সাহিত্য পত্র

 ক্ষমা নেই

চিরশ্রী দেবনাথ

Chirashree%20Debnath_edited.jpg

ভোরের প্রথম আলো এখনও গ্রাম পাহাড় অরণ্যের মাথায় দিনের আশীর্বাণীর মতো ঝরে পড়েনি, গভীর রাতে বৃষ্টি হয়েছে, প্রবল স্রোত এসেছে ঝর্ণার জলে, আকাশ থেকে আসা  পবিত্র সুধা বক্ষে নিয়ে পাহাড়ি নদীটি উচ্ছল হয়ে ছুটে চলেছে।

টিলায় টিলায় টংঘর, আবছা কুয়াশায় ঢাকা, জুমের খেত রাতভর পাহাড়া দিয়ে কেউ কেউ পা টেনে ফিরে যাচ্ছে ঘরে, তাদের হাতে নিভন্ত মশাল, পিঠের ঝুরিতে কিছু শাকসব্জি। টিলার নিচে মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা দুটো  পোষা হাতি শুয়ে আছে, পুরো গ্রামের বাহক তারা।

ব্রাহ্মমুহূর্তের এই অনন্ত প্রকাশ দেখার জন্য মান্ডবী প্রতিদিন শয্যাত্যাগ করেন, বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভোরের প্রথম প্রহর তাকে কখনো ঘুমোতে দেয় না,  বিষাদের একটি স্থায়ী ফলা গেঁথে আছে বুকে, অবিরাম রক্তক্ষরণ হয় সেখানে, যে যুবককে তিনি সমস্ত সত্তা দিয়ে গ্রহণ করেছিলেন, সে কোথায়? এই বনবনান্তে এতো রক্তিম কুসুম ঝরে পড়ে, তিনি মালা গাঁথতে পারেন না কেন? প্রতিদিনই এসব ভাবেন, তারপর উঠোনের ওপর যে প্রস্তরখন্ডটি  তিনি জন্মের পর থেকেই দেখে আসছেন, সেটার ওপর উঠে দাঁড়ান, জোড়হাতে নমস্কার করেন সমস্ত প্রকৃতিকে, আস্তে আস্তে পূর্ব আকাশ লালবর্ণ ধারণ করে, রক্তিম আভা ছড়িয়ে পরে গিরিশিরায়, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অরণ্য। তিনি মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকেন, ভোরের নবীন সূর্যকে প্রণাম জানিয়ে প্রার্থনা করেন পুরো গ্রামের জন্য সমৃদ্ধি ও শান্তি। তারপর হাতমুখ ধুয়ে ফুল ও ফল আহরণ করেন, গৃহদেবতার চরণে রেখে আসেন, কোন মন্ত্র নয়, শিশির অথবা বৃষ্টিভেজা এইসব পবিত্র ফুল ফল অর্পন করে তিনি বড়ো শান্তি পান,  ঘরে ঢুকে শান্ত হয়ে বসেন। আস্তে আস্তে গৃহের অন্যান্য স্ত্রীলোক, শিশু, পুরুষ ঘুম থেকে ওঠে,  কাজকর্ম শুরু হয়। মান্ডবী নিজেও রান্নাঘরে যান, চুলা জ্বেলে ভাত বসান, কখনো আগের দিন  করে রাখা চালের গুঁড়ো দিয়ে পিঠে বানান, আস্তে আস্তে ভ্রাতৃবধূরা এসে হাত লাগায়, তিনি শুধু এই পরিবারের নয় পুরো গ্রামের অকথিত প্রধান। কে বা কারা তাকে আস্তে আস্তে নেত্রীর আসনে নিয়ে এসেছে তিনি জানেন না। কিন্তু  ভোরের এই শান্ত মানবীর সঙ্গে বাস করেন আরো একজন মান্ডবী, সেই মান্ডবী শান্ত নয়, যোদ্ধা নারী, হিংস্রতা যার মধ্যে জেগে ওঠে অরণ্যের পশুকে দেখলেই।

নিয়মমতো খুব ছোটবেলাতেই তার বিবাহ হয়েছিল, পিতৃগৃহেই তিনি স্বামীসহ থাকতেন, তাদের সমাজে তো এই রীতি প্রবলভাবেই প্রচলিত, অস্ত্রচালনা ছিল নেশার মতো, জুমচাষে যখন সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ত, মান্ডবী সেসব ফেলে রেখে একমনে কীভাবে নিশানা করা যায় অব্যর্থ,  সেই চেষ্টায় ব্রতী হতেন ।

নির্বিচারে পশু শিকার করতেন তিনি, ঠাকুরদা বার বার বলেছিলেন, এতো পশু মারিস না, অভিশাপ হয়ে আসবে ফিরে, যতটুকু প্রয়োজন খাদ্যের  জন্য ততটুকুই বা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে, এর বেশি নয়।

মান্ডবী সেইসব কথা মোটেও শুনতেন না,  একবার বর্শার ঘায়ে একটি পূর্ণবয়স্ক মেঘলা চিতা মেরে, তিনি গ্রাম পরিক্রমা করেছিলেন, আগুন জ্বালিয়ে আরো কয়েকজনকে নিয়ে উপভোগ করেছিলেন এই হত্যাকাণ্ড। স্বামীকেও টেনে এনেছিলেন রাতভর নাচে।

মান্ডবীর স্বামীও ছিলেন খুব পরিশ্রমী একজন মানুষ, কিন্তু তাঁকে হারাতে হলো বিবাহের কয়েকবছরের মধ্যেই, আজকের মতোই এক সুন্দর ভোরে তাঁর রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল নিকটবর্তী বনে। হিংস্র পশুর আঁচড় ছিল পুরো দেহে। কিন্তু খুবলে খাওয়া সেই দেহটির হত্যাকারী পশুটিকে সনাক্ত করা যায়নি। সেসময় শোকে পাগল মান্ডবী বনে বনে ঘুরে বেড়াতেন উদ্ধত বর্শা নিয়ে, যেন পশুটিকে দেখতে পেলেই ছুঁড়ে মারবেন , এই বনে মেঘলা চিতার রাজত্ব আছে, গভীর রাতে শিকার ধরতে বেরোয়, মান্ডবী তখন দ্বিতীয়বার গর্ভবতী, তার দুঃখ এবং প্রতিহিংসা দুটোই ছিল প্রবল । গভীর রাতেও তাকে কেউ আটকাতে পারত না, এরকম করতে করতে একদিন দেখা মিলেছিল এক জ্বলজ্বলে চোখের, বর্শা নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ক্ষিপ্রগতি চিতার পেছন পেছন, দ্বিতীয় শিকার খুঁজতে এসেছিল সে, পারেনি, গহন বনের ভেতর প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে।

মান্ডবীর শরীর যেন পাথর খুঁদে বানানো, সাধারণ নারীদের চেয়ে দীর্ঘাঙ্গী, ঈষৎ লালচে চুল উঁচু করে বাঁধা, তাতে গোঁজা পাহাড়ি ফুল, এটাই একমাত্র প্রসাধন মান্ডবীর, মাজা রঙ , ছোট কিন্তু উজ্জ্বল দুটো চোখ, মজবুত শরীরে কোথাও বাড়তি মেদ নেই, উদ্ভিন্ন যৌবনা, মান্ডবীর দুটো স্তন উত্তুঙ্গ শৈলচূড়ার মতো, হাতে বোনা কাপড়ে সুদৃঢ় বন্ধনে বাঁধা, তিরধনুক, বর্শা দুটোতেই মান্ডবী শিশুকাল থেকেই স্বশিক্ষায় শিক্ষিত, পাহাড়ের বিষাক্ত উদ্ভিদের বীজ অথবা ফুল দিয়ে সে যেমন বিষ তৈরি  করতে পারে, তেমনি ঔষধি, আবার সন্ধ্যায় মৃত পশুকে ঘিরে তার মগ্ন নৃত্যও আকর্ষণ করে সকলকে। নেতৃত্ব যেন তার সহজাত, জন্মই হয়েছে এই পার্বত্য জনপদকে সুশৃঙ্খলিত রাখার জন্য। পাহাড়ের কোল  দিয়ে প্রবাহিত  হয়েছে মনুনদী, যেদিকে দুচোখ যায় ঘন সবুজ বন, সে একাকী নারী, রমণী নয় , কারো হৃদয়ে কামনা জাগানোর জন্য যেন এই জন্ম নয়, জন্ম হয়েছে শাসন করার জন্য জন্মগ্রামকে, অনন্তকাল পেরিয়ে গেলেও  মান্ডবী সুদৃঢ় ভাবে রক্ষা করবেন সবাইকে । সম্পূর্ণ স্বাধীনচেতা মান্ডবী গ্রাম পাহাড়ের আনাচে কানাচে, দেবতার থানে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ান , ঐ তো পাহাড়ের ধারে বাসা বেঁধেছে এক নতুন জনগোষ্ঠী, নগ্ন পায়ে বর্শা হাতে মান্ডবী পৌঁছে যান সেখানে, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেন কোনো ভয় নেই তো? গ্রামের চারধারে  পশুর পায়ের ছাপ দেখলেই শঙ্কিত তিনি, মেঘলা চিতা,  সাপ এই দুটোকে সবচেয়ে ভয়, কামড় এবং দংশন থেকে প্রাণ বাঁচানো যায় না মানুষটির। বুনোহাতিকেও তত ভয় হয় না। হাতিকে  বশ করতে পারে মান্ডবী, তাছাড়া তেমন হলে  হত্যা করতেই  হয়।

সকালের  রোদ আস্তে আস্তে প্রখর হচ্ছে, কয়েকজন গ্রামবাসী এসেছে মান্ডবীর কাছে, তাদের চোখেমুখে ভীষণ ভয়, ভয়ার্ত কন্ঠগুলোর  বক্তব্য গ্রামের প্রান্তে এক রক্তখেকো দানবি এসেছে, পর পর দুদিন ধরে গরু, শুকর,  ছাগল , মুরগি চুরি করে খাচ্ছে, আশেপাশের সমস্ত জঙ্গল জুড়ে শিকারে বেড়োনো প্রয়োজন, এই দানবিকে খুঁজে বের করতে হবে, নাহলে ভয়ানক বিপদ আসন্ন। মান্ডবী কয়েকদিন ধরেই শুনছিলেন নানা জনের কাছে, তাকে নাকি দেখা যায় না, শুধু বিশাল একটি ছায়া দ্রুত চলে যায় শিকার নিয়ে, পরে রক্তাক্ত হাড়গোড় পাওয়া যায় কখনো কখনো।

আশ্চর্য, তার চোখ এড়িয়ে কে এখানে  এসেছে?   শিকারের স্পৃহা জেগে উঠল  চোখেমুখে। হিংস্রতা  মান্ডবীর হৃদয়ে ঘাপটি মেরে থাকে। এখন তার দুই ছেলেই জোয়ান, তারা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, আমরা যাবো। না !  চিৎকার করে উঠল মান্ডবী। যা করার আমি করবো। আমার বর্শার ওপর আমি এখনো বিশ্বাস হারাইনি। নির্বিচারে পশুহত্যা করলেও আসলে মান্ডবীর মাতৃহৃদয়ে ভয়, সন্তানের যদি কিছু হয়। তাছাড়া এই অরণ্য,  মান্ডবী যেমন করে চেনে তারা সেরকম চেনে না। মান্ডবী উঁচু পাথরটার ওপর দাঁড়িয়ে মুখ দিয়ে বিচিত্র একটি শব্দ করল, সেই শব্দ ছড়িয়ে পড়ল সবদিকে, প্রতিধ্বনিত হলো পাহাড়ে, কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজন বলশালী যুবককে বর্শা হাতে ছুটে আসতে দেখা গেল, এরা হলো মান্ডবীর দুইজন আস্থাভাজন  প্রিয় শিকারি... রাম লক্ষণ, আর দেরি নয়, আজ দিনের বাকি অংশ এবং রাত মিলিয়ে দানবিকে খুঁজে বের করতেই হবে, সঙ্গে কিছু খাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়ল তারা, জলের চিন্তা নেই, পাহাড়ি ঝর্ণার জলের মতো শীতল আর কিছু হয় নাকি?

এই গ্রাম আর আশেপাশের পাহাড়ের কিছু অংশ ছাড়া সমস্ত পৃথিবীতে যে আরো কিছু আছে তা সম্পর্কে মান্ডবী  জানে না, মাঝে মাঝে দূরের পাহাড়ের শৃঙ্গগুলোতে যখন ঘন মেঘ দেখে, তখন  মান্ডবীর সাধ হয়, একবার দেখে আসতে কী আছে ওখানে, কেমনই বা সেইসব পাহাড়ের গায়ে বসবাসকারী মানুষ, কখনো কখনো কিছু কিছু বিদেশি লোক ওদের গ্রামে আসে আজকাল, ঔষধপত্র দেয়, বাহারি পন্য দেখায় হতদরিদ্র মানুষকে, তারা এসবে  ভয় পায়, কথা    বলতে চায় না কেউ , অন্যদিকে ওদের মনেও ভয় আছে বনবাসী মানুষদের নিয়ে, হাতির পিঠে চড়ে চলে যায় আবার।

তন্ন তন্ন করে বনের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছে  মান্ডবী ও তার দুই সঙ্গী।   চিতল হরিণ, বাইসন,  শেয়াল, বন্য কুকুর, লাল ঝুঁটিওয়ালা মুরগি, বানর  এসবই দেখা যাচ্ছে শুধু। শাল, সেগুন, বট বৃহৎ বৃক্ষরাজির ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে, ঠান্ডা সুস্নিগ্ধ অরণ্য, কিন্ত এসবে মন নেই মান্ডবীর আজ, ক্লান্ত হয়ে একজায়গায় বসে পড়ল রাম লক্ষণ, খাবার খেল, মান্ডবী কিছু  খেলো না, এই ছমছমে নিস্তব্ধ পরিবেশে তার মন কু গাইছে, মনে হচ্ছে কোথাও কিছু আছে, তাই পাখিরাও  কলকাকলি থামিয়ে নিশ্চুপ। মান্ডবী নিশ্চিত, দানবি নয়, দানবি বলে কিছু হয় না, পশুই হবে , হয়তো পূর্ণবয়সী কোনো চিতা, রাম লক্ষণের খাওয়া শেষ, পাহাড়ের গা থেকে নেমে আসা শীর্ণ একটি জলধারায় তারা হাতমুখ ধুচ্ছে,  হঠাৎ ধূসর  একটি জন্তুকে ঝোপের আড়াল থেকে তীব্রবেগে বেরিয়ে আসতে দেখল মান্ডবী, প্রবল আর্তনাদ, তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই গহন অরণ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল জন্তুটি, হতভম্ব মান্ডবী দেখল সামনে শুধু রাম দাঁড়িয়ে আছে, থরথর করে কাঁপছে, বিস্ফারিত চোখ, আমার সঙ্গে এসো, এতটুকু কোনমতে বলেই, শরীরের সমস্ত শক্তি নিয়ে মান্ডবী ছুটতে শুরু করল, পেছনে রাম আসছে কিনা এটা দেখার সময় নেই, লক্ষণকে বাঁচাতে হবে, সদ্য বিবাহিত যুবক, ঘরে অপেক্ষা করে আছে বালিকা বধূ। কোথায় ছুটছে মান্ডবী, বুঝতে পারছে না, পিঠে তিরধনুক আর বাণ, হাতে উদ্ধত, ধারালো বর্শা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ছুঁড়ে মারলেই এঁফোড় ওফোঁড় করে দেবে জন্ম মৃত্যু। বহুদূর চলে এসেছে মান্ডবী, এদিকে কি সে তাঁর চল্লিশ বছরের জীবনে আসেনি কখনো? নিবিড় বন, ছোটা যায় না, কোথায় সেই ধূসর মেঘের মতো হিংস্র পশুটি?

সন্ধ্যা নেমে এসেছে, পূর্ণিমার চন্দ্র আকাশে, এখনও চন্দ্রালোক সুস্পষ্ট হয়নি, সূর্যদেব পুরোপুরি অস্ত গেলেই বনবনান্তরে ছড়িয়ে পড়বে দুধের মতো জ্যোৎস্না, তখন দিনের আলোর মতই দেখা যাবে চরাচর, এইসব মান্ডবীর জানা, হাতে যতক্ষণ বর্শা আছে তার ভয় নেই একটুও। কিন্তু সে কি পুরোপুরি অন্যপ্রান্তে চলে এসেছে? কিছুই তো পরিচিত লাগছে না, কোন নদী বা ঝর্ণা, অথবা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কোন শিলাখন্ড।

চন্দ্র এখন পূর্ণ রূপে সমাগত। কোথায় যাবে, কোনদিকে? কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

ক্লান্ত, হতাশ পায়ে মান্ডবী ধীরে ধীরে সামনে একটি অনুচ্চ অথচ বিস্তৃত টিলার ওপর উঠে দাঁড়ালো, কিন্তু তারপরই ভয়মিশ্রিত প্রবল বিস্ময়ে সে দেখল, এই টিলার থেকেই স্তরে  স্তরে নেমে গেছে মাটি, সৃষ্টি হয়েছে ঢালু খাদ, আর সেই বিস্তৃত খাদে জ্বলজ্বল করছে রাশি রাশি জোড়া জোড়া চোখ, অগুনতি মেঘলা চিতা, একটি মানুষের দেহ পরে আছে বেশ কিছু নিচে, তাকে ঘিরে একদল চিতা বসে আছে, এ যেন মেঘলা চিতাদের সাম্রাজ্য, আর মান্ডবী একা দাঁড়িয়ে আছে নিশ্চিত পাশবিক মৃত্যুর সামনে। না এখানে দাঁড়িয়ে মুখ দিয়ে হাজার রকম আওয়াজ বের করলেও কেউ আসবে না, মান্ডবী দেখছে, শিশু চিতাগুলো মায়ের বুকের কাছে খেলছে, তার সামনেই মিলনের আনন্দে মগ্ন এক জোড়া চিতা, শরীর থেকে সব শক্তি হারিয়ে মান্ডবী ভাবছে, আজ পর্যন্ত কত চিতাকে সে অকারণে শিকার করেছে নিজের বীরত্ব দেখানোর জন্য, কত চিতা শিশুকে সে মাতৃদুগ্ধ পান করতে দেয়নি, ঝাপসা চোখে  মান্ডবী যেন  দেখল  দীর্ঘকায় একটি চিতা আস্তে আস্তে  উঠে আসছে তার দিকে, মান্ডবীর মনে হল এই সেই চিতা, যার পুরুষ সঙ্গীকে অকারণে হত্যা করে সে সারারাত আনন্দ করেছিল। হাঁটু মুড়ে প্রার্থনার ভঙ্গীতে বসে পড়ল মান্ডবী, যদিও সে জানে তার ক্ষমা নেই ...