রাজ-সমাজ-অর্থ + নীতি

ভাবনায় নির্বাচন ২০২১
পর্ব ১
বিষয় : নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল নির্বাচন কমিশন
অরবিন্দ রায়
০১ মার্চ ২০২১ 
 
দেখতে দেখতে এসে পড়লো ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন।
আসামের নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছে ২৭ মার্চ, ০১ এপ্রিল এবং ০৬ এপ্রিল।
বরাক উপত্যকায় নির্বাচন আগামী ০১ এপ্রিল ২০২১।
আসন্ন নির্বাচন কে সামনে রেখে "ঈশান কথা" পুরো মার্চ মাস ধরে আপনাদের সামনে তুলে ধরবে এই ধারাবাহিক
"ভাবনায় নির্বাচন ২০২১"
যাতে থাকবে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সমাজের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, লেখক,
বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকা মানুষ এবং ছাত্রছাত্রী দের ভাবনাচিন্তা, মত-অভিমত, অথবা বিশ্লেষণমূলক লেখা ...
আজ পর্ব ১ ...

১৯৫০ সালে দেশের সংবিধান প্রবর্তনের পর ১৯৫১ সালে জন প্রতিনিধিত্ব আইন সেই কাজে সাহস যোগাল ৷ এই জন প্রতিনিধিত্ব আইনের খসড়া করেছিলেন এক বঙ্গসন্তান – তিনি হলেন আইসিএস মৃগাঙ্গমৌলি বসু ৷ওই সময় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়ের পরামর্শে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব সুকুমার সেনকে প্রথম নির্বাচন কমিশনার করা হয়। আইনমন্ত্রী, বিখ্যাত ব্যারিস্টার অশোক সেনের বড়দা ছিলেন সুকুমার সেন। 


প্রথমবার ভোট হয় ৭৩ দিন ধরে। শুরু হয় ১০ ডিসেম্বর, ১৯৫১ এবং শেষ হয় ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২। ভোটার ছিল প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি। ভোট হয়েছিল ‘অ্যাডাল্ট সাফ্রেজ’ বা ২১ বছর বয়সি নারী বা পুরুষ হলেই ভোটদানের অধিকারী। গণতন্ত্রের পীঠস্থান ইংল্যান্ডে মেয়েদের ভোটাধিকার পাওয়ার আগে ৭০ বছর ধরে আন্দোলন করতে হয়েছে।
 

মৃগাঙ্কমৌলি বোসের খসড়ার ওপর নির্ভর করে আইনসভায় গৃহীত জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ভিত্তিতে সুকুমার সেন প্রায় ৩ মাস ধরে প্রথম নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। ঠিক সেই সময় সুদানের নির্বাচন আসন্ন। সুদান সরকার পণ্ডিত নেহরুর কাছে সুকুমার সেনকে কয়েক মাসের জন্য লোন হিসেবে চাইলেন। আজও খার্টুমের একটি রাজপথ সুকুমার সেনের নামে উজ্জ্বল। পরবর্তী পর্যায়ে আরও দুটি দেশ ভারতীয় অফিসারদের দিয়ে তাদের দেশে নির্বাচন করান। নেপালে গিয়েছিলেন আইএএস রথীন সেনগুপ্ত, যিনি পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব হন। আর কম্বোডিয়া বা কাম্পুচিয়ায় গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ডিজি পুলিশ দীপক সান্যাল।


সেই পরিকাঠামোয় প্রথম নির্বাচন হওয়ায় বেশ কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়েছিল ঠিকই ৷ কিন্তু কোনও দল বা নেতা সুকুমার সেনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কিংবা অভিযোগ পেলেও প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে কেউ অভিযোগ তেলেননি ৷এমনকি ওই সময় যারা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট করার কথা শুনে নিয়ে অবাস্তব পরিকল্পনা বলে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছিলেন তারাও স্বীকার করেছিলেন সেই সময় ভারতের গণতন্ত্রে সূচনাটা মোটের উপর সফলই বলা চলে ৷

ভারতের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় একটি স্বশাসিত সংস্থা যেটি দেশটির সকল নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে। সংবিধানের 324 নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতের নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়। অনেক পরে সংশোধনীর মাধ্যমে রাজ্য নির্বাচন কমিশন তৈরি হয়। দুই সংস্থারই ভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এবং দুই সংস্থা কখনও একে অপরের পথে এসে দাঁড়ায় না ।


রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কাজকর্মের পুরোটাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে । রাজ্যগুলিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্বও তাদেরই। নির্বাচন কমিশনে সংস্কার ১৯৯০ সাল থেকে বলা যায় ভারতের নির্বাচন কমিশনের এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিলো। এর আগে, নির্বাচন কমিশন বলতে ছিলেন শুধুই একজন প্রধান কমিশনার। কিন্তু পরে, ১৯৯০ সালে নতুন আইন প্রনয়ন করা হলে, অন্তত তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গড়ার প্রচলন শুরু হয়। জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয় বেশি। ঠিক সেখানেই প্রয়োজন পড়ে একটি নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও কার্যকরী নির্বাচন কমিশনের।

বিগত কয়েক বছর ধরে যেভাবে দলীয় ক্ষমতার প্রদর্শনে আক্রান্ত হয়েছে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভারতের বৃহত্তর গণতন্ত্র চর্চা, তাতে আগামী নির্বাচনে কী হবে তা নিশ্চিত করে বলার অবকাশ এখনই নেই ৷২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভেতরে উঠতে থাকে নানা রকমের অভিযোগ ৷ তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী তাঁরই সহকর্মী, আরেক নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ হবার অভিযোগ আনেন ৷তদন্তের পর জানা যায় যে সত্যিই তিনি নিয়মিত পরামর্শ চাইতেন কংগ্রেসে উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের কাছে ৷মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অচল কুমার জ্যোতির পরিচালনায় ২০১৭ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে৷ বলা হয়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরোধিতা করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একই আচরণকে তিনি এড়িয়ে যান৷২০১৪ সালে কমবেশি নিরপেক্ষ নির্বাচনের হাত ধরেই কংগ্রেস-ইউপিএ জোটকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছিলো বর্তমান বিজেপি-এনডিএ সরকার ৷ভোটবাক্স থেকেই জানা গিয়েছিলো কোন পথে চলেছে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক দিশা ৷

 

যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনার ৷ প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন থেকে একদম আলাদাভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগ গোটাটাই ঘটে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে, যার ফলে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগও থাকে বেশি ৷টি এন সেশন ও তাঁর অধীনেই (১৯৯০ থেকে ১৯৯৬) ভারতের নির্বাচনের সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। তামিলনাড়ুর এই সাবেক প্রশাসনিক ক্যাডারকে অনেকে 'চেঞ্জমেকার' বা পরিবর্তনের রূপকার হিসেবে চেনেন। সেশনের নেতৃত্বে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসে স্বচ্ছতা, করা হয় নির্বাচনী আইনের ব্যাপক সংস্কার। আমলাতান্ত্রিকতা ও রাজনীতিকদের একাধিপত্য থেকে মুক্ত করেছিলেন তিনি ভারতের নির্বাচনকে। পুলিশ-প্রশাসনের ওপর ক্ষমতা ধরে রেখে আইন শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রের রক্ষায় নামেন। টি এন সেশনের হাত ধরেই ভারতে শুরু হয় পরিচয়পত্রের প্রচলন - দুর্নীতিমুক্ত হয় বিশাল ভারতের তার চেয়েও বিশাল নির্বাচন ব্যবস্থা। সেশনের পরও কিছু বছর ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার চলতে থাকে।


১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতবর্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে পারে জনতার মনোভাবের সঠিক বহিঃপ্রকাশ। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র ভারতের গণতন্ত্র বজায় রাখার জন্যেই এখন প্রয়োজন, তা ঠিক নয়। যেভাবে সংস্কারের জোয়ার এনে গোটা উপমহাদেশে উদাহরণ হয়েছিলেন টি এন সেশনের মতো যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বরা, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি যেভাবে গণতান্ত্রিক আচরণ থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে, তা থেকে মুক্ত রাজনৈতিক চেতনাকে পুনরুদ্ধারের রাস্তা অবশ্যই সুস্থ নির্বাচনের সংস্কৃতি, যা একটি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল নির্বাচন কমিশন ছাড়া দিবাস্বপ্ন।


যতক্ষন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ নয় ততক্ষন গণতন্ত্র মজবুত হতে পারে না। সংবিধান ফলপ্রসূ হতে পারে না। এই দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার মতো কোটি কোটি ভোটারের মতামত সুরক্ষিত হতে পারে না। ভারতের নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ এবং সুরক্ষিত করা।

ঈশানের যোগাযোগ

ঈশান কথার ঠিকানা

BANIPARA

SILCHAR - 788001

ASSAM , INDIA

PHONE : +91 6002483374, 7002482943, 9957196871

EMAIL : ishankotha@gmail.com

Facebook Page : 

https://www.facebook.com/ishankotha

ঈশান কথায় লেখা পাঠাতে হলে

  1. Whatsapp your Writeup (in Bengali or English) in any of our phone numbers

  2. Email your Article written in MS Word (no pdf file / no image file) in our email id

  3. For Bengali Articles, write with AVRO Software or use any Bengali Unicode Font for Writing in MS Word (No STM software)

  4. You can send the Articles in Bengali or English in Facebook Messenger also to any one the IDs of - Joydeep Bhattacharjee / Krishanu Bhattacharjee / Chinmoy Bhattacharjee /  Page of Ishan Kotha "m.me/ishankotha"

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
Give Us Your Feedback
Rate UsPretty badNot so goodGoodVery goodAwesomeRate Us

© 2020-21 Ishan Kotha. Site Developed by Krishanu's Solutions