রাজ-সমাজ-অর্থ + নীতি

বিস্মৃতপ্রায় বানিজ্য পথের পুনরুদ্ধার
ডঃ রাখী ভট্টাচার্য
ভাষান্তর - জয়দীপ ভট্টাচার্য
২২ এপ্রিল ২০২১
 
গত পাঁচ এপ্রিল ডঃ রাখী ভট্টাচার্যের কলমে এই প্রবন্ধটি 'দি স্টেটসম্যান' পত্রিকার ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছিল।
ত্তর পূর্বের জন্য প্রাসঙ্গিক বিচারে এর বঙ্গানুবাদ এখানে প্রকাশিত হল ... 

কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরের জন্য প্রথম বাংলাদেশকে বেছে নেবার পিছনে ভারতের কিছু নির্দিষ্ট ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সাথে ভারতের এবং বিশেষ করে উত্তর পূর্বের সম্পর্কের সমীকরণে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। মায়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বৎসর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে যোগদান কিম্বা দু'দেশের মধ্যে পাঁচটি নতুন মৌ (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সাক্ষর কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এরফলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের লাভবান হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

২০০৮ সালে পারস্পরিক মর্যাদা ও যোগাযোগের ভিত্তিতে ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তারপর থেকে এই সম্পর্ক এখন অব্দি উল্টোপথে হাঁটেনি বরং উভয় দেশের সরকার দ্বারা একের পর এক সাহসিক প্রকল্প রূপায়নের মাধ্যমে ক্রমাগত শক্তপোক্ত হয়ে উঠেছে। যেহেতু বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এক উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে, তাই এই অতিমারী পরিস্থিতিতে যখন অর্থনৈতিক মন্দার ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে তখনএই নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উত্তর পূর্বাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।

উত্তর পূর্বের প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক সর্বদাই প্রাসঙ্গিক। প্রতিবেশী দেশের সাথে বৈরিতার কারনে স্বাধীনতা পরবর্তী কয়েক দশক জুড়ে এই অঞ্চলকে ভু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে সুস্থিতি বিনষ্ট হয়েছে বারবার। ফলস্বরূপ দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা সুরক্ষার প্রতি সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হচ্ছে, সেনা মোতায়েন করতে হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাবার ফলে বহির্ভারতের সাথে এই অঞ্চলের যোগাযোগ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই অঞ্চল।

ভারতের আন্তর্দেশীয় অর্থনৈতিক প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে ১৯৯৬ সালে প্রথম মায়ানমারের সাথে মোরে - তামু ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এল সি এস) দিয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাথে বাইরের রাষ্ট্রের আন্তর্সীমানা ভিত্তিক যোগাযোগের সুচনা হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে আরো চল্লিশটি এরকম 'এল সি এস' খোলা হয়েছে যার ভিত্তিতে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সাথেও উত্তর পূর্বের যোগাযোগ সুচিত হয়েছে। এরপর উত্তর পূর্ব কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে আরো নিবিড় সম্পর্ক তৈরির স্বার্থে ২০১৪ সালে "প্রতিবেশী প্রথমে" (Neighborhood first) নীতি গৃহীত ও অনুসৃত হয়েছে। তাই এই ব্যাপারে উদ্যোগও ক্রমবর্ধমান।

২০১৫ সালে ভারতের  নতুন বানিজ্য নীতির অধীনে বানিজ্য সহায়তা উদ্যোগের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে সীমান্তবর্তী এবং বৃহত্তর প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বানিজ্য উন্নয়নের জন্য পন্য পরিবহন, উন্নত ও কার্যকরী পরিচালন ব্যাবস্থা, বানিজ্য  চালিয়ে যাবার ব্যায় এবং এই সম্বন্ধীয় প্রয়োজনীয় তথ্য যোগান দেওয়া এই চারটি উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের জন্য স্থল, জল এবং রেল পথের বিস্তারে উত্তর পূর্ব যথেষ্ট লাভবান হয়েছে। উল্লেখ্য যে এই অঞ্চলের অধিকাংশ আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ প্রকল্প কিন্তু বাংলাদেশের মাধ্যমে অথবা সহযোগিতায় বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর স্মরনীয় হয়ে থাকবে "মিতালি এক্সপ্রেস" নামক আন্তর্সীমান্ত ট্রেন উদ্বোধনের জন্য। এর আগে দু'দেশের মধ্যে যাতায়াতের স্বার্থে "মৈত্রী এক্সপ্রেস" এবং "বন্ধন এক্সপ্রেস" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবারের সফরে ফেনী নদীর ওপর ১.৯ কি.মি দীর্ঘ "মৈত্রী সেতু" র উদ্বোধন হয়েছে যা দিয়ে ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী ছোট শহর "সাব্রুম" এর সাথে বাংলাদেশের "রামগড়" এর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ সাধিত হল।

"সাব্রুম" ধীরে ধীরে উত্তর পূর্বের সরবরাহ ও বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পূর্ণমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, কারণ এই সেতুর ফলে "সাব্রুম" এবং "চট্টগ্রাম" বন্দরের দূরত্ব হবে ১০০ কি.মি এরও কম, যেখানে পূর্ববর্তী দূরত্ব ছিল ১৬০০ কি.মি। ত্রিপুরা তাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে এবং তার অধিকাংশই বাংলাদেশের সাথে আদান প্রদানের মাধ্যমে। অন্য প্রতিবেশী দেশের ভুমিকা এক্ষেত্রে গৌন।

আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য প্রতিবেশী দেশের সাথে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সম্পর্কের একটি অন্যতম উপাদান। যদিও এই আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের সাথে ভারতের‌ মোট বানিজ্যের মাত্র ০.১৮ শতাংশ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশন ২০১৯ সালের ইন্দো- মায়ানমার আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য নিয়ে যে রিপোর্ট বের করেছিলেন সেই অনুযায়ী বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যার সাথে ভারতের আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য লাভজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে - শতাংশ হিসেবে এর বহর ৮৭%। এরপরই ভুটানের স্থান - ১১.৬%। বাংলাদেশ ও ভুটানের ক্ষেত্রে শতাংশের হিসেবে তা যথাক্রমে ১.৮৫% ও ২.৪৯%।

যে দেশের সাথে অনেক দিন ধরে ভারত কুটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে বিভিন্ন স্তরে কাজ করে যাচ্ছে সেই মায়ানমারের সাথে আন্তর্সীমান্ত বানিজ্যের পরিমাণ কিন্তু মাত্র ০.০১ শতাংশ। "মোরে-তামু" স্থলপথকে সর্বদাই মনিপুরের জীবনরেখা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাথে যোগাযোগের অন্যতম দ্বার বলে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা যথাযথ প্রত্যাশা পুরনে  ব্যার্থ হয়েছে।  

 

মূলতঃ মায়ানমারের আভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এর জন্য দায়ী। ২০১১ সাল থেকে মায়ানমার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শিকার হয়েছে। ফলে বারবার নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা ভারতের তরফে রয়েছে তা কখনোই ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি। এবং সম্প্রতি আবার সেনাবাহিনী রাজনৈতিক ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেবার পর অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। এটা মায়ানমারকে শুধু মানবিক ও আর্থিক দুর্বিপাকের মধ্যেই ঠেলে দেয়নি এই পুরো অঞ্চলের সুস্থিতি ও ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে একধরনের হতাশা কাজ করছে। তিন বছর আগেও যখন সব গনতান্ত্রিক অধিকারকে তুড়ি মেরে গনহারে রোহিঙ্গা দের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তখনও মায়ানমারের গনতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিশ্ব জুড়ে।

 

মায়ানমারের এই আভ্যন্তরীণ অবরোধের জন্য ভারতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহযোগী প্রকল্পের কাজ থেমে আছে এবং উত্তর পূর্বের ক্ষেত্রেও একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। "মোরে-তামু" স্থলপথ সহ বাকি সবদিকে সমস্ত আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য আপাতত বন্ধ। উচ্চাভিলাসী কালাদান মাল্টি মডাল ট্র্যানসিট ট্র্যান্সপোর্ট প্রকল্প এবং ট্রাইলেটারাল হাইওয়ে ট্র্যন্সবাউন্ডারি প্রকল্প, যে উদ্যোগ মায়ানমারের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সাথে মিজোরাম ও মনিপুরের যোগসূত্র তৈরির লক্ষ্যে ভারত সরকারের তরফে নেওয়া হয়েছিল সেসবও এই মুহূর্তে বিশৃঙ্খল অবস্থায় পড়ে আছে। মায়ানমারের সাথে কোনো গঠনমূলক সহযোগিতা তাই‌ এখন দুরবর্তী স্বপ্নের মতোই অস্পষ্ট।

ভারতের তাই এই প্রেক্ষিতে অন্য প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে আরো নিবিড় যোগাযোগ ও নির্ভরতার পথে এগোতে হবে যা  উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে সহায়ক হবার পাশাপাশি আমাদের জন্য বঙ্গোপসাগর দিয়ে বৃহত্তর বিশ্বের সাথে যোগাযোগের পর প্রশস্ত করবে। উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিকেও তাই বাংলাদেশের সাথে আন্তর্সীমান্ত বানিজ্যের সুযোগ তৈরি করে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। যা ত্রিপুরায় সম্ভব হয়েছে এবং এর ফলে সীমান্তের দুদিকেই লোকজন লাভ হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা আকাঙ্খা, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইত্যাদিকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তা রাজনৈতিক উদ্যোগ ও সদিচ্ছা রয়েছে বলেই। যে সীমান্তে সবসময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যেত গত এক দশকের প্রচেষ্টায় তা এখন প্রাণবন্ত বানিজ্যের কেন্দ্রস্থলে রুপান্তরিত হয়েছে।

 

উত্তর পূর্বের আরেক রাজ্য হচ্ছে আসাম যার বরাক উপত্যকা ও ধুবড়ি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী। তাই আসামের পক্ষেও আন্তর্সীমান্ত বানিজ্যের লাভ ওঠানো সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়। তবে তার জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বরাক উপত্যকার সাথে সিলেট জেলার বানিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায়ে কিন্তু এই উপত্যকা আসামের আর্থ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সর্বদাই অবহেলিত হয়ে রয়েছে এবং এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কখনই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এই উপত্যাকার একটি ছোট শহর করিমগঞ্জ, যা কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী, যার সাথে বাংলাদেশের তিন কি.মি দীর্ঘ সীমান্ত সংযোগ রয়েছে ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। জলপথ ছাড়াও সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে মাত্র ৪৮ কি.মি দূরত্বে অবস্থিত সিলেট জেলার সাথে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব। করিমগঞ্জের সাথে সিলেটের শাহবাজপুর অব্দি যোগাযোগও খুব সহজে পুনরুদ্ধার সম্ভব যেহেতু প্রাক স্বাধীনতা যুগে মহিষাশন রেলস্টেশন দিয়ে রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল যা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।এই ট্র্যাক চালু হলে মায়ানমারের মোরে-তামু অঞ্চলের সাথেও করিমগঞ্জের সংযোগ স্থাপিত হতে পারে যেহেতু করিমগঞ্জ থেকে এই অঞ্চলের দুরত্ব ৪০০ কি.মি। এই ট্র্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশের আখাউড়ার সাথেও যোগাযোগ সম্ভব। তাই করিমগঞ্জ উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী দুটি রাষ্ট্রের সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানে রয়েছে এবং এই অঞ্চলের মানুষ তথা পন্যের গতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার পর্যাপ্ত সম্ভাবনা যুক্ত। এবং তেমন হলে এর পরিবর্তে স্থানীয় লোকজনের জীবিকার সংস্থান তথা উন্নয়ন সাধিত হবার সুযোগ রয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশত আসামের কোনো রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশের সাথে আন্তর্বানিজ্যের জন্য বরাক উপত্যকাকে কখনই যথাযথ গুরুত্ব দেননি। বরঞ্চ আসামের অন্য উপত্যকার সাথে লিডো কে কেন্দ্র করে মায়ানমার ও চীনের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এজন্য পুরোনো স্টিলওয়েল স্থলপথের পুনর্নবীকরণের চেষ্টা চলছে। যদিও মায়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

মেঘালয় তেমনি অন্য এক অঞ্চল যার সাথে সিলেট ছাড়াও ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর  সেই বানিজ্যিক তথা সাংস্কৃতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এই রাজ্যে এখন সেই ঐতিহাসিক বানিজ্যিক সম্পর্ক কে পুনরুদ্ধারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার জন্য "তামাবিল-ডাউকি" স্থলপথে আবার আন্তর্সীমান্ত বানিজ্যের শুরুয়াত হয়েছে। ডাউকিও ধীরে ধীরে উত্তর পূর্বের অর্থনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহর হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। মেঘালয়ের আরেকটি শহরও এই ব্যাপারে সম্ভাবনাময়। গারো পাহাড় জিলার ডলু ও বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

 

এইসব আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য পথের পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ তৈরি হলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার আবার উন্নয়ন সম্ভব বিশেষতঃ স্বাধীনতার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেসব এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতি থমকে গিয়েছিল। সীমান্তবর্তী এইসব ছোট শহর আবার অর্থনৈতিক ভাবে ঘুরে দাড়ালে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকার সংস্থান হবে, যারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। রাজধানী শহরের দূরবর্তী হয়েও উত্তর পূর্বের এই শহরগুলি বহির্ভারতের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে‌ ওঠতে পারে এবং এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে।

বাংলাদেশ বর্তমান প্রেক্ষিতে শুধু উত্তর পূর্বের প্রাসঙ্গিক প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে নয় ভারতের "প্রতিবেশী প্রথমে" নীতির অগ্রগন্য সহযোগী হিসেবে সমগ্র এলাকার সুস্থিতি ও ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। গৌহাটিতে এসিস্ট্যান্ট বাংলাদেশ হাই কমিশনের কার্যালয়ের উদ্বোধন সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশের সাথে সাথে নেপাল এবং ভুটানের মতো অন্যান্য বিশ্বস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের কুটনৈতিক সম্পর্ককে বর্তমানে জোরদার করা জরুরী কারণ তাতে আন্তর্সীমান্ত বানিজ্য ও গতিশীলতা বৃদ্ধি হলে সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।