মাঠে ময়দানে

ছুঁতে পারলেন, কিন্তু ছাপিয়ে যেতে পারলেন না
ইকবাল বাহার লস্কর
০১ জুলাই ২০২১

' ছুঁতে পারলেন, কিন্তু ছাপিয়ে যেতে পারলেন না ইরানের রাজাকে '
গোল সংখ্যা ১০৯ : আলি দাই-এর সঙ্গে এক আসনে সি আর ৭

Ronaldo 5.jpeg
Ronaldo 7.jpeg
Ronaldo 2.jpeg
Ronaldo 4.jpeg
Ronaldo 3.jpeg

বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে সেরার লড়াইয়ে যে দুটি নাম সবচেয়ে আগে নেওয়া হয়, তার একটি যদি হয় এল এম ১০, তো অপরটি নির্দ্বিধায় সি আর ৭। ওদের এই রেস এর সমাপ্তি নেই। ১০০ মিটার এ যদি মেসি এগিয়ে থাকেন, তো ২০০ মিটার হার্ডলসে বাজিমাত করেন বিশ্বজোড়া যুবতীদের হার্ট থ্রব সুপুরুষ রোনাল্ডো। পরিসংখ্যানবিদদের সবসময় ব্যস্ত রাখতে পছন্দ করেন এই দুইজন। ক্রিকেটের ভাষায় স্কোর বোর্ড সচল। দুজনের মধ্যে আরেকটি বিষয়ে খুব মিল। ক্লাব ফুটবলে দুজনের কৃতিত্ব অসাধারণ হলেও নিজেদের জাতীয় দলের হয়ে প্রদর্শন কম উজ্জ্বল। এই ক্ষেত্রে হয়তো রোনাল্ডো কিছুটা এগিয়ে থাকবেন। যদিও এবারের ইউরো থেকে ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে তাঁর দেশ। অপরদিকে কোপা আমেরিকায় এখনও টিকে আছে আর্জেন্টিনা। বয়সের হিসেবে মেসি হয়তো এক দুবছর বেশি সময় পাবেন। কিন্তু এই ম্যারাথন শেষ হবার নয়। বোদ্ধারা যাই বলুন, আপামর ফুটবল প্রেমীদের কাছে পেলে-মারাদোনার মতই যুগ্ম বিজয়ী রোনাল্ডো ও মেসি।
 

এই মূহুর্তে যেমন সর্বমোট গোলের নিরিখে যুগ্মভাবে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের আলি দাই-এর রেকর্ড ছুঁলেন, কিন্ত ছাপিয়ে যেতে পারলেন না বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। গত ২৮ জুন ইউরো কাপের শেষ ষোলয় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে হেরে বিদায় নেয় তাঁর দল পর্তুগাল। ইউরো কাপ ফুটবল সি আর সেভেনের কাছে বরাবর পয়া হলেও কোভিড ১৯-এর এই আসর (ইউরো ২০২০) তাঁকে বিদায় দিল। যদিও যুগ্মভাবে ইরানের "রাজা" নামে খ্যাত আর এশিয়ার গৌরব আলি দাইর সঙ্গে এখন তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাঁকে এই তকমা অবশ্যই দিয়েছে চলতি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইউরো কাপ ফুটবলের আসর। আর একটা গোল করলে তিনি আন্তর্জাতিক গোলের নিরিখে সবার উপরে চলে যেতেন। কিন্তু বিধি বাম, ভাগ্য সহায় আর হয়ে  উঠেনি। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোল পাননি সি আর সেভেন। বরং ১ গোলে দলকে বিদায় নিতে হলো। মাঠে অনেক ঘাম ঝরান এদিন সি আর। কিন্তু দলের সাপ্লাই লাইন দুর্বল হওয়াতে তিনকাটির নীচে বল রাখতে ব্যর্থ হন। সতীর্থ পেপে রক্ষণভাগ থেকে তাকে দুই একবার বল দিয়েছিলেন। ব্যস সেটুকুই। কয়েকদিন আগেই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। দুটোই পেনাল্টি থেকে। তাঁর গোলেই ইউরো কাপের শেষ ১৬-য় জায়গা পাকা করেছিল পূর্তগাল। তার আগে জার্মানির বিরুদ্ধে দুর্ভাগ্যজনক ২-৪ এ পরাজয় হলেও সেই ম্যাচেই তাঁর ১০৬ নম্বর আন্তর্জাতিক গোলটি এসেছিল। গোলের নিরিখে পেলে, মেসি, মারাদোনার রেকর্ড তিনি বহুদিন আগেই ছাড়িয়ে এসেছেন এবং পৌঁছে গেছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে থাকা ইরানের আলি দায়ির সঙ্গে। আলি দাইকে বলা হয় "শরিয়ার", যার অর্থ হল পারস্য সম্রাট। ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ এর মধ্যে তিনি ইরানের হয়ে ১০৯ গোল করেছেন। যে সংখ্যার মালিক এখন রোনাল্ডোও। প্রত্যাশা ছিল, ইউরো ২০২০ এর শেষেই সর্বোচ্চ গোলদাতার শিরোপা রোনাল্ডোর মাথায় উঠবে। যে শিরোপা রোনাল্ডোর মাথায় পরিয়ে দিতে বেশ উদগ্রীব ছিলেন ইরানি কিংবদন্তি। তিনি বিশ্বাস করেন ইতিহাসের তিন সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার হলেন মারাদোনা, মেসি এবং রোনাল্ডো। ২০১৮ সালে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ''রোনাল্ডোর মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে খুব শ্রদ্ধা করি। তিনি এত বড় মাপের একজন খেলোয়াড় যে আলাদা করে তাঁর প্রশংসা করার দরকার পড়ে না।''

 

উল্লেখ্য, আলি ছিলেন এশিয়ান ফুটবলের সবথেকে স্বনামধন্য ফুটবলার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ ইরান ৭-০ তে জয়লাভ করে।সেই ম্যাচে  ৫ টি গোলই এসেছিল তাঁর পা থেকে। গুয়ামের বিরুদ্ধে একটি বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে তিনি ৪ গোল দেন, যেখানে ইরান ১৭-০ তে জিতেছিল। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ২-১ জয়ের ম্যাচে মেহদীর উইনিং গোলেও ছিল তাঁর সহযোগিতা। ৩৭ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে তিনি ইরানের অধিনায়কও ছিলেন। আলির রেকর্ড স্পর্শ করায় রোনাল্ডোকে নিয়ে মারাত্মক উৎসাহী ছিলেন বিশ্ব ফুটবল প্রেমীরা ও সমর্থকরা। তারা আশা করেছিলেন ইউরো ২০২০ চলাকালীনই রেকর্ড সর্বোচ্চ গোলদাতার একক মালিক হবেন তিনি। কিন্তু হলো না। ইউরো ২০২০ তে টপকাতে পারলেন না ইরানের রাজাকে। আপাততঃ প্রতীক্ষা।