সাহিত্য পত্র

 বিপিনের বাবা

কল্পার্ণব গুপ্ত

Kalparnab Gupta.jpg

বিপিনের বাবা সে একটি জোচ্চোর সে নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না৷ কিন্তু ব্যাপার যে এতদূর গড়াবে এবং পিতার দুষ্কর্মের জন্য উষার জীবন যে এভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাবে তা আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি৷

বিপিন আমার ছেলেবেলার বন্ধু৷ বন্ধু বললে কম হয়, সে ছিল আমার অন্তরঙ্গ সহচর৷ স্কুলের বেঞ্চে, খেলার মাঠে এমনকি প্রত্যেক রবিবার আর্টের ক্লাসে– সবেতেই সে ছিল নিত্যসঙ্গী৷ বিপিন ছিল বড্ড ভালো ছেলে৷ বস্তুতপক্ষে বিপিনের মতো মিষ্টভাসী, গোবেচারা ও নিরীহ ছেলে হাজারে একটা খুঁজে পাওয়া ভার৷

কিন্তু পুত্রের চরিত্রের সাথে তার পিতার স্বভাব চরিত্রের কোনো মিল ছিল না৷ বিপিনের বাবা বঙ্কুবিহারী এলাকার নাম করা জ্বালিয়াত হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল৷ জমির দালালি, প্রমোটারি, কন্ট্রাক্টরি— মধ্য যৌবনে অনেক কিছু করে সে বড়লোক হতে চেয়েছিল কিন্তু কোন কিছুতেই সেভাবে সফল হতে পারেনি৷ শেষে লোক ঠকানোর কে অভিনব কৌশল সে বের করল৷ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোকের কাছ থেকে সে টাকা ধার করত— কখনও ডুপ্লিকেট প্যানকার্ড বানিয়ে দেওয়ার নাম করে, কখনও ব্ল্যাকে গ্যাস সিলিণ্ডার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কিংবা কখনও ব্যাঙ্ক থেকে দুনম্বর পথে লোন বের করিয়ে দেবার লোভ দেখিয়ে৷ কাউকে বলত তার স্ত্রীর অসুখ, কাউকে বলত ছেলের টিউশন ফীস বাকি পড়ে আছে< কাউকে বলত অন্ধ বিদযালয় চালানোর জন্য তার অর্থের প্রয়োজন৷

বঙ্কু ছিল ভীষণ বাকপটু৷ কথার কায়দায় সে লোককে অভিভূত করে ফেলত৷ নেতা, মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারী আধিকারিক, ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, থানা-পুলিশ সব যেন তার হাতের মুঠোয়৷ নিতান্ত অবহেলায় সে তাদের নাম উচ্চারণ করত৷ তারা যেন তার সঙ্গের ইয়ার৷ লোক তার কথায় বিশ্বাস করত৷ নানারকমের দুঃসাধ্য কাজের ভার তারা বঙ্কুর উপর দিত৷ সে যেন তাদের মুশকিল আসান৷ সঙ্গে দিত বিপুল পরিমাণ অর্থ৷ সেই অর্থ নিয়ে বঙ্কু তল্লাট ছেড়ে দিত চম্পট৷ তখন আর তার টিকির নাগালও পাওয়া যেত না৷ পা৬নাদারেরা বিপিনদের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হত৷ অশ্রাব্য কুশ্রাব্য ভাষায় তারা বিপিনের মাকে গালাগালি করত৷ দরজার চৌকাঠ ধরে ভদ্রমহিলা পাথরের মূর্তির মতো নির্বাক, নিষ্পন্দ হয়ে দাঁড়িয়ে রইতেন৷ শুধু চোখ দিয়ে ঝরত অবিরাম অশ্রুধারা৷

বিপিনকেও প্রচুর হেনস্তার সম্মুখীন হতে হত৷ একদিন প্রিন্সিপাল স্যার ক্লাস ভর্তি ছেলের সামনে বিপিনকে বললেন, “তোমার বাবা যে আমার সাথেও অরকম প্রতারণা করবেন তা আমি ভাবতে পারিনি, পনেরো হাচার টাকা তো আর কম নয়৷”

সেদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় বিপিন আমাকে বলল, “বাবার অপকর্মের জন্য আমাদের এত কথা শুনতে হয়৷ কিন্তু জানিস এই যে এতগুলো টাকা বাবা লোকের কাছ থেকে ধার করে তার এক পয়সাও সংসারের কাজে ব্যয় করে না৷ সামান্য বেতন দিয়ে ঘর চালাতে গিয়ে মা হিমসিম খাচ্ছেন৷ এই দেখ আমার শার্টের বোতাম নেই< সেফটি পিন মেরে এসেছি৷ পূজোয় উেমাকে একটা নতুন জামাও কিনে দিতে পারেননি৷ রোজ রাতে আমরা ডালসিদ্ধ ভাত খাই৷”

“তাহলে তোর বাবা এত টাকা দিয়ে কি করেন?”

বিপিন বলল, “জানি না৷ হয়তো বাবার আরো স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আছে৷”

আমি অবাক হয়ে তার চোখের দিকে চাইলাম৷ রাগে, দুঃখে, অপমানের জ্বালায় তার চোখ দুটি টকটকে লাল হয়ে গেছে৷

স্কুলের বন্ধুরা পরবর্তী জীবনে প্রায়শই হারিয়ে যায়৷ বিপিনও সেরকম হারিয়ে গিয়েছিল৷ মাঝেমধেয বছরে-দুবছরে তার সঙ্গে ফোনে এক আধবার কথাবর্তা হত৷ কিন্তু দেখা সাক্ষাৎ একেবারেই নেই৷ কতবছর হল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে সুদূর জামসেদপুরের একটা স্টিল প্ল্যান্টে জয়েন করেছি৷ পুজোর ছুটিতে কয়েকদিনের জন্য সেবার বাড়িতে আসা৷ অষ্টমীর দিন সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ বিপিন এসে উপস্থিত৷ হাতে লাল রঙের একটা খাম৷ বিয়ের চিঠি৷

আমি বললাম, “কিরে বিপিন, বিয়ে করছিস? বললি না তো আগে?”

“উমার বিয়ে৷ অমি কয়েকদিন অগে একবার এসেছিলাম, তখন তুই এখানে ছিলি না৷’

আমি চিঠিকা নিয়ে পড়তে শুরু করি৷ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অশেষ কৃপায়...

“পাত্র কে রে বিপিন? কি করে?”

বিপিনের চোখ ঝলমল করে উঠল৷

“জানিস সে আরেক কথা৷ আমি যে জুয়েলারির দোকানে কাজ করি সে দোকানের মালিকের ছোট ছেলে৷ তাদের বিরাট বযবসা, প্রচুর পয়সা, শহরের চার পাঁচটি জায়গায় বড়ো বড়ো ফ্ল্যাট আছে৷ ছেলেও কোন এক প্রাইভেট কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রি নিয়ে এসে এখন বাপের ব্যবসার হাল ধরেছে৷ উমাকে তো ছেলে নিজে দেখেই পছন্দ করল৷’

“বাঃ খুব ভালো৷”

“সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা”৷ বিপিন তার দুই হাত জোড় করে মাথায় ঠেকাল৷

“বোনের বিয়ে নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম৷ উষার রুপগুণ থাকলে কি হবে, তার দাদা একটি দোকানের সামান্য বেতনের কর্মচারী ভ্নি তো আর কিছু নয়৷ স্বভাব-চরিত্র বংশে, বিদ্যায়, অর্থে সবদিক দিয়ে উৎকৃষ্ট সম্বন্ধ উৎপল৷ এতটা আমি আশা করিনি৷”

বিপিনের চোখে অনন্দাশ্রু৷ তার বোনের বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য সে আমাকে বারবার অনুরোধ করে গেল৷

বিজয়া দশমীর দু’তিনদিন পর সন্ধ্যাবেলায় রীতিমত সাজগুজ করে শহরের একটি নামী দামী বিবাহ বাসরের সামনে এসে দাঁড়ালাম৷ হাতে একটা প্যাকেট, রঙিন কাগজ দিয়ে মোড়া “শরৎ রচনাবলী”৷ ‘Welcome’ লেখা থার্মোকলের সুসজ্জিত তোরণ, রূপসী অপ্সরাদ্বয় হাত জোড় করে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে৷ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম, পুষ্পে, লাস্যে, বাদ্যে, আলোয় চারদিক জমজমাট৷

বিপিন আমাকে দেখে দৌড়ে এল৷ “এসেছিস? চল উষার সাথে দেখা করবি৷” উষাকে আমি আগে বহুবার দেখেছি৷ কিন্তু শৈশবের একগুয়ে, জেদী এবং আত্মভোলা উষার সাথে আজকের উষার অনেক তফাত৷ বহুমূল্য বস্ত্র, অলংকার এবং বিউটি পার্লারের দামী কসমেটিকস্-এর গুণে বিয়ে কনেকে বরাবরই অনন্যসাধরণ মনে হয়৷ আমি সেকথা বলছি না৷ আমি বলছি তার রাঙা মুখের সলজ্জ হাসির কথা, কাজল কালো চোখে ফুটে ওঠা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার কথা৷ উষা আমার পা ছুয়ে প্রণাম করল৷ আমি তার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলাম৷

কনের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বিপিনকে জিজ্ঞাসা করলাম, “লগ্ন কয়টায় রে বিপিন?”

“বিপিন বলল, “দশটায়৷”

“বরযাত্রী যে এখনও এলো না?”

“এখুনি এসে পড়বে৷ তারা রওয়ানা হয়ে গেছে৷”

বিপিন বিয়েবাড়ির কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল৷ আমি একটা লাল রঙের প্লাস্টিকের চেয়ার টেনে বসলাম৷ আমন্তি্রতেরা একে একে এসে উপস্থিত হচ্ছেন৷ একটি জনপ্রিয় হিন্দি গানের সুরে ব্যাণ্ডপার্টি বাজছে৷ ফুচকা ও পরোড়ার স্টলে অল্পবয়সী মেয়েদের উপচে পড়া ভীড়৷

হঠাৎ চোখে পড়ল বিপিনের বাবার দিকে৷ অন্ধকার নির্জন ব্যালকনিতে সে একমনে পায়চারি করছে৷ পাছে চোখাচোখি হয়ে যায় এবং কথা বলতে হয় এই ভয়ে আমি মোবাইলের দিকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম৷ তার মতো জালিয়াতের সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার ছিল না৷ কিন্তু উৎসবের হই হট্টগোল ছেড়ে তার অন্ধকারে পায়চারি করার ব্যাপারটা আমার কাছে কিছুটা অদ্ভুত ঠেকল৷ বাইরে প্রচণ্ড শব্দে বাজি ফাটার আওয়াজ পেলাম৷ সামনে এগিয়ে দেখি জামাই বাবাজির আগমন ঘটেছে৷ গেটে বরযাত্রীদের ভীড়, ঘিয়া রঙের সেরওয়ানি পরা সুদর্শন বর৷ ছফুট লম্বা, গৌরবর্ণ, হাতে একটি প্লাস্টিকের গোলাপ৷ ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ (ব্যাণ্ডের শব্দ অতিমাত্রায় মুখরিত হয়ে উঠেছে) শ্যালক-শ্যালিকারা জামাইবাবুর সাথে কৌতুক, তামাসায় ব্যস্ত; বিপিন বরযাত্রীদের আপ্যায়নে ব্যস্ত; বিপিনের মা ব্যস্ত শাস্ত্রীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালনে৷ আমি আমার চেয়ারে বসে তাদের ব্যস্ততা লক্ষ করছিলাম৷

হঠাৎ চোখ পড়ল গেটের দিকে৷ রীতিমত চমকে উঠলাম৷ কারণ খাকির পোশাক পরা পুলিহকে কেউ বিয়েবাড়িতে প্রত্যাশা করে না৷ বুকে ব্যাজ লাগানো নাদুসনুদুস চেহারার লোকটি এবং তার লম্বা ঠেঙ্গা সহচর ইতিউতি তাকিয়ে কাকে যেন খুঁজছিল৷ ইতিমধ্যে সেখানে উপস্থিত অভ্যাগতের দৃষ্টি তাদের উপর নিবদ্ধ হয়েছে৷ তা লক্ষ্য করে ব্যজ পরা পুলিশটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, “বঙ্কুবিহারী রায় আছেন৷”

অভ্যাগতরা এই সব প্রহ্নের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না৷ তারা একে অন্যের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল৷

বিপিন ছুটে এল৷ কৌতূহলী ব্যক্তিরা জটলা তৈরী করল৷ গেট দিয়েো আরো কয়েকজন ষণ্ডামার্কা লোক এসে ঢুকল৷ তারা এতক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করছিল৷ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠল৷ ষণ্ডা লোকগুলি এবারে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে৷

“আমাদের টাকা মেরে কিরকম ঘটা করে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে৷ জোচ্চোর শালা!”

“ভেবেছিল এভাবে পার পেয়ে যাবে৷ চাঁদু বোঝেনি এবারে কার হাতে পড়েছে৷”

“বঙ্কু রান্ডির পুত৷ বেরিয়ে আয় শালা!”

“ব্যালকনির অন্ধকার থেকে বঙ্কু বেরিয়ে এল৷

পুলিশ ইন্সপেক্টর বিপিনকে বললেন, “আপনার বাবাকে আমরা এরেস্ট করছি৷ তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আছে৷ আপনি এদিকের কাজ সেরে একবার থানায় যাবে৷”

পাওনাদারদের দিকে ঘুরে তিনি বললেন, “এখানে হল্লা চিৎকার করবেন না৷ আপনারা বাড়ি যান৷”

পুলিশ ইন্সপেক্টর বঙ্কুকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন৷

বিপিন সেইদিকে একদৃষ্টে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল৷ কারণ পিছন ফিরে বিয়েবাড়ির চোখ ঝলসানো আলোর উপস্থিতিতে বরকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার মনোবল সে জুটাতে পারছিল না৷

বিয়েবাড়িতে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা৷ তরঙ্গিনী মেয়েরা পর্যন্ত নির্বাক৷ ব্যাণ্ডপার্টি কর্তব্যের অনুরোধে আবার বাজাতে শুরু করেছে৷ আমার কানে তা অত্যন্ত বেসুরো ঠেকল৷

বরকর্তা ফিসফিস করে নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন৷

আমি এবারে আরেকটা ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হলাম৷

পুরুতমশাই বরযাত্রীদের আবার তাড়া দিলেন৷ লগ্ন যে বয়ে যাচ্ছে৷ তার মনেও এখন অন্য আশঙ্কা দানা বাধতে শুরু করেছে৷ অনেকক্ষের কেটে গেল তারপর বরের বাবা বিপিনকে ডেকে নিয়ে গেলেন সেই অন্ধকার ব্যালকনিতে৷ কিছু কথা বলার জন্য অন্ধকারের প্রয়োজন হয়৷ তবে অনেক ডোবা চোখের দৃষ্টিতে সেই অন্ধকার ব্যালকনিকে রীতিমতো কাঙ্খিত করে তুলেছে৷

আবার যখন তারা আলোয় ফিরে এল বিপিনের চোখ তখন অশ্রুসিক্ত, মুখ রক্তবর্ণ৷ গমনোদ্যত ঘোষ মশাইয়ের কাছে হাতজোড় করে সে আর্ত কণ্ঠে বলছে< “স্যার এ বিয়ে ভাঙলে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না৷ আমার বোনের আর বিয়ে হবে না৷ আপনি আমাদের এরকম সর্বনাশ করবেন না৷”

হাতে পায়ে ধরে লাভ হবে না বিপিন৷ ঠগ জোচ্চোরদের ঘরে আমি ছেলে বিয়ে দেব না৷ ছি৷ ছি৷ কি কেলেঙ্কারী কাণ্ড৷”

বরযাত্রীরা প্রস্তুতই ছিলেন৷ তারা সবাই সমস্বরে চিৎকার করে উঠলেন, “এই বিয়ে হবে না৷ আমরা এই ঘরে ছেলের বিয়ে দেব না৷”

বিপিন ঘামছিল৷ সে নিরীহ নির্বিবোধী লোক৷ টাকার জোর, গায়ের জোর, ব্যক্তিত্বের জোর কিছুই তার নেই৷ স্কুলে ক্লাসের ছেলেরা টিফিন কেড়ে নিলে যেরকম হা করে তাকিয়ে থাকত সেরকমই বিপিন ঘোষ মশাই এবং অন্যান্য বরযাত্রীদের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল৷ বরযাত্রীরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে একে একে বেরিয়ে গেলেন৷

অনেকক্ষণ কেটে গেল৷ সেখানে সেই প্লাস্টিক চেয়ারটার উপর কতক্ষণ বসেছিলাম তা ঠিক বলতে পারি না৷ কিন্তু যখন সম্বিৎ ফিরে এল তখন দেখলাম ভীড় অনেক পাতলা হয়ে গেছে৷ বিপিনকেও কোথাও দেখতে পেলাম না৷

ধীরে পদে হেঁটে কনের ঘরের সম্মুখে এলাম৷ কয়েকজন বয়স্কা মহিলা বিপিনের মাকে ঘিরে আছেন৷ ভদ্রমহিলার চোখ বাষ্পাচ্ছন্ন, দৃষ্টি উদ্ভ্রান্ত৷ সুসজ্জিত খাটের এক কোণে পাষাণের মতো নিশ্চয় হয়ে বসে আছে উষা৷ চোখ দুটি মেঝের দিকে নযস্ত৷ কনের ঝলমলে বেশে তাকে এখন অদ্ভুত দেখাচ্ছে৷ এমন উজ্জ্বল রূপের সাথে এত গাঢ় বিষন্নতা ঠিক খাপ খায় না৷

আমার তখন কি করা উচিত ছিল? উষার মাথায় হাত রেখে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া কিংবা বিপিনের মাকে মিথ্যা স্তোতবাক্য বলে তাকে আশ্বস্ত করা?

আমি কিছুই পারিনি৷

শুধু নিঃহব্দে মন্থরগতিতে বিবাহ বাসরের সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমেো আসি৷ তারপর থার্মোকলের তোরণ পেরিয়ে এসে ফুটপাতে দাঁড়াই৷

একটা অটোর পেছনের সীটে উঠে বসি৷

বিপিনকে দেখি রাস্তার ওপাশে বন্ধ দোকানের সামনে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সিগ্রেট ফুঁকছে৷

অটো স্টার্ট দেয়৷ নিজেকে অদৃশ্য করার জন্য সীটের অন্ধকারের ভেতর আমি নিজেকে লুকিয়ে ফেলি৷