গল্প - ৩

মায়া
অভিষেক সেন

জায়গাটা পাহাড়ি, সবুজ বনানী আর কিছু অচেনা পথ ।  শহুরে মানুষদের খুব একটা ভালো  লাগবে না ।  বদলির চাকরি নিয়ে বিশ্বজিৎ এখানে  এসেছে, এখানে  তার বন্ধু  নেই ।পরিচিত বা আত্মীয়ও কেউ নেই ।  একটা ঘর ভাড়া করে আছে । একা একটা মানুষ, তার দিব্বি চলে যায় । তাছাড়া, ছুটির দিনে চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখে সে । প্রকৃতির পাশে দাঁড়ালে নিজেকে আর একা মনে হয় না । তাছাড়া মফস্বলে ঘুরে বেড়ানো মধ্যে এক রোমাঞ্চকর ব্যপার আছে ।
           

ইদানিং চক্রবর্তীর সঙ্গে ভালো বন্ডিং হয়েছে । অমিত চক্রবর্তী, ওর কলিগ, সমবয়সীও । কাজেই ওকে বন্ধু বলা যায় । মাঝে মাঝে বেশ আড্ডাও জমে । অমিত এখানকারই, তাই বিশ্বজিতের ট্যুরিস্ট গাইডও বলা যায় । চক্রবর্তীর সঙ্গেই একটা Gymয়ে জয়েন করছে, আর সেখানেই মায়ার সাথে দেখা । মায়া এখনকার নামকরা ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে । সুন্দরী, তন্বী, আধুনিক মেয়ে, উর্বশী বা তিলত্তমা বলা চলে, কাজেই প্রথম দেখায় মন দিয়ে কোন পাপ করেনি বিশ্বজিৎ ।
               

তার যাযাবর জীবনে এই প্রথম প্রেম এসেছে । কাজেই মায়াকে সে ছাড়বে না, মনের কথা সব বলে দেবে । মায়াও সুদর্শন, সুপুরুষ বিশ্বজিৎকে না করবে বলে মনে হয় না । 
               

হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল, দরজা খুলে দেখে চক্রবর্তী । একটা আবদারি চাহনি দিয়ে বলল, "আমার একটা কাজ করতে হবে যে । এই ইংরাজি প্রেমপত্রের সুন্দর বাংলা তর্জমা করে দিতে হবে তোমায় । অনেক দিন থেকে মায়াকে ভালোবাসি,  ওর জন্য লিখেছি ভাই, এটুকু অন্তত করো ।"