যৌবনের আঙিনায়

শুদ্ধভাবে মাতৃভাষায় কথা বলার পথে বাধা হয়ে উঠছে মিডিয়ার ভাষা

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

মতামত দিয়েছেন ৮ জন নবীন প্রজন্মের চিন্তাবিদ...

দেবশ্রী চৌধুরী,

শুভময় চন্দ,

ইকবাল হুসাইন লস্কর,

মধুমিতা ঘোষ,

দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য,

গোপাল চক্রবর্তী,

পান্না পাল,

এবং

চন্দ্রিমা শ্যাম

দেবশ্রী চৌধুরী (পাবলিক সেক্টরের চাকরিজীবী)

আমি মনে করি যে মিডিয়াই এর জন্য দায়ী। দেখা গেছে যে অনেক সময়ই অনেক শব্দেরই মাতৃভাষায় প্রতিশব্দ না জানায় বেশিরভাগ সময়ই অন্য ভাষা, মূলত ইংরেজি ভাষার থেকে সেই শব্দ টি নিয়ে ব্যবহার করা হয় যার ফলে আমরা অজান্তেই ব্যবহার করে থাকি, কখনোই পকৃত শব্দ টি শিখে উঠতে পারি না। মিডিয়া ভাষাকে সহজ করার জন্য ঐসব শব্দের পকৃত অর্থ ব্যবহার করে না। তাই মিডিয়ার দায়বদ্ধতা থেকে যায়। মিডিয়ার ভাষার ফলে আমরা আমাদের মাতৃভাষা  শুদ্ধভাবে শিখা বা বলা কোনটাই হয়ে ওঠে না।

 

শুভময় চন্দ (ছাত্র)

শুদ্ধভাবে মাতৃভাষায় কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে কারন এই ভাষা আমাদের পরিচয় প্রকাশ করে। মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা শুধু নিজের ভাষাশক্তিকে নয়, বরং চিন্তাশক্তিকেও বৃদ্ধি করে। 

 

মিডিয়া একটি বৃহৎ ভূমিকা পালন করে মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চায়। আজকাল এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, মানুষ নিজের ভাষায় লেখা প্রায় ভুলে যাচ্ছে। নিজের ভাষায় কিছু লেখতে হলে, সেটা ইংরেজি হরফ দিয়ে লিখে নিচ্ছে। ভাষাকে শুদ্ধভাবে না লেখার ফলস্বরূপ, শুদ্ধভাবে কথা বলাও হ্রাস পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কম শব্দে কথা লিখতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে ভাষার ব্যাকরণ এবং প্রচলিত হচ্ছে ভাষার ভুল চর্চা।

ইকবাল হুসাইন লস্কর (সঞ্চালক, আল-ফালাহ সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল , ভাগা বাজার, কাছাড়, আসাম)

একটি শিশু জন্মর পর প্রথম যে ভাষা শোনে এবং কথা বলা শুরু করে তা হল তার মাতৃভাষা। এই ভাষার প্রতি প্রত্যেক মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অপরিসীম। নিজের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রভাবে জড়িয়ে থাকে মাতৃভাষা। মানুষ তার জীবনে যত ভাষাই আয়ত্ত করুক না কেন, সে স্বপ্ন দেখে, চিন্তা করে বা তার মনের সাথে কথা বলে নিজ মাতৃভাষাতেই। মানুষ সম্পূর্ণভাবে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে একমাত্র মাতৃভাষাতেই। তাই তো বলা হয়েছে "মাতৃভাষা মাতৃ দুগ্ধের সমান।"


বর্তমান মিডিয়ার আধিপত্যের জামানায় ভাষার উপর স্ট্রিম রুলার চালাচ্ছে কিছু অপরিপক্ক মিডিয়া। যাদের না আছে ভাষা জ্ঞান না আছে উচ্চারণের কোন বালাই। এদের আগ্রাসনের শিকার হয়ে ভাষা আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এ থেকে উত্তরণের পথ যদি আমরা আবিষ্কার করতে না পারি তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের প্রাণ প্রিয় মাতৃভাষার আসল স্বরূপ বিপন্ন হতে আমদেরকে স্বচক্ষে দেখতে হবে। তাই আমাদেরকে বের করতেই হবে আশু উত্তরণের উপায়। রক্ষা করতে হবে আমাদের মাতৃভাষাকে।

মধুমিতা ঘোষ (শিক্ষিকা, গবেষক)

সকালে উঠে কী মনে ছিল একুশের কথা, রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারির কথা! ঠিক বলতে পারছিনা, হাতে খবরের কাগজ নিয়েও কিছু মনে পড়ার মতো চোখেও পড়ল না। ফেসবুক, হোয়াটস আ্যপ খুলতেই বেশ কিছু দূরত্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে নানা ভাষ্য মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠল। এখানেই কি শেষ! ভোর হতে না হতেই আরেকটা দিন শুরু হবে, ব্যবহারিক জীবনে আমরা কতটুকুই বা মনে রাখি মাতৃভাষার কথা। আর গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন যে ভাষা ব্যবহৃত হয় তার শুদ্ধতা যাচাই করার সময় কোথায়। যেখানে একটা নির্দিষ্ট ভাষার মানুষ নিজেরই আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলছে সেখানে ভাষার শুদ্ধতম প্রয়োগ কি করে সম্ভব! আজকের দিনেই একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা হল – টুকটুক চালক আমার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বললেন উনি কলকাতা যাবেন বন্ধুর বিয়েতে, বাঙালি বিয়েতে ঠিক কী দিতে হয় আমি জানি কি না। আমি বললাম 'আপনিও তো বাঙালি আপনি জানেন না?' উনি ইতস্তত করায় বুঝতে পারছিলাম ব্যাপারটা আসলে হিন্দু বিয়ে, বাঙালি নয়। আমি বললাম 'দাদা বাংলায় যখন কথা বলছেন, আপনিও তো বাঙালি'। এই কথার গভীরতা সেই ব্যস্ত খেঁটে খাওয়া মানুষটিকে স্পর্শ করল কি না জানিনা। তবে একটা কথা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, যখন ভাষা নিয়ে এত শোরগোল তখন এক অতি সাধারণ মানুষের নিজের বাঙালি পরিচয়টাকেই ধর্মের নিরিখে দেখাটা কী সব কিছু নতুন করে ভাবতে শেখায় না। আমাদের গোড়াতেই তো গলদ। যখন স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে দেশ উত্তাল, বিভূতিভূষণ তখন 'আরণ্যক' লিখছেন, তখন সেই অরণ্য উপত্যকার ভানুমতি জানত না ভারতবর্ষের কথা, স্বাধীনতা তো অনেক দূর। আজকের প্রেক্ষিতে আমার এই কথাটাই মনে হচ্ছিল যে, যে ভাষিক সচেতনতার কথা আমরা বলি তা কি সত্যিই সমাজের গভীরতর স্তর ছুঁয়েছে নাহলে শেষ প্রশ্ন থেকেই যাবে 'ভারতবর্ষ কোনদিকে'।

দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য (নেশায় শেফ)

আমি মনে করি যে তার জন্য আমরাই দায়ী। আমরা বরাবরই বাল্যকাল থেকে আমাদের শিশুদেরকে বলে এসেছি যে ইংরাজি ভাষাতে কথা বলো, আমরা বরাবরই ইংরাজি ভাষাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে অনেক মহাপুরুষরাই বাঙালি যেমন ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাহারা সবসময়ই মাতৃ ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন বলেই আজ ওনারা মহাপুরুষ। আমরা মাতৃভাষাকে কখনো প্রাধান্য দিয়ে উঠতে পারি না!! একদিন কি আমরা সবাই মাতৃভাষাকে ভুলে যাবো??

গোপাল চক্রবর্তী (শিক্ষক, কবি)

ভাষা! এই ভাষা শব্দ শোনার পর পর মনে যে প্রশ্ন বাজে- কার ভাষা? একজন লেখক, একজন বক্তা, একজন কবি তাঁর পরিচয় তার ভাষায়, যা কি না তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত। মানুষ চিরকাল তার কাজের মধ্য দিয়ে তার পরিচয় সৃষ্টিতে অভিলাষী। শরীর অথবা জীবন ক্ষণস্থায়ী, যদি কিছু অমরত্ব লাভ করতে পারে তা কেবল মানুষের কাজ, আর মানুষ চিরকালীন অমরত্বের গভীর প্রত্যাশি! যে নবীন মানুষ পত্রিকায় লেখালেখি করছেন, টিভির পর্দায় খবর পাঠ করছেন, আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন আগামী দিনে তার পরিচিতি তার কাজে, এবং অন্তত আমি বিশ্বাস করি সংবাদ পাঠ কিম্বা কাগজে লেখা একটা আর্ট। এবং আর্টের প্রথম শর্ত তার শোভনতা। কোন কিছু কুৎসিত, কর্কশ আর যা'ই হোক না কেন, আর্ট নয়। 


দ্বিতীয়ত যে প্রশ্ন আসে- কোন ভাষা? কোন ভাষা বলতে কোন ভাষিক গোষ্ঠীর স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হচ্ছে তা নয়, এই ভাষা কতটা কিরূপ প্রভাব ফেলছে একটা প্রবাহমান সময়ে, যে সময়ে কয়েকটা প্রজন্ম এক সাথে ফেলছে পা। খবর পরিবেশনে নিরপেক্ষতা, ভাষার মর্যাদা, সংযম তাতে মাধুর্য্য প্রদান করে, এখানেই একজন সংবাদ পাঠকের সফলতা।

ভাষার আগ্রাসনে ভাষাই দায়ী। শুধু বাংলা নয়, সিলেটি নয় প্রত্যেকটা মাতৃভাষা বিশেষ বিশেষ ভাষার দ্বারা আজ আগ্রাসনের শিকার। ভাষা কখনো স্থির হতে পারেনা, যে ভাষা স্থির সে ভাষা নিশ্চিত অচল। তাহলে কী হচ্ছে, বিজ্ঞানের উদ্ভাবন, যাপনের ধারা পরিবর্তন, সামাজিক চিন্তাধারার পরিবর্তন, এক কথায় সভ্যতার বিকাশ ভাষাকে প্রত্যাহ্বান জানায় রোজ, এমন সংকটপূর্ণ সময়ে প্রত্যেকটা মাতৃভায়ায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কিছু শব্দ, ঠিক এই কথা ধরেই বলতে পারি ভাষার ভাব, সুর ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে, কিন্তু-এ ছিল অভাব পূরণ, বাংলা ভাষায় চিরকাল বিদেশী শব্দের উপস্থিতি আছে। কিন্ত বিড়ম্বনা হয় যখন পর্যাপ্ত শব্দ থাকার পরও সেই শব্দের পরিবর্তে খবরের কাগজের শিরোনামে অথবা টিভি সঞ্চালকের কণ্ঠে স্থান পাচ্ছে অন্য ভাষার শব্দ। এবং নিয়ত আমরা দেখছি। যার ফলে ক্রমশ বাচন-ভঙ্গির পরিবর্তন বা বিবর্তন যে যাই নাম দিন অবিরত ঘটে চলেছে। জন্ম নিচ্ছে এক অন্য ভাষা, যে ভাষা একটা ভাষিক গোষ্ঠীর নব প্রজন্মে প্রভাব ফেলছে তীব্র ভাবে। এই ভাষাই শিখছে আজকের ছেলেমেয়ে, রাস্তায় তাদের কোন ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে এই ভাষাতেই তারা বলছে, এবং বৃদ্ধ পথিক ভুল পথ ধরছেন, অথবা অন্য কাউকে আবার জিজ্ঞেস করছেন একই ঠিকানা।

হ্যাঁ ভাষার এই বিরূপ প্রভাব বয়স্কদের ও প্রভাবিত করছে, আমরাও পথ হারাই রোজ কত পুরনো শহরে এক একটা গলির মোড়ে, ঘরের কোণে একান্ত নিরিবিলি। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো ভাষাকে বিকৃত করা একটা প্রজন্মের ধারণায় এখন ফ্যাশন, আগেও ছিল, তবে সংখ্যায় ছিল নগন্য। রাষ্ট্রযন্ত্র অদৃশ্যের কোন এক সাদা কাগজে যেন বড় বড় হরফে ভাষার শ্রেণিবিভাজন করে দিয়েছে -প্রথমে আসছে আন্তর্জাতিক ভাষা, তার পর অঘোষিত রাষ্ট্রীয় ভাষা এবং তৃতীয় স্থানে আসে এক একটা মাতৃভাষা। আমরা জানি এই শ্রেণিবিভাজন মিডিয়ার কাজ নয়,  মিডিয়া যদিও রসদ জুগিয়েছে অক্লান্ত, মাতৃভাষার কদর সেই ভাষার মানুষের কাছেই আজ কতটুকু? শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশ বাদ, সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও সংঘাত, স্থান ভেদে এক একটা স্থানীয় ভাষার প্রভাব, পুঁজিবাদ ইত্যাদি যার যতটা ক্ষমতা ভাষার বিপর্যয়ে ভূমিকা নিয়ে চলেছে নিরলস। তা ছাড়া আরও অনেক উপাদান আজও আলোচনার বাইরে থেকে গেছে। আমরা সবাই এর আওতায় আছি, আমরাই যারা পৃথিবীর মানুষকে মাতৃভাষার জন্য শিরদাঁড়া সোজা করে এক হতে বলেছি, আমরাই যারা একুশে ফেব্রুয়ারি, আমরাই বুকে বুলেট ধরি, আমরাই রক্তাক্ত উনিশে মে, আমরাই ভাষার মিছিলে হাঁটি, আমাদেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল স্বরূপ আজ ভাষায় যদি হিন্দি ইংরাজী মিশ্রিত না থাকে তাহলে সে লেখা নগন্য সে উক্তি অশিক্ষিতের উক্তি। হ্যাঁ আমরাই বৃহত্তর মাতৃ ভাষাভাষির মানুষ আমাদের দেওয়া প্রশ্রয়ে আমাদেরই ভাষার ঘাড়ে চেপে বসেছে ইংরেজি হিন্দির মতো ভাষা। দোষ কাকে দেব? আমিই বাংলার বিছানায় ইংরাজিতে জেগে উঠি রোজ!

পান্না পাল (শিক্ষক, নৃত্যশিল্পী)

 

মিডিয়ার ভাষা শুদ্ধ ভাবে মাতৃভাষা বলতে বাঁধা সৃষ্টি করছে কি না ? এই প্রশ্নটার উত্তর দিতে হলে আমাকে সর্বপ্রথম দেখতে হবে মিডিয়ার ভাষা কি এবং আমি যে ভূমন্ডলে বাস করছি সেখানে আমার মাতৃভাষা কি একটি "লিঙ্গুই ফ্রানকা" বা সর্বস্তরের যোগাযোগের ভাষা হয়ে উঠছে কি ? বা তার সেই সম্ভবনা আছি কি ? সেই দিকে থেকে দেখতে গেলে বাংলা কিন্তু উত্তীর্ণ হবে না  উভয় পক্ষেই । কারণ , বাংলা কিন্তু বৃহৎ মিডিয়ার ভাষা না , সেটা হলো ইংরেজি এবং তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ জনগনের কাছে ইংরেজির যা অবস্থা , শুধু পিন্ডি চটকানো বাকি আছে (ক্ষমা করবেন এই হেতু ভাষা প্রয়োগের জন্য)। তাই বাংলা ভাষার শুদ্ধ ভুল বিচার তার মিডিয়ার ভাষায় বিচার করা আমার মতে একটি ভুল পন্থা হবে । কারণ , আমি যদি একটু ঘেঁটে দেখি দেখবো যে একটা সংখ্যক মানুষ ছাড়া প্রায় সব ভাষাভাষীর মানুষ কোনো না কোনো ভাবে নিজের মাতৃভাষার ভুল চর্চা করছেন , যেমন শর্টকাট ব্যবহার করে , একটা পূর্ণ শব্দের জায়গায় শুধু একটি অক্ষর লিখা, ইত্যাদি । তাই বাংলার ভুল ব্যাবহার কে আলাদা করে দেখে লাভ নেই ।

বাংলার বা যে কোনো আঞ্চলিক ভাষার এই বিশ্বায়নের যুগে লিঙ্গুই ফ্রণকা হয়ে উঠা অনেকটা অসম্ভব  কারণ তার পরিধি একটা একটা অঞ্চল তাই মিডিয়ার ভাষার উপর ভিত্তি করে তার ভুল শুদ্ধ ধরনা করা বিবেচ্য বিষয় হবে না । তবে আমার মতে অভ্রর মত প্রযুক্তির কারণ বাংলা ভাষার অনেকটা বিস্তার হয়েছে। মানুষ যারা আগে বাংলা লিখতে ভয় পেত , বা ভাষার বানান জাতীয় বিষয় নিয়ে একটু ভীতু থাকতো তারাও কম বেশি স্বচ্ছন্দে বাংলা ভাষা চর্চা করছে , সেটা একটা ভালো দিক । 


যেকোনো মাতৃভাষার শুদ্ধ ভুলের মাপদন্ড ঠিক করা যেতে পারে তার সাহিত্যে প্রয়োগ , তার সরকারি এবং অফিসিয়াল কাজ কর্মে ব্যাবহার দিয়ে।  মিডিয়ার ভাষা সব সময় সময় একটি চটনিফাইড সংস্করণ থাকবে , এবং সেটার উপর একটি ভাষার শুদ্ধতা নির্ভর করবে না ।

চন্দ্রিমা শ্যাম (চিত্রশিল্পী)

মিডিয়া বলতে আমরা বুঝি টিভি, রেডিও, পত্রিকা ইত্যাদি। শুদ্ধ মাতৃভাষা বলতে আমরা বাংলার দুরকম প্রয়োগের কথা বুঝি। সাধু ভাষা এবং চলিত ভাষা। চলিত ভাষার শুদ্ধ রূপ বলতে আমরা আকাশবাণী বা দূরদর্শনের ঘোষণা বা সংবাদ পাঠ কে সাধারণত অনুসরণ করে থাকি। মিডিয়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা গল্প, রম্যরচনা, বা প্রবন্ধের ক্ষেত্রে মাতৃভাষার সুন্দর নান্দনিক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবসময় লক্ষ্য রাখা উচিৎ। হ্যাঁ, অনেকসময় বাচ্চারা বা বিশেষ করে যুবসমাজ এর থেকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত হয়। সেটা নিশ্চয় মাতৃভাষার শুদ্ধ প্রয়োগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে যদি মাতৃভাষার প্রয়োগ নান্দনিক না হয়। বিরূপ জিনিস কেও নান্দনিক ভাবে বলা যেতে পারে। সেজন্য সবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অল্প বিস্তর পড়া উচিৎ।