মাঠে ময়দানে

জাতীয় ক্রীড়া দিবস
এক সাধারণ ক্রীড়া প্রেমীর ভাবনায়

কৃশানু ভট্টাচার্য

২৯ আগস্ট ২০২১

 

আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবস। হকির যাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মদিন।

আজকের দিনে এক ক্রীড়া প্রেমীর ভাবনায় ভারতবর্ষের বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থা...

WhatsApp Image 2020-10-23 at 1.15.15 AM.jpeg
major-dhyan-chand-1567064232.jpg
national-sports-day-1.jpg

"ধ্যানচাঁদ থেকে নীরজ চোপড়া", না ... "লর্ডস ১৯৮৩ থেকে লর্ডস ২০২১" ... ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে কোন যাত্রাটি বেশী করে দাগ কেটে রেখেছে ?? অনেক সহজেই বেশীরভাগ ক্রীড়াপ্রেমী দ্বিতীয় যাত্রাটিকেই ওপরে রাখবেন, কারণ সেই যাত্রায় ক্রিকেট আছে, চমক আছে, বড় বড় নাম আছে, চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন আছে আর সব কিছুর পেছনে আছে... লাগে টাকা, দেবে গৌরী সেন... বি.সি.সি.আই এবং তাঁদের খাতায় নাম লেখানো বড় বড় কর্পোরেটের দলবল। এই যাত্রাও সহজে হয়নি, ক্রিকেটার দের গভীর পরিশ্রম, তাঁদের বড় বড় ট্রফি জয় করে আনা, বড় বড় রেকর্ড তৈরি করাও আছে এবং তার জন্যই পেছনের খুঁটি টাও এখনও আছে।

 

সেই ১৯৮৩ সালের লর্ডসের ব্যালকনী তে দাঁড়িয়ে "হরিয়ানা হ্যারিকেন" কপিল দেব নিখঞ্জের সেই প্রুডেনশিয়্যাল কাপ হাতে তোলা কেই এই যাত্রাপথের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়। এবং তারপর একের পর এক টার্নিং পয়েন্ট :

১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বেনসন এন্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড সিরিজ জয়

১৯৮৭ সালে ভারতের মাটিতে প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন

১৯৮৯ সালে সচিন টেন্ডুলকার এর ক্রিকেট ময়দানে আবির্ভাব

৯০ এর দশকে ঘরের মাঠে প্রায় অপরাজিত থাকা

২০০৩ এর বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা

২০০০ এর প্রথম দশকে প্রথমে সৌরভ গাঙ্গুলি "মহারাজ / দাদা"র নেতৃত্বে ভারতকে নির্ভীক একটি দল হিসেবে তৈরি করা এবং তারপর মহেন্দ্র সিং ধোনী'র নেতৃত্বে ২০১১ সালে আবার বিশ্বকাপ জয় এবং বিশ্বের এক নম্বর ক্রিকেট টিম হিসেবে উঠে আসা

এবং

২০০৮ থেকে বিশ্বের সব থেকে প্রভাবশালী ক্রিকেট টি২০ লীগ আই.পি.এল এর শুরু হওয়া ...

এবং সব কিছুর পেছনে একদিকে যেরকম বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের ভারতীয় দলে থাকা টা কারণ, ঠিক সেরকমই তার পেছনে, একটি প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড, কর্পোরেট পুঞ্জি এবং সরকারী পৃষ্টপোষকতা ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

ঠিক সেই জায়গায় যদি আমরা "হকির যাদুকর" মেজর ধ্যানচাঁদ এর নেতৃত্বে প্রথমবার ভারতের হয়ে হকিতে অলিম্পিক মেডেল আনার বছর ১৯৩২ সাল থেকে অন্যান্য খেলার জয়যাত্রা্র (সম্পূর্ণ জাত্রার কথা বললামই না) কথাই ধরি এবং তখন থেকে ২০২১ সালে টোকিয়ো অলিম্পিকে নীরজ চোপড়ার সোনার মেডেল জয় এর মধ্যে কোন খেলায় কি কি ঘটেছে এবং সেই খেলোয়াড় দের কি অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছে বা হচ্ছে, আমার মনে হয় যাদের এই বিষয়ে অল্প একটু ধারণাও আছে, সেইসব ক্রীড়াপ্রেমীর সংখ্যাটাও খুব একটা বেশী হবে না ... হয়তো ক্রিকেটের ২০ অথবা ২৫ ভাগের ১ ভাগ ...

ব্রাত্যজনের রুদ্ধক্রীড়া ... এটাই সত্যি অন্যান্য খেলার ব্যাপারে। আন্তর্জাতিক স্তরে সব থেকে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল ই হোক অথবা সব থেকে বেশী মেডেল আনার সুযোগ থাকা এথলেটিক্স ই হোক, এবং অন্যান্য খেলা ও, ভারতে প্রায় ব্রাত্য। কারণ সেখানে সরকারী উদাসীনতা এবং কর্পোরেট পুঞ্জি না থাকাটা একটা বড় কারণ। বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন খেলায় কিছু সাফল্য এসেছে। বেশ কিছু নামী খেলোয়াড় রাও উঠে এসেছেন, কিন্তু বেশীরভাগ নিজের চেষ্টায়।

 

ব্যাডমিন্টন, শুটিং, লন টেনিস, দাবা, কাবাডি, হকি, কুস্তি এবং ফুটবলে অবশ্য গত কয়েকবছরে কিছুটা কর্পোরেট পুঞ্জি এবং মিডিয়ার কভারেজ গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এখনও বিভিন্ন ফেডারেশন গুলোর কাছে রাজনীতি টাই মুখ্য এবং তাই আজ পর্যন্ত ভারতে সঠিক একটা ক্রীড়া পলিসিই তৈরি হল না। 

তাছাড়া ভারতে সঠিক কোনও ক্রীড়া পলিসি না থাকার দরুন যেটুকু পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে সেটারও প্রয়োগ ঠিক মতন হচ্ছে না। 

এবং এই জন্যই যারা ক্রীড়া জগতে আসেন, তাঁদের এবং তাঁদের অভিভাবকদের খেলার আগে চিন্তা থাকে যে খেলে কতটুকু রোজগার হবে অথবা স্পোর্টস কোটায় একটা সরকারী চাকরি জুটবে কি না ? তো এই সব চিন্তা মাথায় নিয়ে কি খেলা যায় ? 

তাই নীরজ চোপড়া, মীরাবাঈ চানু, পি ভি সিন্ধু, বজরং পুনিয়া, রবি কুমার দহিয়া, লাভলীনা বড়গোহাই এবং তাঁদের মতন অন্যান্যরা হিরো হয়েও, নাম করেও, অর্থ উপার্জন করেও ভারতীয় ক্রীড়া প্রেমীদের রোল মডেল হয়ে উঠতে পারেন না। এখনও লর্ডস এর মাঠে বিরাট কোহলীর টেস্ট জয় নিয়েই আলোচনা বেশী হয়, আই পি এল এর দলে ঢোকার জন্য ক্রিকেট একাডেমী গুলোর সামনেই লাইন বেশী পড়ে ... আর ... লর্ডস ১৯৮৩ থেকে লর্ডস ২০২১ টাই জাতীয় ক্রীড়া দিবসের স্বপ্ন হয়ে থাকে, ব্রাত্য হয়ে যান "হকির যাদুকর" মেজর ধ্যানচাঁদ যার জন্মদিনে ২৯ আগস্ট জাতীয় ক্রীড়া দিবস ...

জিইয়েই থাকে ভারত রত্ন কার আগে পাওয়া উচিৎ সেই দ্বন্দ ... সচিন ১০ডুলকার না "হকির যাদুকর" মেজর ধ্যানচাঁদ