদি সংক্রান্ত সুপারিশ গুলো গৃহীত হলেও গুরুত্বপূর্ণ বহু সুপারিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার নির্বিশেষে নিদারুণ অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন – ‘গণতন্ত্রের জন্য নাগরিকবৃন্দ’ (Citizens for Democracy),  ‘লোকসত্তা’, ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার সংগঠন’ (Association for Democratic Reforms - ADR) ইত্যাদি - বিভিন্ন সময়ে এ ব্যাপারে দাবি উত্থাপন করেছে এবং এমনকি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে, যদিও সবিশেষ লাভ হয়নি।  এক্ষেত্রে সব শেয়ালের এক রা। যেহেতু আরো বহুকাল ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করতেই হবে সে কারণেই সুশীল সমাজকে অন্তত ন্যূনতম সংস্কারের দাবি তুলতেই হবে। ‘খেলা’ হোক তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু ‘খেলার নিয়ম’ অন্তত স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। শুরুতে যে সমস্যা বা নেতিবাচক দিকগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে সেসবের মোকাবিলার প্রশ্নে যে সংস্কার অতি আবশ্যক সে প্রসঙ্গে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরার চেষ্টা করব শেষ করার আগে। অন্যরাও সংযোজন করতে পারেন।

নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রস্তাব ঃ নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাসীন দল বা প্রশাসনের প্রভাব মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। তার জন্য তিন জন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে।  নির্বাচন বিভিন্ন পর্যায়ে করার বিপরীতে একই দিনে করতে হবে।  নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর সরকারকে বরখাস্ত করে ‘তদারকি সরকার’ গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে হবে।  নির্বাচনের ব্যয় বহনের জন্য সরকারি তহবিল গঠন করতে হবে ও আলাদা ভাবে নির্বাচনী বাজেট ঘোষণা করতে হবে।

 

প্রার্থীত্ব সংক্রান্ত প্রস্তাব : প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ‘অপরাধীদের’ বহিষ্কার সুনিশ্চিত করতে হবে। জামানতের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ চারগুণ বৃদ্ধি করা ও বাজেয়াপ্ত  জামানত নির্বাচনী তহবিলে জমা করার নীতি গ্রহণ করার প্রস্তাব। দল বদলের ক্ষেত্রে কমেও এক বছর প্রার্থীত্ব না দেওয়া। ভোটে  জয়ী হয়ে দল পাল্টালে পুনর্বার জনাদেশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা। দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসেব Comptroller and Auditor General (CAG) দ্বারা পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক করা। তার জন্য তিন জন 'সুনির্বাচিত' কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে।

আচরণবিধি সংক্রান্ত প্রস্তাব : নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা এবং তার তদারকির জন্য সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা। একই ধাঁচে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে পুরো সময়কালের অর্থাৎ পাঁচ বছরের জন্য আচরণবিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং লঙ্ঘিত হলে প্রতিনিধিত্ব বাতিলের  ব্যবস্থা করা। দলীয় প্রচার ‘ইস্তাহার ও বিগত  কার্যকালের  খতিয়ান’ ভিত্তিক হতে হবে।  প্রলোভন-প্রতিশ্রুতি দান-দক্ষিণা কিংবা জাত-পাত ভাষা-ধর্ম- সম্প্রদায় কেন্দ্রিক প্রচার নিষিদ্ধ করতে হবে।

  

ফলাফল সংক্রান্ত প্রস্তাব : বিজয়ী ঘোষণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্তির নিরিখের পরিবর্তে শতাংশের হার বিবেচনা করা। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও মধ্যবর্তীকালীন পর্যালোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করা এবং প্রতিনিধিত্ব ‘প্রত্যাহারের অধিকার’ – Right to Recall – প্রদানের সপক্ষে আইন প্রণয়ন করা।   

নমুনা হিসেবে প্রস্তাব গুলো পাঠক সমীপে হাজির করা হল মাত্র। এর মধ্যেকার অনেক গুলো প্রস্তাব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠনের তরফে এর আগেও প্রস্তাবিত হয়েছে, এখানে সন্নিবিষ্ট হয়েছে কেবল। এরকম প্রস্তাবের ভিত্তিতে দাবি সনদ প্রস্তুত করে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য লড়াইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। এমন নয় যে এই প্রস্তাব গুলো গৃহীত হলেই জনসাধারণের দুর্দশা ঘুচবে, তবে জনসাধারণের মৌলিক সমস্যার সমাধানের প্রশ্নে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে নিশ্চিত ভাবে।  

 

সব রকম বৈষম্যহীন এক সমাজ গড়ে তোলার স্বার্থে এরকম পদক্ষেপ গুলোকে নির্বাচন-কেন্দ্রিক এক অন্তর্বর্তীকালীন লড়াই স্বরূপ বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে জনসাধারণের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার বিষয়ে সঠিক ধারণা গড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হবে এবং একই সাথে মত প্রকাশের উপায় হিসেবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হওয়া সম্ভবপর হবে। অন্তত ‘খেলা হবে’ মার্কা তাৎক্ষণিক উন্মাদনার মোহাবেশ থেকে উত্তরণ ঘটবে, প্রলোভিত ভোটার থেকে সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠার দিকে যাত্রা শুরু করা যাবে। সে-ই বা কম কীসে !

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions